Barta24

রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

ভেজাল ৫২ পণ্য: আমরা জানি না, জানাবে কে?

ভেজাল ৫২ পণ্য: আমরা জানি না, জানাবে কে?
ফয়েজুল ইসলাম, ছবি: বার্তা২৪.কম
ফয়েজুল ইসলাম
নিউজরুম এডিটর
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

বাজারে যাবেন, তেল কিনবেন? সবার আগেই মাথায় আসে তীর-পুষ্টি নামক নামকরা প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ডের এসব তেলের নাম। সামনে ঈদ, কিনতে হবে সেমাই, প্রাণ কোম্পানির সেমাই আমার চাই-ই-চাই! চিপস খাবেন? কাসেম ফুড কোম্পানির- সান চিপসের যেন জুড়ি নাই! মসলার বাজারেও প্রাণ, ফ্রেশ, ড্যানিশ ও এসিআই-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো উন্নতমানের ব্র্যান্ড ভেল্যু নিয়ে দেদারছে ব্যবসা করছে।

অথচ আমাদের মতো ভোক্তাদের বেশিরভাগই জানেন না পণ্যগুলোতে রয়েছে ভেজাল, রয়েছে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞাও। জানেন না পণ্যগুলোর উৎপাদন স্থগিত করেছে জাতীয় মান নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বিএসটিআই (বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন)।

সম্প্রতি ২৭ ধরনের ৪০৬টি খাদ্যপণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করেছে বিএসটিআই। এর মধ্যে ৩১৩টি পণ্যের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৫২টি নিম্নমানের ও ভেজাল পণ্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

ভেজাল ৫২ পণ্য: আমরা জানি না, জানাবে কে?
ভেজাল পণ্যের তালিকায় প্রাণ-এসিআই-ড্যানিশ ও তীরসহ বিভিন্ন নামিদামি প্রতিষ্ঠানের পণ্যও রয়েছে: ছবি সংগৃহীত

 

এর প্রেক্ষিতে গত ১২ মে হাইকোর্ট পণ্যগুলো বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন। ১০ দিনের মধ্যে জব্দ করে ধ্বংসের জন্যও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। কিন্তু বড় পরিসরে এই নির্দেশনার প্রতিপালন নেই।

দোকানগুলোতে এখনও ঝুলছে সান চিপস। সারিবদ্ধভাবে সাজানো রয়েছে পুষ্টি-তীরের সরিষার তেল। ডানকান, সাফির মিনারেল নামক নিম্নমানের ভেজাল পানিও রয়েছে। লবণের সেলফেও রয়েছে এসিআই, মোল্লা সল্ট। প্রাণ, ফ্রেশ, ড্যানিশ ও এসিআই-এর ভেজাল প্রমাণিত হলুদ, ধনিয়া কারি গুঁড়াও রয়েছে। ক্রেতারাও কিনছেন এসব পণ্য।

না কেনারও কোনো কারণ নেই, কারণ বেশিরভাগ ক্রেতাই জানেন না, পণ্যগুলো ভেজাল ও নিম্নমানের। এসব পণ্য আদালত কর্তৃক 'নিষিদ্ধ'। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য সম্পর্কে ক্রেতাদের জানাবে কে? এই বিষয়ে স্বল্প পরিসরে গণমাধ্যমগুলোতে সংবাদ প্রকাশ হলেও সেটা সাধারণ জনগণের কাছে কতটা পৌঁছেছে, সেটাও প্রশ্ন!

