Barta24

বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

মুজাহিদদের মর্মব্যথা ও আমাদের উন্নয়ন

মুজাহিদদের মর্মব্যথা ও আমাদের উন্নয়ন
ছবি: বার্তা২৪.কম
সেরাজুল ইসলাম সিরাজ


  • Font increase
  • Font Decrease

প্রায় পৌনে তিন বছর পর হোসাইন মুহাম্মদ আল মুজাহিদ ভাইয়ের সঙ্গে দেখা। দেখা হতেই স্বাভাবিকভাবে স্মৃতি রোমন্থন। একটা লম্বা শ্বাস ছেড়ে বললেন, ভাই বুকটা ভেঙে যাচ্ছে। আমি যে গাছগুলো লাগিয়ে এসেছিলাম সেগুলো কেটে ফেলা হয়েছে।

অনেক কষ্টে নিজ হাতে ভেষজ ও ফলদ বাগান দু’টি করেছিলাম। টাকা না থাকায় ধার কর্জ করতে হয়েছিল। শ্রমিকের টাকা ছিল না, নিজে এবং অফিস স্টাফদের নিয়ে রোপণ করেছিলাম। কিছু টাকার জন্য একটি বিল করেছিলাম, সেই বিলও...! থাক সেসব কথা।

কাকতালীয় বিষয় হলো, ২০১৬ সালের অক্টোবরে তিনি যখন সরকারি গাড়ির পেছনে করে ওই চারাগুলো নিয়ে মেঘলা পর‌্যটন কেন্দ্রের পথে ছুটছিলেন, তখনই তার সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছিল।

পুলের গাড়ির পেছনে এমন নানান জাতের গাছের চারা দেখে বিস্ময় নিয়ে জানতে চাইলে বলেছিলেন, চলেন, নিজের চোখে দেখবেন কী করি। সেদিন সোজা নিয়ে গিয়েছিলেন বান্দরবান জেলা প্রশাসন পরিচালিত অন্যতম পর‌্যটন কেন্দ্র মেঘলায়ে। সেদিন সেখানকার একটি টিলা খাঁ খাঁ করছিল। বলেছিলেন, এখানে ভেষজ ও ফলদ উদ্যান হবে। বান্দরবান জেলা প্রশাসন দিলীপ কুমার বণিক অনুমতি দিয়েছেন।

Plants
কেটে ফেলা হয়েছে বাগান, ছবি: বার্তা২৪.কম



বলতে বলতেই সেদিন দু’জন শ্রমিকের সঙ্গে বৃক্ষ রোপণে লেগে গিয়েছিলেন। কাজ করতে করতেই বলেছিলেন মহাপরিকল্পনার কথা। মানুষ যাতে ঘুরতে এসে ভেষজ ও ফলদ গাছের সঙ্গে সন্তানদের পরিচয় করিয়ে দিতে পারে, সেভাবে প্লান করা হচ্ছে। যেভাবে বৃক্ষ উজাড় হচ্ছে, তাতে শিশুদের জানার সুযোগ কমে যাচ্ছে। এখানে গাছগুলো বাঁচিয়ে তোলা বেশ কষ্টকর। কারণ পানি দিতে হবে নিয়মিত। তিনশ’ ফুট নিচের লেক থেকে পানি আনা কঠিন ও ব্যয়বহুল।

সেই বাগান দু’টি পৌনে তিন বছরে নাকি বেশ হৃষ্টপুষ্ট হয়ে উঠেছিল। ছবিও দেখালেন। বাগানটির সৃজনকারীরা কেউই আর বান্দরবানে নেই। জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক এখন মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টে। আর অন্যতম উদ্যোক্তা মুজাহিদ নানা ঘাটের জল খেয়ে এখন কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দায়িত্বে।

tree
স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে হোসাইন মুহাম্মদ আল মুজাহিদের (বাম দিক থেকে দ্বিতীয় ) গাছের চাড়া রোপণের একটি মুহূর্ত, ছবি: বার্তা২৪.কম

