Barta24

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

'উহাদের চোখে বিলাই মুতিয়া দিয়াছে'

'উহাদের চোখে বিলাই মুতিয়া দিয়াছে'
ড. মাহফুজ পারভেজ, ছবি: বার্তা২৪.কম
ড. মাহফুজ পারভেজ
কন্ট্রিবিউটিং এডিটর
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

পাকিস্তান আমলে একটি স্বাধীন দেশের অংশ হলেও পূর্ব পাকিস্তান তথা বর্তমান বাংলাদেশ পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করতে পারেনি। পশ্চিম অংশের শাসনে-শোষণে বাংলাদেশ ছিল জর্জরিত।

নব্য মার্কসবাদী তাত্ত্বিক নামে পরিচিত পণ্ডিত হামজা আলাভি, তারিক আলি প্রমুখ বাংলাদেশের চরম দুরবস্থারর নাম দিয়েছিলেন 'ইন্টারন্যাল কলোনি'।

সত্যিই, আমরা একই দেশের অংশ হয়েও ছিলাম 'অভ্যন্তরীণ উপনিবেশ' সদৃশ্য। আমাদের অর্থ, বিত্ত, সম্পদ, উৎপাদন লুটে নিয়ে পাকিস্তানের পশ্চিমাঞ্চল ফুলে-ফেঁপে মোটা-তাজা হচ্ছিল।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সারা জীবন পাকিস্তানের শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ করেছেন। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক প্রতিবাদ বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের মাধ্যমে পরিপূর্ণ সফলতা লাভ করে।

সে সময় সংবাদপত্রে শোষণ-নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া। দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার সাপ্তাহিক কলামে জ্বালাময়ী ভাষায় পাকিস্তানের শোষণ ও অন্যায়ের তীব্র প্রতিবাদ করেন তিনি।

মানিক মিয়া প্রমিত বাংলা ভাষার পাশাপাশি নিজের জন্মস্থান বরিশালের আঞ্চলিক ভাষায় চমৎকার ভাবে পাকিস্তানি অনাচারের প্রতিবাদ করতে গিয়ে শ্লেষ ও বিদ্রূপাত্মক উপমা দিতেন। পাকিস্তানিদের একচক্ষু নীতি ও পূর্ব বাংলার দুর্দশা না দেখে উপেক্ষা করার সময় তিনি বলতেন, 'উহাদের চোখে বিলাই মুতিয়া দিয়াছে'। অর্থাৎ পাকিস্তানি শাসকদের চোখে বিড়াল প্রস্রাব করে দিয়েছে বিধায় তারা বাংলার মানুষের যৌক্তিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট  বিষয়গুলো দেখতে পারছে না।

আশির দশকের শেষে মানিক মিয়ার ভাষণ  ও কলাম গ্রন্থাকারে প্রকাশের কাজে জড়িত থেকে এমন আরও অনেক উপমা ও উদাহরণ তার লেখায় দেখতে পেয়েছি। এখন যদিও অতীতের নিবর্তনমূলক পরিস্থিতি নেই, তথাপি সরকারের কিছু কিছু সংস্থা ও কতিপয় কর্মকর্তার আচরণ দেখে সেসব কথা মনে পড়ছে। নিজের দায়িত্ব পালনে গাফিলতি ও জাতীয় বা জনস্বার্থ না দেখার মানসিকতাসম্পন্ন লোকগুলোকে সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায়, এই শ্রেণিটিকে  মানিক মিয়ার ভাষায় বলতে হয়, 'উহাদের চোখে বিলাই মুতিয়া দিয়াছে'।

এই শ্রেণিটি সরকারি ও বেসরকারি, উভয় সেক্টরে বেশ জাঁকিয়ে বসেছে। এরা নাট-বল্টুহীন বাঁশ দিয়ে ঠেকা-মারা বিপজ্জনক রেল ব্রিজগুলো দেখতে পায় না। সংশ্লিষ্ট সংস্থায় চাকরি করেও এরা জনদুর্ভোগের বিষয়ে চরম উদাসীনতা প্রদর্শন করেন।

আরও পড়ুন: রেললাইনের নাট কাপড়ে বাঁধা, ঝুঁকি নিয়ে চলছে ট্রেন

এরা ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধের খবর রাখেন না। খাদ্যদ্রব্য ও ভোগ্যপণ্যের বাজারে চরম অনিয়ম ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি সম্পর্কে নিরবতা পালন করেন। শিক্ষাক্ষেত্র, আইনশৃঙ্খলা,  সড়ক যোগাযোগ ইত্যাদি সকল সেক্টরেই এমন অনেক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা আছেন, যারা কাজের সময় অন্ধ সেজে থাকেন। দেখেও না দেখার বাহানা করেন।