ভেজাল ৫২ পণ্য: আমরা জানি না, জানাবে কে?
প্রাণ-ফ্রেশ-ড্যানিশের হলুদের গুঁড়ায় রয়েছে ভেজাল, ছবি: সংগৃহীত

 

সেক্ষেত্রে এসব পণ্য বাজার থেকে সরিয়ে জনগণকে সতর্ক করতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বিএসটিআই, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর ও সিটি করপোরেশনগুলো। প্রয়োজন গণমাধ্যমের আরও ঢালাও প্রচার। যদিও ইতোমধ্যে বিএসটিআই ৫২ পণ্যের ৯টির লাইসেন্স বাতিল করেছে। এছাড়া ৪৩ পণ্যের উৎপাদন স্থগিত করেছে। তবুও এসব পণ্যের দৌরাত্ম্যে ভাটা পড়েনি। হাইকোর্টের নির্দেশ মান্য করে বাজার থেকে প্রত্যাহারও করা হয়নি। এখনও চলছে রমরমা ব্যবসা।

সোমবার (২০ মে) মানিকগঞ্জ ও গোপালগঞ্জে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর অভিযান চালিয়ে এসিআই'র ২২৬ কেজি ভেজাল লবণ জব্দ করে ধ্বংস করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ঢাকার সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালতও শহরে অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু জায়গায় জরিমানা করেছে। কিন্তু এতেই থেমে যাবে না সারাদেশে এসব ভেজাল পণ্যের আগ্রাসন।

ভেজাল ৫২ পণ্য: আমরা জানি না, জানাবে কে?
এসিআই'র ধনিয়া গুঁড়া প্রাণ ও ড্যানিশের কারি পাউডারে রয়েছে ভেজাল, ছবি: সংগৃহীত

 

এই আগ্রাসন থামাতে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি- ক্রেতাদের সামনে তুলে ধরতে হবে এসব ভেজাল পণ্যের তালিকা। এসব পণ্য বয়কটে ক্রেতাদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে। অন্যথায় এই প্রতিষ্ঠানগুলো এসব পণ্যের আগ্রাসন কমবে না, মানোন্নয়নে মনোনিবেশ করবে না।

সেক্ষেত্রে প্রতিটি দোকানে দোকানে ভেজাল পণ্যের তালিকা তৈরি করতে হবে। ব্যবসায়ীদের এসব পণ্য বিক্রি করতে নিরুৎসাহিত করতে হবে। সংশ্লিষ্টদের অধিকতর বাজার পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে দেশের জনগণের খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

ভেজাল ৫২ পণ্য: আমরা জানি না, জানাবে কে?
রূপচাঁদা, পুষ্টি, তীর ও জিবি ব্র্যান্ডের সরিষার তেলেও ভেজাল থাকার দায়ে উৎপাদন স্থগিত করেছে বিএসটিআই, ছবি: সংগৃহীত

 

আরেকটি লক্ষণীয় বিষয়, ভ্রাম্যমাণ আদালতগুলো দোকানে দোকানে অভিযান চালিয়ে ব্যবসায়ীদের জরিমানা করছে। এতে করে একদিকে ব্যবসায়ীরা এসব পণ্য বিক্রিতে নিরুৎসাহিত হচ্ছে। কিন্তু দোকানিরা এই পণ্যগুলো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ডিলারদের কাছ থেকে ক্রয় করেছে। এজন্য তারা পাইকারি দামটাও তারা নিশ্চয় পরিশোধ করেছে। এখন ওই প্রতিষ্ঠানগুলো যদি এসব ভেজাল পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার না করে সেক্ষেত্রে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানার মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা একটা দ্বিমুখী ক্ষতির মুখে পড়ছে।

ভেজাল ৫২ পণ্য: আমরা জানি না, জানাবে কে?
বাজারে বহুল প্রচলিত সান চিপস ও ডুডলসের নুডুলসেও ভেজাল প্রমাণিত হয়েছে, ছবি: সংগৃহীত

 

তাই সংশ্লিষ্টদের উচিৎ ব্যবসায়ীদের চেয়েও প্রতিষ্ঠানগুলোকে বেশি ফোর্স করা, যাতে তারা এসব পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নেয়। এতে ভেজাল পণ্য উৎপাদনের দায়ে নামিদামি এসব প্রতিষ্ঠান লোকসান গুনলেও ছোট ব্যবসায়ীরা দ্বিমুখী ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে। একই সঙ্গে বাজারে ভেজাল পণ্যের পরিমাণও কমবে।

