Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

English

এরশাদ: জীবন ও মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ পেরিয়ে

এরশাদ: জীবন ও মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ পেরিয়ে
ড. মাহফুজ পারভেজ, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর
ড. মাহফুজ পারভেজ
কন্ট্রিবিউটিং এডিটর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

বেশ কিছুদিন হাসপাতালের শয্যায় চিকিৎসাধীন থেকে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ মারা গেলেন। জীবন ও মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ পেরিয়ে তিনি এখন জাগতিক সকল ধরা-ছোঁয়ার বাইরে অবস্থান করছেন।

কিন্তু দশ বছর দেশ শাসন এবং তিরিশ বছর ক্ষমতার বাইরের রাজনীতি তাকে বাংলাদেশের ইতিহাসের অংশে পরিণত করেছে। চল্লিশ বছরের রাজনৈতিক জীবনের প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তির সমীকরণে সাবেক এই সেনা প্রধান মূল্যায়িত হবেন।

সন্দেহ নেই, এরশাদ সমকালীন বাংলাদেশের রাজনীতিতে একজন বয়োজ্যেষ্ঠ নেতা ছিলেন। ব্যক্তিগতভাবে স্বাস্থ্য সচেতন ও ফিটফাট ছিলেন তিনি। তার বড় কোনও রোগ-ব্যাধির কথাও জানা যায়নি। ফলে কয়েক দিন হাসপাতালে থেকে চিরবিদায়ের পথে তার চলে যাওয়াটা তার দলের নেতা ও কর্মীদের কাছে আকস্মিক।

কারণ, অতীতে তিনি স্বাস্থ্যগত চিকিৎসা কিংবা রাজনৈতিক কৌশলগত প্রয়োজনে একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং পরিস্থিতি অনুকূল হলে আবার ফিরেও এসেছেন। কিন্তু এবার তিনি সুস্থ-স্বাভাবিক হয়ে ফিরে আসতে পারেননি। তিনি ফিরে এসেছেন জীবনের সব লেনদেন মিটিয়ে।

এরশাদের মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে কেমন প্রভাব ফেলবে, তার চেয়ে জরুরি প্রশ্ন হলো, তার দল জাতীয় পার্টিতে তার শূন্যতার ফলে কেমন অবস্থার সৃষ্টি হবে?

জাতীয় পার্টিকে তিনি ক্ষমতা দখলের পর গঠন করেছিলেন। ডান, বাম, আওয়ামী লীগ, বিএনপি ইত্যাদি প্রায়-সকল দল থেকেই ক্ষমতালিপ্সুদেরকে এনে তিনি তার দলে ভিড়িয়ে ছিলেন। ক্ষমতার সময়কাল শেষে অনেকেই আবার দল ছেড়ে পুরনো দলে ফিরেও গেছেন। শেষ পর্যন্ত এরশাদের দলে যারা থেকে গেছেন, তারা ছিলেন বা আছেন রাজনৈতিক-মতাদর্শিক কারণে নয়, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও সুযোগ-সুবিধার জন্য।

বিশেষ করে ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে দর কষাকষির ক্ষেত্র হিসাবে জাতীয় পার্টি যে একটি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে, অনেক কৌশলী নেতাই সেই সুযোগ ও সুবিধাটুকুকে কাজে লাগিয়েছেন। অনেক অনামা নেতার ভাগ্যও খুলেছে এভাবে।

ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে যে, এরশাদের পর জাতীয় পার্টির ভবিষ্যৎ কেমন? কারণ, আওয়ামী লীগ বা বিএনপি বা অন্যান্য পার্টি যেভাবে একটি আদর্শিক কাঠামোতে দলের নেতা-কর্মীদের বিশ্বস্ত ও অনুগত করতে পেরেছে, জাতীয় পার্টি তা পারে নি। মতাদর্শিক দিক দিয়ে পার্টির সুস্পষ্ট অবস্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিভাত নয়।

