Barta24

বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

সবার জন্য বাজেট

সবার জন্য বাজেট
ফরিদুল আলম/ ছবি: বার্তা২৪.কম
ফরিদুল আলম


  • Font increase
  • Font Decrease

নজিরবিহীন ঘটনার মধ্য ঘোষিত হল ২০১৯-২০ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের চোখের অসুস্থতাজনিত কারণে তাঁর বাজেট বক্তব্য দিতে সমস্যা অনুভূত হওয়ায় বক্তব্যের খানিকটা পাঠের পর বাকী অংশ পাঠ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অবশ্য এর আগেও দেশের প্রধানমন্ত্রী, প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এবং রাষ্ট্রপ্রধান দেশের একাধিক বাজেট পেশ করলেও এবারই প্রধম এই বাজেট পেশ করা হল যৌথভাবে- অর্থমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে।

স্বাধীনতার পর এটি ছিল দেশের ৪৮তম বাজেট এবং ইতোপূর্বে ১১ জন এই বাজেট উপস্থাপন করেন। এদিন দিয়ে বর্তমান অর্থমন্ত্রীর জন্য প্রথমবারের মত এটি উপস্থাপনের সুযোগ থাকলেও তিনি যেমন এর একক কৃতিত্বের অধিকার থেকে বঞ্চিত হলেন, অপরদিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রথমবারের মত বাজেট বক্তব্য দেয়ার একটি বিরল সুযোগ গ্রহণ করলেন।

আজকের আলোচনাটি মূলতঃ বাজেট নিয়েই হওয়া সঙ্গত। তবে প্রাসঙ্গিকভাবেই এর সাথে সম্পৃক্ত কিছু বিষয় এসে যায়। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে শারীরিক অসুস্থতার বাইরেও মাননীয় অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের ধরণ দেখে তিনি যে ব্যাপক প্রস্তুতিহীনতায় ভুগেছেন তা ছিল স্পষ্ট। সেই সাথে দীর্ঘদিন সংসদ সদস্য হিসেবে থাকলেও সংসদীয় কার্যাবলী সম্পর্কে তিনি যে এখনও বেশ আনাড়ি সেটা তিনি প্রমাণ করে দিলেন। কীভাবে বাজেট বক্তব্য উপস্থাপনের অনুমতি চাইতে হবে এবং কীভাবে একটি লিখিত বক্তব্য পঠন করতে হবে এ বিষয়ে তাঁর জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা আমার ধারণা সরকারকে বিব্রত করেছে। বক্তব্যের শুরু করতে গিয়েও অযথা সময়ক্ষেপণ এবং মূল বক্তব্যে শুরু করতে গিয়ে কিছু অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ের অবতারণা বাজেট বক্তব্যের মত একটি অতি আগ্রহের বিষয়কে ম্লান করে দিতে যাচ্ছিল। এক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্রণোদিত হয়ে এগিয়ে আসার মাধ্যমে পরবর্তীতে এবারের বাজেট বক্তব্য প্রাণ ফিরে আসে বলে মনে হয়েছে।

যাহোক এবারের বাজেটের আকার সঙ্গত কারণেই গত বছরের তুলনায় বেড়েছে এবং এই বৃদ্ধির পরিমাণ হচ্ছে ৫৯ হাজার কোটি টাকা। এখানে একটু বলে রাখা ভাল, বর্তমান সরকারের ইতোপূর্বেকার বাজেটগুলো পর্যবেক্ষণে বলা যায় যে, প্রতিটি বাজেটের আকার নিয়ে এবং সরকারের সামর্থ্যের বাইরে মনে করে কিছু মহল থেকে এর সমালোচনা করা হলেও কার্যত আমরা দেখেছি বাজেট বাস্তবায়নে সরকারকে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি।

একটি কথা উল্লেখ করা প্রয়োজন যে এখানে বাজেটের সম্ভাব্য আয়-ব্যয়ের যে ঘাটতি থেকে যায় তা কোনভাবেই ৫ শতাংশের অতিরিক্ত হয় না এবং এটি অর্থনীতিতে একটি স্বীকৃত তত্ত্বও বটে, যা সরকার সব সময় অনুসরণ করে যাচ্ছে।

তবে প্রতি বছর অর্থবছরের মাঝামাঝি সময়ে গিয়ে বাজেট সংশোধনের প্রয়োজন পড়লে সেটাও করা হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে বিগত বাজেট অর্থাৎ ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট ৪ লক্ষ ৬৪ হাজার কোটি টাকা থেকে কিঞ্চিত কমিয়ে ৪ লক্ষ ৪২ হাজার কোটি টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছিল।

