Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

রিকশা বন্ধেই কি সমাধান?

রিকশা বন্ধেই কি সমাধান?
শাহজাহান মোল্লা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর
শাহজাহান মোল্লা


  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানীর যানজট নিরসনে তিনটি সড়কে রিকশা বন্ধের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এই সিদ্ধান্তের পক্ষে-বিপক্ষে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। রিকশার বিকল্প ঠিক না করেই সরকারের এমন সিদ্ধান্তে মানুষের মাঝে নেতিবাচক ধারণাই বেশি জন্মাচ্ছে।

সড়কে গতি আনা এবং দুর্ঘটনা কমাতেই গরিবের বাহন রিকশাকে নিরুৎসাহিত করা হয়। বলা হয়েছে- রিকশার কারণে সড়কে তীব্র যানজট এবং ধীরগতি দেখা দিচ্ছে। আসলে কি তাই? রাজধানীজুড়ে যে হারে নির্মাণযজ্ঞ চলছে, তাতে যানজটের জন্য রিকশা কতটা দায়ী?

অযান্ত্রিক বাহন রিকশা অবশ্যই ধীরগতি নিয়ে আসে। কিন্তু তার চেয়ে বেশি ধীরগতি দেখা যায় সড়কে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং। যেন রাজধানীজুড়েই গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, বাসগুলো যখন রাস্তায় চলাচল করছে যাত্রীরা যেখানে হাত তুলছেন, সেখানেই অর্ধেক রাস্তা জুড়ে বাস দাঁড়িয়ে আছে। এই প্রতিযোগিতা প্রতিদিনের প্রতি মুহূর্তের।

ট্রাফিক পুলিশের সামনে এমনটি ঘটছে হরহামেশাই। কিন্তু দুই একটি বাসকে জরিমানা করা ছাড়া কীই বা করেছে ট্রাফিক পুলিশ? আর সড়কে যে দুর্ঘটনার দোহাই দিয়ে রিকশা বন্ধ করার কথা বলা হচ্ছে, তাতে আসলে কতটা সেই বাহন দায়ী, তা নিয়েও রয়েছে অনেক বির্তক। কেননা এযাবৎকালে যে কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে তার বেশির ভাগই ছিল বাসগুলোর অসুস্থ প্রতিযোগিতার কারণে।

একটি রিকশা যতটুক জায়গা দখল করে, তার চেয়ে দুই বা তিন গুণ বেশি জায়গা দখল করে একটি প্রাইভেট কার। রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোর দিকে তাকালে দেখা যাবে, গণপরিবহনের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি প্রাইভেট কার। সকালে যখন অভিজাত এলাকার স্কুলগুলোর সামনে দিয়ে যাওয়া যায় তখন দেখা যায়, প্রতিটি বাচ্চার জন্য একটি করে প্রাইভেট কার। যার সামর্থ্য আছে সে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে চলাচল করবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বাচ্চাকে স্কুলে নামিয়ে গাড়িটি চলে গেলে হয়তো এই দুর্ভোগ পোহাতে হত না।

নামিদামি স্কুলগুলোর পাশ দিয়ে গেলে মনে হবে, রাস্তা নয় যেন গাড়ি পার্কিং সেন্টার! কই সেখানে তো যানজট নিয়ে এত বেশি হা-হুতাশ করতে দেখা যায় না! আর রিকশা বন্ধই যদি সমাধান হয় তাহলে যেসব রাস্তায় রিকশা চলে না সেখানে কেন যানজট হয়?

রিকশা বন্ধ ভালো সিদ্ধান্ত কিন্তু অসুস্থ, বয়স্ক, শিশু যারা আপনা আপনি বাসে উঠতে পারেন না, তাদের জন্য এই নগরীতে কি কোনো পরিবহন ব্যবস্থা আছে? বাস্তবে দেখা যাবে নেই। আর মহানগরীতে এখনো বাসের পর্যাপ্ত কাউন্টার নেই, নেই বাসস্টপ। তাহলে সমাধান কোন পথে? এটা কি রিকশা বন্ধ, নাকি বিত্তবানদের হাতে রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার অজুহাত তা নিয়েও মানুষের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

দুই বছর আগে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণে আইন করার কথা জানিয়েছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এনিয়ে বিস্তর আলোচনাও হয়েছিল যে, একটি পরিবারের জন্য একটির বেশি গাড়ি কেনা যাবে না। আর স্কুলগুলোকে স্কুলবাসে উদ্বুদ্ধ করার কথা বলা হয়েছিল। গত অর্থবছরে অর্থাৎ ২০১৮-১৯ সালে স্কুলবাস আমদানিতে শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই সুবিধা নিয়েছে, এমন উদাহরণ এখনো তৈরি হয়নি।