রাষ্ট্র ও সরকার সুষ্ঠু-সুন্দরভাবে পরিচালনা করতে হলে সকল সংস্থাকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হয়। সকলের সম্মিলিত উদ্যোগে অন্যায়,অনিয়ম, দুর্নীতি, জনদুর্ভোগ লাঘব হয়। এটাই স্ব স্ব সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মৌলিক দায়িত্ব।  

সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব সঠিকভাবে প্রতিপালিত না হলে সব ব্যাপারে এবং সব ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ-শীর্ষ পর্যায় থেকে নির্দেশনা দিতে হয়। এটা সব সময় সম্ভব হয় না। আর এটা কাম্যও নয়। স্ব স্ব বিভাগ ও সংস্থা তাহলে কোন কাজ করবে, সবই যদি সর্বোচ্চ-শীর্ষ পর্যায় থেকে বলে দিতে হয়!

স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিকের স্বার্থে নিয়োজিত সংস্থা ও ব্যক্তিবর্গকে জনস্বার্থ ও জননিরাপত্তায় উদ্যোগী ভূমিকা নিতে হবে। স্ব স্ব সেক্টরের সঠিক খোঁজ-খবর ও পরিস্থিতি জানতে ও দেখতে হবে। 'চোখে বিলাই মুতিয়া দিয়াছে' ধরনের স্বপ্রণোদিত অন্ধত্ব ও উদাসীনতা নিয়ে দায়িত্ব ও কর্তব্যের গাফিলতি করে চলার অবসান ঘটাতে হবে।    

আপনার মতামত লিখুন :

কেন এই ছন্দপতন

কেন এই ছন্দপতন
তুষার আবদুল্লাহ, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

সমাজ স্বাভাবিক জায়গায় নেই। অস্বাভাবিক আচরণ করছে। এই আচরণ নতুন নয়। তবে এবার অস্বাভাবিকতার চূড়ান্ত মাত্রায় বুঝি পৌঁছে গেল। সমাজ যাদের নিয়ে তৈরি, সেই মানুষেরা এখন তার গুণশূন্য। অর্থাৎ মানুষের মধ্যে এখন আর মানবিক উপকরণ চোখে পড়ছে না। মানুষ এমন আচরণ করছে, যা পশুর মধ্যেও অনুপস্থিত। তাহলে মানুষ এখন কোথায় গিয়ে দাঁড়াল?

আপনি বাড়ি থেকে বের হলেন। পথের কোথাও চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছেন। সামনে দিয়ে চলাচল করা কারো দিকে তাকাচ্ছেন। এমনিতেই তাকাচ্ছেন। কোনো শিশুকে দেখে তাকাতে পারেন। আপনার এই তাকানো দেখে এক দল হত্যাকারী আপনার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে। যারা ঝাঁপিয়ে পড়ল, তাদের অনেকেই হয়তো এতোক্ষণ আপনার আশপাশেই ছিল। একজন বা দুইজন আপনার ওপর ঝাঁপ দিল তো ব্যস অন্য পথচারীদের একটি অংশ আপনাকে না বাঁচিয়ে ‘গণ’তে যোগ দিল। আপনি হয়ে গেলেন ছেলেধরা। কিংবা কোনো মেয়েকে উত্ত্যক্তকারী। আপনাকে কেউ বাঁচাতে আসবে না। দূরে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে থাকবে।

পথের কথা বাদ দিন। স্কুলের প্রধান শিক্ষকের ঘর থেকে একজন মাকে নামিয়ে এনে হত্যা করে ফেলল। প্রতিবন্ধী একজনকেও মেরে ফেলা হলো ছেলেধরা সন্দেহে। সেই হত্যাকাণ্ড সমাজ ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে উপভোগ করল। ঢাকাই চলচ্চিত্রের মন্দা বাজারে এই দৃশ্য বেশ উপভোগ্য এখন সমাজের কাছে।

সমাজটাকে দেখলে আপনার মনে হবে হতাশায় ডুবে আছে। ব্যক্তিগতভাবে হয়তো আপনি এবং আমিও তাই। কেন এই হতাশা? দুর্নীতির সরলীকরণ এর একটি কারণ অবশ্যই। প্রত্যেকেই যার যার অবস্থান থেকে মৃদু বা ভয়াবহ দুর্নীতির সঙ্গে পেঁচিয়ে আছি। নিজে দুর্নীতি করছি অথবা সয়ে যাচ্ছি। দুর্নীতি সামাল দেওয়া, ভোগ করাও সহজ নয়। নানা দিক সামাল দিয়ে চলতে হয়। যখন নকশা মতো হচ্ছে না, তখন হাজার কোটি টাকার মালিকের মধ্যেও হতাশা দেখা দেয়। আবার আপনি নিজে দুর্নীতি করছেন না, কিন্তু দুর্নীতির শিকার। নীরবে সয়ে যেতে যেতে আপনি হতাশার ব্যাধিতে আক্রান্ত। শিক্ষার্থীরা শিক্ষা বাণিজ্যের ‘কড়ি’। কড়ি দিয়ে তারা সনদ কিনছে ঠিকই কিন্তু যুৎসই চাকরি পাচ্ছে না। সাধারণ কৃষক, উৎপাদক তার ফসল ও পণ্যের দাম থেকে বঞ্চিত। তারপরও সমাজের আকাশে টাকা উড়ছে। ওই টাকা ধরতে না পেরে কেউ হতাশ। আবার কেউ ধরতে পেরে সেই টাকা ভোগ করতে করতেও এক ধরনের হতাশা এসে তাদের ঘিরে ধরেছে।

বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতা আছে। অপরাধের তদন্ত স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় দ্রুত আদালতে পৌঁছে না। হিমঘরে জমতে থাকে। অপরাধের কারণ ও অপরাধীদের সঙ্গে রাজনীতির এখন প্রবল আত্মীয়তা। ফলে অপরাধের স্বাভাবিক বিচার প্রক্রিয়া সচল না দেখে সাধারণের মধ্যে এক ধরনের হতাশার নিম্নচাপ তৈরি হয়। আমরা বুঝি এখন সেই নিম্নচাপের ঘূর্ণি দেখতে পাচ্ছি। এই ঘূর্ণিই নিজেকে প্রকাশের জন্য গুজবের ধুলি খুঁজে বের করছে। ফলাফল গণপিটুনি, হত্যা ও ধর্ষণ। এই ঘূর্ণি থেকে সমাজ, রাষ্ট্র পরিত্রাণ পাবে কোন উপায়ে? একবারেই যে ঘূর্ণি মোকাবেলার সাধ্য নেই আমাদের, তা নয়। আছে। যে স্বাভাবিক রাজনৈতিক অনুশীলন দেখে আমরা অভ্যস্ত, তা যদি আবার ফিরে আসে, তবেই দেখা যাবে হতাশার নিম্নচাপ কাটতে শুরু করেছে। মানুষ, সমাজ স্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করেছে। অপরাধের বিচার প্রক্রিয়াও তখন স্বাভাবিক ছন্দে চলতে শুরু করবে।

যমুনার পেটে জমি, পাহাড়ের পাদদেশে প্লাবন

যমুনার পেটে জমি, পাহাড়ের পাদদেশে প্লাবন
প্রফেসর ড. মো. ফখরুল ইসলাম, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

সারা দেশে আষাঢ়ের কান্না যেন থামতেই চাইছে না। অতিবৃষ্টিতে চারদিকে বন্যা শুরু হয়েছে; শুরু হয়েছে শ্রাবণ। শ্রাবণের কালো মেঘ কী বার্তা নিয়ে আসবে, জানি না!

আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহে এসে হঠাৎ করে প্রৃকতি বিরূপ হয়ে উঠেছে। পাহাড়ি ঢল, নদীভাঙন ও বন্যা একসঙ্গে শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, কক্সবাজার, বান্দরবানে অতিবৃষ্টিতে বহু পাহাড় ধসে নিচে নেমে গিয়েছে। প্রৃকতি এতে ক্ষান্ত হয়নি। পাহাড়ি ঢল বার বার ধেয়ে আসছে।

রাস্তা, বাড়ি-ঘর ভূমিধসের নিচে চাপা পড়ে যাচ্ছে। ধান-পাট, শাক-সবজি ডুবে যাচ্ছে। মাছের খামারের মাছ ভেসে গিয়ে মাছ চাষিদের মাথায় হাত পড়েছে। বৃষ্টি ও সাগরের নিম্নচাপ মিলে মানুষের এক চরম ভোগান্তি শুরু হয়েছে।

পাহাড়ের পাদদেশে পুনঃপুনঃ এই প্লাবনপানি ও মাটিধসের দুর্যোগ এখন আতঙ্ক। তাই ভুক্তভোগীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বারবার মূল শহরের রাস্তায় থৈ থৈ পানি সবাইকে প্রহসন করছে। কৌতুক করে বলা হচ্ছে- ‘কী সুন্দুইজ্যা চাঁটগা নগর’, ‘ডুবে থাকা’ চট্টগ্রাম নগরীর সৌন্দর্য্য এই বর্ষায় আরো কয়েকবার দেখা যাবে সন্দেহ নেই’ ইত্যাদি।

উত্তরের জেলা লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, শেরপুর থেকে ভারত ও ভুটানের পাহাড়-পর্বতশ্রেণি বেশি দূরে নয়। ওপরে বেশি বৃষ্টি হলেই ধরলা, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রে পানি বেড়ে গিয়ে অকাল বন্যা দেখা দেয়। পূর্বে সিলেটে নেমে আসে আসাম ও শিলংয়ের পাহাড়ি ঢল। আগে প্রাকৃতিকভাবে এই ঢলের পানি নদী দিয়ে সাগরে চলে যেত। হাওড়ের মানুষ কৃত্রিমভাবে ধান বা মাছের চাষও করতো না। তাই ঢলের পানির ক্ষতিকর দিকের কথা তেমন শোনাও যেত না।

