Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

আধুনিক প্রযুক্তির প্রভাব ও তরুণ সমাজ

আধুনিক প্রযুক্তির প্রভাব ও তরুণ সমাজ
মুত্তাকিন হাসান, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর
মুত্তাকিন হাসান


  • Font increase
  • Font Decrease

আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নয়নের ফলে মানুষ সহজেই পরস্পরের কাছে আসছে, দুরত্ব কমে যাচ্ছে পৃথিবীর। বিশ্বায়নের যুগে গোটা পৃথিবী এখন আমাদের হাতের মুঠোয়। একটি ক্লিকেই পেয়ে যাচ্ছি সব তথ্য।

ধারণা করা হচ্ছে বিশ্বের অর্ধেক জনসংখ্যাই ইন্টারনেটের আওতায় এসেছে। ইন্টারনেটের বদৌলতে আমরা পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে সহজেই যোগাযোগ করতে পারছি। বর্তমানে পৃথিবীর ৪২.২ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহারের সঙ্গে প্রতেক্ষভাবে যুক্ত। এক হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় নয় কোটি। পৃথিবীর যেসব শহরে ফেইসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ঢাকা তার মধ্যে দ্বিতীয়। ধারণা করা হয়, প্রায় প্রতি ১২ সেকেন্ডে একটি করে ফেইসবুক একাউন্ট খোলা হচ্ছে, যা দেশে জন্মহারের চেয়েও বেশি।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নয়নের প্রভাবে বিশেষ করে তরুণদের মাঝে উদ্যমী, সৃষ্টিশীল চিন্তা-চেতনা বিকশিত হওয়ার ক্ষেত্র সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, আজকালের বেশিরভাগ তরুণরা এ সুবিধাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাচ্ছে না।

ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউবের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রতি নেতিবাচকভাবে আসক্ত হওয়ায়, এ সুযোগ সুবিধা কাজে না লাগিয়ে, নিজেদের মেধা বিকাশ না করে জড়িয়ে পড়ছে অনৈতিক কার্যকলাপে। তবে গ্রামের তরুণদের চেয়ে শহরের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া তরুণদের মধ্যে এ প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে তরুণরা যারা ইংরেজি মাধ্যমে পড়ালেখা করছে তাদের অবস্থা নাজুক।

শহরের তরুণরা ভিনদেশি সংস্কৃতি, গান-বাজনাতে অভ্যস্ত বেশি। তরুণরা ফেইসবুকের ভাষায় কথা বলছে। সালাম দেওয়ার পরিবর্তে ব্যবহার করছে হাই-হ্যালো। নিজের মাতৃভূমির ভাষাকে বিকৃতভাবে ব্যবহার করে ইংরেজি বাংলা মিলিয়ে চলছে কথোপকথন।

বেশির ভাগ সময় পড়ে থাকে ফেসবুক নিয়ে। সামাজিক যোগাযোগের ব্যাপ্তি এত প্রকট যে, ক্লাসে বসেও চ্যাট বা এসএমএস বিনিময় করছে ছেলে মেয়েরা। অমনোযোগী হচ্ছে পড়ালেখায়। স্মার্ট ফোন তাদেরকে এতই স্মার্ট করছে যে, সামাজিক বন্ধন যেমন-মা-বাবা, ভাই-বোন, বন্ধু-বান্ধবদের মধ্যেই শুধু দূরত্বের সৃষ্টি হচ্ছে না, বরং সামাজিক শ্রদ্ধাবোধ কি জিনিস তারা একেবারেই ভুলতে বসেছে, যার ফলে অবক্ষয় হচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধের।

সামাজিক যোগাযোগের মধ্যে লিপ্ত হতে গিয়ে অনেকে জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত সর্ম্পকে এবং পরবর্তীতে যা বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনারও জন্ম দিচ্ছে। প্রশ্নপত্র ফাস থেকে শুরু করে ব্যাংকের লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে। ভেঙ্গে পড়ছে সামাজিক মূল্যবোধ। তবে ফেসবুক বন্ধ বা স্মার্ট ফোন বিক্রি বন্ধই যে, এর সমাধান তা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।

ঠিক ফেসবুকের মতোই ডিস্কোর ছোয়ায় তরুণরা নিজেদের প্রায় ভুলতেই বসছে। এক সময় সামাজিক নৈতিকতা গঠনের নিমিত্তে পারিবারিক সংস্কৃতি, বংশ ও ধর্মীয় শিক্ষাকে বেশ গুরুত্ব দেওয়া হত। আর এখন বৈষয়িক বিষয়গুলোকে বড় করে দেখার প্রবণতা বেড়েছে। এ সমাজ ব্যবস্থার সাথে সাঞ্জস্য রেখে চলতে গিয়ে অনেকে হতাশা, হীনমন্যতায় ভুগছে এবং বাধ্য হয়ে অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।

