Barta24

বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

প্রত্যাশায়, ভালোবাসায় বার্তা২৪

প্রত্যাশায়, ভালোবাসায় বার্তা২৪
প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বার্তা২৪ পরিবার, ছবি: সুমন শেখ
রফিকুল ইসলাম মন্টু


  • Font increase
  • Font Decrease

যার কাছে ভালোবাসা আছে, তার কাছেই থেকে যায় প্রত্যাশা। একদিকে জমতে থাকে ভালোবাসা, অন্যদিকে বাড়তে থাকে প্রত্যাশা। মাত্র এক বছরে বার্তা২৪ পাঠক-দর্শক মহলে যে সাড়া ফেলেছে, তাতে এর প্রতি অনেকেরই অদৃশ্য এক ভালোবাসা জন্মেছে। সে কারণেই বেড়ে গেছে প্রত্যাশা। 

একটি সংবাদ মাধ্যমের পাঠকের কাছে মোটামুটি পরিচিত হতেই অনেক সময় লেগে যায়। কিন্তু এত অল্প সময়ে অদৃশ্য এক ম্যাজিকের ছোঁয়ায় বার্তা২৪ চলে গেছে অনেক দূরে। পেয়েছে পাঠক-দর্শকের গ্রহণযোগ্যতা।

পরিকল্পনা, ব্যতিক্রমী ধারণা আর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই একটি সংবাদ মাধ্যম চলার পথ সুগম করতে পারে। এগিয়ে যেতে পারে অনেক দূর। এজন্য যেটা সবচেয়ে বেশি জরুরি- সেটা হচ্ছে নেতৃত্ব। ক্যাপ্টেনের দক্ষতায় নিরাপদ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে জাহাজ। ঝড়-ঝাপটা এলে কিংবা শত্রুর আক্রমণের আভাস এলে ক্যাপ্টেনই পারেন সবাইকে বিপদমুক্ত রাখতে। ঠিক সেভাবেই বার্তা২৪-এ আছেন একজন কাণ্ডারি। তিনি অনলাইন সংবাদপত্রের জনক আলমগীর হোসেন, আমাদের সবার প্রিয় আলমগীর ভাই। এই উপাধি তিনি কাজ দিয়েই অর্জন করেছেন। কাগজের সংবাদ মাধ্যমের যুগেও দাপটের সঙ্গে অনলাইন সংবাদ মাধ্যমের জন্ম দিয়ে উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন তিনি। তাঁর হাত ধরেই বার্তা২৪-এর যাত্রা শুরু। তাহলে জনকের হাতে প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যম এগোবে না, কোনটি এগোবে?

তথ্যপ্রযুক্তিকে ঘিরে নতুন সব ধারণার সূচনা এবং তা বাস্তবায়নে আলমগীর হোসেন সবার থেকে অগ্রণী। সৃজনশীল ধীশক্তি ও নতুন ভাবনা তাকে এগিয়ে রাখে। এছাড়া দীর্ঘদিন শীর্ষস্থানীয় দৈনিকে রিপোর্টারের দায়িত্বসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাও তাকে অন্যদের থেকে এগিয়ে দেয়। এক্ষেত্রে আমি বলব, শুধু অনলাইন সংবাদ মাধ্যমের জনক নন, গণমাধ্যমে নতুন নতুন ধারণার জনকও তিনি। আমি নিজেই এর একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। এই যে আমি উপকূল নিয়ে নিবিড়ভাবে ব্যতিক্রমী ধারার সাংবাদিকতা করছি, উপকূল সাংবাদিকতা বাংলাদেশে একটি ভিন্নমাত্রা পেয়েছে, এর অন্যতম শক্তিদাতা আলমগীর ভাই। আমি হয়তো ধারণাটি নিয়ে গিয়েছিলাম, আলমগীর ভাই এটি গ্রহণ না করলেও পারতেন। আমার ধারণা আছে, মাঠে কাজের শক্তি আছে; কিন্তু কাজের প্ল্যাটফরম কোথায় পাবো? অনেকের সঙ্গে যোগাযোগের পর অবশেষে আমি গিয়েছিলাম আলমগীর হোসেনের কাছে। তখন তিনি বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কমের এডিটর-ইন-চিফ। প্রস্তাব পাওয়ার পর এক দু’বার আলোচনা। তারপর কাজ শুরু। বিভাগের নাম রাখা হয় ‘উপকূল থেকে উপকূল’। ওই সংবাদ মাধ্যমে বিভাগটি এখনও চালু আছে। উপকূল নিয়ে জাতীয় পর্যায়ের কোন সংবাদ মাধ্যমে যে পৃথক বিভাগ চালু হতে পারে, সেটা দেখিয়েছেন আলমগীর হোসেন। এই বিভাগটি চালুর ফলে প্রান্তিকের বহু পাঠক যুক্ত হয়েছেন কেন্দ্রীয় সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে। তৈরি হয়েছে বৃহৎ পাঠকগোষ্ঠী।

