Alexa

প্রাণের বার্তা ও প্রেমের ধ্বনির অনন্য আলমগীর হোসেন

প্রাণের বার্তা ও প্রেমের ধ্বনির অনন্য আলমগীর হোসেন

বার্তা২৪.কম প্রধান আলমগীর হোসেনকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন শাহ ইসকান্দার, ছবি: বার্তা২৪.কম

তার কথা অনেক শুনেছি। আমাদের অগ্রবর্তী প্রজন্মের নেতৃস্থানীয় একজন তিনি। বাংলাদেশের অনলাইন-মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতার জনক বলা হয় তাকে।
 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা, ক্যাম্পাসের কেন্দ্রস্থলের মুহসীন হলে অবস্থান, বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন করার সুবাদে আশি দশকের সব কিছু ছিল আমাদের নখদর্পণে। 
 

দিনশেষে টিএসসিতে বন্ধু সাংবাদিক সৈয়দ ইশতেয়াক রেজা (বর্তমানে একটি টিভি চ্যানেলের সিইও) ও অন্যান্যদের সাথে আলাপে জানতে পারি আরো অনেক কিছু। তখনই কানে আসে একটি নাম: আলমগীর হোসেন।

 
সে আমলের ঐতিহাসিক জনপ্রিয়তার অধিকারী কাগজ দৈনিক ইত্তেফাকে জ্বলজ্বল করতো তার নাম। আলোড়ন সৃষ্টিকারী বহু রিপোর্টের মাধ্যমে তিনি ছিলেন আমাদের প্রজন্মের হিরো, সাংবাদিকতার শুদ্ধ ও পরিশীলিত আইডল।  
 
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক স্বজন ড. মাহফুজ পারভেজ (বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট লেখক) ছাত্রজীবনে সাংবাদিকতা করেছেন। রাত হয়ে গেলে সাভার না গিয়ে থেকে গেছেন আমার হলের রুমে। তারপর সকালে কখনো ইত্তেফাক ভবনে বা প্রেসক্লাবে চলে গেছেন। তার সঙ্গে আলাপে জেনেছি আলমগীর হোসেনের কথা। তিনি তখন ভারতের বিখ্যাত আনন্দবাজার পত্রিকার বাংলাদেশ প্রতিনিধি।
 
মাহফুজ পারভেজ তোপখানা বিএমএ ভবনে আনন্দবাজার অফিস কিংবা বিজয়নগরের একাত্তর অফিস থেকে ফিরে গল্প করতেন আলমগীর ভাইয়ে। আলমগীর ভাই একাত্তর নামের একটি সাপ্তাহিক সম্পাদনা করতেন এমন সঙ্কুল সময়ে, যখন একাত্তর বা মুক্তিযুদ্ধের কথা বলতে কেউ সাহস পায় নি।
 
মধ্য আশির সেই দিনগুলো পেরিয়ে চলে গেছে বহু বছরের স্মৃতিতে। আলমগীর ভাই সমকাল পত্রিকায় গেছেন। প্রতিষ্ঠা করেছেন বাংলাদেশের প্রথম অনলাইন পোর্টাল বিডিনিউজ। গড়েছেন বাংলানিউজ। বাংলাদেশের অনলাইন সাংবাদিকতা জনক হয়ে এই পথিকৃৎ ব্যক্তিত্ব আমার স্মৃতি ও স্মরণে অম্লান হয়ে থাকেন।
 

কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, কাছের মানুষের মতো এতো জানাশোনা থাকলেও তার সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাত-পরিচয় আমার হয় নি। খবর পেয়েছি তিনি বাংলাদেশের প্রথম অনলাইন পোর্টালের মতো জন্ম দিয়েছেন দেশের প্রথম মাল্টিমিডিয়া অনলাইন নিউজপোর্টাল বার্তা২৪.কম।

 
১৮ মে উজ্জ্বল গ্রীষ্মের রোদ্রকরোজ্জ্বল বিকেলে বার্তা২৪.কমের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর খবর পেয়ে ছুটে গেলাম গুলশানে। বার্তা কার্যালয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতেই পরম মমতায় টেনে নিলেন তার বিশাল বুকে। সমুদ্র সমান স্নেহে তিনি আমাকে নিমেষেই আপন করে নিলেন। স্নেহ ও ভালোবাসার অতলান্তিক গভীরতার মানুষটিকে মনে হলো অটল পাহাড়ের মতো, যিনি চুম্বকের প্রচণ্ড আকর্ষণে মানুষকে হৃদয়ে টেনে নিতে পারেন।
 
তখন ইফতারের আয়োজন চলছে। আমাকে কাছে নিয়ে বসালেন। বার্তার বিশাল অফিসে তখন ঢাকা ও সারা দেশের কর্মী মিলিয়ে দুই-তিন শ মানুষের উষ্ণ সমাবেশ। পিতার আপত্য স্নেহে তিনি ঘুরে ঘুরে সবার খোঁজ নিলেন। সবাইকে নিয়ে ইফতারের মাহেন্দ্রক্ষণে নিজের জ্যোতির্ময় ব্যক্তিত্বে উদ্ভাসিত হলেন অনন্য আলমগীর হোসেন।
 
আমাদের প্রজন্মের সুযোগ হয় নি বাংলাদেশের সাংবাদিকতার মহীরুহ পুরুষ মানিক মিয়া, জহুর হোসেন চৌধুরী, আবদুস সালামকে দেখার। কিন্তু আমাদের সৌভাগ্য হয়েছে একালের সাংবাদিকতার নায়ক আলমগীর হোসেনকে দেখার ও জানার। শত শত তরুণ সাংবাদিক আর অগ্রসর মিডিয়া হাউস প্রতিষ্ঠা করে তিনি নিজের নাম স্বকীয় যোগ্যতায় অঙ্কন করেছেন আজ ও আগামীর ইতিহাসের সোনালী পাতায়।
 

বার্তা২৪.কমের বহুবর্ণা মিডিয়া প্রবাহে তিনি সৃজন করেছেন মানুষের জন্য প্রাণের বার্তা ও প্রেমের ধ্বনি। অনন্য আলমগীর হোসেনের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। বার্তা২৪.কমের প্রতি অন্তহীন শুভেচ্ছা।

 
শাহ ইসকান্দার আলী স্বপন গ্লোবাল লাইফস্টাইল ফ্যাশন হাউস 'জর্দানো'র বাংলাদেশ কান্ট্রি প্রধান ও সিইও

আপনার মতামত লিখুন :