যে দিয়ে ফকির হয়েছে মানুষ তাকে স্মরণ রাখে

রাকিবুল ইসলাম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ, ছবি: সংগৃহীত

অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সম্প্রতি রাজধানীর একটি হোটেলে ‘শিল্পীর সঙ্গে শিল্পীর পাশে’ নামক একটি অনুষ্ঠানে-যে দিয়ে ফকির হয়েছে মানুষ তাকে স্মরণ রাখে-এমন মন্তব্য করেছেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ।

বক্তব্যটি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-এর পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো:

‘আমি একটা উদাহরণ দিয়ে শুরু করি। একটা চারকোণা কাঠের খাম এইটা দেখতে বেশি সুন্দর নাকি একটা গাছ দেখতে বেশি সুন্দর। আমরা নিশ্চয় বলব যে গাছটা দেখতে বেশি সুন্দর। কারণ গাছের গোলাকার বৃত্তের মতো একটা চেহারা আছে এবং গাছের পাতাগুলো স্ট্রেইট লাইনে চলে না। গাছের পাতাগুলোর মধ্যেও একটা ভঙ্গিমা আছে। অনেক পাতা আছে যেখানে সবুজের ছোঁয়া আছে। সবকিছু মিলে একটা গাছের দিকে যখনি আমরা তাকাই আমরা খুব ইমোশনাল হয়ে যাই।”


“কারণ-ঐ যে একটা কথা আছে- ‘ওরে হাইলা লোকের লাঙ্গল বাঁকা, জনম বাঁকা চাঁন, তার চেয়েও অধিক বাঁকা, যারে দিছি প্রাণ...’ তো এভাবেই বলতে চাচ্ছিলাম যে বাঁকার মধ্যে একটা ইমোশনাল ব্যাপার আছে যেটা সরলরেখার মধ্যে নেই। সরলরেখা আমাদের বুদ্ধির কাজটা করে। পৃথিবীতে চৌকশ মানুষেরা তাদের জীবদ্দশায় একটু সরলরেখায় চলে। কিন্তু আবেগ প্রবণ মানুষেরা একটু বাঁকা হয়ে চলে। বাঁকা সবসময় আমাদের ইমোশন জাগায়।”


‘এই, যেমন ধরেন আমরা চাঁদ দেখি, ভালো লাগে কারণ চাঁদ বাঁকা। আমাদের একটা গোলাপ ফুল দেখলে ভালো লাগে কারণ এর সমস্ত পাপড়ির মধ্যে একটা বাঁকা ব্যাপার আছে। পৃথিবীতে যে কোনো জিনিসের যেমন আকাশটা যদি গোল না হয়ে চারকোণা হতো আমার মনে হয় আকাশের প্রতিও আমাদের এই আকুতিটা থাকতো না। তো পৃথিবীতে মানুষেরাও এমন কেউ কিছুটা কার্প হয়ে জন্মায় কেউ স্ট্রেইট লাইন নিয়ে জন্মায়। কেউ কিছুটা বাঁকা কেউ কিছুটা সরলরেখায়। সরলরেখা আমাদের বুদ্ধির কাজ করে কিন্তু বাঁকা আমাদের হৃদয়কে জাগায়। জগতে যতো চৌকশ মানুষ তাদের মধ্যে দেখবেন একটা স্ট্রেইট ব্যাপার আছে। তারা সবকিছু পেলে সুস্থিরভাবে চিন্তা করে। সামনে কি হবে সেটা নিয়ে ভাবে। অগ্র পশ্চাৎ বিবেচনা করে। বৈষয়িকভাবে চিন্তা করে এবং জীবনের কর্ম পদ্ধতি স্থির করে। কিন্তু যারা ইমোশনাল, আবেগ প্রবণ মানুষ এই শিল্পীরা কিন্তু একটু অন্য ধরণের মানুষ। এরা আবেগে উৎসাহিত হয়ে জীবনে অনেক কিছুকেই তোয়াক্কা করতে চায় না। ”


