Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

English

এরশাদ এবং রাজনীতি

এরশাদ এবং রাজনীতি
সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ/ ছবি: সংগৃহীত
ফরিদুল আলম


  • Font increase
  • Font Decrease

একদা ব্যাপক আলোচিত, ততোধিক সমালোচিত এরশাদের এই চলে যাওয়া হঠাৎ না হলেও আমাদের রাজনীতিতে তাকে নিয়ে আলোচনা চলবে, চলতেই থাকবে। রাজনীতিতে নিত্য নতুন ঘটনার জন্ম দেওয়া এরশাদের এই চলে যাওয়ায় তাই এক ধরনের শূন্যতা অনুভূত হবে গভীরভাবে। সেই সাথে তার বিদায়ে তার সৃষ্ট দল জাতীয় পার্টি যে অনেকটা মুখ থুবরে পড়বে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। আর সেজন্যই বোধকরি আগামী দিনের রাজনীতি এরশাদকে মিস করবে দারুণভাবে। আমাদের দেশের রাজনীতিতে চলনে, বলনে, পোশাকে এবং রুচিতে এরশাদ ছিল এক এবং অদ্বিতীয়। জীবনের শেষ দিনগুলোতেও তার এই রুচিশীলতার প্রকাশ দেখেছি আমরা।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এরশাদের আগমন অনেকটা ঝড়ের বেগে ঘটলেও তার আগমনপরবর্তী রাজনীতি ঘটনাবহুল। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ থেকে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর তার পতনের আগ পর্যন্ত সময়ে তিনি ছিলেন দুর্দণ্ড প্রতাপশালী এক শাসক। একাধারে সামরিক শাসক, স্বৈরশাসক, প্রেমিক, কবি ইত্যাদি নানা রূপে তাকে আমরা দেখেছি। মনে পড়ে তার নামের আগে ‘বিশ্ব বেহায়া’ খেতাবটিও একসময় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতো। তাতে করে তার কিচ্ছু যেত আসতনা। তিনি তার মত করেই দেশ চালিয়েছেন যতক্ষণ পেরেছেন ততোক্ষণ পর্যন্ত।

এরশাদের পতনের পর বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তীতে তিনিই প্রথম শাসক যিনি জেল খেটেছেন টানা ৬ বছর এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র সাবেক শাসক যিনি দূর্নীতির দায়ে সর্বোচ্চ আদালত কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন। মৃত্যুর সময়েও কাধে প্রায় দুই ডজন মামলা নিয়ে তার এই প্রস্থান তার রাজনীতির ইতিবাচক দিকগুলো না হলেও নেতিবাচক দিকগুলোকে মানুষের মনে স্মরণীয় করে রাখবে অনেকদিন পর্যন্ত।

আরও পড়ুন: যেভাবে রাষ্ট্রপতি হন এরশাদ

এরশাদের কর্ম নিয়ে অনেক কথা এবং লেখা হয়েছে এবং দেশের রাজনীতি সচেতন কমবেশি সকলেই তার সম্পর্কে মোটামোটি ধারণা রাখেন বলেই তার মৃত্যুতে এই মুহুর্তে তার রাজনীতির নেতিবাচক দিকগুলো নিয়ে আমি আর কোন আলোচনায় যেতে চাইছিনা। তাছাড়া আমাদের রাজনীতির বর্তমান সময় বিশ্লেষণ করে আমি ব্যক্তিগত মত পোষণ করি যে একটি অস্থির রাজনৈতিক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করে আজকের এই সময়ে যে আমরা অবস্থান করছি তাতে কাকতালীয় হলেও এরশাদের কিন্তু অবদান কম নয়।

