Barta24

বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

“বিরোধীদের আক্রমণ ভুলে গিয়েছি, আজ থেকে নতুন দিন”

“বিরোধীদের আক্রমণ ভুলে গিয়েছি, আজ থেকে নতুন দিন”
মাছুম বিল্লাহ, ছবি: বার্তা২৪
মাছুম বিল্লাহ


  • Font increase
  • Font Decrease

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল যে, কৃষকদের সংকট, বেকার সমস্যা ও সর্বোপরি অর্থনৈতিক দুরবস্থা মোদির দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় যাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। কিন্তু সব জল্পনা-কল্পনা, অনুমান, আলোচনা ও পূর্বাভাসকে উড়িয়ে দিয়ে হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপিই ধর্মনিরপেক্ষ ও বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশের ক্ষমতায় পুনরায় বসছে। ভারতের সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচন শুরু হয়েছিল ১১ এপ্রিল, সাতদফা ভোটাভুটির শেষ দফা ছিল ১৯ মে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছেন, ভারতের ৯০ কোটি ভোটারের মধ্যে ৬০ কোটিই এবার ভোট দিয়েছে।

আমরা জানি, লোকসভার ৫৪৫টি আসনের মধ্যে সংবিধান অনুযায়ী ভোট অনুষ্ঠিত হয় ৫৪৩টিতে, বাকি দুটি আসনে মনোনয়ন দেন রাষ্ট্রপতি। এবার ভোট হয়েছে ৫৪২টিতে। ভোট হয়নি শুধুমাত্র তামিলনাড়ু রাজ্যের ভেলর আসনে। আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে আসনটিতে ভোট স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। লোকসভার ৫৪২টি আসনের মধ্যে ৩৪৯টিতেই বিজেপির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স বিজয়ী হয়েছে। কোনো দল বা জোটকে সরকার গঠন করতে হলে প্রয়োজন ২৭২টি আসন। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স বা ইউপিএ পেয়েছে ৯২টি এবং অন্যান্য দল ১০১টি আসন।

হিন্দিবলয় গুজরাটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই এই ’মোদি ঝড়’। এই ঝড় বিস্তৃত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, মহারাষ্ট্র এবং কর্ণাটকেও। পরাজয় মেনে নিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী এবং অভিনন্দন জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি ও এনডিএ জোটকে। একইভাবে রাহুলের বোন প্রিয়াঙ্কাও দেশবাসী ও নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, দেশবাসী মোদিকে পছন্দ করে ভোট দিয়েছেন। ভারতের নির্বাচনে এবার সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যাপক ব্যবহার হয়েছে। আর এতে এগিয়ে ছিলেন মোদি। সব রাজনৈতিক দলই মিডিয়ার দিকে নজর রেখেছিল। সাত দফা নির্বাচনে শুধু ভোট গ্রহণের দিনগুলোকে নিয়ে একটি সমীক্ষা করে নয়াদিল্লির ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি। তাতে দেখা যায় শুধু ভোটের দিনগুলোতেই মোট ১৭ লাখ ৪০ হাজার টুইট করা হয়েছে।

গত লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে মোদি ঝড় আটকাতে পেরেছিলেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। সেই আত্মবিশ্বাসে এবারও তেনি ঘোষণা দিয়েছিলেন যে রাজ্যের ৪২টি আসনেই তৃণমূল বিজয়ী হবে। কিন্তু হিসাব পাল্টে গেছে। এ রজ্যের মোট আসনের মধ্যে ১৮টিই পেয়েছে বিজেপি, গত নির্বাচনে পেয়েছিল মাত্র দুটো। কংগ্রেস পেয়েছে মাত্র দু’টি আসন, গতবার পেয়েছিল চারটি, আর মমতার তৃণমূল পেয়েছে ২২টি আসন যা গতবারের চেয়ে ১২টি কম। এতে প্রমাণিত হয় যে পশ্চিমবঙ্গ থেকে মুছে যাওয়া বামদের ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হবে।