আসলে রাজধানীতে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণ না করে আর ফুটপাত দখলমুক্ত না করে রিকশা বন্ধের সিদ্ধান্ত খুব বেশি ফলদায়ক হবে বলে মনে করেন না নগরবাসী। সড়কে গতি ফেরাতে হলে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণ, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং বন্ধ, পর্যাপ্ত স্কুল বাস সার্ভিস চালু এবং নির্মাণাধীন সড়কে এক লেন পুরো যানবাহন চলাচলের উপযোগী করতে হবে।

দুই সিটি করপোরেশনে বৈধ রিকশা আছে ৮০ হাজার ৪৭৩টি। তার মধ্যে দক্ষিণে ৫২ হাজার ৭৫৩ এবং উত্তরে ২৬ হাজার ৭২০টি। তবে রাস্তায় রিকশা চলে পৌনে সাত লাখের মত। ১৯৮৬ সালের পর রাজধানীতে আর কোনো রিকশার লাইসেন্স দেওয়া হয়নি। শুধু যেগুলো ছিল সেগুলোর নবায়ন করা হয়েছে। পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চোখের সামনেই বছরের পর বছর অবৈধ রিকশা চলছে আর সংখ্যা ধাপে ধাপে বাড়ছে। এর দায় আসলে কার?

শাহজাহান মোল্লা: সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

আপনার মতামত লিখুন :

যমুনার পেটে জমি, পাহাড়ের পাদদেশে প্লাবন

যমুনার পেটে জমি, পাহাড়ের পাদদেশে প্লাবন
প্রফেসর ড. মো. ফখরুল ইসলাম, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

সারা দেশে আষাঢ়ের কান্না যেন থামতেই চাইছে না। অতিবৃষ্টিতে চারদিকে বন্যা শুরু হয়েছে; শুরু হয়েছে শ্রাবণ। শ্রাবণের কালো মেঘ কী বার্তা নিয়ে আসবে, জানি না!

আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহে এসে হঠাৎ করে প্রৃকতি বিরূপ হয়ে উঠেছে। পাহাড়ি ঢল, নদীভাঙন ও বন্যা একসঙ্গে শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, কক্সবাজার, বান্দরবানে অতিবৃষ্টিতে বহু পাহাড় ধসে নিচে নেমে গিয়েছে। প্রৃকতি এতে ক্ষান্ত হয়নি। পাহাড়ি ঢল বার বার ধেয়ে আসছে।

রাস্তা, বাড়ি-ঘর ভূমিধসের নিচে চাপা পড়ে যাচ্ছে। ধান-পাট, শাক-সবজি ডুবে যাচ্ছে। মাছের খামারের মাছ ভেসে গিয়ে মাছ চাষিদের মাথায় হাত পড়েছে। বৃষ্টি ও সাগরের নিম্নচাপ মিলে মানুষের এক চরম ভোগান্তি শুরু হয়েছে।

পাহাড়ের পাদদেশে পুনঃপুনঃ এই প্লাবনপানি ও মাটিধসের দুর্যোগ এখন আতঙ্ক। তাই ভুক্তভোগীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বারবার মূল শহরের রাস্তায় থৈ থৈ পানি সবাইকে প্রহসন করছে। কৌতুক করে বলা হচ্ছে- ‘কী সুন্দুইজ্যা চাঁটগা নগর’, ‘ডুবে থাকা’ চট্টগ্রাম নগরীর সৌন্দর্য্য এই বর্ষায় আরো কয়েকবার দেখা যাবে সন্দেহ নেই’ ইত্যাদি।

উত্তরের জেলা লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, শেরপুর থেকে ভারত ও ভুটানের পাহাড়-পর্বতশ্রেণি বেশি দূরে নয়। ওপরে বেশি বৃষ্টি হলেই ধরলা, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রে পানি বেড়ে গিয়ে অকাল বন্যা দেখা দেয়। পূর্বে সিলেটে নেমে আসে আসাম ও শিলংয়ের পাহাড়ি ঢল। আগে প্রাকৃতিকভাবে এই ঢলের পানি নদী দিয়ে সাগরে চলে যেত। হাওড়ের মানুষ কৃত্রিমভাবে ধান বা মাছের চাষও করতো না। তাই ঢলের পানির ক্ষতিকর দিকের কথা তেমন শোনাও যেত না।

