Barta24

বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

বাজেট তারুণ্য বান্ধব তো?

বাজেট তারুণ্য বান্ধব তো?
মোহাম্মাদ আনিসুর রহমান, ছবি: বার্তা২৪
মোহাম্মাদ আনিসুর রহমান


  • Font increase
  • Font Decrease

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে চতুর্থবারের (টানা তৃতীয়বার) মত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে মন্ত্রিসভায় তারুণ্যের অর্ন্তভুক্তির মাধ্যমে চমক সৃষ্টি করে শেখ হাসিনা মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, জনগণ ও দলীয় নেতাকর্মীদের বার্তা দিয়েছেন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা উপভোগ বা দাপট দেখানোর জন্য নয় বরং তা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কল্যাণে ব্যয় হওয়ার বিষয়।

এবারের নির্বাচনে প্রায় ১ কোটি ২১ লাখ ৭৭ হাজার ২১৪ জন তরুণ-তরুণী জীবনে প্রথমবারের মত ভোট দিয়েছেন। তাই, বাংলাদেশের প্রতিটি গণআন্দোলনের আলোকবর্তিকা তারুণ্যের ন্যায়সঙ্গত সব চাওয়া-পাওয়ার ব্যাপারে সজাগ থাকার এবং শিক্ষা, যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে সরকারি চাকরি প্রাপ্তিসহ গ্রাম-শহর কেন্দ্রিক তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির সমতাভিত্তিক সুযোগ সৃষ্টিতে অধিক গুরুত্বের সাথে সরকারকে ‘তারুণ্য বান্ধব বাজেট-২০১৯’ বিবেচনা করতে হবে। কেননা তরুণ প্রজন্ম নির্বাচনের সময় কথা রেখেছে, এখন কথা রাখার পালা সরকারের।

দুই.
৪০তম বিসিএসে অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ প্রার্থী আবেদন করেছেন। এর সমাজতাত্ত্বিক কারণ আর যাই থাক, বেকারত্ব যে অন্যতম কারণ সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য, উপাত্ত ও পূর্বাভাসের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল আউটলুক-২০১৮’ শীর্ষক প্রতিবেদন (২৩ জানুয়ারি, ২০১৮) অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বেকারত্বের হার ভারতে অপরিবর্তিত, ভুটান ও শ্রীলঙ্কায় কমলেও আফগানিস্তান, মালদ্বীপ, বাংলাদেশ, নেপাল এবং পাকিস্তানে বেশি। আইএলও একই প্রতিবেদনে স্বীকার করেছে যে, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে এমন সম্ভাবনাময় কর্মসংস্থানের হার কম। কিন্তু কৃষি প্রধান দেশ হওয়ায় বাংলাদেশের প্রায় অধিকাংশই অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মসংস্থান, যা দারিদ্র্য দূরীকরণে বাঁধা সৃষ্টি করতে পারে। তাই, বাজেটে জীবন ও জীবিকামুখী প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে যে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে সেদিকে সরকার নিশ্চয়ই লক্ষ্য রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

তিন.
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) পরিচালিত সর্বশেষ ত্রৈমাসিক শ্রমশক্তি জরিপে প্রকাশ, দেশে প্রকৃত কর্মহীন মানুষের সংখ্যা ৪ কোটি ৮২ লাখ ৮০ হাজার। গত ১৬ নভেম্বর ২০১৮ সালে প্রকাশিত ‘আঞ্চলিক কর্মসংস্থান’ নিয়ে আইএলও ‘এশিয়া-প্যাসিফিক এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল আউটলুক-২০১৮’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলছে, দেশের নিষ্ক্রিয় ২৭.৪ শতাংশ তরুণ এবং ৪৫ শতাংশ তরুণী কোন ধরণের শিক্ষার সাথে যুক্ত নন, প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন না এবং কর্মসংস্থানের উপায়ও খুঁজে বের করতে পারছেন না।

বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে ১২.৮ শতাংশ বেকার যাদের মধ্যে ১০.৭ শতাংশই উচ্চশিক্ষিত (২০১৭ সাল) এবং যাদের অধিকাংশই নিষ্ক্রিয়। গৃহীত উচ্চশিক্ষা কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নিশ্চয়তা দিতে না পারায় বেকারত্বের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিশ্বের প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ধারে কাছেও নেই আমাদের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের উচ্চশিক্ষিত তরুণ প্রজন্মকে যুগোপযোগী ও কর্মমুখী উচ্চশিক্ষার সংস্পর্শে আনা দরকার। পাশাপাশি গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত তরুণ প্রজন্মকে স্বনির্ভর হওয়ার সুযোগ সৃষ্টিতে রাষ্ট্রীয় প্রণোদনা নির্ভর বাজেট পরিকল্পনা করতে হবে।

চার.
বাংলাদেশে বিসিএসসহ বেশ তাৎপর্যসংখ্যক সরকারি চাকরিতে আবেদন থেকে শুরু করে প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা এবং পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রভৃতি আনুষ্ঠানিকতা প্রায় ২-৩ বছর ধরে চলমান থাকে যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। যেকোনো চাকরিতে তারুণ্যের মেধাকে কাজে লাগানো গেলে উভয়পক্ষের জন্যই তাতে সাফল্যের সম্ভাবনা বেশি। মেধাবী তরুণ প্রজন্মের বিমুখতা একটি দক্ষ এবং উন্নত প্রশাসনের জন্য প্রত্যাশিত নয়। সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে আবেদনের ফি বাতিলসহ অন্যান্য সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করে মেধাবীরা যাতে অধিক হারে এগিয়ে আসতে পারে তার পথও রাষ্ট্রকে সুগম করা দরকার, যার একটি সঠিক দিক নির্দেশনা বাজেটে থাকবে বলে প্রত্যাশা করেন তরুণ প্রজন্ম।

পাঁচ.
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারী তারুণ্যের চাওয়া-পাওয়া বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তরুণ প্রজন্ম ভবিষ্যতের জন্য উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে নির্বাচনী ইশতেহার, চলমান মেগা প্রকল্প ও সম্প্রতি অনুমোদিত (৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮) শত বছরের ব-দ্বীপ পরিকল্পনার (ডেল্টা প্লান) বাস্তবায়ন; ব্যয় সংকোচন নীতি অনুসরণ করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন; প্রধান প্রধান রেল সড়কগুলো দুই লাইনে উন্নীতকরণ এবং দূরযাত্রার ক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্ন (নন-স্টপ) দ্রুত ও আরামদায়ক ভ্রমণের ব্যবস্থা; বাংলাদেশ রেল ও বিমানকে লাভজনক খাতে রুপান্তর; ডাক ও টেলি যোগাযোগ খাতের বহুমুখী ব্যবহার বৃদ্ধি, উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে ‘উচ্চশিক্ষা কমিশন’ গঠন; প্রচলিত ছাত্র ও শিক্ষক রাজনীতির অবসান; বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সমন্নিত বা গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্নকরণে ব্যবস্থা গ্রহণ; অপার সম্ভাবনাময় পর্যটন শিল্পের বিকাশ; সরকারী সম্পদের সুষ্ঠু ও পরিমিত ব্যবহার এবং সম্পত্তি দখলমুক্তকরণ; ঋণখেলাপী, ভূমিদস্যু, শেয়ার বাজার ও ব্যাংকিক খাত ধ্বংসের ষড়যন্ত্রকারী, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত একটি দেশ, যেখানে আপামর জনসাধারণ নিশ্চিত নিরাপত্তা অনুভব করবে।