একটু পেছনে ফিরে তাকালে দেখা যায়, ১৯৮৪ সালে বিজেপি মোট দুটি আসন পেয়েছিল। ইন্দিরা গান্ধীকে হত্যার পর ১৯৮৪ সালের নির্বাচনে কংগ্রেস পেয়েছিল চার শতাধিক আসন। এবার সেই দল ৫০টি আসনের আশপাশ দিয়ে চলছে। কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী পার্টির এই পরিস্থিতির কারণে সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগ করার প্রস্তাব দিয়েছেন। আসলে তার পদত্যাগের প্রয়োজন নেই। রাজনীতি এটিই। তার নিজের ভুলের কারণে বা তার ব্যক্তিগত কোনো কারণে যে নির্বাচনের এই ফল এই দাঁড়িয়েছে তা কিন্তু নয়। একজন মানুষের পক্ষে একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর মন জয় করা যে সব সময়ই সম্ভব হবে তা কিন্তু নয়। রাজনীতি এক ধরনের আবেগ। জনগণের সেই আবেগ কখন যে কোনদিকে যায় তা বলা কঠিন। নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে রাজনীতির এই খেলায়।

ভারতবর্ষ বিভক্তির পর রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ আরএসএস নামক সাম্প্রদায়িক সংগঠনটিই জনসংঘ নামে জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করে। কালের পরিক্রমায় সেটিই এখন বিজেপি। গত শতাব্দীর ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে ভারতের রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িকতার হাওয় লাগতে শুরু করে। এ সময় ভারতের রাজনীতিতে একাধিপত্য ছিল ইন্দিরা গান্ধীর। তার আধিপত্য খর্ব করতেই এক সময় বাকি সবাই এক জোট হয়েছিল যদিও তাদের মধ্যে রাজনৈতিক আদর্শিক পার্থক্য ছিল অনেক।

ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দলগুলো তখন দল বা গ্রুপ ভারি করতে জনসংঘকেও সঙ্গে নিয়েছিল আর সেই থেকেই ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি রাজনৈতিক অঙ্গন দখল করতে শুরু করে। যার চূড়ান্ত পরিণতি ধর্ম নিরপেক্ষ ভারতে দ্বিতীয়বারের মতো বিজেপির ক্ষমতা দখল।

এটা ঠিক যে, মোদির মতো ব্যক্তিগত ক্যারিশমা অন্য নেতাদের মধ্যে খুঁজে পায়নি ভারত। এ ধরনের নেতা আছেন আমেরিকায়, রাশিয়ায়, হাঙ্গেরিতে, তুরস্কে। এ ধরনের নেতারা অনেক কিছুই বলেন। অন্যদিকে যে যাই বলুক তাতে তাদের কিছু আসে যায় না। তারা ক্ষমতায় ঠিকই ফিরে আসেন। কেউ কি ভেবেছিল যে ট্রাম্প হবেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট?

এটিতো সবাই জানেন যে ২০১৪ সালের নির্বাচনে দেয়া প্রতিশ্রুতিগুলো মোদি রাখতে পারেননি, তারপরেও জনগণ তাকেই ভোট দিয়েছে। গণতন্ত্রের এটি আর এক রহস্য, আর এক ধরনের ম্যাজিক। জনগণ কখন কী চান, বলা কঠিন। জনগণ বোধহয় জাতীয়তাবদী ও জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতেই আস্থা রেখেছেন মোদির ওপর। কিন্তু সেখানেই বা মোদি অতিরিক্ত কী করেছেন? বরং পাকিস্তানের কূটনীতির কাছে হেরে গিয়েছিলেন যখন বিমান বাহিনীর পাইলটকে হাতের মধ্যে পেয়েও সসম্মানে ভারতে পাঠিয়ে দিলেন ইমরান খান। তারপরেও মোদিকেই জনগণ ভোট দিলেন! এটিই গণতন্ত্রের মোড়!