এখন চারদিকে নানা প্রকার উন্নয়ন শুরু হয়েছে। অপরিকল্পিত ও অযাচিত উন্নয়নের নামে প্রকৃতির ওপর মানুষের নির্দয় হস্তক্ষেপ শুরু হয়েছে। মানুষ প্রয়োজন পূরণের নামে প্রকৃতিকে ধ্বংস করে চলেছে। তাই প্রকৃতিও মানুষের প্রতি নির্দয় হয়ে নিষ্ঠুর আচরণ শুরু করেছে। ধরলা, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রে পানি বেড়ে গিয়ে বন্যার সাথে প্রচণ্ড নদীভাঙন শরু হয়েছে। তিস্তা-যমুনার পেটে ফসলি জমি বিলীন হয়ে বাস্তহারা মানুষের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে গেছে। আশঙ্কার কথা হলো- নদীভাঙনে বাস্তহারাদের চাপে পুরো উন্নয়ন প্রক্রিয়াই বাধাগ্রস্থ হতে পারে।

পরিবেশ কারো একার সম্পত্তি নয়। পরিবেশ সারা পৃথিবীর সব মানুষের সম্পত্তি। তাই পরিবেশ সংরক্ষণে নীতি নির্ধারণে সবার কথা শোনা উচিৎ।

আমাদের চারদিকে আরো অনেক সমস্যা বিরাজমান। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ (হ্যাজার্ডস যেমন-সাইক্লোন, বন্যা) ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় (যেমন- ফসলহানি, প্রাণহানি) এত বেশি ক্ষতিকর যে, প্রতিবছর আমাদের উন্নয়ন প্রচেষ্টাকে অনেক পেছনে ঠেলে দেয়। এগুলোকে কোনোভাবেই ছোট করে দেখা উচিৎ নয়। মনুষ্যসৃষ্ট প্রাকৃতিক বিপর্যয় (ক্যালামিটিস/ হ্যাজার্ডস্) ঠেকাতে সব মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। পরিবেশ সুরক্ষা নিয়ে আমাদের নিজেদের চেষ্টার মধ্যে একাই করব, একাই খাব নীতি পরিহার করা উচিৎ। অন্যথায়, একজন তৈরি করবে অন্যজন নষ্ট করার পাঁয়তারা করতে পারে- তারা দেশি হোক বা বিদেশি লবিস্ট হোক।

উন্নয়নের নামে পাহাড় কাটা, অবাধে গাছ নিধন করা, কয়লা পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা, নদী দখল ও ভরাট করে স্থাপনা বানিয়ে স্বাভাবিক পানি চলাচলের পথ রুদ্ধ করা- এসব আজকাল যেন কোনো অপরাধই নয়! পাহাড়ে প্রয়োজনীয় গাছ নেই- তাই সামান্য বৃষ্টিতে মাটি গলে ধসে মানুষের মাথার ওপর পড়ছে। ওই কাদামাটি নিকটস্থ নদীতে গিয়ে নদীকে ভরাট করে নাব্যতা নষ্ট করে দিচ্ছে।

উন্নয়নের নামে পাহাড়-সমতলের সব বড় বড় গাছ কেটে উজাড় করে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি সরকারি রাস্তার পাশের তাল- নারকেলসহ ছায়াদানকারী বড় বড় গাছ কেটে সাবাড় করায় সারাদেশে বজ্রপাত বেড়ে গেছে এবং ভয়ংকরভাবে মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এখন বজ্রপাতে মৃত্যুর ভয়ে কৃষকরা মাঠে কাজ করতে যেতে ভয় পায়।

এছাড়া উত্তরাঞ্চলে ক্রমাগতভাবে ধরলা-তিস্তা-যমুনার পেটে ফসলি জমি বিলীন হয়ে বাস্তহারা মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলেছে এবং চট্টগ্রামে পাহাড়ের পাদদেশে পুনঃপুনঃ প্লাবনপানি ও মাটিধসের দুর্যোগ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়েই যাচ্ছে। এতে কারো যেন কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। এ অবস্থা চলতে থাকলে সেটা দেশের পুরো উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে ভণ্ডুল করে দিতে পারে। এসব মোকাবিলায় যথেষ্ট প্রস্তুতি কি আমাদের আছে?

প্রফেসর ড. মো. ফখরুল ইসলাম: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডীন, সমাজকর্ম বিভাগের প্রফেসর ও সাবেক চেয়ারম্যান।

সরল বিশ্বাসে দুর্নীতি!