আরও পড়ুন: একজন এরশাদ

বরং জাতীয় পার্টি ব্যক্তি এরশাদ ও আরও কয়েকজন নেতার ইমেজের দল হিসাবে পরিগণিত এবং আরও সঠিকভাবে বললে, পুরো বাংলাদেশ নয়, উত্তরবঙ্গ এবং আরও কিছু পকেট এলাকায় দলের সমর্থন ভিত্তি প্রসারিত। এমন একটি দলের শীর্ষ স্তম্ভ, যিনি ঐক্য ও দলীয় সংহতির প্রতীক ছিলেন, তার অবর্তমানের প্রভাব পড়বেই।

এরশাদ ক্ষমতায় ও ক্ষমতার বাইরে প্রায় ৪০ বছর রাজনীতিতে সরব থাকলেও তার রাজনীতি মতাদর্শ প্রতিষ্ঠার লড়াই ছিল না। ছিল নিজেকে কারাগার ও শাস্তি থেকে বাঁচানোর রাজনীতি। যে রাজনীতিতে অংশ নিয়ে আরও অনেকেই কিছু কিছু ব্যক্তিগত সুবিধা পেয়েছেন।

বিশেষ করে, দেশের অন্যতম প্রধান দল বিএনপির অদূরদর্শী রাজনীতির কারণে জাতীয় পার্টি কিছু সুবিধা পেয়েছে এবং সেটা পেয়েছে এরশাদের ইমেজের কারণে। এরশাদের মৃত্যুর পর পুরো প্রেক্ষাপটই বদলে যাবে। তখন জাতীয় পার্টির অবস্থা কেমন হবে?

এরশাদের অনুপস্থিতিতে জাতীয় পার্টির নেতৃত্বের সঙ্কট বার বার দেখা গেছে। সকালে একজনকে দায়িত্ব দিয়ে বিকেলে তাকে বদলিয়ে আরেকজনকে দায়িত্ব দিতে হয়েছে। দলে পরিবারতন্ত্র-আত্মীয়তা এবং আঞ্চলিকতাও প্রকট। একমাত্র ঐক্য ও সমঝোতার জায়গা বলতে ছিলেন এরশাদ নিজে। সেই জায়গাটি চলে যাওয়ার পর জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে হোঁচট খাবে। নিশ্চিত করে বলা যায় যে, এরশাদ বিহীন জাতীয় পার্টি অস্তিত্বের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে।

একজন স্বৈরাচার থেকে জনপ্রিয়-গণতান্ত্রিক রাজনীতিক হিসাবে নিজেকে উত্তরণ ঘটানো খুব সহজ কাজ নয়। পৃথিবীর ইতিহাসে বহু সামরিক ও স্বৈরশাসক ক্ষমতা দখল করলেও শেষ পর্যন্ত নিজেকে গণতান্ত্রিক অবয়বে রূপান্তরিত করতে পারেন নি।

এরশাদ দশ বছর ক্ষমতায় আর তিরিশ বছর ক্ষমতার বাইরে থেকে সে সুযোগ পেয়েছিলেন। এবং সাধ্যমতো সে সময় চেষ্টাও করেছেন, নিজেকে গ্রহণযোগ্য ও জনসম্পৃক্ত করতে। তিনি জেল খেটেছেন, মাঠে থেকেছেন এবং কোনও অবস্থাতেই রাজনৈতিক অঙ্গন ছেড়ে যান নি। তিনি প্রচলিত রাজনীতিতে নিজেকে নিরাপদ ও সক্ষম রাখতে পেরেছিলেন ক্ষমতার পালাবদলের অংশ হয়ে। নিজের দল, নেতা, কর্মী বাহিনীকে তাৎক্ষনিক ক্ষমতার রাজনীতির অংশে পরিণত করেছিলেন।