শতাব্দীর প্রাচীনতম দল কংগ্রেস ২০১৪ সালের নির্বাচনে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। তারপর গত পাঁচ বছরে কোন কিছুতেই যেন কিছু করতে পারছিলেন না। তবে এবার লোকসভা নির্বাচনের মাত্র কয়েকমাস আগে ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হলে জাতীয় নির্বাচনে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। এর সাথে যুক্ত হয় প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর কংগ্রেসে যোগদান, উত্তর প্রদেশে সমাজবাদী পাটির ও বহুজন সমাজবাদী পার্টিসহ বিভিন্ন দলের মহাঘটবন্ধন বা মহাজোট গঠন।

রাহুল গান্ধী বলেছেন, ”কোনটা ভুল হয়েছে, আজ এ নিয়ে আলোচনার দিন নয়। জনগণ নরেন্দ্র মোদিকে স্বতঃস্ফূর্ত রায় দিয়েছে। জনতার রায়কে সম্মান জানাচ্ছি।’ এটি ম্যাচিউর রাজনীতিকের মতোই কথা। গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধার কথা। আমেথিতে ঐতিহাসিক হার মেনে নিয়ে বলেছেন, ”আশা করছি ওই আসনের মানুষকে স্মৃতি ইরানি ভালোবাসা দিয়ে রাখবেন।’চমৎকার মন্তব্য। মোদিও চমৎকার করে বলেছেন, ”বিরোধীদের আক্রমণ ভুলে গিয়েছি। আজ থেকে নতুন দিন। কোটি কোটি নাগরিক এই ফকিরের ঝুলি ভর্তি করে দিয়েছে। বিশ্বের ইতিহাসে সফলতম জয়।’

আমরা চাই বিজেপির নেতৃত্ব ভারতে এমন একটি সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে যেখানে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাই নিরাপদে বসবাস করবে। সত্যিই আমাদের প্রতিবেশি দেশ ভারতে মোদির নেতৃত্বে নতুন দিন আসবে।

মাছুম বিল্লাহ: শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও গবেষক; বর্তমানে ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচিতে কর্মরত।

আপনার মতামত লিখুন :

বিয়ের দিন আইন প্রয়োগ কেন!

বিয়ের দিন আইন প্রয়োগ কেন!
আলম শাইন, ছবি: বার্তা২৪

আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েরা আঠারো বছরেই ভোটাধিকারের সুযোগ পায়। কিন্তু বিধান অনুযায়ী একই বয়সে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সুযোগ হয় না। কারণ বিয়ের জন্যে দেশে আলাদা আইন-কানুন রয়েছে। ছেলে-মেয়েদের বিয়ের বয়সের ক্ষেত্রে সেই আইনে সামান্য হেরফের রয়েছে। যেমন ছেলেদের ক্ষেত্রে একুশ, মেয়েদেরে ক্ষেত্রে আঠারো বছর। এর চেয়ে কমবয়সী কেউ বিয়ে করলে কাবিন রেজিস্ট্রিতে বিঘ্ন ঘটে।

বিধান অমান্য করে কেউ কাবিননামা রেজিস্ট্রি করলে তাকে অবশ্যই আইনের সন্মুখীন হতে হয়। তারপরও আমরা লক্ষ্য করছি, আইনিবাধা উপেক্ষা করে দেশে এ ধরনের বিয়েশাদী প্রায়ই ঘটছে যা কোনমতেই সমর্থনযোগ্য নয়। এর ফলাফলও ভয়ঙ্কর। অপ্রাপ্ত বয়সে গর্ভধারণ করে অনেক কিশোরী মৃত্যুবরণ করছে। এসব বেআইনি ও অনৈতিক ঘটনা বেশি ঘটছে দেশের গ্রামাঞ্চল কিংবা চরাঞ্চালের দরিদ্র ও অশিক্ষিত পরিবারে। মাঝে মধ্যে মফস্বল শহরেও দেখা যায়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাল্যবিবাহের অন্যতম কারণ হচ্ছে ইভটিজারদের ভয়। যার ফলে বাবা-মা মেয়েকে অপ্রাপ্ত বয়সেই বিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এ কাজটি যেসব বাবা-মায়েরা করছেন তারা কিন্তু ঘুণাক্ষরেও জানছেন না, আঠারো বছরের কমবয়সী মেয়েকে বিয়ে দেওয়া আইনের পরিপন্থী। বিষয়টা অজানা থাকাতেই দরিদ্র বাবারা অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যার বিয়ের দিনক্ষণ ধার্যকরে সাধ্যানুযায়ী ভোজের আয়োজন করেন। ঠিক এমন সময়েই ঘটে অপ্রত্যাশিত সেই ঘটনাটি; বিয়ের বাড়িতে দারোগা-পুলিশের হানা! যা সত্যিই বেদনাদায়ক। এ বেদনার উপসম ঘটানো সহজসাধ্য নয়।

