Barta24

বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

সাগাই কিষেণ থেকে সাগাই ডিসি

সাগাই কিষেণ থেকে সাগাই ডিসি
সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, ছবি: বার্তা২৪.কম
সেরাজুল ইসলাম সিরাজ


  • Font increase
  • Font Decrease

উত্তরের আঞ্চলিক শব্দ সাগাই কিষেণ (কৃষাণ)। নব্বই দশকের দিকেও অনেক প্রচলন ছিলো। এরপর ধীরে ধীরে হারিয়ে গেছে গ্রামবাংলার এই সংস্কৃতি।

রংপুরের আঞ্চলিক শব্দ সাগাই অর্থ হচ্ছে আত্মীয়। আর কিষেণ অর্থ কৃষাণ (শ্রমিক অর্থে ব্যবহৃত)। অর্থাৎ বাবুদের ভাষায় আত্মীয় কৃষাণ বলা যেতে পারে। এখানে শুধু যে আত্মীয় থাকবে এমনটা কিন্তু নয়।

আত্মীয় এবং প্রতিবেশীদের দিয়ে সাগাই কিষেণ ডাকা হতো। কমপক্ষে ৫ থেকে শতাধিক কৃষাণও দেখার সুযোগ হয়েছে। এই শ্রেণির লোকেরা কাজের বিনিময়ে কোনো অর্থ পাবেন না। কাজের বিনিময়ে তাদের ভূড়িভোজের আয়োজন থাকবে। এখনকার দিনের কাবিখার মতো।

সেটা হতে পারে আখ মাড়াই, ধান রোপণ, ধান কাটা, পুকুর খনন। ধান রোপণ, ধান কাটা ও মাড়াইয়ের সময় এর প্রচলন বেশি দেখা যেতো। যেহেতু সময় কম পাওয়া যেতো সে কারণে অনেক লোক দিয়ে দ্রুত কাজ শেষ করা হতো।

আবার আষাড় মাসে যখন বৃষ্টি নামে দ্রুত জমি চাষের প্রয়োজন। পানি শুকিয়ে গেলে ধার রোপণ করা যাবে না। তাই দ্রুত সময়ে জমি চাষের জন্য সাগাই হালের ব্যাপক প্রচলন ছিলো। আশপাশের গ্রাম থেকে গরু মহিষের হাল নিয়ে ভোররাতে নেমে যাচ্ছে জমিতে।

সাগাই কিষেণ কিংবা সাগাই হাল মানেই গেরস্থের বাড়িতে সাজসাজ রব। মেয়ে-জামাই, বোন-ভগ্নিপতিকেও দাওয়াত করে আনা হতো এমন দিনে। কোনো কোনো পরিবারে এসব আত্মীয়রাও কাজে অংশ নিতেন। আবার কেতাদুরস্তদের শুধুই ভুড়িভোজের জন্য ডাকা হতো।

অর্থাৎ মাঠে যখন শতাধিক লোক ধান রোপণ করছে কিংবা হাল ঘুরছে তখন ওই গেরস্থের ঘরে গরু-খাসি জবাই ও পিঠা-ক্ষীর পাকানোর ধুম। সাগাই কিষেণরা দুপুর পর্যন্ত কাজ করে গোসল শেষে ভূড়িভোজে অংশ নিতেন। উঠানে লম্বা চট বিছিয়ে তাদের খাবার পরিবেশন করা হতো।

হাঁটুতে-হাঁটু লাগিয়ে বসার রীতি ছিলো জন্মের ভাব জাগানিয়া বসা। কাজ থেকে খাওয়া পুরোটাই তাদের কাছে একটা বিনোদনের বিষয় ছিলো। মাঠে যখন কাজ চলতো তখন ক্ষেতের আইলে উচ্চ ভলিয়মে টেপ রেকর্ডার বাজানো হতো। তখনকার দিনে জারি-সারি গান ও কেচ্ছা-কাহিনী বেশি স্থান পেতো।

আবার এমনও দেখা গেছে। মাঠে শতাধিক লোক কাজ করছে। আর তার পাশেই হয়তো কেউ দোতরা কিংবা একতারা বাজিয়ে গান গেয়ে চলছেন। সেও কিন্তু কিষাণের পার্ট। অন্যদের সঙ্গে গোসল করে ভূড়িভোজে অংশ নিতেন। সব মিলিয়ে একটা উৎসবমুখর পরিবেশ।