“একবার, বাদল ঘোষ নামের একজন ব্যক্তি ছিলেন । এখানে তার একটা ইন্ডাস্ট্রি টিন্ডাস্ট্রি ছিল । উনি এখন আর নেই। তো তিনি আমাদের বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে খুব যাতায়াত করতেন। তো আমি বাদল ঘোষ কে ফোন করলাম। যেহেতু তার সাথে আমার পরিচয় ছিল। তাকে বললাম যে আমাদের তো খুব টাকার দরকার হচ্ছে। টাকা পাওয়া যায় কোথায়। আমি বললাম যে আপনি কি একজন মালদার এবং দিলদার লোক জোগাড় করে দিতে পারবেন। তিনি ওদিক থেকে টেলিফোনে অট্টহাসি করে উঠলেন। উনি বললেন যে ভাইরে মাল থাকলে তো দিল থাকে না। আর দিল থাকলে মাল হয় না। তো আমিতো কথাটা শোনার পর খুবই শঙ্কিত হই। তবে আমি তাকে একটু সংশোধন করলাম। আমি বললাম যে মাল থাকলে দিল থাকেনা এটা হয়তো অতোটা সত্য নাও হতে পারে। কারণ অনেক মানুষকে দেখা গেছে যে অনেক মাল থাকার পরও দিল থাকার কারণে সেই মালকে ছেড়ে দিয়েছে। যেমন আমাদের বিল গেটস্ ছেড়ে দিয়েছে, হেনরি পোর্ট ছেড়ে দিয়েছে, আমাদের রণদা প্রসাদ সাহা (আর পি সাহা) ছেড়ে দিয়েছেন আরও অনেক মালদার মানুষ আছেন যারা হয়তো দিলের কারণে মালকে ছেড়ে দিয়েছেন।”

“পৃথিবীতে স্মরণীয় হয় কোন মানুষটা যে মানুষটা মাল অর্জন করার পরে সে মাল দিয়ে দিতে পারে। দুনিয়াতে বড়লোক হাজার হাজার কোটি রয়েছে। কাকে আমরা মনে রেখেছি। কাউকে তো মনে রাখি না কিন্তু আমরা হাজী মুহম্মদ মুহসিনকে মনে রেখেছি। তার এক কোটি চল্লিশ লাখ টাকা ছিল এবং উনি ১ কোটি ৪০ লাখ টাকাই দিয়ে দিয়েছেন। সুতরাং আমি সারা পৃথিবীর পকেট থেকে হাতিয়ে আমার পকেট ভরলাম আর পৃথিবী আমাকে সালাম করতে শুরু করলো এবং স্মরণ রাখলো না। মানুষ তাকেই স্মরণ করে যে থাকার পরও দিয়ে ফকির হয়ে গেছে অর্থাৎ যে নিয়েছে সে না। যে দিয়ে ফকির হয়েছে মানুষ তাকে স্মরণ রাখে। তাই এ কথাটা বললাম যে দিল থাকে কিন্তু মালের আসল ব্যবহার হয় না। যদি হয় তাহলে বুঝতে হবে যে তার দিলে অবশ্যই দিল আছে। খুবই বিরল ঘটনা সেটা যে দিল আছে আবার মালও হচ্ছে।”


“এখন আমাদের এইযে শিল্পী সমাজ। এই যে এক ধরণের চাঁদের পাওয়ার। প্রতিভার আগুনে জ্বলতে থাকা এক ধরণের মানুষ। কিছুটা বোকা মানুষ। অতো সব বোঝে না। এই ঘর থেকে ঐ ঘরে যেতে হলে দরজার সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এ রকম মানুষ আছে। সব জায়গায় ঠকে, সব জায়গায় বোকা হয় কিন্তু হারমোনিয়ামটা নিয়ে যখন বসে তখন তাকে রাজা মনে হয়। এই রকম মানুষতো আমরা অনেক দেখেছি।”


“এইযে রাস্তাঘাটে ঘুরে বেড়াচ্ছে কিছুই না। কিন্তু মঞ্চে যখন গিয়ে ওঠে। যেমন আলী যাকেরকে একটা কথা বলেছি যে, ওর একটা অভিনয় ‘গ্যালিলিও’ একেবারে জ্যোর্তিময় দৃশ্য। যেমন তৃপ্তি মিত্রের অভিনয়, শম্ভু মিত্রের অভিনয় এ রকম আরো অনেকের অভিনয়। যখন আমরা অভিনয়ের মধ্যে তাকে দেখছি তখন সে শুধু রাজা না , সে সম্রাট। আবার অভিনয় থেকে যেই বেড়িয়ে যাচ্ছে তাকে তখন দেখছি উইংসের ওপারে বসে সিগারেট খেতে। ‘সম্রাট শাজাহান’ একটু আগেই সম্রাট শাজাহানের ভূমিকায় অভিনয় করেছে যে। শিল্পীরা এক ধরণের ইমোশনাল ও আবেগতাড়িত মানুষ। এরা বৈষয়িক মানুষ। প্রতিভার জ্বলন্ত শিখার ওপরে পতঙ্গের মতো এরা ঝাঁপিয়ে পরে এবং জীবনকে ছাই করে দিয়ে যায়। ”