এবারের বাজেটের মোট আকার ৫ লক্ষ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। গত বাজেটের অভিজ্ঞতার আলোকে এর আকার অনেকটা বড় হলেও সরকার এর বাস্তবায়নে যে কৌশলগুলো নির্ধারণ করেছে সেগুলোর সফল প্রয়োগ ঘটলে এটি খুবই বাস্তবায়নযোগ্য বলে মনে করা যায়।

সরকারের এই কৌশলগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে নতুন করে কর না বাড়িয়ে করের আওয়া আরও বিস্তৃত করা এবং ভবিষ্যত সম্ভাবনাগুলোর দিকে অধিকতর বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা।

শিক্ষা এবং মানব সম্পদ উন্নয়নে ৮৭ হাজার ৬২০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মোট বাজেটের ১৬.৭৫ শতাংশ এবং জিডিপির ৩.০৪ শতাংশ। শিক্ষার সাথে মানবসম্পদ উন্নয়নকে সম্পৃক্ত করে তরুণ প্রজন্মের বিজ্ঞান এবং তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক জ্ঞানকে আরও সমৃদ্ধকরণের অংশ হিসেবে সরকার অধিকতর মনযোগী হয়েছে এবং সেই সাথে এভাবে বেকার তরুণদের ব্যাপকহারে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে সকলকে করজালের আওতায় আনার যে পরিকল্পনা এটি বাস্তবায়ন করতে পারাটা চ্যালেঞ্জিং হলেও অসম্ভব নয়। এ লক্ষ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে নতুন করে ৩ কোটি কর্মসংস্থানের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছে।

আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ঘাটতির পরিমাণ ১ লক্ষ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা, যা মোকাবিলায় মাত্র ৬৮ হাজার ১৬ কোটি টাকা বৈদেশিক উৎসের ওপর নির্ভরতা রাখা হয়েছে এবং এর বিপরীতে ৭৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা দেশীয় উৎসের মাধ্যমে যোগাড় করার পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। তবে প্রতিবছর যে প্রবণতা দেখা যায়, অর্থাৎ ব্যাংক এবং আর্থিক খাতগুলো থেকে উচ্চ সুদে অর্থ তুলে নেয়া এটি যদি অব্যাহত থাকে তবে তা অর্থনীতির জন্য সুখকর হবে না।

এখানে উল্লেখ করা সঙ্গত যে এই ঘাটতে মোকাবিলায় সরকারের আমদানি এবং রপ্তানি নীতি এবং আর্থিক খাতগুলো এবং অপরাপর কিছু জায়গায় কিছু প্রণোদনার সিদ্ধান্ত অভ্যন্তরীণ খাতে অধিক অর্থপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। রপ্তানিমুখী তৈরী পোষাক খাতে ১ শতাংশ নগদ প্রণোদনা এবং বিদেশ থেকে রেমিট্যান্সের উপর প্রণোদনার ব্যবস্থা কিছুটা সরকারি কোষাগারকে সমৃদ্ধ করতে পারে।

সামাজিক সুরক্ষা খাতকে আরও শক্তিশালী করতে এবারের বাজেটে গত বাজেটের চাইতে আরও অধিক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এবার এর পরিমাণ হচ্ছে ৬৭ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা। ইতোমধ্যে দেশের এক চতুর্থাংশ পরিবারকে এর আওতায় আনা হয়েছে এবং আগামী ৫ বছরে এই খাতে দ্বিগুণ অর্থবরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার।

এটি যেমন একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ একই সাথে এই খাতে সুশাসনের বিষয়টি নিশ্চিত করা গেলে উপকারভোগীদের প্রতি সরকারের এই বিনিয়োগ অনেকগুণে ফেরত পাওয়া সম্ভব। মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ২ হাজার টাকা বৃদ্ধির প্রস্তাবনাও প্রশংসার দাবীদার।

সব মিলিয়ে এবারের বাজেটটি ‘সকলের জন্য’ বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়তে পারে এমন কোন উপকরণ এবারের বাজেটে রাখা হয়নি। সুতরাং সার্বিক বিবেচনায় একথা বলা যেতেই পারে যে সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় এটি একটি ব্যতিক্রমী বাজেট।

ফরিদুল আলম: সহযোগী অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

আপনার মতামত লিখুন :

বিয়ের দিন আইন প্রয়োগ কেন!

