Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বাজেটে কি দরিদ্র মানুষের আশার প্রতিফলন ঘটেছে?

বাজেটে কি দরিদ্র মানুষের আশার প্রতিফলন ঘটেছে?
মাছুম বিল্লাহ/ ছবি: বার্তা২৪.কম
মাছুম বিল্লাহ


  • Font increase
  • Font Decrease

মোট পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাবে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী বৃদ্ধি, তরুণদের জন্য ১০০ কোটি টাকার তহবিল, মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বৃদ্ধি, সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালুসহ নানা প্রস্তাব করা হয়েছে। অপ্রদর্শিত অর্থ সাদা করার সুযোগ এবার বিস্তৃত হয়েছে। তবে ব্যক্তি শ্রেণীর করদাতার করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধির দাবি থাকলেও তা বাড়ানো হয়নি। কারণ দেশে নাকি চার কোটি মানুষ মধ্যম আয়ের অর্থাৎ তারা রাষ্ট্রকে কর দিতে পারে। অথচ কর দেয় মাত্র ২০-২২ লাখ মানুষ। এর অর্থ- কর আহরণে মারাত্মক অব্যবস্থাপনা ও জটিলতা। তার পরে যারা কর দিতে পারেন তারাও দিতে চান না। কারণ তারা দেখছে, রাষ্ট্রের এই করের অর্থ প্রচুর পরিমাণে অপচয় হয়। রাঘববোয়ালরা রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন খাত থেকে কোটি কোটি টাকা নিয়ে আর ফেরত দেন না।

রাষ্ট্রের অর্থের মালিক জনগণ। সবকিছুর মালিক তারা। অথচ তাদের টাকা দিয়ে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়বে মুষ্টিমেয় কয়েকজন, রাষ্ট্র আবার তাদেরকে ছাড় দেবে। ২০-২২ লাখ লোকের কর দেওয়ার আর একটি অর্থ হচ্ছে - ইচ্ছায় কেউ কর দেয় না। আর কর দেওয়ার যারা আসলেই উপযুক্ত, তারা কর তো দেনই না বরং রাষ্ট্রের কাছ থেকে আরও অন্যান্য সুবিধা নিয়ে থাকেন।

অতএব, মধ্যম, নিরীহ ও বলির পাঠা জনগণই রাষ্ট্রের সব ধরনের অনিয়মকে টিকিয়ে রাখার জন্য, রাষ্ট্রের অপচয় চালিয়ে নেওয়ার জন্য কর দিতে থাকবে। আর এভাবেই অর্থমন্ত্রী রাজস্ব বাবদ মোট তিন লাখ ৭৭ হজার ৮১০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই মন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন। অথচ বাজেটে তার প্রতিফলন কোথায়?

দেশীয় শিল্পে বিশেষত হালকা মাঝারি শিল্পে কিছুটা সুবিধা দেওয়া হয়েছে। কৃষি, তৈরি পোশাকসহ কিছু খাত পাচ্ছে প্রণোদনা। তবে দেশকে ভারী শিল্পসমৃদ্ধ করার মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়াতে তেমন কোন ঘোষণা আসেনি। যদিও অর্থমন্ত্রী বলেছেন ২০৩০ সালের মধ্যে তিন কোটি বেকারের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে। সেটি কিভাবে? সঠিক নির্দেশনা থাকার পরও, সঠিক পরিকল্পনা থাকার পরও কোনো কাজের অর্ধেকও অর্জন হয় না আমাদের দেশে। সেখানে আমরা কী করে বলতে পারি যে, ২০৩০ সালের মধ্যে তিন কোটি বেকারের কর্মসংস্থান হবে? বেকারের সংখ্যা বিশেষত শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে অবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা সঠিকভাবে পরিমাপ করার ব্যবস্থা নেই। বেকারের বর্তমান হারের কথা চিন্তা করে হয়তো অর্থমন্ত্রী এটি বলেছেন, কিন্তু বেকারদের হার তখন কী হবে সেই নির্দেশনা কিন্তু নেই।