 

যেখানেই থাকতেন নিয়মিত ফোনে খোঁজ নিতেন। গাছগুলো বড় হয়েছে জেনে নাকি তার অন্যরকম ভালোলাগা তৈরি হতো। কাছের কিছু লোকের মাধ্যমে মাঝে মধ্যে ছবিও সংগ্রহ করতেন। কিন্তু নতুন জেলা প্রশাসক এসে কিছু পুরনো গাছসহ সেই বাগানদু’টির সব কেটে ফেলেছেন। এখানে নাকি মাল্টার বাগান করা হবে। ছোট গাছগুলিতে আগুন দিয়ে পোড়ানো হয়েছে।

tree
বড় গাছগুলো কাটা হয়েছে এবং ছোটগুলো পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে, ছবি: বার্তা২৪.কম



এই খবরে যারপর নাই কষ্ট পেয়েছেন। আক্ষেপ করে বলেছেন, মাল্টা বাগানের জন্য কি আর কোথাও জায়গা নেই। কেন একটি বাগান পুড়িয়ে দিতে হবে? আমার মাথায় আসে না। আপনজন বিয়োগের মতোই মনোবেদনা সৃষ্টি হয়েছে।

তাকে কেউ বৃক্ষপ্রেমিক, কেউ বৃক্ষপাগল বলে অভিহিত করতেন। সকাল-বিকেল-সন্ধ্যা যখনই সময় পেতেন গাছ নিয়ে ছুটতেন। তিনি যে ডর্মেটরিতে থাকতেন তার আশপাশ ও অফিসার্স ক্লাব তখন খাঁ খাঁ করত। তার হাতের ছোঁয়ায় সেসব স্থান আজবৃক্ষ আচ্ছাদিত। ছবি দেখালেন আগের ডর্মেটরি কেমন ছিল আর এখন কেমন আছে। বললেন, পেয়ারা ও আম গাছগুলোতে এবারফল এসেছে। ছবি দেখে কি যে আনন্দ পেয়েছি, বলে বোঝাতে পারব না। সোনালু গাছও ফুলে ফুলে ভরে গেছে।


tree
পুড়িয়ে ফেলার আগে মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র, ফাইল ছবি



শুধু কি ডর্মেটরি আর অফিসার্স কোয়ার্টার? কারাগার থেকে পাহাড় যেখানেই জায়গা পেয়েছেন সেখানেই গাছ রোপণ করেছেন। বান্দরবানের পর্যটন বিকাশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। মেঘলা, নীলাচল, প্রান্তিক লেক ও চিম্বুক তার হাতেই পূর্ণতা পেয়েছে।

আবার নীল দিগন্তের মতো অসংখ্য নতুন পর্যটন কেন্দ্র আবিষ্কার করে পর‌্যটক উপযোগী করে ‍তুলেছেন। তার এই বিরামহীন ছুটে চলা বান্দরবানের মানুষ দারুণ ভাবে মনে রেখেছে। ফেসবুক খুললেই তার আলামত পাওয়া যায়। তার জন্য হাহাকার করছেন বান্দরবানবাসী। বলা চলে দিলীপ কুমার বণিক ও মুজাহিদকে হারিয়ে ধুকছে বান্দরবানের পর‌্যটন।

tree

মুজাহিদ এরপর আলো ছড়িয়েছেন যশোরের মনিরামপুরে। সেখানেও সবুজায়ন শুরু করেছিলেন। একই সঙ্গে ইউএনও ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) দায়িত্বে থাকায় শতশত একর জমি ও জলাশয় অবৈধ দখলমুক্ত করতে সক্ষম হন। যশোর থেকে নওগাঁ যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে।  সেখান থেকে এখন কক্সবাজারে।

