Barta24

বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

মোদি ঝড়ে মমতার স্বপ্নভঙ্গ

মোদি ঝড়ে মমতার স্বপ্নভঙ্গ
ফরিদুল আলম/ ছবি: বার্তা২৪.কম
ফরিদুল আলম


  • Font increase
  • Font Decrease

এবারের লোকসভা নির্বাচনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে বুথ ফেরত ভোটারদের নিয়ে করা সমীক্ষা কেবল সত্যই হয়নি, বরং সেই সত্যকে আরও জোড়ালো করে ২০১৪ সালের নির্বাচনের চেয়েও বেশি আসনে জয়লাভ করল বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট। সবশেষ ফলাফলে বিজেপির আসন ৩০২, যা গতবারের তুলনায় ২০টি বেশি, তাদের নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের ৩৫০ (যা গতবারের চেয়ে ১৬টি বেশি), কংগ্রেসের ৫০ (গতবারের চেয়ে ৬টি বেশি), তাদের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোটের ৯২টি (যা গতবারের চেয়ে ৩৩টি বেশি)।

সরলভাবে বললে বিজেপি এবং কংগ্রেস উভয়েই ভালো করল, কিন্তু কংগ্রেসের জন্য এটি কেবল সংখ্যাগত বিবেচনা, যা ছাপিয়ে আগামী দিনের রাজনীতির এক অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ দেখছে তারা। জয় নিশ্চিত হওয়ার পর নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছেন, বিজেপি এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও তারা জোট সঙ্গীদের নিয়েই সরকার গঠন করবে।

আসলে এবারের নির্বাচনে ভারতব্যাপী সরকার গঠনের সমীকরণটি ছিল একটু ভিন্ন ধাঁচের। প্রতিটি নির্বাচনে যেখানে প্রধান দুই প্রতিপক্ষ সরকার গঠনের জন্য নির্বাচনে তোড়জোড় চালায়, এক্ষেত্রে এবারে স্পষ্ট যে ব্যতিক্রম দেখা গেল তা হচ্ছে কংগ্রেসের তরফ থেকে ভারতে সরকার গঠনের ব্যাপারে দৃঢ় প্রত্যয়টি সেরকমভাবে দেখা যায়নি।

২০১৪ সালের নির্বাচনে শোচনীয় (৪৪টি আসন) পরাজয়ের পর গত পাঁচ বছরে কংগ্রেস সেভাবে ঘুরে দাঁড়াতে তো পারেইনি, বরং নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি বিরোধীদের নিয়ে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোটকে শক্তশালী করার সেরকম চেষ্টা করতেও ব্যর্থ হয়েছেন রাহুল গান্ধী। ফলতঃ যা হবার তাই হলো, আরও টানা দ্বিতীয়বারের মত শোচনীয় পরাজয় বরণ করে নিজেদের রাজনীতিকে কঠিন করে তুলল কংগ্রেস। রাহুল আরও কঠিন করে তুললেন নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকে। পারিবারিক আসন খ্যাত আমেথি থেকে পরাজিত হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী স্মৃতি ইরানীর কাছে, যদিও কেরালার ওয়ানন্দ আসনে তিনি জয় পেয়ে নিজে পার্লামেন্টে যাবার সুযোগটুকু পেয়েছেন।

কংগ্রেস যে এবার সরকার গঠন করতে পারবে না সেটা রাহুল গান্ধীর বিভিন্ন কথাতেই তিনি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। মোদি সরকার হটানোর প্রয়োজনে তিনি জোটসঙ্গীদের নিয়ে সরকার গঠন করতে প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রী পদ ছেড়ে দিতেও প্রস্তুত বলে তার মন্তব্যে ভোটারদের মধ্যে কংগ্রেসের প্রতি আস্থাহীনতাই বেড়েছে। এর বিপরীতে ২৯ রাজ্যের মধ্যে মাত্র ১২টি রাজ্যে তারা জোটবদ্ধভাবে এবারের নির্বাচনে লড়াই করতে সক্ষম হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যগুলোর মধ্যে উত্তরপ্রদেশ (৮০টি আসন), মহারাষ্ট্র (৪৮টি আসন), পশ্চিমবঙ্গ (৪২টি আসন), তামিলনাড়ুতে (৩৯টি আসন) তারা বিরোধীদের সঙ্গে জোট করে নির্বাচন করতে ব্যর্থ হয়েছে। এর মধ্যে উত্তর প্রদেশের মত গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে বহুজন সমাজবাদী পার্টির মায়াবতী এবং সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদবের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে লড়াই করার সুযোগ নিজেরাই নষ্ট করেছে।