ব্যক্তিজীবনের মতো রাজনীতিতে ঘনঘন সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য যতটুকু আলোচিত তার অধিক সমালোচিত ছিলেন এরশাদ। তবে তার মৃত্যুর আগে জাতীয় রাজনীতির ক্ষেত্রে তাকে সিদ্ধান্তহীন হতে দেখা যায়নি খুব একটা। প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে যতই নিন্দনীয় বা সমালোচিত হোন না কেন তার পতনের পর থেকে জীবদ্দশা পর্যন্ত তাকে হিসেবে নিয়েই রাজনীতি করতে হয়েছে ক্ষমতার দৌড়ে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোকে। সেই সাথে তাকে আস্থায় রেখেই রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকতে হয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে অনেকে বিতর্ক করতে পারেন, তবে আমার যুক্তির স্বপক্ষ্যেও ব্যাখ্যা রয়েছে।

দূর্নীতির দায়ে এরশাদ জেল খেটেছেন ৬ বছরের বেশি। ৯০ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে ৭টি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর প্রতিটিতেই এরশাদকে আমলে নিয়ে ক্ষমতায় আসার ছক কাঁটা, আসন সমঝোতা, তার মামলাগুলোকে নিষ্পত্তি না করে ঝুলিয়ে রাখা, প্রকারান্তরে তাকে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ করেছে। একই সাথে বোদ্ধা নাগরিকদের কাছে ৯০ পরবর্তী শাসকদের দূর্নীতিবিরোধী স্লোগানগুলো প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে দারুণভাবে।

১৯৯৬ সালে যখন বর্তমান ক্ষমতাসীন দল সরকার গঠন করে, আমরা দেখেছি এর পেছনে জাতীয় পার্টির প্রাপ্ত ৩২টি আসন আওয়ামী লীগের জন্য ২১ বছর পর সরকার গঠনের পথ অনেকটা সুগম করে দেয়। সে সময় আওয়ামী লীগের পাওয়া ১৪৬টি আসনের সাথে যুক্ত না হয়ে জাতীয় পার্টির পাওয়া ৩২ টি এবং জামায়াতের ৩ টি আসন যদি বিএনপির প্রাপ্ত ১১৬টি আসনের সাথে যুক্ত হত তাহলে আবারও ক্ষমতায় আসতে পারত বিএনপি। কথিত আছে যে সে সময় তারেক রহমানের পক্ষ থেকে এর বিনিময়ে এরশাদের সকল মামলার নিষ্পত্তি ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয় তাকে ছেড়ে দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হলেও তিনি রাজী হননি এই ক্ষোভ থেকে যে বেগম জিয়ার শাসনামলের পুরোটাই তিনি জেলে কাটিয়েছেন। সুতরাং, আমরা কেবল সমালোচনার খাতিরে সমালোচনা না করে যদি যুক্তি দিয়ে সমালচনা করার চেষ্টা করি তবে দেখব কারো ক্ষমতায় যাওয়ার পেছনে কিন্তু তার সমর্থন কম নয়।

আরও পড়ুন: এরশাদ-এক রাজনৈতিক অধ্যায়

এরশাদ চলে গেলেন। আমি বলব মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এদেশের রাজনীতিতে তিনি তার অপরিহার্যতাকে প্রমাণ করে গেছেন। আজকে বিএনপিসহ তথাকথিত চারদলীয় জোটের শাসনামলের দূর্নীতির বিচার, যুদ্ধাপরাধের বিচার, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হমলা মামলাসহ বর্তমান সরকার স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের যত অপকর্মের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে এর কোনটাই সম্ভব হতনা যদিনা এরশাদের সমর্থন পাওয়া যেত। আর তাই প্রকাশ্যে না হলেও ক্ষমতাসীনদের কাছে অপ্রকাশ্যে তিনি কিন্তু কম সমিহ পাননি। ২০১৪ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি মন্ত্রীর মর্যাদা ভোগ করেছেন, শেষ সময়ে একটি সর্বদলীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা হিসেবে তার এই প্রস্থান আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