আরও পড়ুন: জাতীয় ফ্রন্ট থেকে এরশাদের জাপা

দীর্ঘমেয়াদী আদর্শ ও কর্মসূচিমুখী রাজনীতি এরশাদ নিজে এবং তার দল জাতীয় পার্টি করতে পেরেছে, বলা যাবে না। ফলে তার অনুপস্থিতিতে তার দল সুনির্দিষ্ট মতাদর্শিক পথ খুঁজে পেতে হীমসীম খাবে। এরশাদের স্থলে দলে আরেকজন এরশাদও পাওয়া সম্ভব হবে বলে মনে হয় না। ফলে নেতৃত্বের সঙ্কট কিংবা নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব-সংঘাত হবে স্বাভাবিক বিষয়।

এরশাদের মৃত্যুতে তার নিজের রাজনৈতিক জীবনের ভালো-মন্দের মূল্যায়ন যেমন চলবে, তেমনি চলবে তার দল জাতীয় পার্টির ভবিষ্যৎ নিয়ে বিতণ্ডা ও দোলাচল। এর ফলে, মৃত্যুতেই এরশাদের অবসান হবে না। তিনি হয়ত আরও অনেক দিন প্রাসঙ্গিক ও জাগরূক থাকবেন বাংলাদেশের দলীয় রাজনীতির অঙ্গনে।

আপনার মতামত লিখুন :

ভিআইপিতান্ত্রিক বাংলাদেশ

ভিআইপিতান্ত্রিক বাংলাদেশ
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বাংলাদেশ ফেরি ঘাটে আটকে আছে যেন বাপ্পি হয়ে। ভিআইপির ভারে ন্যুব্জ মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ। সংবিধানের ব্যাখ্যাদাতা হাইকোর্ট জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আর কেউ ভিআইপি নন।

ইউরোপ নিজ দেশে গণতান্ত্রিক আইন চালু করলেও উপনিবেশ-আধা উপনিবেশ ও পরাধীন অঞ্চলগুলোতে জমিদারি বা ভিআইপি কানুন বহাল রেখেছে। ১৭৭৩ সালের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইন, ১৮৬০ সালের পেনাল কোড, ১৮৬১ সালের পুলিশ অ্যাক্ট, ১৮৭২ সালের এভিডেন্স অ্যাক্ট, ১৮৭৮ সালের আর্মস অ্যাক্ট, ১৮৯৮ ক্রিমিন্যাল প্রসিডিউর অ্যাক্ট, ১৯০৮ সালের সিভিল প্রসিডিউর কোডসহ ১৯১০ সালের মধ্যে পরাধীন ভারতের আইনগত কাঠামো নির্মাণ মোটামুটি শেষ হয়। এরই মধ্যে এই অঞ্চলের লড়াই ও রাজনীতির নিজস্ব পথ শেষ করা সম্ভব হয়। এর ফলে কথিত ভিআইপি সংস্কৃতির আইনগত ভিত্তি তৈরি হয়। ফলে ট্রেন-বাস-হাসপাতাল থেকে শুরু করে সর্বত্র এটি চালু হয়।

আজকের বাংলাদেশ সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদের 'প্রচলিত আইন' ও 'আইন' এর সংজ্ঞা অনুসারে এই ব্রিটিশ বিধি মুক্তিযুদ্ধের সংবিধানে আত্মীকৃত হয়। একজন উপজেলা চেয়ারম্যান জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন কিংবা ডিসি আমলাতান্ত্রিক বিধানে নিযুক্ত হন; তারা একই একেকজন জমিদারে পরিণত হন। তারা দাবি করেন, জনগণ তাদের স্যার বলুক। বাংলাদেশ ভিআইপিতান্ত্রিকই থেকে যায়। কিছুদিন আগে সুপ্রিমকোর্ট একটি বক্তব্যে বলেছিলেন, আমরা এমন একটি পঙ্গু সমাজে বসবাস করছি যেখানে ভাল মানুষ স্বপ্ন দেখতে পারছে না, রাজনীতি বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে,... আমাদের পূর্বপুরুষরা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন, কোনো ক্ষমতার দৈত্য নয়।