হৃদয়ের গহীনে বিশাল জায়গা জুড়ে স্থান করে নিয়েছে বান্দরবান। অন্যরা যখন বান্দরবান এড়িয়ে চলতেন, ঠিক সেই সময়ে ট্রেনিং শেষে বুক উঁচিয়ে বলেছিলেন, স্যার আমি পার্বত্য এলাকায় যোগদানে আগ্রহী। সেদিন তার সাহস দেখে সাধুবাদ দিয়েছিলেন বিভাগীয় কমিশনার। এরপর অল্পদিন থাকলেও মনিরামপুরের জন্য তার মন কাঁদে।

tree
এক সময় যে ডরমেটরি চত্বর ছিল গাছশূন্য (প্রথম ছবি), তার ছোঁয়ায় সেই চত্বর এখন ফুলে ফলে ভরে গেছে, ছবি: বার্তা২৪.কম  



বান্দরবানের ভালো-মন্দ সব খবর এখনও ইথারে ভেসে আসে তার কাছে। বললেন, বান্দরবানে কিছুদিন জেল সুপারের দায়িত্বে ছিলাম। জেলখানাতেও অসংখ্য ফল ও ফুলের গাছ লাগিয়েছি। অনেক বন্দি জেল থেকে বের হয়ে স্মরণ করেন, ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠান। আমিও গ্রহণ করি সাদরে। আমি একটি বৃক্ষ রোপণে যতটা প্রশান্তি পাই, ততটাই কষ্ট পাই গাছ কাটার কথা শুনলে।

আমাদের দেশে এ রকম অনেক মুজাহিদ রয়েছেন। যারা উদ্যোম নিয়ে কাজ করে চলেছেন। কিন্তু তাদের চলে যাওয়ার পর আর ভালো কাজগুলোকে এগিয়ে নেওয়ার লোক খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। এভাবেই অনেক ভালো কর্ম কালের গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে।

সেরাজুল ইসলাম সিরাজ: স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম।

আপনার মতামত লিখুন :

বিয়ের দিন আইন প্রয়োগ কেন!

বিয়ের দিন আইন প্রয়োগ কেন!
আলম শাইন, ছবি: বার্তা২৪

আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েরা আঠারো বছরেই ভোটাধিকারের সুযোগ পায়। কিন্তু বিধান অনুযায়ী একই বয়সে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সুযোগ হয় না। কারণ বিয়ের জন্যে দেশে আলাদা আইন-কানুন রয়েছে। ছেলে-মেয়েদের বিয়ের বয়সের ক্ষেত্রে সেই আইনে সামান্য হেরফের রয়েছে। যেমন ছেলেদের ক্ষেত্রে একুশ, মেয়েদেরে ক্ষেত্রে আঠারো বছর। এর চেয়ে কমবয়সী কেউ বিয়ে করলে কাবিন রেজিস্ট্রিতে বিঘ্ন ঘটে।

বিধান অমান্য করে কেউ কাবিননামা রেজিস্ট্রি করলে তাকে অবশ্যই আইনের সন্মুখীন হতে হয়। তারপরও আমরা লক্ষ্য করছি, আইনিবাধা উপেক্ষা করে দেশে এ ধরনের বিয়েশাদী প্রায়ই ঘটছে যা কোনমতেই সমর্থনযোগ্য নয়। এর ফলাফলও ভয়ঙ্কর। অপ্রাপ্ত বয়সে গর্ভধারণ করে অনেক কিশোরী মৃত্যুবরণ করছে। এসব বেআইনি ও অনৈতিক ঘটনা বেশি ঘটছে দেশের গ্রামাঞ্চল কিংবা চরাঞ্চালের দরিদ্র ও অশিক্ষিত পরিবারে। মাঝে মধ্যে মফস্বল শহরেও দেখা যায়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাল্যবিবাহের অন্যতম কারণ হচ্ছে ইভটিজারদের ভয়। যার ফলে বাবা-মা মেয়েকে অপ্রাপ্ত বয়সেই বিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এ কাজটি যেসব বাবা-মায়েরা করছেন তারা কিন্তু ঘুণাক্ষরেও জানছেন না, আঠারো বছরের কমবয়সী মেয়েকে বিয়ে দেওয়া আইনের পরিপন্থী। বিষয়টা অজানা থাকাতেই দরিদ্র বাবারা অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যার বিয়ের দিনক্ষণ ধার্যকরে সাধ্যানুযায়ী ভোজের আয়োজন করেন। ঠিক এমন সময়েই ঘটে অপ্রত্যাশিত সেই ঘটনাটি; বিয়ের বাড়িতে দারোগা-পুলিশের হানা! যা সত্যিই বেদনাদায়ক। এ বেদনার উপসম ঘটানো সহজসাধ্য নয়।