একজন ব্যক্তি বা তার ব্যক্তিগত কৃতকর্ম পছন্দ করা বা না করা ব্যক্তিগত বিষয়ের মধ্যে মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিৎ। কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে যখন কেউ জাতীয় জীবনে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেন তখন নিছক ব্যক্তিগত পছন্দ বা অপছন্দ দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে তার জন্য নির্ধারিত যোগ্য সম্মানটি দিলে তা আগামী প্রজন্মের জন্য উদাহারণ হয়ে ওঠে। আমাদের মনে রাখতে হবে এরশাদের মৃত্যু হয়েছে সংসদের বিরোধী দলের নেতা থাকা অবস্থায়। ওয়েস্ট মিনিস্টার ধাচে বিরোধী নেতাকে বলা হয়ে থাকে ‘ছায়া প্রধানমন্ত্রী’। বাংলাদেশেও এর গুরুত্ব কম ছিল না কখনও। এরশাদ তার যথাযোগ্য সম্মান পাক এটাই কাম্য।

ফরিদুল আলম: সহযোগী অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

আপনার মতামত লিখুন :

ভিআইপিতান্ত্রিক বাংলাদেশ

ভিআইপিতান্ত্রিক বাংলাদেশ
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বাংলাদেশ ফেরি ঘাটে আটকে আছে যেন বাপ্পি হয়ে। ভিআইপির ভারে ন্যুব্জ মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ। সংবিধানের ব্যাখ্যাদাতা হাইকোর্ট জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আর কেউ ভিআইপি নন।

ইউরোপ নিজ দেশে গণতান্ত্রিক আইন চালু করলেও উপনিবেশ-আধা উপনিবেশ ও পরাধীন অঞ্চলগুলোতে জমিদারি বা ভিআইপি কানুন বহাল রেখেছে। ১৭৭৩ সালের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইন, ১৮৬০ সালের পেনাল কোড, ১৮৬১ সালের পুলিশ অ্যাক্ট, ১৮৭২ সালের এভিডেন্স অ্যাক্ট, ১৮৭৮ সালের আর্মস অ্যাক্ট, ১৮৯৮ ক্রিমিন্যাল প্রসিডিউর অ্যাক্ট, ১৯০৮ সালের সিভিল প্রসিডিউর কোডসহ ১৯১০ সালের মধ্যে পরাধীন ভারতের আইনগত কাঠামো নির্মাণ মোটামুটি শেষ হয়। এরই মধ্যে এই অঞ্চলের লড়াই ও রাজনীতির নিজস্ব পথ শেষ করা সম্ভব হয়। এর ফলে কথিত ভিআইপি সংস্কৃতির আইনগত ভিত্তি তৈরি হয়। ফলে ট্রেন-বাস-হাসপাতাল থেকে শুরু করে সর্বত্র এটি চালু হয়।

আজকের বাংলাদেশ সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদের 'প্রচলিত আইন' ও 'আইন' এর সংজ্ঞা অনুসারে এই ব্রিটিশ বিধি মুক্তিযুদ্ধের সংবিধানে আত্মীকৃত হয়। একজন উপজেলা চেয়ারম্যান জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন কিংবা ডিসি আমলাতান্ত্রিক বিধানে নিযুক্ত হন; তারা একই একেকজন জমিদারে পরিণত হন। তারা দাবি করেন, জনগণ তাদের স্যার বলুক। বাংলাদেশ ভিআইপিতান্ত্রিকই থেকে যায়। কিছুদিন আগে সুপ্রিমকোর্ট একটি বক্তব্যে বলেছিলেন, আমরা এমন একটি পঙ্গু সমাজে বসবাস করছি যেখানে ভাল মানুষ স্বপ্ন দেখতে পারছে না, রাজনীতি বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে,... আমাদের পূর্বপুরুষরা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন, কোনো ক্ষমতার দৈত্য নয়।