এডিটর ইন চিফ
বার্তা২৪.কমের এডিটর ইন চিফ আলমগীর হোসেন

 

কাজের জন্য স্বাধীনভাবে কাজের সুযোগ যেমন প্রয়োজন, তেমনি দরকার অন্যান্য সহযোগিতা। আলমগীর ভাইয়ের বিবেচনায় সবই আছে। উপকূল নিয়ে কাজে সর্বাধিক স্বাধীনতা পেয়েছি। নিজের মত পরিকল্পনা করে কাজ করেছি। মাস শেষে ঢাকায় এসে আলমগীর ভাইয়ের সঙ্গে উপকূলের গল্প শেয়ার করেছি। নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছি। আবার ছুটে গেছি মাঠে। সে এক ভিন্ন রকমের অভিজ্ঞতা। সেই আলমগীর ভাই যখন বার্তা২৪ নিয়ে নামলেন, তখন অনেকেরই ধারণা ছিল, এই সংবাদ মাধ্যম সাড়া ফেলবে। ফেলেছেও। সবার ধারণা সত্যি করে দিয়ে মাত্র এক বছর বয়সী এই অনলাইন মাল্টিমিডিয়া নিউজপোর্টাল পৌঁছেছে বহু মানুষের কাছে। ভিন্নধারা, ভিন্নমাত্রা সংযুক্ত হওয়ার ফলেই এটা সম্ভব হয়েছে। আর সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বার্তা২৪-এর এক ঝাঁক তরুণ কর্মীর নিরলস চেষ্টা। কর্মী চিনতে, কর্মী বাছাইয়ে, কর্মীর ভেতর থেকে কাজ বের করতে, আলমগীর ভাইয়ের তুলনা নেই। তাঁর টিমের কর্মীরা সেটা ভালোই জানেন। শুধু স্বাধীনতা নয়, কীভাবে একজন কর্মী আনন্দময় পরিবেশে কাজ কতে পারেন, কাজটাকে কীভাবে নিজের কাজ হিসেবে নেয়, সে পরিবেশটুকু নিশ্চিত করেন আলমগীর ভাই। আর এরই প্রভাব পড়ে সংবাদ মাধ্যমের পাঠকপ্রিয়তায়, বিশ্বাসযোগ্যতায়।