বিয়ের দিন আইন প্রয়োগ কেন!
আলম শাইন, ছবি: বার্তা২৪

আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েরা আঠারো বছরেই ভোটাধিকারের সুযোগ পায়। কিন্তু বিধান অনুযায়ী একই বয়সে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সুযোগ হয় না। কারণ বিয়ের জন্যে দেশে আলাদা আইন-কানুন রয়েছে। ছেলে-মেয়েদের বিয়ের বয়সের ক্ষেত্রে সেই আইনে সামান্য হেরফের রয়েছে। যেমন ছেলেদের ক্ষেত্রে একুশ, মেয়েদেরে ক্ষেত্রে আঠারো বছর। এর চেয়ে কমবয়সী কেউ বিয়ে করলে কাবিন রেজিস্ট্রিতে বিঘ্ন ঘটে।

বিধান অমান্য করে কেউ কাবিননামা রেজিস্ট্রি করলে তাকে অবশ্যই আইনের সন্মুখীন হতে হয়। তারপরও আমরা লক্ষ্য করছি, আইনিবাধা উপেক্ষা করে দেশে এ ধরনের বিয়েশাদী প্রায়ই ঘটছে যা কোনমতেই সমর্থনযোগ্য নয়। এর ফলাফলও ভয়ঙ্কর। অপ্রাপ্ত বয়সে গর্ভধারণ করে অনেক কিশোরী মৃত্যুবরণ করছে। এসব বেআইনি ও অনৈতিক ঘটনা বেশি ঘটছে দেশের গ্রামাঞ্চল কিংবা চরাঞ্চালের দরিদ্র ও অশিক্ষিত পরিবারে। মাঝে মধ্যে মফস্বল শহরেও দেখা যায়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাল্যবিবাহের অন্যতম কারণ হচ্ছে ইভটিজারদের ভয়। যার ফলে বাবা-মা মেয়েকে অপ্রাপ্ত বয়সেই বিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এ কাজটি যেসব বাবা-মায়েরা করছেন তারা কিন্তু ঘুণাক্ষরেও জানছেন না, আঠারো বছরের কমবয়সী মেয়েকে বিয়ে দেওয়া আইনের পরিপন্থী। বিষয়টা অজানা থাকাতেই দরিদ্র বাবারা অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যার বিয়ের দিনক্ষণ ধার্যকরে সাধ্যানুযায়ী ভোজের আয়োজন করেন। ঠিক এমন সময়েই ঘটে অপ্রত্যাশিত সেই ঘটনাটি; বিয়ের বাড়িতে দারোগা-পুলিশের হানা! যা সত্যিই বেদনাদায়ক। এ বেদনার উপসম ঘটানো সহজসাধ্য নয়।

দুঃখজনক সেই ঘটনায় কন্যাদায়গ্রস্ত পিতাকে পর্বতসম ওজনের ভার বহন করতে হয়। বিষয়টা যে কত মর্মন্তুদ তা ভুক্তভোগী ছাড়া আর কারো জানার কথাও নয়। একে তো দরিদ্র বাবা, তার ওপর মেয়ের বিয়ের আয়োজন করতে ঋণ নিতে হয়েছে তাকে। সেই ঋণ এনজিও, ব্যাংক কিংবা ব্যক্তি পর্যায়েরও হতে পারে। হতে পারে তিনি জমিজমা বিক্রয় করেও মেয়ের বিয়ের আয়োজন করেছেন। এ অবস্থায় মেয়ের বিয়েটা ভেঙ্গে গেলে ঋণগ্রস্ত পিতার অবস্থাটা কি হতে পারে তা অনুমেয়। কারণ ইতোমধ্যেই অর্থকড়ি যা খরচ করার তা করে ফেলেছেন। আর্থিক দণ্ডের শিকার হয়ে কনের বাবা তখন মানসিক ভারসাম্যও হারিয়ে ফেলেন। তার সেই মানসিক যন্ত্রণার কথা সচেতন ব্যক্তিমাত্রই বুঝতে সক্ষম হবেন। বিষয়টা বিশ্লেষণ করে বোঝানোর কিছু নেই বোধকরি।

গ্রামাঞ্চলে এভাবে বিয়ে ভেঙ্গে গেলে ওই পাত্রী বা কনের ওপর নেমে আসে মহাদুর্যোগ। পাড়া পড়শীরা অলুক্ষণে অপয়া উপাধি দিয়ে কনের জীবনটাকে অতিষ্ট করে ফেলেন। এতসব কথাবার্তা সহ্য করতে না পেরে অনেকক্ষেত্রে সেই কন্যাটি আত্মহত্যার চিন্তা করেন অথবা বিপদগামী হন।