আজকের তরুণ প্রজন্ম চাই, বাংলাদেশের গ্রামগুলো উন্নয়নের আলোয় শহরের মত উদ্ভাসিত হোক, তবে শহর যেন না হয় এবং বস্তির অসহায় মানুষগুলোর জন্য বহুতল ভবন নির্মাণের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হোক। জেলখানার পরিবেশ উন্নতকরণ, সংবেদনশীল মামলা ব্যতীত বিনা বিচারে আটককৃতদের দ্রুত বিচার এবং মুক্তি দেওয়ার মানবিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। দরিদ্র মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, গ্রামীণ অনগ্রসর নারী, হতদরিদ্র প্রান্তিক কৃষক, কুমার, কামার, জেলে, জাত সুইপার, সমুদ্রতীরবর্তী, বিলুপ্ত ছিটমহল এবং চা বাগানে কর্মরত হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহণ করা প্রয়োজন। উপকূলীয় অঞ্চলে পুরাতন ও নতুন জেগে ওঠা চরে ম্যানগ্রোভ বনায়নের পাশাপাশি সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড় প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় ‘উপকূলীয় সবুজ বেস্টনী’ গড়ে তোলার বিকল্প নেই। নদী ও খাল খননের পাশাপাশি বিস্তৃর্ণ ফসলের মাঠের পার্শ্ববর্তী প্রাকৃতিক জলাধারগুলোতে চাষাবাদের জন্য সব সময় প্রয়োজনীয় পানি ধরে রাখার জন্য বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। দেশের সামষ্টিক উন্নয়নের অগ্রাধিকার খাতগুলোতে গুরুত্ব প্রদানে বাস্তবমুখী ও বাস্তবায়নযোগ্য বাজেট প্রত্যাশা করেন তরুণ প্রজন্ম। উন্নয়ন ও একটি সুন্দর আগামীর তারুণ্যবান্ধব বাংলাদেশ দীর্ঘজীবী হোক।

মোহাম্মাদ আনিসুর রহমান: পি.এইচ.ডি গবেষক, ঝেজিয়াং ইউনিভার্সিটি, চীন এবং শিক্ষক ও সাবেক চেয়ারম্যান, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, বশেমুরবিপ্রবি, গোপালগঞ্জ।

আপনার মতামত লিখুন :

বিয়ের দিন আইন প্রয়োগ কেন!

বিয়ের দিন আইন প্রয়োগ কেন!
আলম শাইন, ছবি: বার্তা২৪

আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েরা আঠারো বছরেই ভোটাধিকারের সুযোগ পায়। কিন্তু বিধান অনুযায়ী একই বয়সে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সুযোগ হয় না। কারণ বিয়ের জন্যে দেশে আলাদা আইন-কানুন রয়েছে। ছেলে-মেয়েদের বিয়ের বয়সের ক্ষেত্রে সেই আইনে সামান্য হেরফের রয়েছে। যেমন ছেলেদের ক্ষেত্রে একুশ, মেয়েদেরে ক্ষেত্রে আঠারো বছর। এর চেয়ে কমবয়সী কেউ বিয়ে করলে কাবিন রেজিস্ট্রিতে বিঘ্ন ঘটে।

বিধান অমান্য করে কেউ কাবিননামা রেজিস্ট্রি করলে তাকে অবশ্যই আইনের সন্মুখীন হতে হয়। তারপরও আমরা লক্ষ্য করছি, আইনিবাধা উপেক্ষা করে দেশে এ ধরনের বিয়েশাদী প্রায়ই ঘটছে যা কোনমতেই সমর্থনযোগ্য নয়। এর ফলাফলও ভয়ঙ্কর। অপ্রাপ্ত বয়সে গর্ভধারণ করে অনেক কিশোরী মৃত্যুবরণ করছে। এসব বেআইনি ও অনৈতিক ঘটনা বেশি ঘটছে দেশের গ্রামাঞ্চল কিংবা চরাঞ্চালের দরিদ্র ও অশিক্ষিত পরিবারে। মাঝে মধ্যে মফস্বল শহরেও দেখা যায়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাল্যবিবাহের অন্যতম কারণ হচ্ছে ইভটিজারদের ভয়। যার ফলে বাবা-মা মেয়েকে অপ্রাপ্ত বয়সেই বিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এ কাজটি যেসব বাবা-মায়েরা করছেন তারা কিন্তু ঘুণাক্ষরেও জানছেন না, আঠারো বছরের কমবয়সী মেয়েকে বিয়ে দেওয়া আইনের পরিপন্থী। বিষয়টা অজানা থাকাতেই দরিদ্র বাবারা অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যার বিয়ের দিনক্ষণ ধার্যকরে সাধ্যানুযায়ী ভোজের আয়োজন করেন। ঠিক এমন সময়েই ঘটে অপ্রত্যাশিত সেই ঘটনাটি; বিয়ের বাড়িতে দারোগা-পুলিশের হানা! যা সত্যিই বেদনাদায়ক। এ বেদনার উপসম ঘটানো সহজসাধ্য নয়।