বার্তা২৪.কমের ক্যামেরা

লেখার শুরুর দিকে ‘পাঠক-দর্শক’ শব্দ দু’টি ব্যবহার করেছি। বার্তা২৪ আসলে শুধু পাঠকের জন্য নয়, এটা পাঠক-দর্শকের জন্য। কারণ এটা শুধু পাঠকরা পড়েন না, দর্শকরাও দেখতে পারেন। তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের চেষ্টা করা হয়েছে বার্তা২৪-এ। তথ্যসমৃদ্ধ সব প্রতিবেদনের পাশাপাশি এই ব্যতিক্রমর্ধী সংবাদ মাধ্যমে রাখা হয়েছে মাল্টিমিডিয়া সেকশন। প্রতিদিন রিপোর্টের পাশাপাশি এখানে প্রকাশিত হয় ভিডিও স্টোরি। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসে সেসব প্রতিবেদন। দেশের অন্যান্য সংবাদমাধ্যম থেকে বার্তা২৪.কমকে আলাদা করতে হলে এটা হচ্ছে নতুন সংযোজন। অন্যান্য অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে ভিডিও বিভাগটি থাকলেও নিয়মিত কনটেন্ট দেখা যায় না। ভিডিও স্টোরি থাকার কারণে পাঠক-দর্শক অতি সহজেই বিষয়টি দেখে নিতে পারেন। নিঃসন্দেহে তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মধ্যদিয়ে বার্তা২৪ আরও বিকশিত হবে।

নগরের সব তথ্যের পাশাপাশি প্রান্তিকের খবরে বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে বার্তা২৪-এর। এর বিভাগগুলোর দিকে একবার চোখ রাখলেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। চলমান সব খবরের পাশাপাশি রয়েছে বিশেষ বিশেষ বিভাগ। রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, বিনোদন, আন্তর্জাতিক, ইসলাম, লাইফস্টাইল, যুক্তিতর্ক- কী নেই এ সংবাদ মাধ্যমে। সব শ্রেণীর পাঠককে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে বার্তা২৪। সে কারণেই অল্প সময়ে জন্মেছে পাঠক-দর্শকের ভালোবাসা। পাঠক-দর্শকের প্রত্যাশায়, ভালোবাসায় সাফল্যের চূড়ায় উঠুক বার্তা২৪।

রফিকুল ইসলাম মন্টু: উপকূল-সন্ধানী সাংবাদিক।

আপনার মতামত লিখুন :

বিয়ের দিন আইন প্রয়োগ কেন!

বিয়ের দিন আইন প্রয়োগ কেন!
আলম শাইন, ছবি: বার্তা২৪

আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েরা আঠারো বছরেই ভোটাধিকারের সুযোগ পায়। কিন্তু বিধান অনুযায়ী একই বয়সে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সুযোগ হয় না। কারণ বিয়ের জন্যে দেশে আলাদা আইন-কানুন রয়েছে। ছেলে-মেয়েদের বিয়ের বয়সের ক্ষেত্রে সেই আইনে সামান্য হেরফের রয়েছে। যেমন ছেলেদের ক্ষেত্রে একুশ, মেয়েদেরে ক্ষেত্রে আঠারো বছর। এর চেয়ে কমবয়সী কেউ বিয়ে করলে কাবিন রেজিস্ট্রিতে বিঘ্ন ঘটে।

বিধান অমান্য করে কেউ কাবিননামা রেজিস্ট্রি করলে তাকে অবশ্যই আইনের সন্মুখীন হতে হয়। তারপরও আমরা লক্ষ্য করছি, আইনিবাধা উপেক্ষা করে দেশে এ ধরনের বিয়েশাদী প্রায়ই ঘটছে যা কোনমতেই সমর্থনযোগ্য নয়। এর ফলাফলও ভয়ঙ্কর। অপ্রাপ্ত বয়সে গর্ভধারণ করে অনেক কিশোরী মৃত্যুবরণ করছে। এসব বেআইনি ও অনৈতিক ঘটনা বেশি ঘটছে দেশের গ্রামাঞ্চল কিংবা চরাঞ্চালের দরিদ্র ও অশিক্ষিত পরিবারে। মাঝে মধ্যে মফস্বল শহরেও দেখা যায়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাল্যবিবাহের অন্যতম কারণ হচ্ছে ইভটিজারদের ভয়। যার ফলে বাবা-মা মেয়েকে অপ্রাপ্ত বয়সেই বিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এ কাজটি যেসব বাবা-মায়েরা করছেন তারা কিন্তু ঘুণাক্ষরেও জানছেন না, আঠারো বছরের কমবয়সী মেয়েকে বিয়ে দেওয়া আইনের পরিপন্থী। বিষয়টা অজানা থাকাতেই দরিদ্র বাবারা অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যার বিয়ের দিনক্ষণ ধার্যকরে সাধ্যানুযায়ী ভোজের আয়োজন করেন। ঠিক এমন সময়েই ঘটে অপ্রত্যাশিত সেই ঘটনাটি; বিয়ের বাড়িতে দারোগা-পুলিশের হানা! যা সত্যিই বেদনাদায়ক। এ বেদনার উপসম ঘটানো সহজসাধ্য নয়।