যদিও বর্তমান বিশ্বের প্রতিটি দেশের মতো আমাদের সমাজব্যবস্থাও কতিপয় আইন ও নিয়মকানুন দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু কেউ তার তোয়াক্কা করছে না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হয়ে উঠছে অপরাধের দৈত্যদানব।

সামাজিক ব্যবস্থা অটুট রাখতে, সামাজিক মূল্যবোধ টিকিয়ে রাখতে দরকার সামাজিক সচেতনতা ও সামাজিক আন্দোলন। সামাজিক সচেতনতার শুরুটা পরিবার থেকেই হওয়া উচিত। অথচ, নারী-পুরুষ সবাই নিজেদের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করছে এবং সেখানেই বেশিরভাগ সময় ব্যয় করছে। এর ফলে সন্তানদের প্রয়োজনীয় সময় দিতে পারছে না। যার কারণে, তাদের সন্তানদের সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। সন্তানরা বিভিন্ন অপসংস্কৃতি বা অপরাধ কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ছে। তাই, পরিবারের সাথে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উচিৎ আজকের সম্ভামনাময় এই তরুণদের নৈতিক মূল্যবোধ শিক্ষার প্রতি নজর দেওয়া।

মুত্তাকিন হাসান: কবি, প্রাবন্ধিক ও মানব সম্পদ পেশাজীবী।

আপনার মতামত লিখুন :

যমুনার পেটে জমি, পাহাড়ের পাদদেশে প্লাবন

যমুনার পেটে জমি, পাহাড়ের পাদদেশে প্লাবন
প্রফেসর ড. মো. ফখরুল ইসলাম, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

সারা দেশে আষাঢ়ের কান্না যেন থামতেই চাইছে না। অতিবৃষ্টিতে চারদিকে বন্যা শুরু হয়েছে; শুরু হয়েছে শ্রাবণ। শ্রাবণের কালো মেঘ কী বার্তা নিয়ে আসবে, জানি না!

আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহে এসে হঠাৎ করে প্রৃকতি বিরূপ হয়ে উঠেছে। পাহাড়ি ঢল, নদীভাঙন ও বন্যা একসঙ্গে শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, কক্সবাজার, বান্দরবানে অতিবৃষ্টিতে বহু পাহাড় ধসে নিচে নেমে গিয়েছে। প্রৃকতি এতে ক্ষান্ত হয়নি। পাহাড়ি ঢল বার বার ধেয়ে আসছে।

রাস্তা, বাড়ি-ঘর ভূমিধসের নিচে চাপা পড়ে যাচ্ছে। ধান-পাট, শাক-সবজি ডুবে যাচ্ছে। মাছের খামারের মাছ ভেসে গিয়ে মাছ চাষিদের মাথায় হাত পড়েছে। বৃষ্টি ও সাগরের নিম্নচাপ মিলে মানুষের এক চরম ভোগান্তি শুরু হয়েছে।

পাহাড়ের পাদদেশে পুনঃপুনঃ এই প্লাবনপানি ও মাটিধসের দুর্যোগ এখন আতঙ্ক। তাই ভুক্তভোগীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বারবার মূল শহরের রাস্তায় থৈ থৈ পানি সবাইকে প্রহসন করছে। কৌতুক করে বলা হচ্ছে- ‘কী সুন্দুইজ্যা চাঁটগা নগর’, ‘ডুবে থাকা’ চট্টগ্রাম নগরীর সৌন্দর্য্য এই বর্ষায় আরো কয়েকবার দেখা যাবে সন্দেহ নেই’ ইত্যাদি।

উত্তরের জেলা লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, শেরপুর থেকে ভারত ও ভুটানের পাহাড়-পর্বতশ্রেণি বেশি দূরে নয়। ওপরে বেশি বৃষ্টি হলেই ধরলা, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রে পানি বেড়ে গিয়ে অকাল বন্যা দেখা দেয়। পূর্বে সিলেটে নেমে আসে আসাম ও শিলংয়ের পাহাড়ি ঢল। আগে প্রাকৃতিকভাবে এই ঢলের পানি নদী দিয়ে সাগরে চলে যেত। হাওড়ের মানুষ কৃত্রিমভাবে ধান বা মাছের চাষও করতো না। তাই ঢলের পানির ক্ষতিকর দিকের কথা তেমন শোনাও যেত না।

