যানজট নিরসনে অলসতা কাটুক পুলিশের

তুষার আবদুল্লাহ, বার্তা প্রধান, সময় টিভি

  • Font increase
  • Font Decrease

পথ চলতে গিয়ে যানজটে জড়িয়ে পড়তেই হবে। মহল্লার গলি থেকে জট মহাসড়কে গিয়ে ঠেকছে। যানজটে আটকে যাবার পর প্রথমেই যাত্রীদের মনে প্রশ্ন আসে-যানজট কেন? বাহনের গতি শ্লথ কেন? মিনিট তিরিশ পেরিয়ে গেলেও কেন কোনো বাহনই নড়ছেনা? পথের একদিকে যানবাহন চলতে দেখা গেলেও অন্যদিক থমকে আছে। বাহন থেকে নেমে বা বাহনে থেকেই গলা বাড়িয়ে উঁচিয়ে দেখা যাবে সামনের পথ খালি পড়ে আছে কিন্তু তারপরও সামনের কিছু যানবাহন ঝিম মেরে আছে। ঢাকার যে কোনো সড়কে দেখা যাবে বাস পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে দুই বা তিন লেন দখল করে। ফলে কোনো সড়কে এক লেন কোনোভাবে খোলা থাকে অন্য বাহন যাওয়ার জন্য, নাহলে সব লেনই আটকে থাকে। পেছনে যানজটের লেজ কোথায় গিয়ে ঠেকলো তাতে বাস চালকদের কিছু যায় আসেনা। নজর দিলে দেখবেন লেন বহাল তবিয়তে বাসের দখলে রাখতে ব্যস্ত ট্রাফিক পুলিশ, সার্জেণ্ট। বাস চালকের উপর দাপট দেখানোর ক্ষমতা তাদের নেই। যানজটের অবসরে জিজ্ঞেস করলেই জানতে পারবেন-এই বাস কোম্পানিগুলোর অভিভাবকত্ব স্থাণীয় ক্লাব, রাজনৈতিকি দলের অঙ্গ সংগঠনের। আর মালিকানা? সমাজের প্রভাবশালী সামরিক বেসামরিক কর্তাদের।

অতএব বাসে কোনো টোকা না দিয়ে অসহায় রিকশা, সিএনজি ও প্রভাবশালীর ছোঁয়ামুক্ত প্রাইভেটকারকে ধাওয়া করাই মঙ্গল। আরো মঙ্গল বাধ্যতামূলক মামলা দেয়ার কাজে মনোনিবেশ করা। ফলে যানজট কতোটা জড়িয়ে গেলো, পথ কতো স্থবির হলো তাতে ট্রাফিক পুলিশ চোখ ফেরাবেনা। যখন ভিভিআইপি, ভিআইপি, পৌনে ভিআইপিরা পথে নামবেন তখন গিট্টু খোলার জন্য তৎপর। ভিআইপিরা বিদায় নিলে তারাও পথ থেকে বিদায় নেন –পথ রয়ে যায় জড়ানো পটকানো। দশ মিনিটের পথের দৈর্ঘ্য পৌঁছে চার-পাঁচ ঘণ্টাতে।

শহরের সড়ক পেরিয়ে মহাসড়কে উঠে থৈ বা নিশানা পাবেন না। কেন আটকে আছেন যানজটে। যেখানে জট লাগেনি কখনো সেখানেও আটকে থাকতে পারেন। সামনের সড়ক উন্মুক্ত কিন্তু আপনার বাহন নড়ছেনা। কারণ সামনে কোনো বাস রাস্তার মাঝখানে যাত্রী নামাচ্ছে। কোনো ট্রাক চালক হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছেন। কিংবা উল্টোদিক থেকে তিন চার লেন দখল করে যানবাহন চলে এসেছে।

পুলিশকে তৎপর দেখবেন। দেখবেন না যে তা নয়। তারা ঘামবেন, ঘামছেন বাসকে, ট্রাককে সুবিধা করে দেয়ার জন্য। শহরের পথে, মহাসড়কে দেখবেন আপনার বাহনকে কোথাও থামতে বা পার্কিং করতে দেয়া হচ্ছেনা। অথচ পুলিশের পৃষ্ঠপোষকতায় বাস বা লেগুনা স্ট্যান্ড তৈরি হয়ে গেছে। মামলা করা হচ্ছে আপনার গাড়িকে। আর বাস- লেগুনা থেকে নগদ ও মাসিক চুক্তির লেনদেন চলছে অনেকটা প্রকাশ্যেই।

সড়ক-মহাসড়ক পুলিশ বলে যে দলটি আছে তারা ভিআইপিদের স্যালুট দিতেই ব্যস্ত। নিরবচ্ছিন্ন যান চলাচন নিশ্চিত করতে তাদের তেমন কোনো ভূমিকা দৃশ্যমান নয়। তাদের কিছু পথ পরপর ট্রাক ও নিরীহ বাহন থামিয়ে কাগজ পরীক্ষা করার পরিশ্রমটুকু করতে দেখা যায়। এব্যাপারে রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে তারা বেশ তৎপর থাকেন। সুতরা্ং সাধারণ পথিক বা যাত্রী হিসেবে যদি যানজটের কারণ জানতে চান, এক কথায় উত্তর পাবেন-পুলিশ। যদি পুলিশ চার আনা সক্রিয় থাকে বা তাকে থাকতে দেয়া হয়, দেখবেন স্বল্প সড়কে সাধ্যের মধ্যেও যানজট অনেকটা হালকা হয়ে উঠেছে।

লেখক: বার্তা প্রধান, সময় টিভি

আপনার মতামত লিখুন :