দুঃখজনক সেই ঘটনায় কন্যাদায়গ্রস্ত পিতাকে পর্বতসম ওজনের ভার বহন করতে হয়। বিষয়টা যে কত মর্মন্তুদ তা ভুক্তভোগী ছাড়া আর কারো জানার কথাও নয়। একে তো দরিদ্র বাবা, তার ওপর মেয়ের বিয়ের আয়োজন করতে ঋণ নিতে হয়েছে তাকে। সেই ঋণ এনজিও, ব্যাংক কিংবা ব্যক্তি পর্যায়েরও হতে পারে। হতে পারে তিনি জমিজমা বিক্রয় করেও মেয়ের বিয়ের আয়োজন করেছেন। এ অবস্থায় মেয়ের বিয়েটা ভেঙ্গে গেলে ঋণগ্রস্ত পিতার অবস্থাটা কি হতে পারে তা অনুমেয়। কারণ ইতোমধ্যেই অর্থকড়ি যা খরচ করার তা করে ফেলেছেন। আর্থিক দণ্ডের শিকার হয়ে কনের বাবা তখন মানসিক ভারসাম্যও হারিয়ে ফেলেন। তার সেই মানসিক যন্ত্রণার কথা সচেতন ব্যক্তিমাত্রই বুঝতে সক্ষম হবেন। বিষয়টা বিশ্লেষণ করে বোঝানোর কিছু নেই বোধকরি।

গ্রামাঞ্চলে এভাবে বিয়ে ভেঙ্গে গেলে ওই পাত্রী বা কনের ওপর নেমে আসে মহাদুর্যোগ। পাড়া পড়শীরা অলুক্ষণে অপয়া উপাধি দিয়ে কনের জীবনটাকে অতিষ্ট করে ফেলেন। এতসব কথাবার্তা সহ্য করতে না পেরে অনেকক্ষেত্রে সেই কন্যাটি আত্মহত্যার চিন্তা করেন অথবা বিপদগামী হন।

প্রশ্ন হচ্ছে, এ ধরনের ঘটনার জন্য কে দায়ী থাকবেন- প্রশাসন না কনের বাবা? আমরা জানি, আইনের দৃষ্টিতে বাবাই দায়ী, প্রশাসন নয়। তারপও জিজ্ঞাসাটা থেকেই যাচ্ছে, কনের বাবাকে বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করার আগে স্থানীয় প্রশাসন বাধা দেয়নি কেন! এখানে স্বভাবসুলভ জবাব আসতে পারে যে, বিষয়টা প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর হয়নি বিধায় বাধা দেওয়া হয়নি। কিন্তু বিষয়টা তা নয়। যতদুর জানা যায়, এলাকার কিছু বদমানুষ অথবা ইভটিজার জেনেও জানাননি প্রশাসনকে। কনের বাবাকে নাজেহাল করার উদ্দেশে বিয়ের দিন প্রশাসনকে চুপিচুপি জানিয়ে দেন, যা আগে জানালেও পারতেন। তাতে করে কনের বাবা সাবধান হতেন এবং বিয়ের আয়োজন থেকে সরে আসতেন। অথচ সেই কাজটি করছেন না মানুষেরা। প্রায়ই এ ধরনের হীনমন্যতার বলি হচ্ছেন দেশের নিরীহ সাধারণ।