বিগত বিধানসভা নির্বাচনে রাজস্থান এবং মধ্যপ্রদেশে এই দু’টি দলের ইচ্ছাকে অগ্রাহ্য করে তাদের ইউপিএ জোটে না নেবার প্রতিশোধ সরূপ তারা এবার লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। অথচ মায়াবতী এবং অখিলেশ যৌথভাবে মোদির বিরুদ্ধেই নির্বাচন করেছেন। সবচেয়ে বড় রাজ্যটিতে সফল জোট করতে কংগ্রেসের ব্যর্থতা মোদির সেখানে ব্যাপক সাফল্যের পাশাপাশি সরকার গঠনের পথকে আরও সহজ করে দিয়েছে।

এদিকে নির্বাচনের আগে রাজ্যের ৪২টি আসনের সবকটি জয় করে মোদি বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে জোট করে ভারতের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবার যে স্বপ্ন দেখেছিলেন মমতা ব্যানার্জি তার অপমৃত্যু ঘটল। এক প্রতিক্রিয়ায় বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে পরাজিতদের উদ্দেশে সান্তনা দিয়ে বলেন, সব পরাজয়ই পরাজয় নয়।

গত নির্বাচনে যেখানে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি তৃণমূলের ৩৪টি আসনের বিপরীতে পেয়েছিল মাত্র দু’টি আসন, এবার সেখানে তৃণমূল ২৩ এবং বিজেপির ১৮টি আসনে জয়লাভ জানান দিচ্ছে যে সামনের বিধানসভা নির্বাচন মমতার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে টিকে থাকার জন্য কঠিন পরীক্ষা নিয়ে হাজির হচ্ছে। রাজ্যে বিজেপির এই উত্থান এবং সেই সঙ্গে অপরাপর রাজ্যগুলোতে আশাতীত ফলাফল অর্জনের মধ্য দিয়ে বিজেপি সত্যিকার অর্থেই একটি সর্বভারতীয় দলে পরিণত হলো।

এবারের লোকসভা নির্বাচনে মোদির সঙ্গে মমতার লড়াইটা জমেছিল বেশ। সাত দফার নির্বাচনে প্রায় প্রতিটিতেই নরেন্দ্র মোদি পশ্চিমবঙ্গ সফর করেছেন। ভোটারদের সামনে তুলে ধরেছেন মমতার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং রাজ্যব্যাপী তৃণমূলের দুর্নীতির বিষয়টি। বিভিন্ন জনসভায় তিনি মমতার শাসনামলে পশ্চিমবঙ্গে সারদা, নারদা মামলাসহ উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যর্থতার দিকটি তুলে ধরে নিজেকে ‘চৌকিদার’ হিসেবে উল্লেখ করে ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, এই চৌকিদারই উপহার দিতে পারবে একটি সুখী ভারত।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এই অভাবনীয় উত্থানের নেপথ্যে এখন অনেকেই মমতার অহংবোধকে দায়ী করছেন। প্রচার চলাকালে তিনি বিভিন্ন সময় মোদির বিরুদ্ধে যে ভাষায় বিষোদগার করেছিলেন এবং এর বিপরীতে মোদির ধীরস্থির এবং শালীন জবাব এই নির্বাচনের ফলাফলে স্পষ্ট হয়েছে বলে অনেকের ধারণা।

তাছাড়া এই রাজ্যে মোদি নিজে এবং বিজেপি সভাপতি বিভিন্ন দফা নির্বাচনের আগে যেভাবে চষে বেড়িয়েছেন, তার যথার্থ ফলাফল পেয়েছেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে। মোদি নিজে ১৯টি জনসভায় ভোটারদের কাছে হাজির হয়ে তার ভাষায় তার মত চৌকিদারের হাতেই ভারত সবচেয়ে নিরাপদ বলে ভোটারদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন।

