Barta24

মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬

English

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের তাৎপর্য

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের তাৎপর্য
ফরিদুল আলম/ ছবি: বার্তা২৪.কম
ফরিদুল আলম


  • Font increase
  • Font Decrease

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর ঘিরে সকলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যে প্রত্যাশাটি ছিল, তা হচ্ছে বাংলাদেশে অবস্থানরত মিয়ানমার থেকে আগত ১১ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসনে চীনের সক্রিয় ভূমিকা পালনে সেদেশের সরকারকে রাজি করানো। এই সফরে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সহ ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি এবং সরকারের সংশ্লিষ্টদের সাথে বাংলাদেশ সরকারের আলোচনার পর যে বিষয়টি বের হয়ে এসেছে তা আমাদের জন্য আপাতদৃষ্টিতে খুব একটা আশাব্যাঞ্জক মনে হচ্ছে না এই মর্মে যে, চীনের পক্ষ থেকে কেবল ‘মিয়ানমার সরকারকে বুঝানো হবে’ বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

চীনের এই পরোক্ষ প্রতিশ্রুতিকে অনেকে এক ধরনের দায়সারা মনোভাবের প্রকাশ মনে করলেও এর মধ্যে আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেক আশাবাদের জায়গা খুঁজে পাই এই যুক্তিতে যে বর্তমান বিশ্ব রাজনীতির বাস্তবতায় চীনকে কুটনৈতিকভাবে ঘায়েল করার বেশকিছু অস্ত্র আমাদের হাতে রয়েছে, যার সফল প্রয়োগ পরিস্থিতি আমাদের অনুকূলে নিয়ে আসতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আমরা যদি চীনের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করি তাহলে দেখতে পাব যে চীনের অর্থনীতির ক্রমোন্নয়নের ধারাটি গত একবছর সময়ের মধ্যে ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে এবং দুই দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্য সংলাপ কার্যত গন্তব্যহীন থাকার কারণে সামনের দিনগুলোতে বিশ্ব অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থায় চীনের একঘরে হয়ে পড়ার একটা সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এমন নেতিবাচক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে এশিয়ার ক্ষুদ্র রাষ্ট্র বাংলাদেশ তাদের বিশেষ কৌশলগত অংশীদার হতে পারে।

এক সময়ের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির অন্বেষণ করা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের বর্তমান ধারা দেখলে যে কোন বিশ্লেষক এই মর্মে একমত হবেন যে এখন আমাদের পররাষ্ট্রনীতি কারও দ্বারা প্রভাবিত নয়। আর সেজন্যই ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি সত্ত্বেও এবং আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সহযোগী জাপান কিংবা ইউরোপীয় ইউনিয়ন পছন্দ করবেনা জেনেও কেবল জাতীয় স্বার্থের প্রয়োজনে বর্তমান সরকার আমাদের নৌবাহিনীর সামর্থ্য উন্নয়নে চীনের কাছ থেকে সাবমেরিন ক্রয় করেছে। আবার একই সাথে চীনের প্রস্তাবকে উপেক্ষা করে সোনাদিয়া গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণে চীনের বিনিয়োগকে উপেক্ষা করেছে এই শংকায় যে তারা যেন দেনা পরিশোধে ব্যর্থতায় এর দখল নিয়ে আমাদের সার্বভৌমত্বে আঘাত হানতে না পারে, যেমনটা করেছে কেনিয়া এবং শ্রীলংকার হাম্বানটোটার ক্ষেত্রে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির কথা বলছিলাম। বিগত সময়গুলোতে, বিশেষ করে গত ১০ বছর সময়ের পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষণ করলে আমরা দেখতে পাব যে ভারতের সাথা আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অভাবনীয় উন্নয়ন ঘটেছে। ঐতিহাসিক সকল সমস্যার সমাধান ঘটেছে। যদিও তিস্তার পানি বণ্টনের বিষয়টি এখনো অনিষ্পন্ন রয়েছে। এই সম্পর্কোন্নয়ন দুই দেশকেই সুফল দিয়েছে। একদা বাংলাদেশ ঘেষা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর আভ্যন্তরীণ অস্থিরতা তাদের ব্যাপক মাথাব্যাথার কারণ ছিল। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ তাদের স্বস্তি দিয়েছে।