দুঃখজনক সেই ঘটনায় কন্যাদায়গ্রস্ত পিতাকে পর্বতসম ওজনের ভার বহন করতে হয়। বিষয়টা যে কত মর্মন্তুদ তা ভুক্তভোগী ছাড়া আর কারো জানার কথাও নয়। একে তো দরিদ্র বাবা, তার ওপর মেয়ের বিয়ের আয়োজন করতে ঋণ নিতে হয়েছে তাকে। সেই ঋণ এনজিও, ব্যাংক কিংবা ব্যক্তি পর্যায়েরও হতে পারে। হতে পারে তিনি জমিজমা বিক্রয় করেও মেয়ের বিয়ের আয়োজন করেছেন। এ অবস্থায় মেয়ের বিয়েটা ভেঙ্গে গেলে ঋণগ্রস্ত পিতার অবস্থাটা কি হতে পারে তা অনুমেয়। কারণ ইতোমধ্যেই অর্থকড়ি যা খরচ করার তা করে ফেলেছেন। আর্থিক দণ্ডের শিকার হয়ে কনের বাবা তখন মানসিক ভারসাম্যও হারিয়ে ফেলেন। তার সেই মানসিক যন্ত্রণার কথা সচেতন ব্যক্তিমাত্রই বুঝতে সক্ষম হবেন। বিষয়টা বিশ্লেষণ করে বোঝানোর কিছু নেই বোধকরি।

গ্রামাঞ্চলে এভাবে বিয়ে ভেঙ্গে গেলে ওই পাত্রী বা কনের ওপর নেমে আসে মহাদুর্যোগ। পাড়া পড়শীরা অলুক্ষণে অপয়া উপাধি দিয়ে কনের জীবনটাকে অতিষ্ট করে ফেলেন। এতসব কথাবার্তা সহ্য করতে না পেরে অনেকক্ষেত্রে সেই কন্যাটি আত্মহত্যার চিন্তা করেন অথবা বিপদগামী হন।

প্রশ্ন হচ্ছে, এ ধরনের ঘটনার জন্য কে দায়ী থাকবেন- প্রশাসন না কনের বাবা? আমরা জানি, আইনের দৃষ্টিতে বাবাই দায়ী, প্রশাসন নয়। তারপও জিজ্ঞাসাটা থেকেই যাচ্ছে, কনের বাবাকে বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করার আগে স্থানীয় প্রশাসন বাধা দেয়নি কেন! এখানে স্বভাবসুলভ জবাব আসতে পারে যে, বিষয়টা প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর হয়নি বিধায় বাধা দেওয়া হয়নি। কিন্তু বিষয়টা তা নয়। যতদুর জানা যায়, এলাকার কিছু বদমানুষ অথবা ইভটিজার জেনেও জানাননি প্রশাসনকে। কনের বাবাকে নাজেহাল করার উদ্দেশে বিয়ের দিন প্রশাসনকে চুপিচুপি জানিয়ে দেন, যা আগে জানালেও পারতেন। তাতে করে কনের বাবা সাবধান হতেন এবং বিয়ের আয়োজন থেকে সরে আসতেন। অথচ সেই কাজটি করছেন না মানুষেরা। প্রায়ই এ ধরনের হীনমন্যতার বলি হচ্ছেন দেশের নিরীহ সাধারণ।