বৈদেশিক উৎস থেকে বড় অংকের ঋণ নেওয়ার কথা বলেছেন। একইভাবে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকেও ঋণ নেয়ার কথা বলেছেন তিনি। গ্রামকে শহর করার স্বপ্নও দেখিয়েছেন তবে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়টি সুস্পষ্ট নয়। এখানে একটি প্রশ্ন হচ্ছে –গ্রামকে শহর করতে হবে কেন? গ্রাম থাকবে গ্রামীণ বৈশিষ্ট নিয়ে। গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য, শহর ও গ্রামের নাগরিক সুবিধা, শিক্ষা-দীক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুবিধা, চিকিৎসা সুবিধা ইত্যাদির মধ্যে বৈষম্য কমিয়ে আনার সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও নির্দেশনা থাকতে হবে।

বাজেটে সয়াবিন তেল, পামওয়েল, প্লাস্টিক সামগ্রীসহ বেশকিছু নতুন পণ্যে নতুন করে ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। আমরা সাধারণ মানুষও বুঝি, কিন্তু অর্থনীতিবিদ এবং অর্থমন্ত্রী নিশ্চয়ই বুঝেন যে, এগুলো বড় লোক বা ধনী লোকদের প্রভাবিত করবে না। এগুলো নাভিশ্বাস বের করে ফেলবে সাধারণ জনগণের। বাজেটের গন্ধ পেলেই ফুটপাতের দোকানি থেকে শুরু করে এসির দোকানি পর্যন্ত জিনিসপত্রের দাম হু হু করে বাড়িয়ে দেয়। যে ঘটনা প্রতিবছর ঘটছে আমাদের অর্থনীতিতে, আমাদের বাজেট সংক্রান্ত আলোচনা ও সমালোচনায় সেগুলো কোনোভাবে নিয়ন্ত্রণ করার কোনো মেকানিজম কি আমাদের আছে? নেই। আর তাই সাধারণ জনগণ হচ্ছে বলির পাঠা।

বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হলেও টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম বাজেট শিল্পে বিনিয়োগের জন্য মাত্র ১০ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আবাসন খাতে আগে থেকেই কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ ছিল। এ সুযোগ অবশ্যই রেখে কর হার আরও কমানোর প্রস্তাব দিয়েছেন মন্ত্রী। শিল্প খাতে ও ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ করার অবকাশ সুবিধার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে পাঁচ বছর। ধনীরা সম্পদের উপর যে সারচার্জ দেন সেখানেও ছাড় এসেছে। সারচার্জ আরোপে সম্পদের নিম্নসীমা বাড়ানো হয়েছে। এগুলো সবই বড়লোক বান্ধব ও দুর্নীতিবাজদের উৎসাহিত করার কৌশল। হাঁ, এটি জানি, অর্থমন্ত্রী ইচ্ছে করলেই দিনে দিনে প্রথিত দুর্নীতির শেকড় উপড়ে ফেলতে পারবেন না, ইচ্ছে করলেই গরীব জনগণের পক্ষে বাজেট প্রণয়ন করতে পারবেন না। কিন্তু তারপরও সাধারণ মানুষের আশা বাজেটে তাদের প্রত্যাশার কথা থাকবে। 

মাছুম বিল্লাহ: শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও গবেষক, বর্তমানে ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচিতে কর্মরত।

আপনার মতামত লিখুন :

যমুনার পেটে জমি, পাহাড়ের পাদদেশে প্লাবন

যমুনার পেটে জমি, পাহাড়ের পাদদেশে প্লাবন
প্রফেসর ড. মো. ফখরুল ইসলাম, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

সারা দেশে আষাঢ়ের কান্না যেন থামতেই চাইছে না। অতিবৃষ্টিতে চারদিকে বন্যা শুরু হয়েছে; শুরু হয়েছে শ্রাবণ। শ্রাবণের কালো মেঘ কী বার্তা নিয়ে আসবে, জানি না!

আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহে এসে হঠাৎ করে প্রৃকতি বিরূপ হয়ে উঠেছে। পাহাড়ি ঢল, নদীভাঙন ও বন্যা একসঙ্গে শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, কক্সবাজার, বান্দরবানে অতিবৃষ্টিতে বহু পাহাড় ধসে নিচে নেমে গিয়েছে। প্রৃকতি এতে ক্ষান্ত হয়নি। পাহাড়ি ঢল বার বার ধেয়ে আসছে।

রাস্তা, বাড়ি-ঘর ভূমিধসের নিচে চাপা পড়ে যাচ্ছে। ধান-পাট, শাক-সবজি ডুবে যাচ্ছে। মাছের খামারের মাছ ভেসে গিয়ে মাছ চাষিদের মাথায় হাত পড়েছে। বৃষ্টি ও সাগরের নিম্নচাপ মিলে মানুষের এক চরম ভোগান্তি শুরু হয়েছে।

পাহাড়ের পাদদেশে পুনঃপুনঃ এই প্লাবনপানি ও মাটিধসের দুর্যোগ এখন আতঙ্ক। তাই ভুক্তভোগীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বারবার মূল শহরের রাস্তায় থৈ থৈ পানি সবাইকে প্রহসন করছে। কৌতুক করে বলা হচ্ছে- ‘কী সুন্দুইজ্যা চাঁটগা নগর’, ‘ডুবে থাকা’ চট্টগ্রাম নগরীর সৌন্দর্য্য এই বর্ষায় আরো কয়েকবার দেখা যাবে সন্দেহ নেই’ ইত্যাদি।

উত্তরের জেলা লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, শেরপুর থেকে ভারত ও ভুটানের পাহাড়-পর্বতশ্রেণি বেশি দূরে নয়। ওপরে বেশি বৃষ্টি হলেই ধরলা, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রে পানি বেড়ে গিয়ে অকাল বন্যা দেখা দেয়। পূর্বে সিলেটে নেমে আসে আসাম ও শিলংয়ের পাহাড়ি ঢল। আগে প্রাকৃতিকভাবে এই ঢলের পানি নদী দিয়ে সাগরে চলে যেত। হাওড়ের মানুষ কৃত্রিমভাবে ধান বা মাছের চাষও করতো না। তাই ঢলের পানির ক্ষতিকর দিকের কথা তেমন শোনাও যেত না।

এখন চারদিকে নানা প্রকার উন্নয়ন শুরু হয়েছে। অপরিকল্পিত ও অযাচিত উন্নয়নের নামে প্রকৃতির ওপর মানুষের নির্দয় হস্তক্ষেপ শুরু হয়েছে। মানুষ প্রয়োজন পূরণের নামে প্রকৃতিকে ধ্বংস করে চলেছে। তাই প্রকৃতিও মানুষের প্রতি নির্দয় হয়ে নিষ্ঠুর আচরণ শুরু করেছে। ধরলা, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রে পানি বেড়ে গিয়ে বন্যার সাথে প্রচণ্ড নদীভাঙন শরু হয়েছে। তিস্তা-যমুনার পেটে ফসলি জমি বিলীন হয়ে বাস্তহারা মানুষের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে গেছে। আশঙ্কার কথা হলো- নদীভাঙনে বাস্তহারাদের চাপে পুরো উন্নয়ন প্রক্রিয়াই বাধাগ্রস্থ হতে পারে।

পরিবেশ কারো একার সম্পত্তি নয়। পরিবেশ সারা পৃথিবীর সব মানুষের সম্পত্তি। তাই পরিবেশ সংরক্ষণে নীতি নির্ধারণে সবার কথা শোনা উচিৎ।