প্রশ্ন হচ্ছে, এ ধরনের ঘটনার জন্য কে দায়ী থাকবেন- প্রশাসন না কনের বাবা? আমরা জানি, আইনের দৃষ্টিতে বাবাই দায়ী, প্রশাসন নয়। তারপও জিজ্ঞাসাটা থেকেই যাচ্ছে, কনের বাবাকে বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করার আগে স্থানীয় প্রশাসন বাধা দেয়নি কেন! এখানে স্বভাবসুলভ জবাব আসতে পারে যে, বিষয়টা প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর হয়নি বিধায় বাধা দেওয়া হয়নি। কিন্তু বিষয়টা তা নয়। যতদুর জানা যায়, এলাকার কিছু বদমানুষ অথবা ইভটিজার জেনেও জানাননি প্রশাসনকে। কনের বাবাকে নাজেহাল করার উদ্দেশে বিয়ের দিন প্রশাসনকে চুপিচুপি জানিয়ে দেন, যা আগে জানালেও পারতেন। তাতে করে কনের বাবা সাবধান হতেন এবং বিয়ের আয়োজন থেকে সরে আসতেন। অথচ সেই কাজটি করছেন না মানুষেরা। প্রায়ই এ ধরনের হীনমন্যতার বলি হচ্ছেন দেশের নিরীহ সাধারণ।

এ থেকে উত্তরণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছি আমরা। ইচ্ছে করলে স্থানীয় প্রশাসন উত্তরণের জন্য জনসচেনতা বৃদ্ধির প্রয়াসে কিছু প্রদক্ষেপ নিতে পারে। যেমন এলাকায় মাইকিং করে বাল্যবিবাহ যে অপরাধ, তা জানিয়ে দেয়া। এছাড়া হ্যান্ডবিলের ব্যবস্থাও করতে পারেন। অথবা এলাকার মেম্বার, চৌকিদার বা গণ্যমাণ্য ব্যক্তির ওপরে এ দায়িত্ব আরোপ করতে পারেন। যাতে করে কোন অভিভাবক অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে-মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করার সাহস না পায়। এ ধরনের বিয়ের কথাবার্তার সংবাদ কানে এলেই তাৎক্ষণিকভাবে তা যেন প্রতিহত করেন তারা। এবং কেন তিনি বাল্যবিবাহের ব্যবস্থা করছেন প্রশাসন সেটিও উদঘাটন করার চেষ্টা করবেন। যদি ইভটিজারদের ভয়ে মেয়ে বিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেন, তাহলে অবশ্যই তার ব্যবস্থা নিবেন।

উল্লেখ্য, এসব বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা নিতে পারেন এলাকার তরুণ সমাজ, মসজিদের ইমাম কিংবা মন্দিরের পুরোহিতও। তাতে করে বাল্যবিবাহ রোধের ব্যাপক সম্ভবনা রয়েছে। রয়েছে দরিদ্র কনের বাবার আর্থিক দণ্ড থেকে মুক্তি মেলার সুযোগও। ফলে বিয়ের দিন আইন প্রয়োগের হাতে থেকে রক্ষা পাবেন মেয়ের বাবা ও পরিবার-পরিজন।

আলম শাইন: কথাসাহিত্যিক, কলামিস্ট ও বন্যপ্রাণী বিশারদ।

জামিন হয়ে যাচ্ছে সবার!

জামিন হয়ে যাচ্ছে সবার!
তুষার আবদুল্লাহ, ছবি: বার্তা২৪.কম

সবার জামিন হয়ে যায়। এই সবাই কারা? শুনে মনে হয় অনেক মানুষ। একটি মহল্লায়, একটি গ্রামে, একটি শহরে কতো মানুষই তো থাকে। তাহলে সবাই বলতে কি মহল্লার সব মানুষের কথা বলা হচ্ছে? গ্রাম-শহরের মানুষও নিশ্চয়ই এই গোনার মধ্যে আছে। সবাই মানে তো অসংখ্য। তাহলে জামিন হয়ে যাচ্ছে অসংখ্য মানুষের।

আচ্ছা জামিন মানে কী? অপরাধের দায় থেকে মুক্তি পাওয়া, নাকি অপরাধ প্রমাণের আগ পর্যন্ত মুক্ত বাতাসে চলাচল করার স্বাধীনতা? এমনও তো হতে পারে জামিন মানে কাউকে পরোয়া না করার দাম্ভিকতা। মহল্লা, গ্রাম, শহরের সবাই কি অপরাধী? কারণ শুরুতেই যে বলা হয়েছে, সবাই জামিন পেয়ে যাচ্ছে। কে দিল এই খবর? টিনে বারি দিয়ে মহল্লা, গ্রাম, শহরে খবর ছড়াচ্ছে কে, সবার যে জামিন হচ্ছে? মানুষ। হুম, মানুষ তার দুঃখের কথা জানাচ্ছে। মানুষ তার অসহায়ত্বের কথা জানাচ্ছে। তাহলে এই যে বলা হলো সবাই, সেখানে কি মানুষ নেই?