সংবিধানের ৭(ক) অনুসারে জনগণ রাষ্ট্রের মালিক বটে, তবে যখন সেই মালিকানা সংবিধানের অধিন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হয়, তখন সংবিধানই বলে, সেই মালিকানা একচ্ছত্রভাবে ভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। আর প্রচলিত আইন অনুসারে জেলা, উপজেলার শীর্ষ কর্তারা একেকজন ছোট প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ভোগ করেন। ডিসি সম্মেলনগুলোয় বছর বছর যে দাবিগুলো উঠে, এ তারই প্রতিফলন। আলিশান বাড়ি ও গাড়ির দাবি যে ক্যাডাররা দাবি করেন, সেটাও। চাকরির ট্রেনিংগুলোতেও তাই শেখানো হয়, তারা বিশেষ কিছু। এই জন্যই আমলারা জনপ্রতিনিধিদের ঠাট্টা করে বলেন, তাদের ক্ষমতা পাঁচ বছরের নয়। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পরেই কেবল এটা আলোচনায় এল।

আইন প্রণয়নে সংসদের একচ্ছত্র ক্ষমতা আছে বলে মনে করি। অথচ ১৫২ অনুচ্ছেদে আইন অর্থ কোনো আইন, অধ্যাদেশ, আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন, বিজ্ঞপ্তি ও অন্যান্য আইনগত দলিল এবং বাংলাদেশের আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন যেকোনো প্রথা বা রীতি। মানে ডিসি, সচিবদের সেইসব আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন আর বিজ্ঞপ্তিও আইন। এইভাবে সংসদ ছাড়াও আইন তৈরি হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশের অধিকাংশ আইন এইভাবে তৈরি হয়। তাই একজন ইউএনও কিংবা পুলিশ সুপার চুলের ছাঁট বা গণঅধিকার সংকুচিত করতে পারেন আইন শৃঙ্খলার দোহাই দিয়ে। পুলিশ সন্দেহের বশবর্তী হয়ে কিংবা সরল বিশ্বাসে গুলি করে মেরে ফেলতে পারে। আমলাদের বেলায় সরল বিশ্বাস দুর্নীতি নয়। কিংবা বিভাগীয় মামলার নামে সামরিক আদালতের মতো আলাদা আদালতি কর্ম সারতে পারেন। যা বাংলাদেশের কোনো আদালতে আপিল করা যাবে না।-এইভাবে ভিআইপিতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠিত হয়েছে। অথচ আমাদের মুক্তিযুদ্ধ হয়ে সাম্য, মৈত্রী আর স্বাধীনতাকে লক্ষ্য ধরে। অথচ বাংলাদেশ কাঁতড়াচ্ছে ফেরি ঘাটে।

১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন ও ১৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট অ্যাক্ট এর অধীনে ভারত-পাকিস্তান নামে স্বাধীন ডোমিনিয়নে বিভক্ত হয়। মানে বৃটিশদের প্রণীত সংবিধানের অধিনে দুটি দেশ স্বাধীনতার পথে যাত্রা শুরু করে। আর মুক্তিযুদ্ধের দামে কেনা বাংলাদেশও এক বছরের মাথায় একই পথে যাত্রা করে। ফলে ভিআইপিতন্ত্রের কবল থেকে বাংলাদেশের মুক্তি ঘটে না।

লেখক: রেল-নৌ, যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সভাপতি।

আবদুল মোনেম: এক মহান কর্মবীরের প্রতিকৃতি

আবদুল মোনেম: এক মহান কর্মবীরের প্রতিকৃতি
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