এ থেকে উত্তরণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছি আমরা। ইচ্ছে করলে স্থানীয় প্রশাসন উত্তরণের জন্য জনসচেনতা বৃদ্ধির প্রয়াসে কিছু প্রদক্ষেপ নিতে পারে। যেমন এলাকায় মাইকিং করে বাল্যবিবাহ যে অপরাধ, তা জানিয়ে দেয়া। এছাড়া হ্যান্ডবিলের ব্যবস্থাও করতে পারেন। অথবা এলাকার মেম্বার, চৌকিদার বা গণ্যমাণ্য ব্যক্তির ওপরে এ দায়িত্ব আরোপ করতে পারেন। যাতে করে কোন অভিভাবক অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে-মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করার সাহস না পায়। এ ধরনের বিয়ের কথাবার্তার সংবাদ কানে এলেই তাৎক্ষণিকভাবে তা যেন প্রতিহত করেন তারা। এবং কেন তিনি বাল্যবিবাহের ব্যবস্থা করছেন প্রশাসন সেটিও উদঘাটন করার চেষ্টা করবেন। যদি ইভটিজারদের ভয়ে মেয়ে বিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেন, তাহলে অবশ্যই তার ব্যবস্থা নিবেন।

উল্লেখ্য, এসব বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা নিতে পারেন এলাকার তরুণ সমাজ, মসজিদের ইমাম কিংবা মন্দিরের পুরোহিতও। তাতে করে বাল্যবিবাহ রোধের ব্যাপক সম্ভবনা রয়েছে। রয়েছে দরিদ্র কনের বাবার আর্থিক দণ্ড থেকে মুক্তি মেলার সুযোগও। ফলে বিয়ের দিন আইন প্রয়োগের হাতে থেকে রক্ষা পাবেন মেয়ের বাবা ও পরিবার-পরিজন।

আলম শাইন: কথাসাহিত্যিক, কলামিস্ট ও বন্যপ্রাণী বিশারদ।

জামিন হয়ে যাচ্ছে সবার!

জামিন হয়ে যাচ্ছে সবার!
তুষার আবদুল্লাহ, ছবি: বার্তা২৪.কম

সবার জামিন হয়ে যায়। এই সবাই কারা? শুনে মনে হয় অনেক মানুষ। একটি মহল্লায়, একটি গ্রামে, একটি শহরে কতো মানুষই তো থাকে। তাহলে সবাই বলতে কি মহল্লার সব মানুষের কথা বলা হচ্ছে? গ্রাম-শহরের মানুষও নিশ্চয়ই এই গোনার মধ্যে আছে। সবাই মানে তো অসংখ্য। তাহলে জামিন হয়ে যাচ্ছে অসংখ্য মানুষের।

আচ্ছা জামিন মানে কী? অপরাধের দায় থেকে মুক্তি পাওয়া, নাকি অপরাধ প্রমাণের আগ পর্যন্ত মুক্ত বাতাসে চলাচল করার স্বাধীনতা? এমনও তো হতে পারে জামিন মানে কাউকে পরোয়া না করার দাম্ভিকতা। মহল্লা, গ্রাম, শহরের সবাই কি অপরাধী? কারণ শুরুতেই যে বলা হয়েছে, সবাই জামিন পেয়ে যাচ্ছে। কে দিল এই খবর? টিনে বারি দিয়ে মহল্লা, গ্রাম, শহরে খবর ছড়াচ্ছে কে, সবার যে জামিন হচ্ছে? মানুষ। হুম, মানুষ তার দুঃখের কথা জানাচ্ছে। মানুষ তার অসহায়ত্বের কথা জানাচ্ছে। তাহলে এই যে বলা হলো সবাই, সেখানে কি মানুষ নেই?