এই সাগাই কিষেণের আরেকটি ভার্সন ছিলো। সেটি হচ্ছে- ১০ থেকে ৫০ জনের গ্রুপ তৈরি হতো। তারা একে অপরের মধ্যে এমন গ্রুপ তৈরি করে সবাই মিলে একেকদিন একের জনের জমিতে কাজ করতো। দশ জনের গ্রুপ হলে দশম দিনের দশম ব্যক্তির জমিতে কাজ করতো সকলে মিলে।

এখানেও খাবারের আয়োজন থাকতো। তবে সেটা এলাহি আয়োজন হতো না। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিলো মিলে মিশে কাজ করা। তারা যেমন একসঙ্গে কাজ করতেন, একসঙ্গে বাজার যেতেন। তাদের মধ্যে ছিলো গলায় গলায় ভাব। অনেকে একই রঙের শার্ট-লুঙ্গি পরতেন।

সাগাই কিষেণের ক্ষেত্রে দেখা যেতো যে বাড়িতে খাবার ভালো হতো। সেসব গেরস্থ হয়তো পঞ্চাশজনকে ডেকেছেন। অনেকে ডাক না পেলেও লোকমুখে শুনেই হাজির।

আমার দেখা এক কৃষক এক’শ জনকে ডেকেছিলেন। সেখানে ছোট-বড় হাজির হয়েছিলেন আড়াই’শ জনের মতো। কৃষক তখন তার বয়সী গাভীটি জবাই দিয়ে ভূড়িভোজ সারেন। আবার যারা ‍কৃপণ লোকজনকে ঠিকমতো খাওয়াতেন না। তাদের দাওয়াত অনেকে এড়িয়ে চলতো। শোনাতেন ব্যস্ততার কথা।

সম্প্রতি ধানের দাম কম ও শ্রমিক সংকটের কারণে ধান কাটতে নানান শ্রেণি পেশার লোকজনকে দেখা যাচ্ছে। এতে যেমন পীরগঞ্জের চতরায় অধ্যক্ষ ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে মাঠে গেছেন। আরেক জায়গায় দেখলাম জেলা প্রশাসক অন্যান্য কর্তাদের নিয়ে গেছেন ধান কাটতে।

এটা আমার কাছে সাগাই কিষেণের নতুন ভার্সন মনে হচ্ছে। এটাকে আমি স্বাগত জানাই।

তবে এ নিয়ে ফেসবুক সোসাইটির কারো কারো মধ্যে গাত্রদাহন শুরু হয়েছে। যাদের কাম-কাজ নেই নিজেরা ফেসবুকে রাজা-উজির মারতে ব্যস্ত। যাদের না আছে সময় জ্ঞান, না আছে রুচিবোধ। কখনও গরম থেকে বাঁচতে উদোম গায়ের গোসলের ছবি। আবার দাফন করতে গিয়েও সেলফি খিঁচতে ব্যস্ত।

আমাদের সময়ে স্কুলের মাঠ থেকে বাথরুম নিজেদের পরিস্কার করতে হতো। আমার মনে হয় আজকের মন্ত্রী, সচিব ও শিক্ষাবিদরা অনেকেই এটা করে এসেছেন। তাতে কি তাদের মানসিক বিকাশ বাঁধাগ্রস্থ হয়েছে!

বিদেশিদের প্রেসক্রিপশনে আমরা নতুন পদ্ধতি চালু করেছি। সেই পদ্ধতি আমাদের বর্তমান প্রজন্মকে কতটুকু মানবিক মানুষ গড়তে পারছে! এ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। তাই শিক্ষার্থীদের মাঠে নেওয়া-যাওয়া দু’টোকেই আমি ইতিবাচক মনে করি। আমার মনে হয়েছে হাতি গেলে বিশেষ প্রাণী ভুগবেই। তুমি এগিয়ে চলো অধ্যক্ষ আব্দুর রব ভাই।

লেখক: স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
মেইল: [email protected]

আপনার মতামত লিখুন :

বিয়ের দিন আইন প্রয়োগ কেন!