দুঃখজনক সেই ঘটনায় কন্যাদায়গ্রস্ত পিতাকে পর্বতসম ওজনের ভার বহন করতে হয়। বিষয়টা যে কত মর্মন্তুদ তা ভুক্তভোগী ছাড়া আর কারো জানার কথাও নয়। একে তো দরিদ্র বাবা, তার ওপর মেয়ের বিয়ের আয়োজন করতে ঋণ নিতে হয়েছে তাকে। সেই ঋণ এনজিও, ব্যাংক কিংবা ব্যক্তি পর্যায়েরও হতে পারে। হতে পারে তিনি জমিজমা বিক্রয় করেও মেয়ের বিয়ের আয়োজন করেছেন। এ অবস্থায় মেয়ের বিয়েটা ভেঙ্গে গেলে ঋণগ্রস্ত পিতার অবস্থাটা কি হতে পারে তা অনুমেয়। কারণ ইতোমধ্যেই অর্থকড়ি যা খরচ করার তা করে ফেলেছেন। আর্থিক দণ্ডের শিকার হয়ে কনের বাবা তখন মানসিক ভারসাম্যও হারিয়ে ফেলেন। তার সেই মানসিক যন্ত্রণার কথা সচেতন ব্যক্তিমাত্রই বুঝতে সক্ষম হবেন। বিষয়টা বিশ্লেষণ করে বোঝানোর কিছু নেই বোধকরি।

গ্রামাঞ্চলে এভাবে বিয়ে ভেঙ্গে গেলে ওই পাত্রী বা কনের ওপর নেমে আসে মহাদুর্যোগ। পাড়া পড়শীরা অলুক্ষণে অপয়া উপাধি দিয়ে কনের জীবনটাকে অতিষ্ট করে ফেলেন। এতসব কথাবার্তা সহ্য করতে না পেরে অনেকক্ষেত্রে সেই কন্যাটি আত্মহত্যার চিন্তা করেন অথবা বিপদগামী হন।

প্রশ্ন হচ্ছে, এ ধরনের ঘটনার জন্য কে দায়ী থাকবেন- প্রশাসন না কনের বাবা? আমরা জানি, আইনের দৃষ্টিতে বাবাই দায়ী, প্রশাসন নয়। তারপও জিজ্ঞাসাটা থেকেই যাচ্ছে, কনের বাবাকে বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করার আগে স্থানীয় প্রশাসন বাধা দেয়নি কেন! এখানে স্বভাবসুলভ জবাব আসতে পারে যে, বিষয়টা প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর হয়নি বিধায় বাধা দেওয়া হয়নি। কিন্তু বিষয়টা তা নয়। যতদুর জানা যায়, এলাকার কিছু বদমানুষ অথবা ইভটিজার জেনেও জানাননি প্রশাসনকে। কনের বাবাকে নাজেহাল করার উদ্দেশে বিয়ের দিন প্রশাসনকে চুপিচুপি জানিয়ে দেন, যা আগে জানালেও পারতেন। তাতে করে কনের বাবা সাবধান হতেন এবং বিয়ের আয়োজন থেকে সরে আসতেন। অথচ সেই কাজটি করছেন না মানুষেরা। প্রায়ই এ ধরনের হীনমন্যতার বলি হচ্ছেন দেশের নিরীহ সাধারণ।