এখন চারদিকে নানা প্রকার উন্নয়ন শুরু হয়েছে। অপরিকল্পিত ও অযাচিত উন্নয়নের নামে প্রকৃতির ওপর মানুষের নির্দয় হস্তক্ষেপ শুরু হয়েছে। মানুষ প্রয়োজন পূরণের নামে প্রকৃতিকে ধ্বংস করে চলেছে। তাই প্রকৃতিও মানুষের প্রতি নির্দয় হয়ে নিষ্ঠুর আচরণ শুরু করেছে। ধরলা, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রে পানি বেড়ে গিয়ে বন্যার সাথে প্রচণ্ড নদীভাঙন শরু হয়েছে। তিস্তা-যমুনার পেটে ফসলি জমি বিলীন হয়ে বাস্তহারা মানুষের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে গেছে। আশঙ্কার কথা হলো- নদীভাঙনে বাস্তহারাদের চাপে পুরো উন্নয়ন প্রক্রিয়াই বাধাগ্রস্থ হতে পারে।

পরিবেশ কারো একার সম্পত্তি নয়। পরিবেশ সারা পৃথিবীর সব মানুষের সম্পত্তি। তাই পরিবেশ সংরক্ষণে নীতি নির্ধারণে সবার কথা শোনা উচিৎ।

আমাদের চারদিকে আরো অনেক সমস্যা বিরাজমান। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ (হ্যাজার্ডস যেমন-সাইক্লোন, বন্যা) ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় (যেমন- ফসলহানি, প্রাণহানি) এত বেশি ক্ষতিকর যে, প্রতিবছর আমাদের উন্নয়ন প্রচেষ্টাকে অনেক পেছনে ঠেলে দেয়। এগুলোকে কোনোভাবেই ছোট করে দেখা উচিৎ নয়। মনুষ্যসৃষ্ট প্রাকৃতিক বিপর্যয় (ক্যালামিটিস/ হ্যাজার্ডস্) ঠেকাতে সব মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। পরিবেশ সুরক্ষা নিয়ে আমাদের নিজেদের চেষ্টার মধ্যে একাই করব, একাই খাব নীতি পরিহার করা উচিৎ। অন্যথায়, একজন তৈরি করবে অন্যজন নষ্ট করার পাঁয়তারা করতে পারে- তারা দেশি হোক বা বিদেশি লবিস্ট হোক।

উন্নয়নের নামে পাহাড় কাটা, অবাধে গাছ নিধন করা, কয়লা পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা, নদী দখল ও ভরাট করে স্থাপনা বানিয়ে স্বাভাবিক পানি চলাচলের পথ রুদ্ধ করা- এসব আজকাল যেন কোনো অপরাধই নয়! পাহাড়ে প্রয়োজনীয় গাছ নেই- তাই সামান্য বৃষ্টিতে মাটি গলে ধসে মানুষের মাথার ওপর পড়ছে। ওই কাদামাটি নিকটস্থ নদীতে গিয়ে নদীকে ভরাট করে নাব্যতা নষ্ট করে দিচ্ছে।

উন্নয়নের নামে পাহাড়-সমতলের সব বড় বড় গাছ কেটে উজাড় করে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি সরকারি রাস্তার পাশের তাল- নারকেলসহ ছায়াদানকারী বড় বড় গাছ কেটে সাবাড় করায় সারাদেশে বজ্রপাত বেড়ে গেছে এবং ভয়ংকরভাবে মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এখন বজ্রপাতে মৃত্যুর ভয়ে কৃষকরা মাঠে কাজ করতে যেতে ভয় পায়।

এছাড়া উত্তরাঞ্চলে ক্রমাগতভাবে ধরলা-তিস্তা-যমুনার পেটে ফসলি জমি বিলীন হয়ে বাস্তহারা মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলেছে এবং চট্টগ্রামে পাহাড়ের পাদদেশে পুনঃপুনঃ প্লাবনপানি ও মাটিধসের দুর্যোগ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়েই যাচ্ছে। এতে কারো যেন কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। এ অবস্থা চলতে থাকলে সেটা দেশের পুরো উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে ভণ্ডুল করে দিতে পারে। এসব মোকাবিলায় যথেষ্ট প্রস্তুতি কি আমাদের আছে?

প্রফেসর ড. মো. ফখরুল ইসলাম: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডীন, সমাজকর্ম বিভাগের প্রফেসর ও সাবেক চেয়ারম্যান।

সরল বিশ্বাসে দুর্নীতি!