এখানে আরেকটি শঙ্কাও রয়েছে। একটা ব্র্যান্ডের পণ্য যদি ভেজাল প্রমাণিত হয়, তখন দোকানে ওইসব পণ্য বিক্রির জন্য বেশি লাভের সুবিধা দেয় প্রতিষ্ঠানগুলো। এতে দোকানিরাও বেশি লাভের আশায় ভেজাল সত্ত্বেও ওইসব পণ্য বিক্রি করে। এই বিষয়টিতেও সংশ্লিষ্টদের আরও সচেতন হতে হবে।

ফয়েজুল ইসলাম, নিউজরুম এডিটর, বার্তা২৪.কম

আপনার মতামত লিখুন :

ভিআইপিতান্ত্রিক বাংলাদেশ

ভিআইপিতান্ত্রিক বাংলাদেশ
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বাংলাদেশ ফেরি ঘাটে আটকে আছে যেন বাপ্পি হয়ে। ভিআইপির ভারে ন্যুব্জ মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ। সংবিধানের ব্যাখ্যাদাতা হাইকোর্ট জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আর কেউ ভিআইপি নন।

ইউরোপ নিজ দেশে গণতান্ত্রিক আইন চালু করলেও উপনিবেশ-আধা উপনিবেশ ও পরাধীন অঞ্চলগুলোতে জমিদারি বা ভিআইপি কানুন বহাল রেখেছে। ১৭৭৩ সালের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইন, ১৮৬০ সালের পেনাল কোড, ১৮৬১ সালের পুলিশ অ্যাক্ট, ১৮৭২ সালের এভিডেন্স অ্যাক্ট, ১৮৭৮ সালের আর্মস অ্যাক্ট, ১৮৯৮ ক্রিমিন্যাল প্রসিডিউর অ্যাক্ট, ১৯০৮ সালের সিভিল প্রসিডিউর কোডসহ ১৯১০ সালের মধ্যে পরাধীন ভারতের আইনগত কাঠামো নির্মাণ মোটামুটি শেষ হয়। এরই মধ্যে এই অঞ্চলের লড়াই ও রাজনীতির নিজস্ব পথ শেষ করা সম্ভব হয়। এর ফলে কথিত ভিআইপি সংস্কৃতির আইনগত ভিত্তি তৈরি হয়। ফলে ট্রেন-বাস-হাসপাতাল থেকে শুরু করে সর্বত্র এটি চালু হয়।

আজকের বাংলাদেশ সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদের 'প্রচলিত আইন' ও 'আইন' এর সংজ্ঞা অনুসারে এই ব্রিটিশ বিধি মুক্তিযুদ্ধের সংবিধানে আত্মীকৃত হয়। একজন উপজেলা চেয়ারম্যান জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন কিংবা ডিসি আমলাতান্ত্রিক বিধানে নিযুক্ত হন; তারা একই একেকজন জমিদারে পরিণত হন। তারা দাবি করেন, জনগণ তাদের স্যার বলুক। বাংলাদেশ ভিআইপিতান্ত্রিকই থেকে যায়। কিছুদিন আগে সুপ্রিমকোর্ট একটি বক্তব্যে বলেছিলেন, আমরা এমন একটি পঙ্গু সমাজে বসবাস করছি যেখানে ভাল মানুষ স্বপ্ন দেখতে পারছে না, রাজনীতি বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে,... আমাদের পূর্বপুরুষরা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন, কোনো ক্ষমতার দৈত্য নয়।