এ থেকে উত্তরণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছি আমরা। ইচ্ছে করলে স্থানীয় প্রশাসন উত্তরণের জন্য জনসচেনতা বৃদ্ধির প্রয়াসে কিছু প্রদক্ষেপ নিতে পারে। যেমন এলাকায় মাইকিং করে বাল্যবিবাহ যে অপরাধ, তা জানিয়ে দেয়া। এছাড়া হ্যান্ডবিলের ব্যবস্থাও করতে পারেন। অথবা এলাকার মেম্বার, চৌকিদার বা গণ্যমাণ্য ব্যক্তির ওপরে এ দায়িত্ব আরোপ করতে পারেন। যাতে করে কোন অভিভাবক অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে-মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করার সাহস না পায়। এ ধরনের বিয়ের কথাবার্তার সংবাদ কানে এলেই তাৎক্ষণিকভাবে তা যেন প্রতিহত করেন তারা। এবং কেন তিনি বাল্যবিবাহের ব্যবস্থা করছেন প্রশাসন সেটিও উদঘাটন করার চেষ্টা করবেন। যদি ইভটিজারদের ভয়ে মেয়ে বিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেন, তাহলে অবশ্যই তার ব্যবস্থা নিবেন।

উল্লেখ্য, এসব বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা নিতে পারেন এলাকার তরুণ সমাজ, মসজিদের ইমাম কিংবা মন্দিরের পুরোহিতও। তাতে করে বাল্যবিবাহ রোধের ব্যাপক সম্ভবনা রয়েছে। রয়েছে দরিদ্র কনের বাবার আর্থিক দণ্ড থেকে মুক্তি মেলার সুযোগও। ফলে বিয়ের দিন আইন প্রয়োগের হাতে থেকে রক্ষা পাবেন মেয়ের বাবা ও পরিবার-পরিজন।

আলম শাইন: কথাসাহিত্যিক, কলামিস্ট ও বন্যপ্রাণী বিশারদ।

জামিন হয়ে যাচ্ছে সবার!

জামিন হয়ে যাচ্ছে সবার!
তুষার আবদুল্লাহ, ছবি: বার্তা২৪.কম

সবার জামিন হয়ে যায়। এই সবাই কারা? শুনে মনে হয় অনেক মানুষ। একটি মহল্লায়, একটি গ্রামে, একটি শহরে কতো মানুষই তো থাকে। তাহলে সবাই বলতে কি মহল্লার সব মানুষের কথা বলা হচ্ছে? গ্রাম-শহরের মানুষও নিশ্চয়ই এই গোনার মধ্যে আছে। সবাই মানে তো অসংখ্য। তাহলে জামিন হয়ে যাচ্ছে অসংখ্য মানুষের।

আচ্ছা জামিন মানে কী? অপরাধের দায় থেকে মুক্তি পাওয়া, নাকি অপরাধ প্রমাণের আগ পর্যন্ত মুক্ত বাতাসে চলাচল করার স্বাধীনতা? এমনও তো হতে পারে জামিন মানে কাউকে পরোয়া না করার দাম্ভিকতা। মহল্লা, গ্রাম, শহরের সবাই কি অপরাধী? কারণ শুরুতেই যে বলা হয়েছে, সবাই জামিন পেয়ে যাচ্ছে। কে দিল এই খবর? টিনে বারি দিয়ে মহল্লা, গ্রাম, শহরে খবর ছড়াচ্ছে কে, সবার যে জামিন হচ্ছে? মানুষ। হুম, মানুষ তার দুঃখের কথা জানাচ্ছে। মানুষ তার অসহায়ত্বের কথা জানাচ্ছে। তাহলে এই যে বলা হলো সবাই, সেখানে কি মানুষ নেই?