দুঃখজনক সেই ঘটনায় কন্যাদায়গ্রস্ত পিতাকে পর্বতসম ওজনের ভার বহন করতে হয়। বিষয়টা যে কত মর্মন্তুদ তা ভুক্তভোগী ছাড়া আর কারো জানার কথাও নয়। একে তো দরিদ্র বাবা, তার ওপর মেয়ের বিয়ের আয়োজন করতে ঋণ নিতে হয়েছে তাকে। সেই ঋণ এনজিও, ব্যাংক কিংবা ব্যক্তি পর্যায়েরও হতে পারে। হতে পারে তিনি জমিজমা বিক্রয় করেও মেয়ের বিয়ের আয়োজন করেছেন। এ অবস্থায় মেয়ের বিয়েটা ভেঙ্গে গেলে ঋণগ্রস্ত পিতার অবস্থাটা কি হতে পারে তা অনুমেয়। কারণ ইতোমধ্যেই অর্থকড়ি যা খরচ করার তা করে ফেলেছেন। আর্থিক দণ্ডের শিকার হয়ে কনের বাবা তখন মানসিক ভারসাম্যও হারিয়ে ফেলেন। তার সেই মানসিক যন্ত্রণার কথা সচেতন ব্যক্তিমাত্রই বুঝতে সক্ষম হবেন। বিষয়টা বিশ্লেষণ করে বোঝানোর কিছু নেই বোধকরি।

গ্রামাঞ্চলে এভাবে বিয়ে ভেঙ্গে গেলে ওই পাত্রী বা কনের ওপর নেমে আসে মহাদুর্যোগ। পাড়া পড়শীরা অলুক্ষণে অপয়া উপাধি দিয়ে কনের জীবনটাকে অতিষ্ট করে ফেলেন। এতসব কথাবার্তা সহ্য করতে না পেরে অনেকক্ষেত্রে সেই কন্যাটি আত্মহত্যার চিন্তা করেন অথবা বিপদগামী হন।

প্রশ্ন হচ্ছে, এ ধরনের ঘটনার জন্য কে দায়ী থাকবেন- প্রশাসন না কনের বাবা? আমরা জানি, আইনের দৃষ্টিতে বাবাই দায়ী, প্রশাসন নয়। তারপও জিজ্ঞাসাটা থেকেই যাচ্ছে, কনের বাবাকে বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করার আগে স্থানীয় প্রশাসন বাধা দেয়নি কেন! এখানে স্বভাবসুলভ জবাব আসতে পারে যে, বিষয়টা প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর হয়নি বিধায় বাধা দেওয়া হয়নি। কিন্তু বিষয়টা তা নয়। যতদুর জানা যায়, এলাকার কিছু বদমানুষ অথবা ইভটিজার জেনেও জানাননি প্রশাসনকে। কনের বাবাকে নাজেহাল করার উদ্দেশে বিয়ের দিন প্রশাসনকে চুপিচুপি জানিয়ে দেন, যা আগে জানালেও পারতেন। তাতে করে কনের বাবা সাবধান হতেন এবং বিয়ের আয়োজন থেকে সরে আসতেন। অথচ সেই কাজটি করছেন না মানুষেরা। প্রায়ই এ ধরনের হীনমন্যতার বলি হচ্ছেন দেশের নিরীহ সাধারণ।