বিয়ের দিন আইন প্রয়োগ কেন!
আলম শাইন, ছবি: বার্তা২৪

আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েরা আঠারো বছরেই ভোটাধিকারের সুযোগ পায়। কিন্তু বিধান অনুযায়ী একই বয়সে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সুযোগ হয় না। কারণ বিয়ের জন্যে দেশে আলাদা আইন-কানুন রয়েছে। ছেলে-মেয়েদের বিয়ের বয়সের ক্ষেত্রে সেই আইনে সামান্য হেরফের রয়েছে। যেমন ছেলেদের ক্ষেত্রে একুশ, মেয়েদেরে ক্ষেত্রে আঠারো বছর। এর চেয়ে কমবয়সী কেউ বিয়ে করলে কাবিন রেজিস্ট্রিতে বিঘ্ন ঘটে।

বিধান অমান্য করে কেউ কাবিননামা রেজিস্ট্রি করলে তাকে অবশ্যই আইনের সন্মুখীন হতে হয়। তারপরও আমরা লক্ষ্য করছি, আইনিবাধা উপেক্ষা করে দেশে এ ধরনের বিয়েশাদী প্রায়ই ঘটছে যা কোনমতেই সমর্থনযোগ্য নয়। এর ফলাফলও ভয়ঙ্কর। অপ্রাপ্ত বয়সে গর্ভধারণ করে অনেক কিশোরী মৃত্যুবরণ করছে। এসব বেআইনি ও অনৈতিক ঘটনা বেশি ঘটছে দেশের গ্রামাঞ্চল কিংবা চরাঞ্চালের দরিদ্র ও অশিক্ষিত পরিবারে। মাঝে মধ্যে মফস্বল শহরেও দেখা যায়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাল্যবিবাহের অন্যতম কারণ হচ্ছে ইভটিজারদের ভয়। যার ফলে বাবা-মা মেয়েকে অপ্রাপ্ত বয়সেই বিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এ কাজটি যেসব বাবা-মায়েরা করছেন তারা কিন্তু ঘুণাক্ষরেও জানছেন না, আঠারো বছরের কমবয়সী মেয়েকে বিয়ে দেওয়া আইনের পরিপন্থী। বিষয়টা অজানা থাকাতেই দরিদ্র বাবারা অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যার বিয়ের দিনক্ষণ ধার্যকরে সাধ্যানুযায়ী ভোজের আয়োজন করেন। ঠিক এমন সময়েই ঘটে অপ্রত্যাশিত সেই ঘটনাটি; বিয়ের বাড়িতে দারোগা-পুলিশের হানা! যা সত্যিই বেদনাদায়ক। এ বেদনার উপসম ঘটানো সহজসাধ্য নয়।

দুঃখজনক সেই ঘটনায় কন্যাদায়গ্রস্ত পিতাকে পর্বতসম ওজনের ভার বহন করতে হয়। বিষয়টা যে কত মর্মন্তুদ তা ভুক্তভোগী ছাড়া আর কারো জানার কথাও নয়। একে তো দরিদ্র বাবা, তার ওপর মেয়ের বিয়ের আয়োজন করতে ঋণ নিতে হয়েছে তাকে। সেই ঋণ এনজিও, ব্যাংক কিংবা ব্যক্তি পর্যায়েরও হতে পারে। হতে পারে তিনি জমিজমা বিক্রয় করেও মেয়ের বিয়ের আয়োজন করেছেন। এ অবস্থায় মেয়ের বিয়েটা ভেঙ্গে গেলে ঋণগ্রস্ত পিতার অবস্থাটা কি হতে পারে তা অনুমেয়। কারণ ইতোমধ্যেই অর্থকড়ি যা খরচ করার তা করে ফেলেছেন। আর্থিক দণ্ডের শিকার হয়ে কনের বাবা তখন মানসিক ভারসাম্যও হারিয়ে ফেলেন। তার সেই মানসিক যন্ত্রণার কথা সচেতন ব্যক্তিমাত্রই বুঝতে সক্ষম হবেন। বিষয়টা বিশ্লেষণ করে বোঝানোর কিছু নেই বোধকরি।

গ্রামাঞ্চলে এভাবে বিয়ে ভেঙ্গে গেলে ওই পাত্রী বা কনের ওপর নেমে আসে মহাদুর্যোগ। পাড়া পড়শীরা অলুক্ষণে অপয়া উপাধি দিয়ে কনের জীবনটাকে অতিষ্ট করে ফেলেন। এতসব কথাবার্তা সহ্য করতে না পেরে অনেকক্ষেত্রে সেই কন্যাটি আত্মহত্যার চিন্তা করেন অথবা বিপদগামী হন।