আমাদের চারদিকে আরো অনেক সমস্যা বিরাজমান। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ (হ্যাজার্ডস যেমন-সাইক্লোন, বন্যা) ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় (যেমন- ফসলহানি, প্রাণহানি) এত বেশি ক্ষতিকর যে, প্রতিবছর আমাদের উন্নয়ন প্রচেষ্টাকে অনেক পেছনে ঠেলে দেয়। এগুলোকে কোনোভাবেই ছোট করে দেখা উচিৎ নয়। মনুষ্যসৃষ্ট প্রাকৃতিক বিপর্যয় (ক্যালামিটিস/ হ্যাজার্ডস্) ঠেকাতে সব মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। পরিবেশ সুরক্ষা নিয়ে আমাদের নিজেদের চেষ্টার মধ্যে একাই করব, একাই খাব নীতি পরিহার করা উচিৎ। অন্যথায়, একজন তৈরি করবে অন্যজন নষ্ট করার পাঁয়তারা করতে পারে- তারা দেশি হোক বা বিদেশি লবিস্ট হোক।

উন্নয়নের নামে পাহাড় কাটা, অবাধে গাছ নিধন করা, কয়লা পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা, নদী দখল ও ভরাট করে স্থাপনা বানিয়ে স্বাভাবিক পানি চলাচলের পথ রুদ্ধ করা- এসব আজকাল যেন কোনো অপরাধই নয়! পাহাড়ে প্রয়োজনীয় গাছ নেই- তাই সামান্য বৃষ্টিতে মাটি গলে ধসে মানুষের মাথার ওপর পড়ছে। ওই কাদামাটি নিকটস্থ নদীতে গিয়ে নদীকে ভরাট করে নাব্যতা নষ্ট করে দিচ্ছে।

উন্নয়নের নামে পাহাড়-সমতলের সব বড় বড় গাছ কেটে উজাড় করে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি সরকারি রাস্তার পাশের তাল- নারকেলসহ ছায়াদানকারী বড় বড় গাছ কেটে সাবাড় করায় সারাদেশে বজ্রপাত বেড়ে গেছে এবং ভয়ংকরভাবে মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এখন বজ্রপাতে মৃত্যুর ভয়ে কৃষকরা মাঠে কাজ করতে যেতে ভয় পায়।

এছাড়া উত্তরাঞ্চলে ক্রমাগতভাবে ধরলা-তিস্তা-যমুনার পেটে ফসলি জমি বিলীন হয়ে বাস্তহারা মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলেছে এবং চট্টগ্রামে পাহাড়ের পাদদেশে পুনঃপুনঃ প্লাবনপানি ও মাটিধসের দুর্যোগ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়েই যাচ্ছে। এতে কারো যেন কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। এ অবস্থা চলতে থাকলে সেটা দেশের পুরো উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে ভণ্ডুল করে দিতে পারে। এসব মোকাবিলায় যথেষ্ট প্রস্তুতি কি আমাদের আছে?

প্রফেসর ড. মো. ফখরুল ইসলাম: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডীন, সমাজকর্ম বিভাগের প্রফেসর ও সাবেক চেয়ারম্যান।

সরল বিশ্বাসে দুর্নীতি!

সরল বিশ্বাসে দুর্নীতি!
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানের একটি মন্তব্য আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তিনি বলেছেন 'সরকারি কর্মকর্তারা সরল বিশ্বাসে দুর্নীতিতে জড়ালে অপরাধ হবে না'। এ কথাটি মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হচ্ছে।

বাংলাদেশে সরকারি কর্মকতাদের দুর্নীতি আজ নতুন নয়। তবে সব কর্মকর্তাও এক নয়। সংখ্যায় সীমিত হলেও  অনেক অফিসার আছেন যারা সততার সাথে অনেক কষ্টে  জীবনযাপন করেন। তাই সকলকে এক পাল্লায় মাপা ঠিক হবে না।

বাংলাদেশে দুদক নিরপেক্ষতা হারিয়েছে অনেক আগে, তবে কিছু দিন পূর্বে ছোটখাটো দুর্নীতি ধরতে সোচ্চার দেখে আমরা কিছুটা হলেও খুশি হয়েছি। এ জন্য যে এবার অন্তত দুদক চেয়ারম্যান নিজেই ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঠিক সময়ে ক্লাস শুরু হয় কিনা বা সকল শিক্ষক সময়মত স্কুলে আসছেন কিনা তা যাচাই করতে। 