সংবিধানের ৭(ক) অনুসারে জনগণ রাষ্ট্রের মালিক বটে, তবে যখন সেই মালিকানা সংবিধানের অধিন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হয়, তখন সংবিধানই বলে, সেই মালিকানা একচ্ছত্রভাবে ভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। আর প্রচলিত আইন অনুসারে জেলা, উপজেলার শীর্ষ কর্তারা একেকজন ছোট প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ভোগ করেন। ডিসি সম্মেলনগুলোয় বছর বছর যে দাবিগুলো উঠে, এ তারই প্রতিফলন। আলিশান বাড়ি ও গাড়ির দাবি যে ক্যাডাররা দাবি করেন, সেটাও। চাকরির ট্রেনিংগুলোতেও তাই শেখানো হয়, তারা বিশেষ কিছু। এই জন্যই আমলারা জনপ্রতিনিধিদের ঠাট্টা করে বলেন, তাদের ক্ষমতা পাঁচ বছরের নয়। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পরেই কেবল এটা আলোচনায় এল।

আইন প্রণয়নে সংসদের একচ্ছত্র ক্ষমতা আছে বলে মনে করি। অথচ ১৫২ অনুচ্ছেদে আইন অর্থ কোনো আইন, অধ্যাদেশ, আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন, বিজ্ঞপ্তি ও অন্যান্য আইনগত দলিল এবং বাংলাদেশের আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন যেকোনো প্রথা বা রীতি। মানে ডিসি, সচিবদের সেইসব আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন আর বিজ্ঞপ্তিও আইন। এইভাবে সংসদ ছাড়াও আইন তৈরি হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশের অধিকাংশ আইন এইভাবে তৈরি হয়। তাই একজন ইউএনও কিংবা পুলিশ সুপার চুলের ছাঁট বা গণঅধিকার সংকুচিত করতে পারেন আইন শৃঙ্খলার দোহাই দিয়ে। পুলিশ সন্দেহের বশবর্তী হয়ে কিংবা সরল বিশ্বাসে গুলি করে মেরে ফেলতে পারে। আমলাদের বেলায় সরল বিশ্বাস দুর্নীতি নয়। কিংবা বিভাগীয় মামলার নামে সামরিক আদালতের মতো আলাদা আদালতি কর্ম সারতে পারেন। যা বাংলাদেশের কোনো আদালতে আপিল করা যাবে না।-এইভাবে ভিআইপিতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠিত হয়েছে। অথচ আমাদের মুক্তিযুদ্ধ হয়ে সাম্য, মৈত্রী আর স্বাধীনতাকে লক্ষ্য ধরে। অথচ বাংলাদেশ কাঁতড়াচ্ছে ফেরি ঘাটে।

১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন ও ১৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট অ্যাক্ট এর অধীনে ভারত-পাকিস্তান নামে স্বাধীন ডোমিনিয়নে বিভক্ত হয়। মানে বৃটিশদের প্রণীত সংবিধানের অধিনে দুটি দেশ স্বাধীনতার পথে যাত্রা শুরু করে। আর মুক্তিযুদ্ধের দামে কেনা বাংলাদেশও এক বছরের মাথায় একই পথে যাত্রা করে। ফলে ভিআইপিতন্ত্রের কবল থেকে বাংলাদেশের মুক্তি ঘটে না।

লেখক: রেল-নৌ, যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সভাপতি।

আবদুল মোনেম: এক মহান কর্মবীরের প্রতিকৃতি

আবদুল মোনেম: এক মহান কর্মবীরের প্রতিকৃতি
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