প্রশ্ন হচ্ছে, এ ধরনের ঘটনার জন্য কে দায়ী থাকবেন- প্রশাসন না কনের বাবা? আমরা জানি, আইনের দৃষ্টিতে বাবাই দায়ী, প্রশাসন নয়। তারপও জিজ্ঞাসাটা থেকেই যাচ্ছে, কনের বাবাকে বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করার আগে স্থানীয় প্রশাসন বাধা দেয়নি কেন! এখানে স্বভাবসুলভ জবাব আসতে পারে যে, বিষয়টা প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর হয়নি বিধায় বাধা দেওয়া হয়নি। কিন্তু বিষয়টা তা নয়। যতদুর জানা যায়, এলাকার কিছু বদমানুষ অথবা ইভটিজার জেনেও জানাননি প্রশাসনকে। কনের বাবাকে নাজেহাল করার উদ্দেশে বিয়ের দিন প্রশাসনকে চুপিচুপি জানিয়ে দেন, যা আগে জানালেও পারতেন। তাতে করে কনের বাবা সাবধান হতেন এবং বিয়ের আয়োজন থেকে সরে আসতেন। অথচ সেই কাজটি করছেন না মানুষেরা। প্রায়ই এ ধরনের হীনমন্যতার বলি হচ্ছেন দেশের নিরীহ সাধারণ।

এ থেকে উত্তরণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছি আমরা। ইচ্ছে করলে স্থানীয় প্রশাসন উত্তরণের জন্য জনসচেনতা বৃদ্ধির প্রয়াসে কিছু প্রদক্ষেপ নিতে পারে। যেমন এলাকায় মাইকিং করে বাল্যবিবাহ যে অপরাধ, তা জানিয়ে দেয়া। এছাড়া হ্যান্ডবিলের ব্যবস্থাও করতে পারেন। অথবা এলাকার মেম্বার, চৌকিদার বা গণ্যমাণ্য ব্যক্তির ওপরে এ দায়িত্ব আরোপ করতে পারেন। যাতে করে কোন অভিভাবক অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে-মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করার সাহস না পায়। এ ধরনের বিয়ের কথাবার্তার সংবাদ কানে এলেই তাৎক্ষণিকভাবে তা যেন প্রতিহত করেন তারা। এবং কেন তিনি বাল্যবিবাহের ব্যবস্থা করছেন প্রশাসন সেটিও উদঘাটন করার চেষ্টা করবেন। যদি ইভটিজারদের ভয়ে মেয়ে বিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেন, তাহলে অবশ্যই তার ব্যবস্থা নিবেন।

উল্লেখ্য, এসব বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা নিতে পারেন এলাকার তরুণ সমাজ, মসজিদের ইমাম কিংবা মন্দিরের পুরোহিতও। তাতে করে বাল্যবিবাহ রোধের ব্যাপক সম্ভবনা রয়েছে। রয়েছে দরিদ্র কনের বাবার আর্থিক দণ্ড থেকে মুক্তি মেলার সুযোগও। ফলে বিয়ের দিন আইন প্রয়োগের হাতে থেকে রক্ষা পাবেন মেয়ের বাবা ও পরিবার-পরিজন।

আলম শাইন: কথাসাহিত্যিক, কলামিস্ট ও বন্যপ্রাণী বিশারদ।

জামিন হয়ে যাচ্ছে সবার!

জামিন হয়ে যাচ্ছে সবার!
তুষার আবদুল্লাহ, ছবি: বার্তা২৪.কম

সবার জামিন হয়ে যায়। এই সবাই কারা? শুনে মনে হয় অনেক মানুষ। একটি মহল্লায়, একটি গ্রামে, একটি শহরে কতো মানুষই তো থাকে। তাহলে সবাই বলতে কি মহল্লার সব মানুষের কথা বলা হচ্ছে? গ্রাম-শহরের মানুষও নিশ্চয়ই এই গোনার মধ্যে আছে। সবাই মানে তো অসংখ্য। তাহলে জামিন হয়ে যাচ্ছে অসংখ্য মানুষের।

আচ্ছা জামিন মানে কী? অপরাধের দায় থেকে মুক্তি পাওয়া, নাকি অপরাধ প্রমাণের আগ পর্যন্ত মুক্ত বাতাসে চলাচল করার স্বাধীনতা? এমনও তো হতে পারে জামিন মানে কাউকে পরোয়া না করার দাম্ভিকতা। মহল্লা, গ্রাম, শহরের সবাই কি অপরাধী? কারণ শুরুতেই যে বলা হয়েছে, সবাই জামিন পেয়ে যাচ্ছে। কে দিল এই খবর? টিনে বারি দিয়ে মহল্লা, গ্রাম, শহরে খবর ছড়াচ্ছে কে, সবার যে জামিন হচ্ছে? মানুষ। হুম, মানুষ তার দুঃখের কথা জানাচ্ছে। মানুষ তার অসহায়ত্বের কথা জানাচ্ছে। তাহলে এই যে বলা হলো সবাই, সেখানে কি মানুষ নেই?