গেরুয়া শিবিরে স্বাভাবিকভাবেই উল্লাস চলছে। দলের পক্ষ থেকে ২০ হাজার কর্মীকে গত সন্ধ্যায় দলের সদর দফতরে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেখানে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে জমকালো সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এছাড়াও দলের নির্বাচিত সব সাংসদদের আগামী ২৫ মে নয়াদিল্লিতে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ২৮ মে নতুন সরকার শপথ নেবে।

মোদি সরকারের গত পাঁচ বছরের দৃশ্যমান ব্যর্থতা এবং প্রধান বিরোধী দল হিসেবে কংগ্রেসের ঘুরে দাঁড়ানোর অক্ষমতা অপরাপর যেসব নেতৃবৃন্দকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হবার স্বপ্ন দেখিয়েছিল তার অগ্রভাগে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। তিনি অনেকটা দৃঢ়তার সঙ্গেই ঘোষণা দিয়েছিলেন যে রাজ্যের ৪২টি আসনের সবকটি তারা দখল করে নেবেন এবারের নির্বাচনে। গতবার ৩৪টি আসন পেয়েও আঞ্চলিক দলগুলোর মধ্যে তামিলনাড়ুর জয়ললিতার দল এআইএডিএমকে (৩৭)র পরেই নিজের দলের অবস্থান ধরে রেখেছিলেন। জয়ললিতার মৃত্যুর পর বিজেপির সঙ্গে এআইএডিএমকে’র জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করার ফলে এবং অপরাপর প্রতিদ্বন্দ্বী উত্তর প্রদেশের মায়াবতী এবং অখিলেশ যাদব এবং অন্ধ্রের চন্দ্রবাবু নাইডু আসন সংখ্যার বিচারে তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ে ভালো করতে পারবে না ধরে নিয়েই নির্বাচন পরবর্তী সময়ে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউপিএসহ মোদি বিরোধী সব দলকে সঙ্গে নিয়ে সরকার গঠন করলে সেক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী পদের বড় দাবিদার মমতারই হবার কথা ছিল। দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে বিজেপি যেভাবে নিজেদের আদর্শের সঙ্গে সমমনা দলগুলোকে ধরে রাখতে পেরেছে, বিরোধী দলগুলো মোদি বিরোধী হওয়া সত্ত্বেও সমস্বরে বিজেপির বিরুদ্ধে তাদের অভিন্ন কর্মসূচি নিতে ব্যর্থ হওয়াতে আপাতদৃষ্টিতে বিগত পাঁচ বছরের অনেক ব্যর্থতা সত্ত্বেও সাফল্য গিয়ে ধরা দিল বিজেপির ঘরে।

এটা ভারতের রাজনীতির জন্য এক বড় শিক্ষা, তবে এই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে তারা সামনের দিনগুলোতে যে সঠিক পথ অবলম্বন করতে পারবে তার নিশ্চয়তা নেই, কারণ দলগুলোর ভেতর মোদি বা বিজেপি হটানোর মত বৃহত্তর কর্মসূচির চাইতে দলীয় এবং ব্যক্তিগত ক্ষুদ্র স্বার্থই যে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেটা এবার অনেক স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হল।

ফরিদুল আলম: সহযোগী অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

আপনার মতামত লিখুন :

বিয়ের দিন আইন প্রয়োগ কেন!

বিয়ের দিন আইন প্রয়োগ কেন!
আলম শাইন, ছবি: বার্তা২৪

আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েরা আঠারো বছরেই ভোটাধিকারের সুযোগ পায়। কিন্তু বিধান অনুযায়ী একই বয়সে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সুযোগ হয় না। কারণ বিয়ের জন্যে দেশে আলাদা আইন-কানুন রয়েছে। ছেলে-মেয়েদের বিয়ের বয়সের ক্ষেত্রে সেই আইনে সামান্য হেরফের রয়েছে। যেমন ছেলেদের ক্ষেত্রে একুশ, মেয়েদেরে ক্ষেত্রে আঠারো বছর। এর চেয়ে কমবয়সী কেউ বিয়ে করলে কাবিন রেজিস্ট্রিতে বিঘ্ন ঘটে।