#ও বন্ধু আমার 🌷 জনাব আবদুল মোনেম। দেশের প্রথম প্রজন্মের ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব। সড়ক, ব্রিজ ও কালভার্ট অবকাঠামো, যা আজকের বাংলাদেশে আমরা দেখি, এসবের সিংহভাগেরই নির্মাতা আবদুল মোনেম লিমিটেড তথা জনাব মোনেম। যৌবনের স্বর্ণালী সময়সহ তাঁর জীবনের প্রায় পুরোটাই তিনি অমানুষিক পরিশ্রম করেছেন প্রিয় মাতৃভূমির বৃহৎ সব নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে। দেশি বিদেশি সব কন্ট্রাক্টররা যে প্রকল্প তাদের পক্ষে করা অসম্ভব বলেছে, আবদুল মোনেম সাহেব সে চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন হাসি মুখে। প্রাণান্ত চেষ্টা আর অধ্যাবসায় দিয়ে অসম্ভব সেসব প্রকল্পকে দেখিয়েছেন সাফল্যের মুখ। সমাজ সংসার আত্মীয় পরিজন সব ছেড়ে ছুঁড়ে প্রকল্প এলাকায় কাটিয়েছেন মাসের পর মাস। গলা পর্যন্ত কাদা পানিতে নেমে শ্রমিকদের দেখিয়েছেন কাজের দিশা! তাঁর কোম্পানির প্রকৌশলীরা অবাক বিস্ময়ে দেখেছেন কিভাবে একজন কর্মবীর আবদুল মোনেম বাস্তবায়ন করে চলেছেন উন্নয়নের পথরেখা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566051707738.gif
গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে আবদুল মোনেমের (ডানে) সঙ্গে লেখক/ সংগৃহীত


ব্যবসায়ের লাভ লোকসানকে কখনোই গুরুত্ব দেননি জনাব মোনেম। দেশমাতৃকার উন্নতি সবসময় তাঁর কাছে মুখ্য হয়ে থেকেছে। যে কারণে মুনাফাখোর ব্যবসাদাররা যেখানে মানুষের অশ্রদ্ধার পাত্র হন, জনাব মোনেম সেখানে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বের আসনে। দিন গেছে, ব্যবসা ডাইভার্সিফাই হয়েছে। বিশ্বখ্যাত কোমল পানীয় কোকাকোলা বা ইগলু’র মতো দুনিয়া জোড়া সুনামের আইসক্রিম ব্র্যান্ড সমৃদ্ধ আবদুল মোনেম লি. এখন পরিণত হয়েছে আবদুল মোনেম গ্রুপে। কয়েক কোটি টাকার টার্নওভারের সেদিনের কোম্পানি এখন হাজার কোটি টাকার কনগ্লোমারেট! কোক ইগলু ছাড়াও বিশ্বের বেশকিছু নামকরা ব্র্যান্ড এখন মোনেম গ্রুপের সঙ্গে পার্টনার। তাই বলে মোনেম ভাই পরিবর্তিত হননি এতটুকু। সেই শুরুতে যেমন নিরহংকারী, দানশীল ও ডাউন টু আর্থ ছিলেন, আজও তেমনই আছেন!

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566051780819.gif

দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে জনাব মোনেমের সঙ্গে আমার ও আমার পরিবারের সম্পর্ক। দেশ বিদেশের অনেক স্টেশন আমরা একসঙ্গে সফর করেছি, একত্রে থেকেছি। সুযোগ হয়েছে পরস্পরকে জানার ও কাছে আসার। আজ জীবন সায়াহ্নে এসে পৌঁছেছেন জনাব আবদুল মোনেম। আমাদের স্বার্থহীন মানবিক সম্পর্ক আজও দ্যুতিময় প্রথম দিনের ঔজ্জ্বল্যেই! এতটা পথ আমরা পাড়ি দিয়ে এসেছি, কিন্তু স্বার্থের কোনো সংঘাত না থাকায় আমাদের পারিবারিক সম্পর্কে মালিন্য সামান্য মরিচা ধরাতে পারেনি, আলহামদুলিল্লাহ!
পবিত্র ঈদ আল-আদহা’র সালাত আদায়ে গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে আমাদের এই হিরণ্ময় সাক্ষাৎ। আল্লাহ সুবহানআহু ওয়াতা’আলা উন্নয়ন ব্যক্তিত্ব আমার প্রিয়-শ্রদ্ধেয় মোনেম ভাইকে সুস্থ ও নেক আমলময় হায়াতে তাইয়েবা দান করুন, আমীন...

লেখক: জাতীয় মিডিয়া ব্যক্তিত্ব

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র