সরল বিশ্বাসে দুর্নীতি!
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানের একটি মন্তব্য আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তিনি বলেছেন 'সরকারি কর্মকর্তারা সরল বিশ্বাসে দুর্নীতিতে জড়ালে অপরাধ হবে না'। এ কথাটি মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হচ্ছে।

বাংলাদেশে সরকারি কর্মকতাদের দুর্নীতি আজ নতুন নয়। তবে সব কর্মকর্তাও এক নয়। সংখ্যায় সীমিত হলেও  অনেক অফিসার আছেন যারা সততার সাথে অনেক কষ্টে  জীবনযাপন করেন। তাই সকলকে এক পাল্লায় মাপা ঠিক হবে না।

বাংলাদেশে দুদক নিরপেক্ষতা হারিয়েছে অনেক আগে, তবে কিছু দিন পূর্বে ছোটখাটো দুর্নীতি ধরতে সোচ্চার দেখে আমরা কিছুটা হলেও খুশি হয়েছি। এ জন্য যে এবার অন্তত দুদক চেয়ারম্যান নিজেই ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঠিক সময়ে ক্লাস শুরু হয় কিনা বা সকল শিক্ষক সময়মত স্কুলে আসছেন কিনা তা যাচাই করতে। 

আমরা মনে করেছি, তিনি একবার যেহেতু ঘর থেকে বেরিয়েছেন, বাংলাদেশের সমাজ থেকে দুর্নীতি দূর না হওয়া পর্যন্ত আর ঘরে ফিরবেন না। কিন্তু কোনও অদৃশ্য কারণে, বোধহয় তিনি বুঝতে পেরেছেন, সরকারি কর্মকতা, রাজনীতিবিদের দুর্নীতি থামানো অসম্ভব। তার কাছে তো অনেক উদাহরণ আছে।

যাক সেসব কথা। এবার আলোচনা করা যাক, তিনি কেন বলেছেন যে সরকারি কর্মকরা সরল বিশ্বাসে দুর্নীতিতে জড়ালে অপরাধ হবে না। তিনি কি আসলে সরকারি কর্মকর্তাদের ভয় পেয়েছেন?  নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে।

কারণ ব্যাখ্যার আগে বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা সম্পর্কে দুই-চার কথা না বললেই নয়। ওনারা সরকারিভাবে সে বৃটিশ আমল থেকে সুরক্ষিত। ওনারা সমাজের উপরে থাকেন। ওনাদের পল্লীর নাম ভদ্রপল্লী। ওনাদের সাথে ঈশ্বরের যোগাযোগ। সব কিছুই ওনারা নির্মাণ ও পরিচালনা করেন। সকল সুযোগ-সুবিধা ওনাদের জন্য। এ কারণে ওনাদের আচরণে এর প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।

এ জন্য তাদের সঙ্গে জনগণের একটা দুরত্ব কাজ করে। ফলে তাদের সম্পর্কে দুদক চেয়ারম্যানের মন্তব্যের পেছনে কোনো কারণ আছে কিনা, তা জানার আগেই পত্র-পত্রিকা,  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড় ওঠে। আসলে দুদক চেয়ারম্যান কী বোঝাতে চেয়েছেন বা জনগণ কী বুঝেছে তা পরিষ্কার নয়।

আমি যদি ভুল না বুঝে থাকি, এখানে দুদক চেয়ারম্যান অর্থনৈতিক দুর্নীতিকে বুঝাননি। তিনি বুঝাতে চেয়েছেন, অনেক সরকারি কর্মকর্তা নিজের অনিচ্ছায় বা ভালো  উদ্দেশ্যে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এতে কারো ক্ষতি হতে পারে। এ জন্য ঐ কর্মকতাকে দুর্নীতি পরায়ণ বলা যাবে না। এটাকে দুদক চেয়ারম্যান 'সরল বিশ্বাস' বলেছেন। যদি ঐ কর্মকর্তা  ইচ্ছাকৃত ভুল করেন বা টাকার বিনিময়ে করেন বা কাউকে সন্তুষ্ট করার জন্য করেন, তা সরল বিশ্বাস নয়। এখানে অসততা আছে। এটাই দুর্নীতি।

আমার  হয়তো বুঝতে ভুল হতে পারে আর যদি হয়ও তা কিন্তু সরল বিশ্বাসে। আমি এ বিষয়টি এ জন্যই উপস্থাপন করলাম, কারণ দুদক চেয়ারম্যানের কথার অর্থ যদি সরকারি কর্মকর্তারা ভুল বোঝেন, তাহলে তো সর্বনাশ! তারা তো সরল বিশ্বাসে সরলভাবে গতিবেগ বাড়িয়ে দুর্নীতি করা শুরু করবেন। অবস্থা তখন হবে, ‘একদিকে নাচুনি বুড়ি অন্য দিকে ঢোলের বাড়ি’-র মতো। আমার এ লেখা শুধু ওইসব দুর্নীতি পরায়ণ সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য।

অতএব, দয়া করে সরল বিশ্বাসে সরলভাবে গতিবেগ বাড়িয়ে দুর্নীতি করা থেকে বিরত থাকুন।

ড. মো. কামাল উদ্দিন: প্রফেসর ও সাবেক চেয়ারম্যান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

আরও পড়ুন: সরল বিশ্বাসে দুর্নীতি অপরাধ নয়: দুদক চেয়ারম্যান

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র