বিধান অমান্য করে কেউ কাবিননামা রেজিস্ট্রি করলে তাকে অবশ্যই আইনের সন্মুখীন হতে হয়। তারপরও আমরা লক্ষ্য করছি, আইনিবাধা উপেক্ষা করে দেশে এ ধরনের বিয়েশাদী প্রায়ই ঘটছে যা কোনমতেই সমর্থনযোগ্য নয়। এর ফলাফলও ভয়ঙ্কর। অপ্রাপ্ত বয়সে গর্ভধারণ করে অনেক কিশোরী মৃত্যুবরণ করছে। এসব বেআইনি ও অনৈতিক ঘটনা বেশি ঘটছে দেশের গ্রামাঞ্চল কিংবা চরাঞ্চালের দরিদ্র ও অশিক্ষিত পরিবারে। মাঝে মধ্যে মফস্বল শহরেও দেখা যায়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাল্যবিবাহের অন্যতম কারণ হচ্ছে ইভটিজারদের ভয়। যার ফলে বাবা-মা মেয়েকে অপ্রাপ্ত বয়সেই বিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এ কাজটি যেসব বাবা-মায়েরা করছেন তারা কিন্তু ঘুণাক্ষরেও জানছেন না, আঠারো বছরের কমবয়সী মেয়েকে বিয়ে দেওয়া আইনের পরিপন্থী। বিষয়টা অজানা থাকাতেই দরিদ্র বাবারা অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যার বিয়ের দিনক্ষণ ধার্যকরে সাধ্যানুযায়ী ভোজের আয়োজন করেন। ঠিক এমন সময়েই ঘটে অপ্রত্যাশিত সেই ঘটনাটি; বিয়ের বাড়িতে দারোগা-পুলিশের হানা! যা সত্যিই বেদনাদায়ক। এ বেদনার উপসম ঘটানো সহজসাধ্য নয়।

দুঃখজনক সেই ঘটনায় কন্যাদায়গ্রস্ত পিতাকে পর্বতসম ওজনের ভার বহন করতে হয়। বিষয়টা যে কত মর্মন্তুদ তা ভুক্তভোগী ছাড়া আর কারো জানার কথাও নয়। একে তো দরিদ্র বাবা, তার ওপর মেয়ের বিয়ের আয়োজন করতে ঋণ নিতে হয়েছে তাকে। সেই ঋণ এনজিও, ব্যাংক কিংবা ব্যক্তি পর্যায়েরও হতে পারে। হতে পারে তিনি জমিজমা বিক্রয় করেও মেয়ের বিয়ের আয়োজন করেছেন। এ অবস্থায় মেয়ের বিয়েটা ভেঙ্গে গেলে ঋণগ্রস্ত পিতার অবস্থাটা কি হতে পারে তা অনুমেয়। কারণ ইতোমধ্যেই অর্থকড়ি যা খরচ করার তা করে ফেলেছেন। আর্থিক দণ্ডের শিকার হয়ে কনের বাবা তখন মানসিক ভারসাম্যও হারিয়ে ফেলেন। তার সেই মানসিক যন্ত্রণার কথা সচেতন ব্যক্তিমাত্রই বুঝতে সক্ষম হবেন। বিষয়টা বিশ্লেষণ করে বোঝানোর কিছু নেই বোধকরি।

গ্রামাঞ্চলে এভাবে বিয়ে ভেঙ্গে গেলে ওই পাত্রী বা কনের ওপর নেমে আসে মহাদুর্যোগ। পাড়া পড়শীরা অলুক্ষণে অপয়া উপাধি দিয়ে কনের জীবনটাকে অতিষ্ট করে ফেলেন। এতসব কথাবার্তা সহ্য করতে না পেরে অনেকক্ষেত্রে সেই কন্যাটি আত্মহত্যার চিন্তা করেন অথবা বিপদগামী হন।