এ থেকে উত্তরণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছি আমরা। ইচ্ছে করলে স্থানীয় প্রশাসন উত্তরণের জন্য জনসচেনতা বৃদ্ধির প্রয়াসে কিছু প্রদক্ষেপ নিতে পারে। যেমন এলাকায় মাইকিং করে বাল্যবিবাহ যে অপরাধ, তা জানিয়ে দেয়া। এছাড়া হ্যান্ডবিলের ব্যবস্থাও করতে পারেন। অথবা এলাকার মেম্বার, চৌকিদার বা গণ্যমাণ্য ব্যক্তির ওপরে এ দায়িত্ব আরোপ করতে পারেন। যাতে করে কোন অভিভাবক অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে-মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করার সাহস না পায়। এ ধরনের বিয়ের কথাবার্তার সংবাদ কানে এলেই তাৎক্ষণিকভাবে তা যেন প্রতিহত করেন তারা। এবং কেন তিনি বাল্যবিবাহের ব্যবস্থা করছেন প্রশাসন সেটিও উদঘাটন করার চেষ্টা করবেন। যদি ইভটিজারদের ভয়ে মেয়ে বিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেন, তাহলে অবশ্যই তার ব্যবস্থা নিবেন।

উল্লেখ্য, এসব বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা নিতে পারেন এলাকার তরুণ সমাজ, মসজিদের ইমাম কিংবা মন্দিরের পুরোহিতও। তাতে করে বাল্যবিবাহ রোধের ব্যাপক সম্ভবনা রয়েছে। রয়েছে দরিদ্র কনের বাবার আর্থিক দণ্ড থেকে মুক্তি মেলার সুযোগও। ফলে বিয়ের দিন আইন প্রয়োগের হাতে থেকে রক্ষা পাবেন মেয়ের বাবা ও পরিবার-পরিজন।

আলম শাইন: কথাসাহিত্যিক, কলামিস্ট ও বন্যপ্রাণী বিশারদ।

জামিন হয়ে যাচ্ছে সবার!

জামিন হয়ে যাচ্ছে সবার!
তুষার আবদুল্লাহ, ছবি: বার্তা২৪.কম

সবার জামিন হয়ে যায়। এই সবাই কারা? শুনে মনে হয় অনেক মানুষ। একটি মহল্লায়, একটি গ্রামে, একটি শহরে কতো মানুষই তো থাকে। তাহলে সবাই বলতে কি মহল্লার সব মানুষের কথা বলা হচ্ছে? গ্রাম-শহরের মানুষও নিশ্চয়ই এই গোনার মধ্যে আছে। সবাই মানে তো অসংখ্য। তাহলে জামিন হয়ে যাচ্ছে অসংখ্য মানুষের।

আচ্ছা জামিন মানে কী? অপরাধের দায় থেকে মুক্তি পাওয়া, নাকি অপরাধ প্রমাণের আগ পর্যন্ত মুক্ত বাতাসে চলাচল করার স্বাধীনতা? এমনও তো হতে পারে জামিন মানে কাউকে পরোয়া না করার দাম্ভিকতা। মহল্লা, গ্রাম, শহরের সবাই কি অপরাধী? কারণ শুরুতেই যে বলা হয়েছে, সবাই জামিন পেয়ে যাচ্ছে। কে দিল এই খবর? টিনে বারি দিয়ে মহল্লা, গ্রাম, শহরে খবর ছড়াচ্ছে কে, সবার যে জামিন হচ্ছে? মানুষ। হুম, মানুষ তার দুঃখের কথা জানাচ্ছে। মানুষ তার অসহায়ত্বের কথা জানাচ্ছে। তাহলে এই যে বলা হলো সবাই, সেখানে কি মানুষ নেই?

