Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

English

এরশাদ বললেন, তিনিতো অসুস্থ, সিএমএইচের বেডে শুয়ে আছেন

এরশাদ বললেন, তিনিতো অসুস্থ, সিএমএইচের বেডে শুয়ে আছেন
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, ছবি: সংগৃহীত
এরশাদুল আলম প্রিন্স


  • Font increase
  • Font Decrease

১৯৮৩ সালের ডিসেম্বর মাসে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হন। স্বাধীনতার পরবর্তী এক দশক বাংলাদেশের রাজনীতি অনেক উত্থান পতনের মধ্য দিয়ে গেছে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে আমাদের রাজনীতিতে হত্যা, ক্যু, ষড়যন্ত্রের রাজনীতির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। কিন্তু এ হত্যা, ক্যু আর ষড়যন্ত্র সেখানেই থেমে থাকেনি। রাষ্ট্রপতি জিয়াকেও একই ভাগ্য বরণ করতে হয়েছে। বিরাজনীতিকরণ অথবা রাজনীতিতে অরাজনৈতিক শক্তির অনুপ্রবেশের সেই ধারাবাহিকতাতেই আনুষ্ঠানিক রাজনীতিতে এরশাদের উত্থান।

এরশাদ প্রায়ই বলতেন যে তিনি রক্তাক্ত পথে ক্ষমতায় আসেননি। এ নিয়ে তার এক ধরনের অহংবোধ ছিল। ইতিহাস পাঠে তার এ দাবিকে পুরোপুরি অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু পুরোপুরি স্বীকার করে নেওয়াও কঠিন। কারণ, জিয়া ও মঞ্জুর হত্যা কাণ্ডের পেছনের মূল কুশীলব অন্য কেউ ছিল কিনা, সেটি নির্ণয় না হওয়া পর্যন্ত এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না।

তবে, আপাত দৃষ্টিতে মনে হয়, তিনি রক্তপাতহীন পথেই ক্ষমতায় এসেছেন। এক্ষেত্রে বলে রাখা ভালো, সব সামরিক শাসকরাই দাবি করেন যে তারা বাধ্য হয়েই রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিয়েছেন। এরশাদও সে দাবি করেছেন। যদি ধরেও নিই যে তিনি রক্তাক্ত পথে ক্ষমতায় আসেননি, তারপরও তিনি যে জোর জবরদস্তির পথে ক্ষমতায় এসেছেন এ নিয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। যদি তিনি তার লেখা ‘আমার কর্ম আমার জীবন’ বইয়ের ভূমিকাংশে তার ক্ষমতা গ্রহণের বিষয়টি সচেতনভাবেই এড়িয়ে গিয়েছেন।

এরশাদ বললেন, তিনিতো অসুস্থ, সিএমএইচের বেডে শুয়ে আছেন
রাষ্ট্রপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম (মাঝখানে), তৎকালীন উপ-সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ(বামে), ছবি: সংগৃহীত

কিন্তু বিভিন্ন লেখকদের বর্ণনা থেকে জানা যায়, জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পরে তিনি নিছক বাধ্য হয়েই ক্ষমতায় আসেননি। বরং এ সুযোগটি তিনি কাজে লাগিয়েছেন এবং সে জন্য যা যা করার তা তিনি করেছেন। এ বর্ণনায় পাওয়া যায়, 'জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পরে তিনি তৎকালীন চিফ অফ জেনারেল স্টাফ জেনারেল নূরুদ্দিনকে বললেন, এখন করণীয় কী? সিজিএস একটু ভেবে উত্তর দিলেন সংবিধান অনুযায়ী ভাইস প্রেসিডেন্ট (আবদুস সাত্তার) এ সময় দেশের শাসনভার গ্রহণ করবেন। কিন্তু এমন জবাবের জন্য এরশাদ প্রস্তুত ছিলেন না। এরশাদ বললেন, কিন্তু তিনিতো অসুস্থ, সিএমএইচ বেডে শুয়ে আছেন। পরে তিনি তৎকালীন সংস্থাপন সচিব কেরামত আলীকে ডেকে পাঠালেন। তিনিও একই মতামত দিলেন। পরে এরশাদ কেরামত আলীকে নিয়ে সিএমএইচ-এ যান। সেদিন এম্বুলেন্সে করেই অসুস্থ সাত্তারকে বঙ্গভবনে নিয়ে আসেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট সাত্তারের দেশবাসীর উদ্দেশে একটি ভাষণ রেকর্ড করে পাঠিয়ে দেয়া হলো রেডিও ও টেলিভিশনে প্রচারের জন্য'। এর পরের ঘটনাপ্রবাহ এরশাদই নিয়ন্ত্রণ করেছেন। তিনি 'অপারেশন নিয়ন্ত্রণ কক্ষ'র মাধ্যমেই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে থাকেন।