প্রশ্ন হচ্ছে, এ ধরনের ঘটনার জন্য কে দায়ী থাকবেন- প্রশাসন না কনের বাবা? আমরা জানি, আইনের দৃষ্টিতে বাবাই দায়ী, প্রশাসন নয়। তারপও জিজ্ঞাসাটা থেকেই যাচ্ছে, কনের বাবাকে বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করার আগে স্থানীয় প্রশাসন বাধা দেয়নি কেন! এখানে স্বভাবসুলভ জবাব আসতে পারে যে, বিষয়টা প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর হয়নি বিধায় বাধা দেওয়া হয়নি। কিন্তু বিষয়টা তা নয়। যতদুর জানা যায়, এলাকার কিছু বদমানুষ অথবা ইভটিজার জেনেও জানাননি প্রশাসনকে। কনের বাবাকে নাজেহাল করার উদ্দেশে বিয়ের দিন প্রশাসনকে চুপিচুপি জানিয়ে দেন, যা আগে জানালেও পারতেন। তাতে করে কনের বাবা সাবধান হতেন এবং বিয়ের আয়োজন থেকে সরে আসতেন। অথচ সেই কাজটি করছেন না মানুষেরা। প্রায়ই এ ধরনের হীনমন্যতার বলি হচ্ছেন দেশের নিরীহ সাধারণ।

এ থেকে উত্তরণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছি আমরা। ইচ্ছে করলে স্থানীয় প্রশাসন উত্তরণের জন্য জনসচেনতা বৃদ্ধির প্রয়াসে কিছু প্রদক্ষেপ নিতে পারে। যেমন এলাকায় মাইকিং করে বাল্যবিবাহ যে অপরাধ, তা জানিয়ে দেয়া। এছাড়া হ্যান্ডবিলের ব্যবস্থাও করতে পারেন। অথবা এলাকার মেম্বার, চৌকিদার বা গণ্যমাণ্য ব্যক্তির ওপরে এ দায়িত্ব আরোপ করতে পারেন। যাতে করে কোন অভিভাবক অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে-মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করার সাহস না পায়। এ ধরনের বিয়ের কথাবার্তার সংবাদ কানে এলেই তাৎক্ষণিকভাবে তা যেন প্রতিহত করেন তারা। এবং কেন তিনি বাল্যবিবাহের ব্যবস্থা করছেন প্রশাসন সেটিও উদঘাটন করার চেষ্টা করবেন। যদি ইভটিজারদের ভয়ে মেয়ে বিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেন, তাহলে অবশ্যই তার ব্যবস্থা নিবেন।

উল্লেখ্য, এসব বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা নিতে পারেন এলাকার তরুণ সমাজ, মসজিদের ইমাম কিংবা মন্দিরের পুরোহিতও। তাতে করে বাল্যবিবাহ রোধের ব্যাপক সম্ভবনা রয়েছে। রয়েছে দরিদ্র কনের বাবার আর্থিক দণ্ড থেকে মুক্তি মেলার সুযোগও। ফলে বিয়ের দিন আইন প্রয়োগের হাতে থেকে রক্ষা পাবেন মেয়ের বাবা ও পরিবার-পরিজন।

আলম শাইন: কথাসাহিত্যিক, কলামিস্ট ও বন্যপ্রাণী বিশারদ।

জামিন হয়ে যাচ্ছে সবার!

জামিন হয়ে যাচ্ছে সবার!
তুষার আবদুল্লাহ, ছবি: বার্তা২৪.কম

সবার জামিন হয়ে যায়। এই সবাই কারা? শুনে মনে হয় অনেক মানুষ। একটি মহল্লায়, একটি গ্রামে, একটি শহরে কতো মানুষই তো থাকে। তাহলে সবাই বলতে কি মহল্লার সব মানুষের কথা বলা হচ্ছে? গ্রাম-শহরের মানুষও নিশ্চয়ই এই গোনার মধ্যে আছে। সবাই মানে তো অসংখ্য। তাহলে জামিন হয়ে যাচ্ছে অসংখ্য মানুষের।

আচ্ছা জামিন মানে কী? অপরাধের দায় থেকে মুক্তি পাওয়া, নাকি অপরাধ প্রমাণের আগ পর্যন্ত মুক্ত বাতাসে চলাচল করার স্বাধীনতা? এমনও তো হতে পারে জামিন মানে কাউকে পরোয়া না করার দাম্ভিকতা। মহল্লা, গ্রাম, শহরের সবাই কি অপরাধী? কারণ শুরুতেই যে বলা হয়েছে, সবাই জামিন পেয়ে যাচ্ছে। কে দিল এই খবর? টিনে বারি দিয়ে মহল্লা, গ্রাম, শহরে খবর ছড়াচ্ছে কে, সবার যে জামিন হচ্ছে? মানুষ। হুম, মানুষ তার দুঃখের কথা জানাচ্ছে। মানুষ তার অসহায়ত্বের কথা জানাচ্ছে। তাহলে এই যে বলা হলো সবাই, সেখানে কি মানুষ নেই?