সবাই বলতে তো অগণিত, অসংখ্য বোঝায়, সেখানে মানুষ থাকবে না কেন? মানুষেরা নির্বাসনে গেছে? এমন সংবাদই পাওয়া যাচ্ছে। যাবে না কেন? মহল্লার দু’পায়ের যে প্রাণী পাশের বাড়ির শিশুকে জমির লোভে মাটিতে পুঁতে রেখেছিল, সে এখন শীষ বাজিয়ে ঘুরে বেড়ায়। দু’পায়ের দল গ্রামের কিশোরীকে ধর্ষণ করার পরেও হুঙ্কার থামায়নি। নতুন কিশোরী তাদের নজরে। চাকায় মানুষ পিষে ফেলে ছিল যে, তাকে এখনও দেখা যায় রঙিন কাঁচের আড়ালে শীতাতাপ মোটর যানে। আগুনে পুড়ে গেল কতো প্রিয় মুখ। পুড়িয়ে মারলো যে সংঘ, তারা আষাঢ়ে ক্ষমতার রোদ পোহায়।

মানুষ নামে আছে যে বিলুপ্ত প্রায় সম্প্রদায়, তারা ক্রমশ গুহাবাসী হয়ে পড়ছে। কোনোভাবে মুখ বের করে দেখছে- কোথাও কোনো অপরাধ নেই। যেহেতু অপরাধ নেই, তাই সবাই শরতের রোদ্দুর দেখছে। আগাম হৈমন্তী হাওয়া শরীরে মাখিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মহল্লায় তাদের সালিশে ডাকবে কে, গ্রামে সালিশ বসানোর মুরোদ কার, আর শহর? রঙিলা শহরের নকশাকার তো ওই ওরাই। যাদের জামিন হয়ে যায়। সংখ্যায় ওরা লঘিষ্ঠই ছিল। ক্রমশ ওরা নদর্মার কালো জলের মতো বুদঁ বুঁদ ছড়াতে থাকে। সেই ছোট একটি বুঁদ বুঁদের উৎস থেকে তৈরি হয়েছে কালো জলের জলাশয়। সেই জলও নাকি কালো নয়। সেই জলের দুর্গন্ধেরও নাকি সুবাস আছে। মহল্লা, গ্রাম, শহরে সেই গল্পের বয়ান চলছে। কাগজের জাদুর পরশে কালো সাদা হয়ে যাচ্ছে। অপরাধী সুবোধ হয়ে যাচ্ছে। সুবোধকে দেওয়া হচ্ছে অপরাধীর বেশ।

ওদের জামিন হয়ে যাচ্ছে বলে রাতের বাঁদুরও ভয়ে আছে। নেকড়েরা মহল্লা, গ্রাম, শহর ছেড়েছে। কিন্তু গুটিকয় সেই মানুষেরা? ওরা নির্বসানে যাবে কোথায়, গোলকে এমন কোনো ভূখণ্ড আছে, ব-দ্বীপে এমন আছে কোনো শুদ্ধ জমিন? যেখানে মানুষ মিশে যেতে পারবে দোঁ-আশের সঙ্গে? মানুষ এক আশ্চর্য প্রাণ। কি মহাকাশ, মহাকাল সমান ধৈর্য্য তার। আবার তার গরিষ্ঠ হবার সাধ।

জামিন যাদের হচ্ছে হোক না। কতোদূর যাবে ওরা, পোড়াবে, নষ্ট করবে কতোটা? মানুষ জানে সেই দু’পায়ের প্রাণীদের মুরোদ। ওদের আত্মমৃত্যুর উৎসব সন্নিকটে। মহাকার লাখ প্রাণীর মতোই, মহাদানব এই দু’পায়ের অপরাধীরা বিলুপ্ত হবেই। সবাই, অসংখ্য বলতে আসলে মানুষই সত্য। ক্ষুদ্র শুধু জামিন পেয়ে যাওয়ার দল। ওদের আসলে জামিনের সুযোগ নেই।

তুষার আবদুল্লাহ: বার্তা প্রধান, সময় টেলিভিশন

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র