সংবিধানের ৭(ক) অনুসারে জনগণ রাষ্ট্রের মালিক বটে, তবে যখন সেই মালিকানা সংবিধানের অধিন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হয়, তখন সংবিধানই বলে, সেই মালিকানা একচ্ছত্রভাবে ভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। আর প্রচলিত আইন অনুসারে জেলা, উপজেলার শীর্ষ কর্তারা একেকজন ছোট প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ভোগ করেন। ডিসি সম্মেলনগুলোয় বছর বছর যে দাবিগুলো উঠে, এ তারই প্রতিফলন। আলিশান বাড়ি ও গাড়ির দাবি যে ক্যাডাররা দাবি করেন, সেটাও। চাকরির ট্রেনিংগুলোতেও তাই শেখানো হয়, তারা বিশেষ কিছু। এই জন্যই আমলারা জনপ্রতিনিধিদের ঠাট্টা করে বলেন, তাদের ক্ষমতা পাঁচ বছরের নয়। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পরেই কেবল এটা আলোচনায় এল।

আইন প্রণয়নে সংসদের একচ্ছত্র ক্ষমতা আছে বলে মনে করি। অথচ ১৫২ অনুচ্ছেদে আইন অর্থ কোনো আইন, অধ্যাদেশ, আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন, বিজ্ঞপ্তি ও অন্যান্য আইনগত দলিল এবং বাংলাদেশের আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন যেকোনো প্রথা বা রীতি। মানে ডিসি, সচিবদের সেইসব আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন আর বিজ্ঞপ্তিও আইন। এইভাবে সংসদ ছাড়াও আইন তৈরি হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশের অধিকাংশ আইন এইভাবে তৈরি হয়। তাই একজন ইউএনও কিংবা পুলিশ সুপার চুলের ছাঁট বা গণঅধিকার সংকুচিত করতে পারেন আইন শৃঙ্খলার দোহাই দিয়ে। পুলিশ সন্দেহের বশবর্তী হয়ে কিংবা সরল বিশ্বাসে গুলি করে মেরে ফেলতে পারে। আমলাদের বেলায় সরল বিশ্বাস দুর্নীতি নয়। কিংবা বিভাগীয় মামলার নামে সামরিক আদালতের মতো আলাদা আদালতি কর্ম সারতে পারেন। যা বাংলাদেশের কোনো আদালতে আপিল করা যাবে না।-এইভাবে ভিআইপিতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠিত হয়েছে। অথচ আমাদের মুক্তিযুদ্ধ হয়ে সাম্য, মৈত্রী আর স্বাধীনতাকে লক্ষ্য ধরে। অথচ বাংলাদেশ কাঁতড়াচ্ছে ফেরি ঘাটে।

১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন ও ১৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট অ্যাক্ট এর অধীনে ভারত-পাকিস্তান নামে স্বাধীন ডোমিনিয়নে বিভক্ত হয়। মানে বৃটিশদের প্রণীত সংবিধানের অধিনে দুটি দেশ স্বাধীনতার পথে যাত্রা শুরু করে। আর মুক্তিযুদ্ধের দামে কেনা বাংলাদেশও এক বছরের মাথায় একই পথে যাত্রা করে। ফলে ভিআইপিতন্ত্রের কবল থেকে বাংলাদেশের মুক্তি ঘটে না।

লেখক: রেল-নৌ, যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সভাপতি।

আবদুল মোনেম: এক মহান কর্মবীরের প্রতিকৃতি

আবদুল মোনেম: এক মহান কর্মবীরের প্রতিকৃতি
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