সবাই বলতে তো অগণিত, অসংখ্য বোঝায়, সেখানে মানুষ থাকবে না কেন? মানুষেরা নির্বাসনে গেছে? এমন সংবাদই পাওয়া যাচ্ছে। যাবে না কেন? মহল্লার দু’পায়ের যে প্রাণী পাশের বাড়ির শিশুকে জমির লোভে মাটিতে পুঁতে রেখেছিল, সে এখন শীষ বাজিয়ে ঘুরে বেড়ায়। দু’পায়ের দল গ্রামের কিশোরীকে ধর্ষণ করার পরেও হুঙ্কার থামায়নি। নতুন কিশোরী তাদের নজরে। চাকায় মানুষ পিষে ফেলে ছিল যে, তাকে এখনও দেখা যায় রঙিন কাঁচের আড়ালে শীতাতাপ মোটর যানে। আগুনে পুড়ে গেল কতো প্রিয় মুখ। পুড়িয়ে মারলো যে সংঘ, তারা আষাঢ়ে ক্ষমতার রোদ পোহায়।

মানুষ নামে আছে যে বিলুপ্ত প্রায় সম্প্রদায়, তারা ক্রমশ গুহাবাসী হয়ে পড়ছে। কোনোভাবে মুখ বের করে দেখছে- কোথাও কোনো অপরাধ নেই। যেহেতু অপরাধ নেই, তাই সবাই শরতের রোদ্দুর দেখছে। আগাম হৈমন্তী হাওয়া শরীরে মাখিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মহল্লায় তাদের সালিশে ডাকবে কে, গ্রামে সালিশ বসানোর মুরোদ কার, আর শহর? রঙিলা শহরের নকশাকার তো ওই ওরাই। যাদের জামিন হয়ে যায়। সংখ্যায় ওরা লঘিষ্ঠই ছিল। ক্রমশ ওরা নদর্মার কালো জলের মতো বুদঁ বুঁদ ছড়াতে থাকে। সেই ছোট একটি বুঁদ বুঁদের উৎস থেকে তৈরি হয়েছে কালো জলের জলাশয়। সেই জলও নাকি কালো নয়। সেই জলের দুর্গন্ধেরও নাকি সুবাস আছে। মহল্লা, গ্রাম, শহরে সেই গল্পের বয়ান চলছে। কাগজের জাদুর পরশে কালো সাদা হয়ে যাচ্ছে। অপরাধী সুবোধ হয়ে যাচ্ছে। সুবোধকে দেওয়া হচ্ছে অপরাধীর বেশ।

ওদের জামিন হয়ে যাচ্ছে বলে রাতের বাঁদুরও ভয়ে আছে। নেকড়েরা মহল্লা, গ্রাম, শহর ছেড়েছে। কিন্তু গুটিকয় সেই মানুষেরা? ওরা নির্বসানে যাবে কোথায়, গোলকে এমন কোনো ভূখণ্ড আছে, ব-দ্বীপে এমন আছে কোনো শুদ্ধ জমিন? যেখানে মানুষ মিশে যেতে পারবে দোঁ-আশের সঙ্গে? মানুষ এক আশ্চর্য প্রাণ। কি মহাকাশ, মহাকাল সমান ধৈর্য্য তার। আবার তার গরিষ্ঠ হবার সাধ।

জামিন যাদের হচ্ছে হোক না। কতোদূর যাবে ওরা, পোড়াবে, নষ্ট করবে কতোটা? মানুষ জানে সেই দু’পায়ের প্রাণীদের মুরোদ। ওদের আত্মমৃত্যুর উৎসব সন্নিকটে। মহাকার লাখ প্রাণীর মতোই, মহাদানব এই দু’পায়ের অপরাধীরা বিলুপ্ত হবেই। সবাই, অসংখ্য বলতে আসলে মানুষই সত্য। ক্ষুদ্র শুধু জামিন পেয়ে যাওয়ার দল। ওদের আসলে জামিনের সুযোগ নেই।

তুষার আবদুল্লাহ: বার্তা প্রধান, সময় টেলিভিশন

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র