দুই দেশের বাণিজ্যিক বৈষম্যের একটি সম্মানজনক সমাধানে উভয়ই উপকৃত হয়েছে। সর্বোপরি দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্কের) ব্যর্থতা সত্ত্বেও নিরবিচ্ছিন্নভাবে এঁকে অপরের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটিয়ে চলেছে। এই বোধ থেকে নিকটতম প্রতিবেশী ভারতের স্বার্থের ক্ষতি হয় এমন কিছু নয়, অথচ নিজেদের স্বার্থের অনুকূলে যেভাবে প্রয়োজন প্রয়োজন সেভাবেই বাংলাদেশ তাদের নীতি নির্ধারণ এবং বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। সে দিক দিয়ে সঙ্গত কারণেই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ভারতের প্রভাবমুক্ত রয়েছে।

এই বাস্তবতায় একমাসের ব্যবধানে আমরা চীন-জাপান পরষ্পর বৈরী এই দুদেশে আমাদের সরকারও প্রধানের সফরকে মূল্যায়ণ করতে গিয়ে একথাই বলতে পারি যে বঙ্গবন্ধু অনুসৃত ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরীতা নয়’- নীতির আলোকে একটি সমৃদ্ধ আগামীর জন্য কাজ করে যাচ্ছেন তাঁর তনয়া বর্তমান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মধ্য দিয়ে তাই রোহিঙ্গা সমস্যার রাতারাতি সমাধান হয়ে যাবে এমন প্রত্যাশার চেয়ে দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের স্বার্থের অনুকূলে আমর কী পেতে যাচ্ছি সেটা অনুধাবন করা শ্রেয়তর। আমরা দেখেছি ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংএর বাংলাদেশ সফরে দুই দেশের মধ্যে রেকর্ড পরিমাণ অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যার আওতায় ইতোমধ্যে বেশ কিছু চীনা কোম্পানি বাংলাদেশে তাদের বিনিয়োগ করেছে এবং বর্তমানে মিরেরসরাইয়ে বাস্তবায়নাধীন ৭০০ একর জায়গা নিয়ে চীনের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে আরও বেশ কিছু কোম্পানী বিনিয়োগে আসতে যাচ্ছে।

এর সাথে যুক্তরাষ্ট্র–চীন চলমান বাণিজ্য যুদ্ধের বাস্তবতায় এই ধারা আরও বেগবান হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, সহজলভ্য কাঁচামাল এবং সর্বোপরি বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ চীনের পছন্দের তালিকায় বাংলাদেশকে শীর্ষে রেখেছে। সেই সাথে আমাদের মনে রাখতে হবে যে উৎপাদনশীলতার স্বার্থে মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানী করা হলে তা মিয়ানমার, বাংলাদেশ এবং চীন সকলের জন্যই ভাল হবে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে উৎপাদিত চীনা পণ্য ভারত, নেপাল, ভূটানসহ এশিয়া এবং ইউরোপের অপরাপর দেশগুলোতে রপ্তানীর মাধ্যমেএকটি নতুন অর্থনৈতিক বলয় তৈরী করা যেতে পারে।