#ও বন্ধু আমার 🌷 জনাব আবদুল মোনেম। দেশের প্রথম প্রজন্মের ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব। সড়ক, ব্রিজ ও কালভার্ট অবকাঠামো, যা আজকের বাংলাদেশে আমরা দেখি, এসবের সিংহভাগেরই নির্মাতা আবদুল মোনেম লিমিটেড তথা জনাব মোনেম। যৌবনের স্বর্ণালী সময়সহ তাঁর জীবনের প্রায় পুরোটাই তিনি অমানুষিক পরিশ্রম করেছেন প্রিয় মাতৃভূমির বৃহৎ সব নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে। দেশি বিদেশি সব কন্ট্রাক্টররা যে প্রকল্প তাদের পক্ষে করা অসম্ভব বলেছে, আবদুল মোনেম সাহেব সে চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন হাসি মুখে। প্রাণান্ত চেষ্টা আর অধ্যাবসায় দিয়ে অসম্ভব সেসব প্রকল্পকে দেখিয়েছেন সাফল্যের মুখ। সমাজ সংসার আত্মীয় পরিজন সব ছেড়ে ছুঁড়ে প্রকল্প এলাকায় কাটিয়েছেন মাসের পর মাস। গলা পর্যন্ত কাদা পানিতে নেমে শ্রমিকদের দেখিয়েছেন কাজের দিশা! তাঁর কোম্পানির প্রকৌশলীরা অবাক বিস্ময়ে দেখেছেন কিভাবে একজন কর্মবীর আবদুল মোনেম বাস্তবায়ন করে চলেছেন উন্নয়নের পথরেখা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566051707738.gif
গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে আবদুল মোনেমের (ডানে) সঙ্গে লেখক/ সংগৃহীত


ব্যবসায়ের লাভ লোকসানকে কখনোই গুরুত্ব দেননি জনাব মোনেম। দেশমাতৃকার উন্নতি সবসময় তাঁর কাছে মুখ্য হয়ে থেকেছে। যে কারণে মুনাফাখোর ব্যবসাদাররা যেখানে মানুষের অশ্রদ্ধার পাত্র হন, জনাব মোনেম সেখানে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বের আসনে। দিন গেছে, ব্যবসা ডাইভার্সিফাই হয়েছে। বিশ্বখ্যাত কোমল পানীয় কোকাকোলা বা ইগলু’র মতো দুনিয়া জোড়া সুনামের আইসক্রিম ব্র্যান্ড সমৃদ্ধ আবদুল মোনেম লি. এখন পরিণত হয়েছে আবদুল মোনেম গ্রুপে। কয়েক কোটি টাকার টার্নওভারের সেদিনের কোম্পানি এখন হাজার কোটি টাকার কনগ্লোমারেট! কোক ইগলু ছাড়াও বিশ্বের বেশকিছু নামকরা ব্র্যান্ড এখন মোনেম গ্রুপের সঙ্গে পার্টনার। তাই বলে মোনেম ভাই পরিবর্তিত হননি এতটুকু। সেই শুরুতে যেমন নিরহংকারী, দানশীল ও ডাউন টু আর্থ ছিলেন, আজও তেমনই আছেন!

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566051780819.gif

দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে জনাব মোনেমের সঙ্গে আমার ও আমার পরিবারের সম্পর্ক। দেশ বিদেশের অনেক স্টেশন আমরা একসঙ্গে সফর করেছি, একত্রে থেকেছি। সুযোগ হয়েছে পরস্পরকে জানার ও কাছে আসার। আজ জীবন সায়াহ্নে এসে পৌঁছেছেন জনাব আবদুল মোনেম। আমাদের স্বার্থহীন মানবিক সম্পর্ক আজও দ্যুতিময় প্রথম দিনের ঔজ্জ্বল্যেই! এতটা পথ আমরা পাড়ি দিয়ে এসেছি, কিন্তু স্বার্থের কোনো সংঘাত না থাকায় আমাদের পারিবারিক সম্পর্কে মালিন্য সামান্য মরিচা ধরাতে পারেনি, আলহামদুলিল্লাহ!
পবিত্র ঈদ আল-আদহা’র সালাত আদায়ে গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে আমাদের এই হিরণ্ময় সাক্ষাৎ। আল্লাহ সুবহানআহু ওয়াতা’আলা উন্নয়ন ব্যক্তিত্ব আমার প্রিয়-শ্রদ্ধেয় মোনেম ভাইকে সুস্থ ও নেক আমলময় হায়াতে তাইয়েবা দান করুন, আমীন...

লেখক: জাতীয় মিডিয়া ব্যক্তিত্ব

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র