সবাই বলতে তো অগণিত, অসংখ্য বোঝায়, সেখানে মানুষ থাকবে না কেন? মানুষেরা নির্বাসনে গেছে? এমন সংবাদই পাওয়া যাচ্ছে। যাবে না কেন? মহল্লার দু’পায়ের যে প্রাণী পাশের বাড়ির শিশুকে জমির লোভে মাটিতে পুঁতে রেখেছিল, সে এখন শীষ বাজিয়ে ঘুরে বেড়ায়। দু’পায়ের দল গ্রামের কিশোরীকে ধর্ষণ করার পরেও হুঙ্কার থামায়নি। নতুন কিশোরী তাদের নজরে। চাকায় মানুষ পিষে ফেলে ছিল যে, তাকে এখনও দেখা যায় রঙিন কাঁচের আড়ালে শীতাতাপ মোটর যানে। আগুনে পুড়ে গেল কতো প্রিয় মুখ। পুড়িয়ে মারলো যে সংঘ, তারা আষাঢ়ে ক্ষমতার রোদ পোহায়।

মানুষ নামে আছে যে বিলুপ্ত প্রায় সম্প্রদায়, তারা ক্রমশ গুহাবাসী হয়ে পড়ছে। কোনোভাবে মুখ বের করে দেখছে- কোথাও কোনো অপরাধ নেই। যেহেতু অপরাধ নেই, তাই সবাই শরতের রোদ্দুর দেখছে। আগাম হৈমন্তী হাওয়া শরীরে মাখিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মহল্লায় তাদের সালিশে ডাকবে কে, গ্রামে সালিশ বসানোর মুরোদ কার, আর শহর? রঙিলা শহরের নকশাকার তো ওই ওরাই। যাদের জামিন হয়ে যায়। সংখ্যায় ওরা লঘিষ্ঠই ছিল। ক্রমশ ওরা নদর্মার কালো জলের মতো বুদঁ বুঁদ ছড়াতে থাকে। সেই ছোট একটি বুঁদ বুঁদের উৎস থেকে তৈরি হয়েছে কালো জলের জলাশয়। সেই জলও নাকি কালো নয়। সেই জলের দুর্গন্ধেরও নাকি সুবাস আছে। মহল্লা, গ্রাম, শহরে সেই গল্পের বয়ান চলছে। কাগজের জাদুর পরশে কালো সাদা হয়ে যাচ্ছে। অপরাধী সুবোধ হয়ে যাচ্ছে। সুবোধকে দেওয়া হচ্ছে অপরাধীর বেশ।

ওদের জামিন হয়ে যাচ্ছে বলে রাতের বাঁদুরও ভয়ে আছে। নেকড়েরা মহল্লা, গ্রাম, শহর ছেড়েছে। কিন্তু গুটিকয় সেই মানুষেরা? ওরা নির্বসানে যাবে কোথায়, গোলকে এমন কোনো ভূখণ্ড আছে, ব-দ্বীপে এমন আছে কোনো শুদ্ধ জমিন? যেখানে মানুষ মিশে যেতে পারবে দোঁ-আশের সঙ্গে? মানুষ এক আশ্চর্য প্রাণ। কি মহাকাশ, মহাকাল সমান ধৈর্য্য তার। আবার তার গরিষ্ঠ হবার সাধ।

জামিন যাদের হচ্ছে হোক না। কতোদূর যাবে ওরা, পোড়াবে, নষ্ট করবে কতোটা? মানুষ জানে সেই দু’পায়ের প্রাণীদের মুরোদ। ওদের আত্মমৃত্যুর উৎসব সন্নিকটে। মহাকার লাখ প্রাণীর মতোই, মহাদানব এই দু’পায়ের অপরাধীরা বিলুপ্ত হবেই। সবাই, অসংখ্য বলতে আসলে মানুষই সত্য। ক্ষুদ্র শুধু জামিন পেয়ে যাওয়ার দল। ওদের আসলে জামিনের সুযোগ নেই।

তুষার আবদুল্লাহ: বার্তা প্রধান, সময় টেলিভিশন

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র