বাস্তব পরিস্থিতিতে তাই আমাদের বুঝতে হবে এখানে কোন বিষয়টি মোক্ষম উপায়ে সকলের স্বার্থে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারে। আমাদের মনে রাখতে হবে যে বর্তমান বৈশ্বিক উন্নয়নের ধারায় কেবল অর্থনৈতিক উন্নয়নের অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ই রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানে অধিক কার্যকর হতে পারে। আজকের ইউরোপের দিকে তাকালেও আমরা দেখব যে শত শত বছরের যুদ্ধ তাদের স্বস্তি দিয়েছে সমন্বিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে। বাংলাদেশ এবং চীনের মধ্যে যে অফুরন্ত বিণিয়োগ এবং উত্তরোত্তর বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বের সুযোগ রয়েছে, অভিন্ন স্বার্থের নিরাপদ বিনিয়োগই সকল রাজনৈতিক বিবাদ মীমাংসায় সুদূরপ্রাসারী ভূমিকা রাখতে পারে।

ফরিদুল আলম: সহযোগী অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্বিবিদ্যালয়।

আপনার মতামত লিখুন :

ভিআইপিতান্ত্রিক বাংলাদেশ

ভিআইপিতান্ত্রিক বাংলাদেশ
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বাংলাদেশ ফেরি ঘাটে আটকে আছে যেন বাপ্পি হয়ে। ভিআইপির ভারে ন্যুব্জ মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ। সংবিধানের ব্যাখ্যাদাতা হাইকোর্ট জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আর কেউ ভিআইপি নন।

ইউরোপ নিজ দেশে গণতান্ত্রিক আইন চালু করলেও উপনিবেশ-আধা উপনিবেশ ও পরাধীন অঞ্চলগুলোতে জমিদারি বা ভিআইপি কানুন বহাল রেখেছে। ১৭৭৩ সালের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইন, ১৮৬০ সালের পেনাল কোড, ১৮৬১ সালের পুলিশ অ্যাক্ট, ১৮৭২ সালের এভিডেন্স অ্যাক্ট, ১৮৭৮ সালের আর্মস অ্যাক্ট, ১৮৯৮ ক্রিমিন্যাল প্রসিডিউর অ্যাক্ট, ১৯০৮ সালের সিভিল প্রসিডিউর কোডসহ ১৯১০ সালের মধ্যে পরাধীন ভারতের আইনগত কাঠামো নির্মাণ মোটামুটি শেষ হয়। এরই মধ্যে এই অঞ্চলের লড়াই ও রাজনীতির নিজস্ব পথ শেষ করা সম্ভব হয়। এর ফলে কথিত ভিআইপি সংস্কৃতির আইনগত ভিত্তি তৈরি হয়। ফলে ট্রেন-বাস-হাসপাতাল থেকে শুরু করে সর্বত্র এটি চালু হয়।

আজকের বাংলাদেশ সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদের 'প্রচলিত আইন' ও 'আইন' এর সংজ্ঞা অনুসারে এই ব্রিটিশ বিধি মুক্তিযুদ্ধের সংবিধানে আত্মীকৃত হয়। একজন উপজেলা চেয়ারম্যান জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন কিংবা ডিসি আমলাতান্ত্রিক বিধানে নিযুক্ত হন; তারা একই একেকজন জমিদারে পরিণত হন। তারা দাবি করেন, জনগণ তাদের স্যার বলুক। বাংলাদেশ ভিআইপিতান্ত্রিকই থেকে যায়। কিছুদিন আগে সুপ্রিমকোর্ট একটি বক্তব্যে বলেছিলেন, আমরা এমন একটি পঙ্গু সমাজে বসবাস করছি যেখানে ভাল মানুষ স্বপ্ন দেখতে পারছে না, রাজনীতি বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে,... আমাদের পূর্বপুরুষরা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন, কোনো ক্ষমতার দৈত্য নয়।