এ থেকে উত্তরণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছি আমরা। ইচ্ছে করলে স্থানীয় প্রশাসন উত্তরণের জন্য জনসচেনতা বৃদ্ধির প্রয়াসে কিছু প্রদক্ষেপ নিতে পারে। যেমন এলাকায় মাইকিং করে বাল্যবিবাহ যে অপরাধ, তা জানিয়ে দেয়া। এছাড়া হ্যান্ডবিলের ব্যবস্থাও করতে পারেন। অথবা এলাকার মেম্বার, চৌকিদার বা গণ্যমাণ্য ব্যক্তির ওপরে এ দায়িত্ব আরোপ করতে পারেন। যাতে করে কোন অভিভাবক অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে-মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করার সাহস না পায়। এ ধরনের বিয়ের কথাবার্তার সংবাদ কানে এলেই তাৎক্ষণিকভাবে তা যেন প্রতিহত করেন তারা। এবং কেন তিনি বাল্যবিবাহের ব্যবস্থা করছেন প্রশাসন সেটিও উদঘাটন করার চেষ্টা করবেন। যদি ইভটিজারদের ভয়ে মেয়ে বিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেন, তাহলে অবশ্যই তার ব্যবস্থা নিবেন।

উল্লেখ্য, এসব বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা নিতে পারেন এলাকার তরুণ সমাজ, মসজিদের ইমাম কিংবা মন্দিরের পুরোহিতও। তাতে করে বাল্যবিবাহ রোধের ব্যাপক সম্ভবনা রয়েছে। রয়েছে দরিদ্র কনের বাবার আর্থিক দণ্ড থেকে মুক্তি মেলার সুযোগও। ফলে বিয়ের দিন আইন প্রয়োগের হাতে থেকে রক্ষা পাবেন মেয়ের বাবা ও পরিবার-পরিজন।

আলম শাইন: কথাসাহিত্যিক, কলামিস্ট ও বন্যপ্রাণী বিশারদ।

জামিন হয়ে যাচ্ছে সবার!

জামিন হয়ে যাচ্ছে সবার!
তুষার আবদুল্লাহ, ছবি: বার্তা২৪.কম

সবার জামিন হয়ে যায়। এই সবাই কারা? শুনে মনে হয় অনেক মানুষ। একটি মহল্লায়, একটি গ্রামে, একটি শহরে কতো মানুষই তো থাকে। তাহলে সবাই বলতে কি মহল্লার সব মানুষের কথা বলা হচ্ছে? গ্রাম-শহরের মানুষও নিশ্চয়ই এই গোনার মধ্যে আছে। সবাই মানে তো অসংখ্য। তাহলে জামিন হয়ে যাচ্ছে অসংখ্য মানুষের।

আচ্ছা জামিন মানে কী? অপরাধের দায় থেকে মুক্তি পাওয়া, নাকি অপরাধ প্রমাণের আগ পর্যন্ত মুক্ত বাতাসে চলাচল করার স্বাধীনতা? এমনও তো হতে পারে জামিন মানে কাউকে পরোয়া না করার দাম্ভিকতা। মহল্লা, গ্রাম, শহরের সবাই কি অপরাধী? কারণ শুরুতেই যে বলা হয়েছে, সবাই জামিন পেয়ে যাচ্ছে। কে দিল এই খবর? টিনে বারি দিয়ে মহল্লা, গ্রাম, শহরে খবর ছড়াচ্ছে কে, সবার যে জামিন হচ্ছে? মানুষ। হুম, মানুষ তার দুঃখের কথা জানাচ্ছে। মানুষ তার অসহায়ত্বের কথা জানাচ্ছে। তাহলে এই যে বলা হলো সবাই, সেখানে কি মানুষ নেই?