এখন চারদিকে নানা প্রকার উন্নয়ন শুরু হয়েছে। অপরিকল্পিত ও অযাচিত উন্নয়নের নামে প্রকৃতির ওপর মানুষের নির্দয় হস্তক্ষেপ শুরু হয়েছে। মানুষ প্রয়োজন পূরণের নামে প্রকৃতিকে ধ্বংস করে চলেছে। তাই প্রকৃতিও মানুষের প্রতি নির্দয় হয়ে নিষ্ঠুর আচরণ শুরু করেছে। ধরলা, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রে পানি বেড়ে গিয়ে বন্যার সাথে প্রচণ্ড নদীভাঙন শরু হয়েছে। তিস্তা-যমুনার পেটে ফসলি জমি বিলীন হয়ে বাস্তহারা মানুষের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে গেছে। আশঙ্কার কথা হলো- নদীভাঙনে বাস্তহারাদের চাপে পুরো উন্নয়ন প্রক্রিয়াই বাধাগ্রস্থ হতে পারে।

পরিবেশ কারো একার সম্পত্তি নয়। পরিবেশ সারা পৃথিবীর সব মানুষের সম্পত্তি। তাই পরিবেশ সংরক্ষণে নীতি নির্ধারণে সবার কথা শোনা উচিৎ।

আমাদের চারদিকে আরো অনেক সমস্যা বিরাজমান। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ (হ্যাজার্ডস যেমন-সাইক্লোন, বন্যা) ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় (যেমন- ফসলহানি, প্রাণহানি) এত বেশি ক্ষতিকর যে, প্রতিবছর আমাদের উন্নয়ন প্রচেষ্টাকে অনেক পেছনে ঠেলে দেয়। এগুলোকে কোনোভাবেই ছোট করে দেখা উচিৎ নয়। মনুষ্যসৃষ্ট প্রাকৃতিক বিপর্যয় (ক্যালামিটিস/ হ্যাজার্ডস্) ঠেকাতে সব মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। পরিবেশ সুরক্ষা নিয়ে আমাদের নিজেদের চেষ্টার মধ্যে একাই করব, একাই খাব নীতি পরিহার করা উচিৎ। অন্যথায়, একজন তৈরি করবে অন্যজন নষ্ট করার পাঁয়তারা করতে পারে- তারা দেশি হোক বা বিদেশি লবিস্ট হোক।

উন্নয়নের নামে পাহাড় কাটা, অবাধে গাছ নিধন করা, কয়লা পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা, নদী দখল ও ভরাট করে স্থাপনা বানিয়ে স্বাভাবিক পানি চলাচলের পথ রুদ্ধ করা- এসব আজকাল যেন কোনো অপরাধই নয়! পাহাড়ে প্রয়োজনীয় গাছ নেই- তাই সামান্য বৃষ্টিতে মাটি গলে ধসে মানুষের মাথার ওপর পড়ছে। ওই কাদামাটি নিকটস্থ নদীতে গিয়ে নদীকে ভরাট করে নাব্যতা নষ্ট করে দিচ্ছে।

উন্নয়নের নামে পাহাড়-সমতলের সব বড় বড় গাছ কেটে উজাড় করে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি সরকারি রাস্তার পাশের তাল- নারকেলসহ ছায়াদানকারী বড় বড় গাছ কেটে সাবাড় করায় সারাদেশে বজ্রপাত বেড়ে গেছে এবং ভয়ংকরভাবে মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এখন বজ্রপাতে মৃত্যুর ভয়ে কৃষকরা মাঠে কাজ করতে যেতে ভয় পায়।

এছাড়া উত্তরাঞ্চলে ক্রমাগতভাবে ধরলা-তিস্তা-যমুনার পেটে ফসলি জমি বিলীন হয়ে বাস্তহারা মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলেছে এবং চট্টগ্রামে পাহাড়ের পাদদেশে পুনঃপুনঃ প্লাবনপানি ও মাটিধসের দুর্যোগ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়েই যাচ্ছে। এতে কারো যেন কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। এ অবস্থা চলতে থাকলে সেটা দেশের পুরো উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে ভণ্ডুল করে দিতে পারে। এসব মোকাবিলায় যথেষ্ট প্রস্তুতি কি আমাদের আছে?

প্রফেসর ড. মো. ফখরুল ইসলাম: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডীন, সমাজকর্ম বিভাগের প্রফেসর ও সাবেক চেয়ারম্যান।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র