সংবিধানের ৭(ক) অনুসারে জনগণ রাষ্ট্রের মালিক বটে, তবে যখন সেই মালিকানা সংবিধানের অধিন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হয়, তখন সংবিধানই বলে, সেই মালিকানা একচ্ছত্রভাবে ভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। আর প্রচলিত আইন অনুসারে জেলা, উপজেলার শীর্ষ কর্তারা একেকজন ছোট প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ভোগ করেন। ডিসি সম্মেলনগুলোয় বছর বছর যে দাবিগুলো উঠে, এ তারই প্রতিফলন। আলিশান বাড়ি ও গাড়ির দাবি যে ক্যাডাররা দাবি করেন, সেটাও। চাকরির ট্রেনিংগুলোতেও তাই শেখানো হয়, তারা বিশেষ কিছু। এই জন্যই আমলারা জনপ্রতিনিধিদের ঠাট্টা করে বলেন, তাদের ক্ষমতা পাঁচ বছরের নয়। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পরেই কেবল এটা আলোচনায় এল।

আইন প্রণয়নে সংসদের একচ্ছত্র ক্ষমতা আছে বলে মনে করি। অথচ ১৫২ অনুচ্ছেদে আইন অর্থ কোনো আইন, অধ্যাদেশ, আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন, বিজ্ঞপ্তি ও অন্যান্য আইনগত দলিল এবং বাংলাদেশের আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন যেকোনো প্রথা বা রীতি। মানে ডিসি, সচিবদের সেইসব আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন আর বিজ্ঞপ্তিও আইন। এইভাবে সংসদ ছাড়াও আইন তৈরি হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশের অধিকাংশ আইন এইভাবে তৈরি হয়। তাই একজন ইউএনও কিংবা পুলিশ সুপার চুলের ছাঁট বা গণঅধিকার সংকুচিত করতে পারেন আইন শৃঙ্খলার দোহাই দিয়ে। পুলিশ সন্দেহের বশবর্তী হয়ে কিংবা সরল বিশ্বাসে গুলি করে মেরে ফেলতে পারে। আমলাদের বেলায় সরল বিশ্বাস দুর্নীতি নয়। কিংবা বিভাগীয় মামলার নামে সামরিক আদালতের মতো আলাদা আদালতি কর্ম সারতে পারেন। যা বাংলাদেশের কোনো আদালতে আপিল করা যাবে না।-এইভাবে ভিআইপিতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠিত হয়েছে। অথচ আমাদের মুক্তিযুদ্ধ হয়ে সাম্য, মৈত্রী আর স্বাধীনতাকে লক্ষ্য ধরে। অথচ বাংলাদেশ কাঁতড়াচ্ছে ফেরি ঘাটে।

১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন ও ১৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট অ্যাক্ট এর অধীনে ভারত-পাকিস্তান নামে স্বাধীন ডোমিনিয়নে বিভক্ত হয়। মানে বৃটিশদের প্রণীত সংবিধানের অধিনে দুটি দেশ স্বাধীনতার পথে যাত্রা শুরু করে। আর মুক্তিযুদ্ধের দামে কেনা বাংলাদেশও এক বছরের মাথায় একই পথে যাত্রা করে। ফলে ভিআইপিতন্ত্রের কবল থেকে বাংলাদেশের মুক্তি ঘটে না।

লেখক: রেল-নৌ, যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সভাপতি।

আবদুল মোনেম: এক মহান কর্মবীরের প্রতিকৃতি

আবদুল মোনেম: এক মহান কর্মবীরের প্রতিকৃতি
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