সবাই বলতে তো অগণিত, অসংখ্য বোঝায়, সেখানে মানুষ থাকবে না কেন? মানুষেরা নির্বাসনে গেছে? এমন সংবাদই পাওয়া যাচ্ছে। যাবে না কেন? মহল্লার দু’পায়ের যে প্রাণী পাশের বাড়ির শিশুকে জমির লোভে মাটিতে পুঁতে রেখেছিল, সে এখন শীষ বাজিয়ে ঘুরে বেড়ায়। দু’পায়ের দল গ্রামের কিশোরীকে ধর্ষণ করার পরেও হুঙ্কার থামায়নি। নতুন কিশোরী তাদের নজরে। চাকায় মানুষ পিষে ফেলে ছিল যে, তাকে এখনও দেখা যায় রঙিন কাঁচের আড়ালে শীতাতাপ মোটর যানে। আগুনে পুড়ে গেল কতো প্রিয় মুখ। পুড়িয়ে মারলো যে সংঘ, তারা আষাঢ়ে ক্ষমতার রোদ পোহায়।

মানুষ নামে আছে যে বিলুপ্ত প্রায় সম্প্রদায়, তারা ক্রমশ গুহাবাসী হয়ে পড়ছে। কোনোভাবে মুখ বের করে দেখছে- কোথাও কোনো অপরাধ নেই। যেহেতু অপরাধ নেই, তাই সবাই শরতের রোদ্দুর দেখছে। আগাম হৈমন্তী হাওয়া শরীরে মাখিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মহল্লায় তাদের সালিশে ডাকবে কে, গ্রামে সালিশ বসানোর মুরোদ কার, আর শহর? রঙিলা শহরের নকশাকার তো ওই ওরাই। যাদের জামিন হয়ে যায়। সংখ্যায় ওরা লঘিষ্ঠই ছিল। ক্রমশ ওরা নদর্মার কালো জলের মতো বুদঁ বুঁদ ছড়াতে থাকে। সেই ছোট একটি বুঁদ বুঁদের উৎস থেকে তৈরি হয়েছে কালো জলের জলাশয়। সেই জলও নাকি কালো নয়। সেই জলের দুর্গন্ধেরও নাকি সুবাস আছে। মহল্লা, গ্রাম, শহরে সেই গল্পের বয়ান চলছে। কাগজের জাদুর পরশে কালো সাদা হয়ে যাচ্ছে। অপরাধী সুবোধ হয়ে যাচ্ছে। সুবোধকে দেওয়া হচ্ছে অপরাধীর বেশ।

ওদের জামিন হয়ে যাচ্ছে বলে রাতের বাঁদুরও ভয়ে আছে। নেকড়েরা মহল্লা, গ্রাম, শহর ছেড়েছে। কিন্তু গুটিকয় সেই মানুষেরা? ওরা নির্বসানে যাবে কোথায়, গোলকে এমন কোনো ভূখণ্ড আছে, ব-দ্বীপে এমন আছে কোনো শুদ্ধ জমিন? যেখানে মানুষ মিশে যেতে পারবে দোঁ-আশের সঙ্গে? মানুষ এক আশ্চর্য প্রাণ। কি মহাকাশ, মহাকাল সমান ধৈর্য্য তার। আবার তার গরিষ্ঠ হবার সাধ।

জামিন যাদের হচ্ছে হোক না। কতোদূর যাবে ওরা, পোড়াবে, নষ্ট করবে কতোটা? মানুষ জানে সেই দু’পায়ের প্রাণীদের মুরোদ। ওদের আত্মমৃত্যুর উৎসব সন্নিকটে। মহাকার লাখ প্রাণীর মতোই, মহাদানব এই দু’পায়ের অপরাধীরা বিলুপ্ত হবেই। সবাই, অসংখ্য বলতে আসলে মানুষই সত্য। ক্ষুদ্র শুধু জামিন পেয়ে যাওয়ার দল। ওদের আসলে জামিনের সুযোগ নেই।

তুষার আবদুল্লাহ: বার্তা প্রধান, সময় টেলিভিশন

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র