সবাই বলতে তো অগণিত, অসংখ্য বোঝায়, সেখানে মানুষ থাকবে না কেন? মানুষেরা নির্বাসনে গেছে? এমন সংবাদই পাওয়া যাচ্ছে। যাবে না কেন? মহল্লার দু’পায়ের যে প্রাণী পাশের বাড়ির শিশুকে জমির লোভে মাটিতে পুঁতে রেখেছিল, সে এখন শীষ বাজিয়ে ঘুরে বেড়ায়। দু’পায়ের দল গ্রামের কিশোরীকে ধর্ষণ করার পরেও হুঙ্কার থামায়নি। নতুন কিশোরী তাদের নজরে। চাকায় মানুষ পিষে ফেলে ছিল যে, তাকে এখনও দেখা যায় রঙিন কাঁচের আড়ালে শীতাতাপ মোটর যানে। আগুনে পুড়ে গেল কতো প্রিয় মুখ। পুড়িয়ে মারলো যে সংঘ, তারা আষাঢ়ে ক্ষমতার রোদ পোহায়।

মানুষ নামে আছে যে বিলুপ্ত প্রায় সম্প্রদায়, তারা ক্রমশ গুহাবাসী হয়ে পড়ছে। কোনোভাবে মুখ বের করে দেখছে- কোথাও কোনো অপরাধ নেই। যেহেতু অপরাধ নেই, তাই সবাই শরতের রোদ্দুর দেখছে। আগাম হৈমন্তী হাওয়া শরীরে মাখিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মহল্লায় তাদের সালিশে ডাকবে কে, গ্রামে সালিশ বসানোর মুরোদ কার, আর শহর? রঙিলা শহরের নকশাকার তো ওই ওরাই। যাদের জামিন হয়ে যায়। সংখ্যায় ওরা লঘিষ্ঠই ছিল। ক্রমশ ওরা নদর্মার কালো জলের মতো বুদঁ বুঁদ ছড়াতে থাকে। সেই ছোট একটি বুঁদ বুঁদের উৎস থেকে তৈরি হয়েছে কালো জলের জলাশয়। সেই জলও নাকি কালো নয়। সেই জলের দুর্গন্ধেরও নাকি সুবাস আছে। মহল্লা, গ্রাম, শহরে সেই গল্পের বয়ান চলছে। কাগজের জাদুর পরশে কালো সাদা হয়ে যাচ্ছে। অপরাধী সুবোধ হয়ে যাচ্ছে। সুবোধকে দেওয়া হচ্ছে অপরাধীর বেশ।

ওদের জামিন হয়ে যাচ্ছে বলে রাতের বাঁদুরও ভয়ে আছে। নেকড়েরা মহল্লা, গ্রাম, শহর ছেড়েছে। কিন্তু গুটিকয় সেই মানুষেরা? ওরা নির্বসানে যাবে কোথায়, গোলকে এমন কোনো ভূখণ্ড আছে, ব-দ্বীপে এমন আছে কোনো শুদ্ধ জমিন? যেখানে মানুষ মিশে যেতে পারবে দোঁ-আশের সঙ্গে? মানুষ এক আশ্চর্য প্রাণ। কি মহাকাশ, মহাকাল সমান ধৈর্য্য তার। আবার তার গরিষ্ঠ হবার সাধ।

জামিন যাদের হচ্ছে হোক না। কতোদূর যাবে ওরা, পোড়াবে, নষ্ট করবে কতোটা? মানুষ জানে সেই দু’পায়ের প্রাণীদের মুরোদ। ওদের আত্মমৃত্যুর উৎসব সন্নিকটে। মহাকার লাখ প্রাণীর মতোই, মহাদানব এই দু’পায়ের অপরাধীরা বিলুপ্ত হবেই। সবাই, অসংখ্য বলতে আসলে মানুষই সত্য। ক্ষুদ্র শুধু জামিন পেয়ে যাওয়ার দল। ওদের আসলে জামিনের সুযোগ নেই।

তুষার আবদুল্লাহ: বার্তা প্রধান, সময় টেলিভিশন

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র