#ও বন্ধু আমার 🌷 জনাব আবদুল মোনেম। দেশের প্রথম প্রজন্মের ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব। সড়ক, ব্রিজ ও কালভার্ট অবকাঠামো, যা আজকের বাংলাদেশে আমরা দেখি, এসবের সিংহভাগেরই নির্মাতা আবদুল মোনেম লিমিটেড তথা জনাব মোনেম। যৌবনের স্বর্ণালী সময়সহ তাঁর জীবনের প্রায় পুরোটাই তিনি অমানুষিক পরিশ্রম করেছেন প্রিয় মাতৃভূমির বৃহৎ সব নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে। দেশি বিদেশি সব কন্ট্রাক্টররা যে প্রকল্প তাদের পক্ষে করা অসম্ভব বলেছে, আবদুল মোনেম সাহেব সে চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন হাসি মুখে। প্রাণান্ত চেষ্টা আর অধ্যাবসায় দিয়ে অসম্ভব সেসব প্রকল্পকে দেখিয়েছেন সাফল্যের মুখ। সমাজ সংসার আত্মীয় পরিজন সব ছেড়ে ছুঁড়ে প্রকল্প এলাকায় কাটিয়েছেন মাসের পর মাস। গলা পর্যন্ত কাদা পানিতে নেমে শ্রমিকদের দেখিয়েছেন কাজের দিশা! তাঁর কোম্পানির প্রকৌশলীরা অবাক বিস্ময়ে দেখেছেন কিভাবে একজন কর্মবীর আবদুল মোনেম বাস্তবায়ন করে চলেছেন উন্নয়নের পথরেখা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566051707738.gif
গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে আবদুল মোনেমের (ডানে) সঙ্গে লেখক/ সংগৃহীত


ব্যবসায়ের লাভ লোকসানকে কখনোই গুরুত্ব দেননি জনাব মোনেম। দেশমাতৃকার উন্নতি সবসময় তাঁর কাছে মুখ্য হয়ে থেকেছে। যে কারণে মুনাফাখোর ব্যবসাদাররা যেখানে মানুষের অশ্রদ্ধার পাত্র হন, জনাব মোনেম সেখানে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বের আসনে। দিন গেছে, ব্যবসা ডাইভার্সিফাই হয়েছে। বিশ্বখ্যাত কোমল পানীয় কোকাকোলা বা ইগলু’র মতো দুনিয়া জোড়া সুনামের আইসক্রিম ব্র্যান্ড সমৃদ্ধ আবদুল মোনেম লি. এখন পরিণত হয়েছে আবদুল মোনেম গ্রুপে। কয়েক কোটি টাকার টার্নওভারের সেদিনের কোম্পানি এখন হাজার কোটি টাকার কনগ্লোমারেট! কোক ইগলু ছাড়াও বিশ্বের বেশকিছু নামকরা ব্র্যান্ড এখন মোনেম গ্রুপের সঙ্গে পার্টনার। তাই বলে মোনেম ভাই পরিবর্তিত হননি এতটুকু। সেই শুরুতে যেমন নিরহংকারী, দানশীল ও ডাউন টু আর্থ ছিলেন, আজও তেমনই আছেন!

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566051780819.gif

দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে জনাব মোনেমের সঙ্গে আমার ও আমার পরিবারের সম্পর্ক। দেশ বিদেশের অনেক স্টেশন আমরা একসঙ্গে সফর করেছি, একত্রে থেকেছি। সুযোগ হয়েছে পরস্পরকে জানার ও কাছে আসার। আজ জীবন সায়াহ্নে এসে পৌঁছেছেন জনাব আবদুল মোনেম। আমাদের স্বার্থহীন মানবিক সম্পর্ক আজও দ্যুতিময় প্রথম দিনের ঔজ্জ্বল্যেই! এতটা পথ আমরা পাড়ি দিয়ে এসেছি, কিন্তু স্বার্থের কোনো সংঘাত না থাকায় আমাদের পারিবারিক সম্পর্কে মালিন্য সামান্য মরিচা ধরাতে পারেনি, আলহামদুলিল্লাহ!
পবিত্র ঈদ আল-আদহা’র সালাত আদায়ে গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে আমাদের এই হিরণ্ময় সাক্ষাৎ। আল্লাহ সুবহানআহু ওয়াতা’আলা উন্নয়ন ব্যক্তিত্ব আমার প্রিয়-শ্রদ্ধেয় মোনেম ভাইকে সুস্থ ও নেক আমলময় হায়াতে তাইয়েবা দান করুন, আমীন...

লেখক: জাতীয় মিডিয়া ব্যক্তিত্ব

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র