#ও বন্ধু আমার 🌷 জনাব আবদুল মোনেম। দেশের প্রথম প্রজন্মের ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব। সড়ক, ব্রিজ ও কালভার্ট অবকাঠামো, যা আজকের বাংলাদেশে আমরা দেখি, এসবের সিংহভাগেরই নির্মাতা আবদুল মোনেম লিমিটেড তথা জনাব মোনেম। যৌবনের স্বর্ণালী সময়সহ তাঁর জীবনের প্রায় পুরোটাই তিনি অমানুষিক পরিশ্রম করেছেন প্রিয় মাতৃভূমির বৃহৎ সব নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে। দেশি বিদেশি সব কন্ট্রাক্টররা যে প্রকল্প তাদের পক্ষে করা অসম্ভব বলেছে, আবদুল মোনেম সাহেব সে চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন হাসি মুখে। প্রাণান্ত চেষ্টা আর অধ্যাবসায় দিয়ে অসম্ভব সেসব প্রকল্পকে দেখিয়েছেন সাফল্যের মুখ। সমাজ সংসার আত্মীয় পরিজন সব ছেড়ে ছুঁড়ে প্রকল্প এলাকায় কাটিয়েছেন মাসের পর মাস। গলা পর্যন্ত কাদা পানিতে নেমে শ্রমিকদের দেখিয়েছেন কাজের দিশা! তাঁর কোম্পানির প্রকৌশলীরা অবাক বিস্ময়ে দেখেছেন কিভাবে একজন কর্মবীর আবদুল মোনেম বাস্তবায়ন করে চলেছেন উন্নয়নের পথরেখা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566051707738.gif
গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে আবদুল মোনেমের (ডানে) সঙ্গে লেখক/ সংগৃহীত


ব্যবসায়ের লাভ লোকসানকে কখনোই গুরুত্ব দেননি জনাব মোনেম। দেশমাতৃকার উন্নতি সবসময় তাঁর কাছে মুখ্য হয়ে থেকেছে। যে কারণে মুনাফাখোর ব্যবসাদাররা যেখানে মানুষের অশ্রদ্ধার পাত্র হন, জনাব মোনেম সেখানে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বের আসনে। দিন গেছে, ব্যবসা ডাইভার্সিফাই হয়েছে। বিশ্বখ্যাত কোমল পানীয় কোকাকোলা বা ইগলু’র মতো দুনিয়া জোড়া সুনামের আইসক্রিম ব্র্যান্ড সমৃদ্ধ আবদুল মোনেম লি. এখন পরিণত হয়েছে আবদুল মোনেম গ্রুপে। কয়েক কোটি টাকার টার্নওভারের সেদিনের কোম্পানি এখন হাজার কোটি টাকার কনগ্লোমারেট! কোক ইগলু ছাড়াও বিশ্বের বেশকিছু নামকরা ব্র্যান্ড এখন মোনেম গ্রুপের সঙ্গে পার্টনার। তাই বলে মোনেম ভাই পরিবর্তিত হননি এতটুকু। সেই শুরুতে যেমন নিরহংকারী, দানশীল ও ডাউন টু আর্থ ছিলেন, আজও তেমনই আছেন!

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566051780819.gif

দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে জনাব মোনেমের সঙ্গে আমার ও আমার পরিবারের সম্পর্ক। দেশ বিদেশের অনেক স্টেশন আমরা একসঙ্গে সফর করেছি, একত্রে থেকেছি। সুযোগ হয়েছে পরস্পরকে জানার ও কাছে আসার। আজ জীবন সায়াহ্নে এসে পৌঁছেছেন জনাব আবদুল মোনেম। আমাদের স্বার্থহীন মানবিক সম্পর্ক আজও দ্যুতিময় প্রথম দিনের ঔজ্জ্বল্যেই! এতটা পথ আমরা পাড়ি দিয়ে এসেছি, কিন্তু স্বার্থের কোনো সংঘাত না থাকায় আমাদের পারিবারিক সম্পর্কে মালিন্য সামান্য মরিচা ধরাতে পারেনি, আলহামদুলিল্লাহ!
পবিত্র ঈদ আল-আদহা’র সালাত আদায়ে গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে আমাদের এই হিরণ্ময় সাক্ষাৎ। আল্লাহ সুবহানআহু ওয়াতা’আলা উন্নয়ন ব্যক্তিত্ব আমার প্রিয়-শ্রদ্ধেয় মোনেম ভাইকে সুস্থ ও নেক আমলময় হায়াতে তাইয়েবা দান করুন, আমীন...

লেখক: জাতীয় মিডিয়া ব্যক্তিত্ব

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র