সবাই বলতে তো অগণিত, অসংখ্য বোঝায়, সেখানে মানুষ থাকবে না কেন? মানুষেরা নির্বাসনে গেছে? এমন সংবাদই পাওয়া যাচ্ছে। যাবে না কেন? মহল্লার দু’পায়ের যে প্রাণী পাশের বাড়ির শিশুকে জমির লোভে মাটিতে পুঁতে রেখেছিল, সে এখন শীষ বাজিয়ে ঘুরে বেড়ায়। দু’পায়ের দল গ্রামের কিশোরীকে ধর্ষণ করার পরেও হুঙ্কার থামায়নি। নতুন কিশোরী তাদের নজরে। চাকায় মানুষ পিষে ফেলে ছিল যে, তাকে এখনও দেখা যায় রঙিন কাঁচের আড়ালে শীতাতাপ মোটর যানে। আগুনে পুড়ে গেল কতো প্রিয় মুখ। পুড়িয়ে মারলো যে সংঘ, তারা আষাঢ়ে ক্ষমতার রোদ পোহায়।

মানুষ নামে আছে যে বিলুপ্ত প্রায় সম্প্রদায়, তারা ক্রমশ গুহাবাসী হয়ে পড়ছে। কোনোভাবে মুখ বের করে দেখছে- কোথাও কোনো অপরাধ নেই। যেহেতু অপরাধ নেই, তাই সবাই শরতের রোদ্দুর দেখছে। আগাম হৈমন্তী হাওয়া শরীরে মাখিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মহল্লায় তাদের সালিশে ডাকবে কে, গ্রামে সালিশ বসানোর মুরোদ কার, আর শহর? রঙিলা শহরের নকশাকার তো ওই ওরাই। যাদের জামিন হয়ে যায়। সংখ্যায় ওরা লঘিষ্ঠই ছিল। ক্রমশ ওরা নদর্মার কালো জলের মতো বুদঁ বুঁদ ছড়াতে থাকে। সেই ছোট একটি বুঁদ বুঁদের উৎস থেকে তৈরি হয়েছে কালো জলের জলাশয়। সেই জলও নাকি কালো নয়। সেই জলের দুর্গন্ধেরও নাকি সুবাস আছে। মহল্লা, গ্রাম, শহরে সেই গল্পের বয়ান চলছে। কাগজের জাদুর পরশে কালো সাদা হয়ে যাচ্ছে। অপরাধী সুবোধ হয়ে যাচ্ছে। সুবোধকে দেওয়া হচ্ছে অপরাধীর বেশ।

ওদের জামিন হয়ে যাচ্ছে বলে রাতের বাঁদুরও ভয়ে আছে। নেকড়েরা মহল্লা, গ্রাম, শহর ছেড়েছে। কিন্তু গুটিকয় সেই মানুষেরা? ওরা নির্বসানে যাবে কোথায়, গোলকে এমন কোনো ভূখণ্ড আছে, ব-দ্বীপে এমন আছে কোনো শুদ্ধ জমিন? যেখানে মানুষ মিশে যেতে পারবে দোঁ-আশের সঙ্গে? মানুষ এক আশ্চর্য প্রাণ। কি মহাকাশ, মহাকাল সমান ধৈর্য্য তার। আবার তার গরিষ্ঠ হবার সাধ।

জামিন যাদের হচ্ছে হোক না। কতোদূর যাবে ওরা, পোড়াবে, নষ্ট করবে কতোটা? মানুষ জানে সেই দু’পায়ের প্রাণীদের মুরোদ। ওদের আত্মমৃত্যুর উৎসব সন্নিকটে। মহাকার লাখ প্রাণীর মতোই, মহাদানব এই দু’পায়ের অপরাধীরা বিলুপ্ত হবেই। সবাই, অসংখ্য বলতে আসলে মানুষই সত্য। ক্ষুদ্র শুধু জামিন পেয়ে যাওয়ার দল। ওদের আসলে জামিনের সুযোগ নেই।

তুষার আবদুল্লাহ: বার্তা প্রধান, সময় টেলিভিশন

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র