“এই যে সেই হাফিজের গল্পটা আছে। তার যে সেই প্রিয়ার গালের কালো তিলের জন্য সমরকান্দ দিয়ে দিতে পারে। অসাধারণ সেই কবিতা। উনি তার সেই যুগে সমস্ত মধ্যপ্রাচ্যে এবং সেন্ট্রাল এশিয়াতে সেই কবিতা সবার মুখে মুখে ছিল। তখন তৈমুর লং এর যুগ। তৈমুর পারস্য আক্রমণ করলো। সিরাজ শহরে থাকতেন তখন হাফিজ। তিনি সিরাজ অধিকার করলেন। একটা বিদ্রোহ হলো। তিনি সেই বিদ্রোহ দমন করলেন। সিরাজে যারা যারা বিদ্রোহের সঙ্গে যুক্ত ছিল তাদের কাঁটা মাথা দিয়ে পিরামিড বানালেন অনেকগুলো। তারপরে তিনি কবি হাফিজকে ডেকে পাঠালেন। হাফিজ কোথায় আছে তাকে ডাকো। তখন হাফিজ তার সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। খুব সাধারণ পোষাক। তিনি তো সুফী। খুবই অনাড়ম্বর পোষাকে গিয়ে দাঁড়ালেন। তখন তৈমুর লং তাকে জিজ্ঞাসা করলেন এই কবিতা কি আপনার লেখা। উনি বলরেন জ্বী আমার। তা আপনি তো বলেছেন যে আপনার প্রিয়ার গালের কালো তিলের জন্য আপনি সমরকান্দ এবং বুখারা দিয়ে দিতে পারেন। তিনি বললেন, জ্বী হুজুর এটাই তো আমি লিখেছি। তখন উনি বললেন আপনি কি জানেন সমরকান্দ বুখারা কার? সমরকান্দ বুখারা আপনার নয় আমার। এবং এই সমরকান্দ বুখারার জন্য কতো আগুন, কতো আর্তনাদ, কতো মৃত্যু! আপনি কি সেটা জানেন। আপনি সেই প্রিয়ার গালের কালো তিলের জন্য সমরকান্দ বুখারা দিয়ে দিলেন! তো হাফিজ এবার কি উত্তর দেবে! তবে সে তো কবি। কবিদের অতো বিষয়বুদ্ধি থাকুক আর নাই থাকুক বুদ্ধি কম থাকে না। তখন উনি টের পেয়েছিলেন যে, সম্রাটের সামনে দামি কাপড় পরে কুর্নিশ করতে করতে না ঢোকার অন্যায়। আবার সমরকান্দ নিয়ে লেখায় সম্রাট ক্ষিপ্ত হয়েছেন। তখন ঐ অবস্থায় তৈমুর আবার বলে উঠলেন যেই সমরকান্দ এর জন্য এতো কিছু সেই সমরকান্দ আপনি প্রিয়ার গালের কালো তিলের জন্য দিয়ে দিলেন। সমরকান্দ তখন তৈমুর লং এর রাজধানী। তো তখন উনি উত্তর দিলেন যে, বদান্যতা করতে করতেই তো এই অবস্থা। তখন তার গায়ের জামা দেখিয়ে বললো-আপনি চিন্তা করেন যদি ঐ কালো তিলের জন্য শুধু সমরকান্দ বুখারা দিয়ে দিতে পারি তো আমার প্রিয়তমার অন্য সবকিছুর জন্য আমি আর কি কি দিয়ে দিয়েছি। এই জন্যেই এই অবস্থা।”

“তো কবিরা, শিল্পীরা, সংগীত  সাধকেরা, অভিনেতারা একটা অন্য জগতের মানুষ। যখন যৌবন থাকে যখন সৃষ্টি এবং অবদানে একদম ভরে যেতে থাকে সমস্ত কিছু। সমস্ত দেশ তাদের নিয়ে মাতাল থাকে। চিৎকার করতে থাকে। তখন তারা ভুলে যান যে সামনে পতনের যুগ আছে। উত্থান পতনের দিন আছে এবং সেই দিন আসবে। সাধারণ মানুষেরা মেজাজ গরম হলে হাসে কিন্তু কবি হাসতে পারে না। যে কবি মুখ তেতো করে হাসে ও কবি না। এখন ভবিষ্যতে কি হবে। যখন সেই সুন্দর দিন থেকে পতনের দিন আসে। ঝড়া পাতার দিন আসে তখন কে তাকে দেখবে। এটাতো রাষ্ট্রের দায়িত্ব। যখন সৃষ্টি এবং অবদানে সে সারা দেশ ও জাতিকে গৌরবান্বিত করেছে। প্রত্যেকটা মানুষ খুশি হয়েছে। একটা দেশে কতো রকম মানুষ আছে তা আপনি চিন্তা করেন। একটা দেশে উকিল, ব্যারিস্টার, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যবসায়ী কতো রকম মানুষ আছে একটা সমাজে। কিন্তু সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে কাদের মানুষ। এই যে এতো রকম মানুষ আছে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসা কারা পায়। শিল্পীরা, শিল্পীরাই সবচেয়ে প্রিয়। শিল্পদের জন্য একটা পত্রিকায় আলাদা দুইটা পাতা রাখতে হয়। কারণ শিল্পরা মানুষের কাছে সবচেয়ে প্রিয়। তো সেই মানুষদের রক্ষার জন্য বা তারা যদি বৃদ্ধ বয়সে কোনভাবে বিপদগ্রস্থ হয় তখন তাদের দেখার জন্য কে আসবে?”