১৯৮২ সালের ২৪ এপ্রিল এরশাদ রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তারকে সরিয়ে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হন। এর তিনদিন পরে তিনি বিচারপতি এএফএম আহসান উদ্দিন চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি করেন এবং যথারীতি সংবিধান স্থগিত করেন। পরে ১৯৮৩ সালের ১১ ডিসেম্বর তাকেও সরিয়ে দিয়ে তিনি নিজেই রাষ্ট্রপতি হন। এর আগে সেনাপ্রধান থাকাকালেই তিনি নিজের ক্ষমতাকে নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দল গঠন করেন। এর পরের ইতিহাস সবারই জানা। রাজনীতিতে অধিষ্ঠিত হতে থাকেন এরশাদ। হয়ে ওঠেন শাসক।

সাবেক রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তার/ছবি: সংগৃহীত
সাবেক রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তার, ছবি: সংগৃহীত

কিন্তু ক্ষমতা চিরদিনের নয়। আজ আছে, কাল নেই। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে ২৬টিরও বেশি মামলা হয়েছে। কিন্তু আফসোস, খুব কম মামলারই তদন্ত ও বিচার হয়েছে। এটি আমাদের রাজনৈতিক দেওলিয়াত্ব। ২৬ মামলার মধ্যে দুটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন ও বাকি মামলায় খালাস পান এরশাদ। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই সরকারের আমলেই এ মামলাগুলো থেকে তিনি রেহাই পান। কিন্তু জেনারেল মঞ্জুর হত্যা মামলা ও একটি দুর্নীতির মামলা আজও চলমান। এরশাদ চলে গেছেন, জানি এ মামলাগুলোও হারিয়েছে তার রাজনৈতিক গুরুত্ব।

ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বিএনপির প্রথম মেয়াদে এরশাদ পুরো সময়টিই কারাগারে কাটিয়েছেন। যে মামলার জন্য তিনি কারাগারে ছিলেন সে মামলার কোনো অগ্রগতি হয়নি। ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮ সালেও মামলার তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। এভাবেই সবকিছু অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যায়। হয়তো একদিন এরশাদও অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাবেন। ইতিহাস কাউকে মনে রাখে না। যে ইতিহাস নির্মাণ করে ইতিহাস শুধু তাকেই মনে রাখে। এরশাদ ইতিহাস নির্মাণ করেছেন কিনা সে প্রশ্নও ইতিহাসের কাছেই থাক।

আমরা আম মানুষ শুধু জানি, সবাইকেই যেতে হয় আজ অথবা কাল। সেদিন এই সিএমএইচ বেডে শুয়ে ছিলেন অসুস্থ আবদুস সাত্তার। তার কাছে ক্ষমতা ছিল না, ক্ষমতা ছিল এরশাদের। ক্ষমতার পালাবদলে সেই সিএমএইচ-এই এরশাদকে যেতে হয়েছে কতবার- কারণে অকারণে। শেষবারের মতো সেখান থেকেই তার মহাযাত্রা। সে যাত্রায় তিনি শুধুই একা। যেমন গিয়েছে সবাই। পেছনে পড়ে থাকে শুধু ইতিহাস।

আপনার মতামত লিখুন :

ভিআইপিতান্ত্রিক বাংলাদেশ

ভিআইপিতান্ত্রিক বাংলাদেশ
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বাংলাদেশ ফেরি ঘাটে আটকে আছে যেন বাপ্পি হয়ে। ভিআইপির ভারে ন্যুব্জ মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ। সংবিধানের ব্যাখ্যাদাতা হাইকোর্ট জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আর কেউ ভিআইপি নন।

ইউরোপ নিজ দেশে গণতান্ত্রিক আইন চালু করলেও উপনিবেশ-আধা উপনিবেশ ও পরাধীন অঞ্চলগুলোতে জমিদারি বা ভিআইপি কানুন বহাল রেখেছে। ১৭৭৩ সালের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইন, ১৮৬০ সালের পেনাল কোড, ১৮৬১ সালের পুলিশ অ্যাক্ট, ১৮৭২ সালের এভিডেন্স অ্যাক্ট, ১৮৭৮ সালের আর্মস অ্যাক্ট, ১৮৯৮ ক্রিমিন্যাল প্রসিডিউর অ্যাক্ট, ১৯০৮ সালের সিভিল প্রসিডিউর কোডসহ ১৯১০ সালের মধ্যে পরাধীন ভারতের আইনগত কাঠামো নির্মাণ মোটামুটি শেষ হয়। এরই মধ্যে এই অঞ্চলের লড়াই ও রাজনীতির নিজস্ব পথ শেষ করা সম্ভব হয়। এর ফলে কথিত ভিআইপি সংস্কৃতির আইনগত ভিত্তি তৈরি হয়। ফলে ট্রেন-বাস-হাসপাতাল থেকে শুরু করে সর্বত্র এটি চালু হয়।