আমরা মনে করেছি, তিনি একবার যেহেতু ঘর থেকে বেরিয়েছেন, বাংলাদেশের সমাজ থেকে দুর্নীতি দূর না হওয়া পর্যন্ত আর ঘরে ফিরবেন না। কিন্তু কোনও অদৃশ্য কারণে, বোধহয় তিনি বুঝতে পেরেছেন, সরকারি কর্মকতা, রাজনীতিবিদের দুর্নীতি থামানো অসম্ভব। তার কাছে তো অনেক উদাহরণ আছে।

যাক সেসব কথা। এবার আলোচনা করা যাক, তিনি কেন বলেছেন যে সরকারি কর্মকরা সরল বিশ্বাসে দুর্নীতিতে জড়ালে অপরাধ হবে না। তিনি কি আসলে সরকারি কর্মকর্তাদের ভয় পেয়েছেন?  নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে।

কারণ ব্যাখ্যার আগে বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা সম্পর্কে দুই-চার কথা না বললেই নয়। ওনারা সরকারিভাবে সে বৃটিশ আমল থেকে সুরক্ষিত। ওনারা সমাজের উপরে থাকেন। ওনাদের পল্লীর নাম ভদ্রপল্লী। ওনাদের সাথে ঈশ্বরের যোগাযোগ। সব কিছুই ওনারা নির্মাণ ও পরিচালনা করেন। সকল সুযোগ-সুবিধা ওনাদের জন্য। এ কারণে ওনাদের আচরণে এর প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।

এ জন্য তাদের সঙ্গে জনগণের একটা দুরত্ব কাজ করে। ফলে তাদের সম্পর্কে দুদক চেয়ারম্যানের মন্তব্যের পেছনে কোনো কারণ আছে কিনা, তা জানার আগেই পত্র-পত্রিকা,  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড় ওঠে। আসলে দুদক চেয়ারম্যান কী বোঝাতে চেয়েছেন বা জনগণ কী বুঝেছে তা পরিষ্কার নয়।

আমি যদি ভুল না বুঝে থাকি, এখানে দুদক চেয়ারম্যান অর্থনৈতিক দুর্নীতিকে বুঝাননি। তিনি বুঝাতে চেয়েছেন, অনেক সরকারি কর্মকর্তা নিজের অনিচ্ছায় বা ভালো  উদ্দেশ্যে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এতে কারো ক্ষতি হতে পারে। এ জন্য ঐ কর্মকতাকে দুর্নীতি পরায়ণ বলা যাবে না। এটাকে দুদক চেয়ারম্যান 'সরল বিশ্বাস' বলেছেন। যদি ঐ কর্মকর্তা  ইচ্ছাকৃত ভুল করেন বা টাকার বিনিময়ে করেন বা কাউকে সন্তুষ্ট করার জন্য করেন, তা সরল বিশ্বাস নয়। এখানে অসততা আছে। এটাই দুর্নীতি।

আমার  হয়তো বুঝতে ভুল হতে পারে আর যদি হয়ও তা কিন্তু সরল বিশ্বাসে। আমি এ বিষয়টি এ জন্যই উপস্থাপন করলাম, কারণ দুদক চেয়ারম্যানের কথার অর্থ যদি সরকারি কর্মকর্তারা ভুল বোঝেন, তাহলে তো সর্বনাশ! তারা তো সরল বিশ্বাসে সরলভাবে গতিবেগ বাড়িয়ে দুর্নীতি করা শুরু করবেন। অবস্থা তখন হবে, ‘একদিকে নাচুনি বুড়ি অন্য দিকে ঢোলের বাড়ি’-র মতো। আমার এ লেখা শুধু ওইসব দুর্নীতি পরায়ণ সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য।

অতএব, দয়া করে সরল বিশ্বাসে সরলভাবে গতিবেগ বাড়িয়ে দুর্নীতি করা থেকে বিরত থাকুন।

ড. মো. কামাল উদ্দিন: প্রফেসর ও সাবেক চেয়ারম্যান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

আরও পড়ুন: সরল বিশ্বাসে দুর্নীতি অপরাধ নয়: দুদক চেয়ারম্যান

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র