সরল বিশ্বাসে দুর্নীতি!
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানের একটি মন্তব্য আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তিনি বলেছেন 'সরকারি কর্মকর্তারা সরল বিশ্বাসে দুর্নীতিতে জড়ালে অপরাধ হবে না'। এ কথাটি মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হচ্ছে।

বাংলাদেশে সরকারি কর্মকতাদের দুর্নীতি আজ নতুন নয়। তবে সব কর্মকর্তাও এক নয়। সংখ্যায় সীমিত হলেও  অনেক অফিসার আছেন যারা সততার সাথে অনেক কষ্টে  জীবনযাপন করেন। তাই সকলকে এক পাল্লায় মাপা ঠিক হবে না।

বাংলাদেশে দুদক নিরপেক্ষতা হারিয়েছে অনেক আগে, তবে কিছু দিন পূর্বে ছোটখাটো দুর্নীতি ধরতে সোচ্চার দেখে আমরা কিছুটা হলেও খুশি হয়েছি। এ জন্য যে এবার অন্তত দুদক চেয়ারম্যান নিজেই ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঠিক সময়ে ক্লাস শুরু হয় কিনা বা সকল শিক্ষক সময়মত স্কুলে আসছেন কিনা তা যাচাই করতে। 

আমরা মনে করেছি, তিনি একবার যেহেতু ঘর থেকে বেরিয়েছেন, বাংলাদেশের সমাজ থেকে দুর্নীতি দূর না হওয়া পর্যন্ত আর ঘরে ফিরবেন না। কিন্তু কোনও অদৃশ্য কারণে, বোধহয় তিনি বুঝতে পেরেছেন, সরকারি কর্মকতা, রাজনীতিবিদের দুর্নীতি থামানো অসম্ভব। তার কাছে তো অনেক উদাহরণ আছে।

যাক সেসব কথা। এবার আলোচনা করা যাক, তিনি কেন বলেছেন যে সরকারি কর্মকরা সরল বিশ্বাসে দুর্নীতিতে জড়ালে অপরাধ হবে না। তিনি কি আসলে সরকারি কর্মকর্তাদের ভয় পেয়েছেন?  নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে।

কারণ ব্যাখ্যার আগে বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা সম্পর্কে দুই-চার কথা না বললেই নয়। ওনারা সরকারিভাবে সে বৃটিশ আমল থেকে সুরক্ষিত। ওনারা সমাজের উপরে থাকেন। ওনাদের পল্লীর নাম ভদ্রপল্লী। ওনাদের সাথে ঈশ্বরের যোগাযোগ। সব কিছুই ওনারা নির্মাণ ও পরিচালনা করেন। সকল সুযোগ-সুবিধা ওনাদের জন্য। এ কারণে ওনাদের আচরণে এর প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।

এ জন্য তাদের সঙ্গে জনগণের একটা দুরত্ব কাজ করে। ফলে তাদের সম্পর্কে দুদক চেয়ারম্যানের মন্তব্যের পেছনে কোনো কারণ আছে কিনা, তা জানার আগেই পত্র-পত্রিকা,  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড় ওঠে। আসলে দুদক চেয়ারম্যান কী বোঝাতে চেয়েছেন বা জনগণ কী বুঝেছে তা পরিষ্কার নয়।

আমি যদি ভুল না বুঝে থাকি, এখানে দুদক চেয়ারম্যান অর্থনৈতিক দুর্নীতিকে বুঝাননি। তিনি বুঝাতে চেয়েছেন, অনেক সরকারি কর্মকর্তা নিজের অনিচ্ছায় বা ভালো  উদ্দেশ্যে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এতে কারো ক্ষতি হতে পারে। এ জন্য ঐ কর্মকতাকে দুর্নীতি পরায়ণ বলা যাবে না। এটাকে দুদক চেয়ারম্যান 'সরল বিশ্বাস' বলেছেন। যদি ঐ কর্মকর্তা  ইচ্ছাকৃত ভুল করেন বা টাকার বিনিময়ে করেন বা কাউকে সন্তুষ্ট করার জন্য করেন, তা সরল বিশ্বাস নয়। এখানে অসততা আছে। এটাই দুর্নীতি।

আমার  হয়তো বুঝতে ভুল হতে পারে আর যদি হয়ও তা কিন্তু সরল বিশ্বাসে। আমি এ বিষয়টি এ জন্যই উপস্থাপন করলাম, কারণ দুদক চেয়ারম্যানের কথার অর্থ যদি সরকারি কর্মকর্তারা ভুল বোঝেন, তাহলে তো সর্বনাশ! তারা তো সরল বিশ্বাসে সরলভাবে গতিবেগ বাড়িয়ে দুর্নীতি করা শুরু করবেন। অবস্থা তখন হবে, ‘একদিকে নাচুনি বুড়ি অন্য দিকে ঢোলের বাড়ি’-র মতো। আমার এ লেখা শুধু ওইসব দুর্নীতি পরায়ণ সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য।

অতএব, দয়া করে সরল বিশ্বাসে সরলভাবে গতিবেগ বাড়িয়ে দুর্নীতি করা থেকে বিরত থাকুন।

ড. মো. কামাল উদ্দিন: প্রফেসর ও সাবেক চেয়ারম্যান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

আরও পড়ুন: সরল বিশ্বাসে দুর্নীতি অপরাধ নয়: দুদক চেয়ারম্যান

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র