আজকের বাংলাদেশ সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদের 'প্রচলিত আইন' ও 'আইন' এর সংজ্ঞা অনুসারে এই ব্রিটিশ বিধি মুক্তিযুদ্ধের সংবিধানে আত্মীকৃত হয়। একজন উপজেলা চেয়ারম্যান জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন কিংবা ডিসি আমলাতান্ত্রিক বিধানে নিযুক্ত হন; তারা একই একেকজন জমিদারে পরিণত হন। তারা দাবি করেন, জনগণ তাদের স্যার বলুক। বাংলাদেশ ভিআইপিতান্ত্রিকই থেকে যায়। কিছুদিন আগে সুপ্রিমকোর্ট একটি বক্তব্যে বলেছিলেন, আমরা এমন একটি পঙ্গু সমাজে বসবাস করছি যেখানে ভাল মানুষ স্বপ্ন দেখতে পারছে না, রাজনীতি বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে,... আমাদের পূর্বপুরুষরা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন, কোনো ক্ষমতার দৈত্য নয়।

সংবিধানের ৭(ক) অনুসারে জনগণ রাষ্ট্রের মালিক বটে, তবে যখন সেই মালিকানা সংবিধানের অধিন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হয়, তখন সংবিধানই বলে, সেই মালিকানা একচ্ছত্রভাবে ভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। আর প্রচলিত আইন অনুসারে জেলা, উপজেলার শীর্ষ কর্তারা একেকজন ছোট প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ভোগ করেন। ডিসি সম্মেলনগুলোয় বছর বছর যে দাবিগুলো উঠে, এ তারই প্রতিফলন। আলিশান বাড়ি ও গাড়ির দাবি যে ক্যাডাররা দাবি করেন, সেটাও। চাকরির ট্রেনিংগুলোতেও তাই শেখানো হয়, তারা বিশেষ কিছু। এই জন্যই আমলারা জনপ্রতিনিধিদের ঠাট্টা করে বলেন, তাদের ক্ষমতা পাঁচ বছরের নয়। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পরেই কেবল এটা আলোচনায় এল।

আইন প্রণয়নে সংসদের একচ্ছত্র ক্ষমতা আছে বলে মনে করি। অথচ ১৫২ অনুচ্ছেদে আইন অর্থ কোনো আইন, অধ্যাদেশ, আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন, বিজ্ঞপ্তি ও অন্যান্য আইনগত দলিল এবং বাংলাদেশের আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন যেকোনো প্রথা বা রীতি। মানে ডিসি, সচিবদের সেইসব আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন আর বিজ্ঞপ্তিও আইন। এইভাবে সংসদ ছাড়াও আইন তৈরি হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশের অধিকাংশ আইন এইভাবে তৈরি হয়। তাই একজন ইউএনও কিংবা পুলিশ সুপার চুলের ছাঁট বা গণঅধিকার সংকুচিত করতে পারেন আইন শৃঙ্খলার দোহাই দিয়ে। পুলিশ সন্দেহের বশবর্তী হয়ে কিংবা সরল বিশ্বাসে গুলি করে মেরে ফেলতে পারে। আমলাদের বেলায় সরল বিশ্বাস দুর্নীতি নয়। কিংবা বিভাগীয় মামলার নামে সামরিক আদালতের মতো আলাদা আদালতি কর্ম সারতে পারেন। যা বাংলাদেশের কোনো আদালতে আপিল করা যাবে না।-এইভাবে ভিআইপিতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠিত হয়েছে। অথচ আমাদের মুক্তিযুদ্ধ হয়ে সাম্য, মৈত্রী আর স্বাধীনতাকে লক্ষ্য ধরে। অথচ বাংলাদেশ কাঁতড়াচ্ছে ফেরি ঘাটে।

১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন ও ১৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট অ্যাক্ট এর অধীনে ভারত-পাকিস্তান নামে স্বাধীন ডোমিনিয়নে বিভক্ত হয়। মানে বৃটিশদের প্রণীত সংবিধানের অধিনে দুটি দেশ স্বাধীনতার পথে যাত্রা শুরু করে। আর মুক্তিযুদ্ধের দামে কেনা বাংলাদেশও এক বছরের মাথায় একই পথে যাত্রা করে। ফলে ভিআইপিতন্ত্রের কবল থেকে বাংলাদেশের মুক্তি ঘটে না।

লেখক: রেল-নৌ, যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সভাপতি।

আবদুল মোনেম: এক মহান কর্মবীরের প্রতিকৃতি

আবদুল মোনেম: এক মহান কর্মবীরের প্রতিকৃতি
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