সবাই বলতে তো অগণিত, অসংখ্য বোঝায়, সেখানে মানুষ থাকবে না কেন? মানুষেরা নির্বাসনে গেছে? এমন সংবাদই পাওয়া যাচ্ছে। যাবে না কেন? মহল্লার দু’পায়ের যে প্রাণী পাশের বাড়ির শিশুকে জমির লোভে মাটিতে পুঁতে রেখেছিল, সে এখন শীষ বাজিয়ে ঘুরে বেড়ায়। দু’পায়ের দল গ্রামের কিশোরীকে ধর্ষণ করার পরেও হুঙ্কার থামায়নি। নতুন কিশোরী তাদের নজরে। চাকায় মানুষ পিষে ফেলে ছিল যে, তাকে এখনও দেখা যায় রঙিন কাঁচের আড়ালে শীতাতাপ মোটর যানে। আগুনে পুড়ে গেল কতো প্রিয় মুখ। পুড়িয়ে মারলো যে সংঘ, তারা আষাঢ়ে ক্ষমতার রোদ পোহায়।

মানুষ নামে আছে যে বিলুপ্ত প্রায় সম্প্রদায়, তারা ক্রমশ গুহাবাসী হয়ে পড়ছে। কোনোভাবে মুখ বের করে দেখছে- কোথাও কোনো অপরাধ নেই। যেহেতু অপরাধ নেই, তাই সবাই শরতের রোদ্দুর দেখছে। আগাম হৈমন্তী হাওয়া শরীরে মাখিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মহল্লায় তাদের সালিশে ডাকবে কে, গ্রামে সালিশ বসানোর মুরোদ কার, আর শহর? রঙিলা শহরের নকশাকার তো ওই ওরাই। যাদের জামিন হয়ে যায়। সংখ্যায় ওরা লঘিষ্ঠই ছিল। ক্রমশ ওরা নদর্মার কালো জলের মতো বুদঁ বুঁদ ছড়াতে থাকে। সেই ছোট একটি বুঁদ বুঁদের উৎস থেকে তৈরি হয়েছে কালো জলের জলাশয়। সেই জলও নাকি কালো নয়। সেই জলের দুর্গন্ধেরও নাকি সুবাস আছে। মহল্লা, গ্রাম, শহরে সেই গল্পের বয়ান চলছে। কাগজের জাদুর পরশে কালো সাদা হয়ে যাচ্ছে। অপরাধী সুবোধ হয়ে যাচ্ছে। সুবোধকে দেওয়া হচ্ছে অপরাধীর বেশ।

ওদের জামিন হয়ে যাচ্ছে বলে রাতের বাঁদুরও ভয়ে আছে। নেকড়েরা মহল্লা, গ্রাম, শহর ছেড়েছে। কিন্তু গুটিকয় সেই মানুষেরা? ওরা নির্বসানে যাবে কোথায়, গোলকে এমন কোনো ভূখণ্ড আছে, ব-দ্বীপে এমন আছে কোনো শুদ্ধ জমিন? যেখানে মানুষ মিশে যেতে পারবে দোঁ-আশের সঙ্গে? মানুষ এক আশ্চর্য প্রাণ। কি মহাকাশ, মহাকাল সমান ধৈর্য্য তার। আবার তার গরিষ্ঠ হবার সাধ।

জামিন যাদের হচ্ছে হোক না। কতোদূর যাবে ওরা, পোড়াবে, নষ্ট করবে কতোটা? মানুষ জানে সেই দু’পায়ের প্রাণীদের মুরোদ। ওদের আত্মমৃত্যুর উৎসব সন্নিকটে। মহাকার লাখ প্রাণীর মতোই, মহাদানব এই দু’পায়ের অপরাধীরা বিলুপ্ত হবেই। সবাই, অসংখ্য বলতে আসলে মানুষই সত্য। ক্ষুদ্র শুধু জামিন পেয়ে যাওয়ার দল। ওদের আসলে জামিনের সুযোগ নেই।

তুষার আবদুল্লাহ: বার্তা প্রধান, সময় টেলিভিশন

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র