‘ব্রিটিশ কাপ’

তুষার আবদুল্লাহ
তুষার আবদুল্লাহ, ছবি: বার্তা২৪

তুষার আবদুল্লাহ, ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

‘ব্রিটিশ কাপ’ -এর প্রতি এখনও আমরা মনোযোগ রেখেছি, অপার ধৈর্য্য আমাদের। ভারত-ইংল্যান্ড ম্যাচের পর এই ব্রিটিশ কাপের ওপর নেক নজর রাখার রুচি হবার কারণ নেই। তারপরও আমরা রাখছি। কারণ করোটিতে, অভ্যাসে আমরা এখনও ‘ব্রিটিশ’ সযত্নে ধারণ করে রেখেছি। ক্রিকেট সাহেব, লাটদের খেলা। দাসেরা আমরা সেই লাটের পোশাক পড়ে বাইশ গজ জমিনে নামার সুযোগ পেয়েছি, সেই কৃতজ্ঞতা বোধ আমাদের দেখানোই উচিৎ।

ব্রিটিশরা যাদের দাস বানিয়েছিল, তারাইতো বাবুদের সঙ্গ দিতে গিয়ে ব্যাট ধরতে, বল ছুঁড়তে শিখলো। সেই কয়েক দেশ মিলে আবার তৈরি হলো মোড়ল সংঘ। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মতো তারাও জুলুম শাসন তৈরি করতে শুরু করে। ক্রিকেট মাতালেরা তাকে জানি আইসিসি বলে। সেখানে ব্রিটিশের তাবেদার হতে পেরেছে যারা, তারাই আইসিসি’র মাতব্বর।

আরও পড়ুন: বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের বিদায়

ব্রিটিশতো ব্রিটিশই। বেনিয়া জাত। তাই যেখানে টাকার সুঘ্রাণ। টাকা ওড়ে যেই জমিতে সেখানেই ব্রিটিশরা নাক-হাত ডুবিয়ে দেয়। ভারত এখনও তাদের কাছে রাজবল্লভ-উমিচাঁদ। তাই ক্রিকেটের জমিন শাসন করতে তারা ভারতকেই সঙ্গে নিয়েছে। ক্রিকেট দুনিয়া বলছি না এজন্য যে, গোলকের কয়টি দেশ আর ক্রিকেট খেলে। ইলাস্টিক টেনেটুনে ত্রিশ হবে? তাদের একটি বড় অংশ এখনো ব্যাট ঠিক মতো ধরতেই শেখেনি। যারা শিখেছে তাদের দেশকে নিয়ে যে কাপ, তাকে বিশ্ব বললে, ফুটবল গোস্যা করতে পারে। সে যাই হোক, লাট সাহেবে আদরে রাজবল্লভ খুশি, মহাখুশি। মোসাহেব এই দলটি তাই কৃতজ্ঞতা বশতঃ ব্রিটিশকে নিজভূমি অপদস্ত হওয়া থেকে রক্ষাতো করবেই।

‘ব্রিটিশ কাপ’ -এ আমরাও এবার পতাকা উড়িয়েছি। মেঘে রোদে দাপটের সঙ্গেই উড়েছে পতাকা। ‘আলিমদার’ -এর মতো জগৎশেঠের ষড়যন্ত্ররও পাত্তা পায়নি। কমজোরি বোলিং নিয়েও লড়ে গেছি বেশ। ব্যাট হাতে আর নয়টি দেশের চেয়ে এগিয়েই আছি। সাকিব সেই ‘বিস্ময়’ সৈনিক। ভালোবাসি মেঘ। কিন্তু সেই মেঘের দুষ্টুমিতে শ্রীলংকাকে পিঠের ভাগ দিতে না হলে এবং নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে আর একটু গুছিয়ে খেললে’ ব্রিটিশ কাপ’ এর ভাগশেষে বাংলাদেশের নামটা রয়ে যেতো।

তারপরও সকলই খেলার অংশ। যেমন অধিনায়ক মাশরাফি ও উদ্বোধনী ব্যাটম্যান ছন্দে না থাকা, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ইনজুরি। তারপরও ওয়েষ্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দু:সময় আমাদের সঙ্গী হয়নি। বলা যায় আমরা যতোদিন ‘ ব্রিটিশ কাপ’ খেলছি, তার মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর সময় ছিল এবার। বিশেষ করে আমাদের ব্যাটসম্যানরা (তামিম ছাড়া) ছিলেন সুফলা। এই বিশ্বকাপে আমাদের সেরা আবিস্কার সাইফুদ্দিন। সৌম্য ও মুস্তাফিজের কাছ থেকে তাদের সেরাটাই পেয়েছি।

সতর্কতা হলো- আমাদের তাকাতে হবে জিম্বাবুইয়ে, ওয়েষ্ট ইন্ডিজ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটের দিকে। বিশেষ করে জিম্বাবুয়ে, যার কাঁধে হাত রেখে ক্রিকেটে আমাদের এগিয়ে যাওয়া। সেই ক্রিকেট এখন বিপর্যয়ে। এবারের বিশ্বকাপে নেই। ওয়েষ্ট ইন্ডিজ গেইল, হোপ, এন্ডু রাসেলদের নিয়েও নিজেদের ঐতিহ্যের ঝলক দেখাতে পারলো না। একই কথা বলতে হয় দক্ষিণ আফ্রিকার বেলাতেও। বাংলাদেশকে এই তিন দলকে সামনে রেখে নিজেদের গোছাতে হবে। মাশরাফি চলে যাচ্ছেন। পেসার হিসেবে আগামীতে নির্ভরযোগ্য কারা আছেন সরবরাহ লাইনে? স্পিনার সরবরাহ ঠিক থাকছেতো? অবশ্যই বর্তমান ব্যাটিং লাইনের দাপট ধরে রাখতে হবে। উদ্বোধনী জুটি নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। এই জায়গাটি শুরু থেকেই নীরিক্ষার মধ্যে রয়ে গেলো। এখানে স্থিতাবস্থা থাকা দরকার। সব মিলিয়ে প্রয়োজন ‘টিম বাংলাদেশ’ -এর ঐক্য। এই ঐক্যের বন্ধন যতো অটুট হবে, ততোই ব্রিটিশ ও তার মোসাহেবদের ষড়যন্ত্র উড়িয়ে দিয়ে এগিয়ে যাব আমরা, বাংলাদেশ।

তুষার আবদুল্লাহ: বার্তা প্রধান, সময় টেলিভিশন

আপনার মতামত লিখুন :