#ও বন্ধু আমার 🌷 জনাব আবদুল মোনেম। দেশের প্রথম প্রজন্মের ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব। সড়ক, ব্রিজ ও কালভার্ট অবকাঠামো, যা আজকের বাংলাদেশে আমরা দেখি, এসবের সিংহভাগেরই নির্মাতা আবদুল মোনেম লিমিটেড তথা জনাব মোনেম। যৌবনের স্বর্ণালী সময়সহ তাঁর জীবনের প্রায় পুরোটাই তিনি অমানুষিক পরিশ্রম করেছেন প্রিয় মাতৃভূমির বৃহৎ সব নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে। দেশি বিদেশি সব কন্ট্রাক্টররা যে প্রকল্প তাদের পক্ষে করা অসম্ভব বলেছে, আবদুল মোনেম সাহেব সে চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন হাসি মুখে। প্রাণান্ত চেষ্টা আর অধ্যাবসায় দিয়ে অসম্ভব সেসব প্রকল্পকে দেখিয়েছেন সাফল্যের মুখ। সমাজ সংসার আত্মীয় পরিজন সব ছেড়ে ছুঁড়ে প্রকল্প এলাকায় কাটিয়েছেন মাসের পর মাস। গলা পর্যন্ত কাদা পানিতে নেমে শ্রমিকদের দেখিয়েছেন কাজের দিশা! তাঁর কোম্পানির প্রকৌশলীরা অবাক বিস্ময়ে দেখেছেন কিভাবে একজন কর্মবীর আবদুল মোনেম বাস্তবায়ন করে চলেছেন উন্নয়নের পথরেখা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566051707738.gif
গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে আবদুল মোনেমের (ডানে) সঙ্গে লেখক/ সংগৃহীত


ব্যবসায়ের লাভ লোকসানকে কখনোই গুরুত্ব দেননি জনাব মোনেম। দেশমাতৃকার উন্নতি সবসময় তাঁর কাছে মুখ্য হয়ে থেকেছে। যে কারণে মুনাফাখোর ব্যবসাদাররা যেখানে মানুষের অশ্রদ্ধার পাত্র হন, জনাব মোনেম সেখানে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বের আসনে। দিন গেছে, ব্যবসা ডাইভার্সিফাই হয়েছে। বিশ্বখ্যাত কোমল পানীয় কোকাকোলা বা ইগলু’র মতো দুনিয়া জোড়া সুনামের আইসক্রিম ব্র্যান্ড সমৃদ্ধ আবদুল মোনেম লি. এখন পরিণত হয়েছে আবদুল মোনেম গ্রুপে। কয়েক কোটি টাকার টার্নওভারের সেদিনের কোম্পানি এখন হাজার কোটি টাকার কনগ্লোমারেট! কোক ইগলু ছাড়াও বিশ্বের বেশকিছু নামকরা ব্র্যান্ড এখন মোনেম গ্রুপের সঙ্গে পার্টনার। তাই বলে মোনেম ভাই পরিবর্তিত হননি এতটুকু। সেই শুরুতে যেমন নিরহংকারী, দানশীল ও ডাউন টু আর্থ ছিলেন, আজও তেমনই আছেন!

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566051780819.gif

দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে জনাব মোনেমের সঙ্গে আমার ও আমার পরিবারের সম্পর্ক। দেশ বিদেশের অনেক স্টেশন আমরা একসঙ্গে সফর করেছি, একত্রে থেকেছি। সুযোগ হয়েছে পরস্পরকে জানার ও কাছে আসার। আজ জীবন সায়াহ্নে এসে পৌঁছেছেন জনাব আবদুল মোনেম। আমাদের স্বার্থহীন মানবিক সম্পর্ক আজও দ্যুতিময় প্রথম দিনের ঔজ্জ্বল্যেই! এতটা পথ আমরা পাড়ি দিয়ে এসেছি, কিন্তু স্বার্থের কোনো সংঘাত না থাকায় আমাদের পারিবারিক সম্পর্কে মালিন্য সামান্য মরিচা ধরাতে পারেনি, আলহামদুলিল্লাহ!
পবিত্র ঈদ আল-আদহা’র সালাত আদায়ে গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে আমাদের এই হিরণ্ময় সাক্ষাৎ। আল্লাহ সুবহানআহু ওয়াতা’আলা উন্নয়ন ব্যক্তিত্ব আমার প্রিয়-শ্রদ্ধেয় মোনেম ভাইকে সুস্থ ও নেক আমলময় হায়াতে তাইয়েবা দান করুন, আমীন...

লেখক: জাতীয় মিডিয়া ব্যক্তিত্ব

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র