“আমি একবার এটা নিয়ে একটু লিখেছিলাম। আমি লিখেছিলাম যে, আমাদের শিল্পরা জাতির নায়ক। এক নায়ক যখন তৈরি হবে তখন যখন সামান্য অর্থের জন্য তাকে কি কষ্ট সহ্য করতে হয় তো এখন আমাদের এর একটা বিধান প্রতিবিধান করা উচিতি। সরকারের পক্ষে সবসময় এটা সম্ভব হয় না। কারণ দেখা যায় যে, সরকারের যে তহবিল সে তহবিলে যার কোন অসুখই হয় নাই তিনি হয়তো সবচেয়ে মোটা টাকা নিয়েছেন। যদি এটার জন্য একটা বিশ্বাসযোগ্য সমিতি কমিটির হাতে থাকে তাহলে তা খুব ভালো হতো।”


“আমি একটা ছোট্ট গল্প দিয়ে শেষ করি।গল্পটা ব্রিটিশ আমলের। পুরোনো ঢাকায় এক ভদ্রলোক অনেক রকম জিনিসে দান করেছেন। তো তখন দান করলে তো খেতাব পাওয়া যেতো। যারা বেশি দান করতেন রায় সাহেব, রায় বাহাদুর, খান সাহেব, খান বাহাদুর এসব উপাধী দেয়া হতো। তো এক ভদ্রলোক অনেক কিছুতে টাকা দিয়েছেন কিন্তু এতো কিছুতে টাকা দেয়ার পরও উনি রায় সাহেব উপাধী পর্যন্তই রয়ে গেলেন। রায় বাহাদুর আর হতে পারছেন না। তো তখন উনি এক বন্ধুর সঙ্গে আলাপ করলেন যে, রায় বাহাদুর কি করে হওয়া যায়। তখন বন্ধু তাকে ট্রেনিং দিল এবং বলল যে কারণটা হল সে ইংরেজি বলতে পারে না।তো প্রতি বছর বড় লাট ঢাকায় আসতেন এবং এই রায় সাহেব, রায় বাহাদুর, খান সাহেব, খান বাহাদুরদের নিয়ে মিটিং করতেন। তো সেই মিটিং এর মধ্যে সেই বন্ধুর শিখিয়ে মুখস্ত করিয়ে দেয়া ইংরেজি কথাটা উঠে দাঁড়িয়ে বলার জন্য। তিনি তাই বললেন মুখস্থ। ‘ইওর এক্সিলেন্সি ওয়ান মিনিট মিউনিসিপিলিটি ফিফটি থাউজেন্ট, ওয়াটার ওয়াইটস্ ফরটি থাউজেন্ট, অমুক সিক্সটি থাউজেন্ট, তমুক জায়গাকে থার্টি থাউজেন্ট- মানে এতোকিছু দেয়ার পরও আমি রায় সাহেবই রয়ে গেলাম রায় বাহাদুর হতে পারলাম না। তো সে তো মুখস্ত বলে দিয়েছে। তো তখন লাট সাহেব বললেন- আপনি এখন আর রায় সাহেব নন, আপনি রায় বাহাদুর।”


“আমি বলছি যে ভালো কাজে যদি কেউ টাকা দেয় তাহলে সে রায় সাহেব থাকে না। সে রায় বাহাদুর হয়। কারণ আমাদের অনেক বাহাদুর দরকার আছে জাতীয় জীবনে। কারণ অর্থ পুঞ্জীভূত হয় নাই । অর্থ বিপুলভাবে পুঞ্জীভূত হইয়াছে। সুতরাং রায় সাহেবদের কাছ থেকে আমরা রায় বাহাদুর তারা যেন হন এটা আমরা আশা করি। তারা এমনিতেই গ্রেট তারা গ্রেটার হোন। ধন্যবাদ।”

আপনার মতামত লিখুন :