খুনি নূর চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনতে কোটি স্বাক্ষর সংগ্রহ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা ২৪.কম
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের। ছবি: বার্তা২৪

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের। ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ ‍মুজিবুর রহমানের খুনি নূর চৌধুরীকে দেশে ফিরিয়ে আনতে অনলাইনে কোটি স্বাক্ষর কর্মসূচি শুরু করেছে ‘মুভমেন্ট ফর ডিপারটেশন অব কিলার নূর চৌধুরী টু বাংলাদেশ’ ব্যানারে সামাজিক-সাংস্কৃতিক কয়েকটি সংগঠন।

সোমবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি  আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন গৌরব ৭১, কানাডা আওয়ামী লীগ অল ওভারসিস বাংলাদেশি, মুভমেন্ট ফর ডিপারটেশন অব কিলার নূর চৌধুরী টু বাংলাদেশ যৌথভাবে এই অনলাইন স্বাক্ষর কর্মসূচির আয়োজন করে।

আয়োজকরা জানান, বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি নূর চৌধুরীকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে কানাডার প্রধানমন্ত্রী বরাবর এই এক কোটি স্বাক্ষর পাঠানো হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডে শাস্তিপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে ছয় জন খুনি বিদেশে পলাতক আছেন। এর মধ্যে মারা গেছেন একজন। আর বাকিদের ফিরিয়ে আনার দাবি জোরদার হচ্ছে। 

এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন খুনি রাশেদ চৌধুরী, তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে আমাদের আলাপ আলোচনা হয়েছে এবং এ ব্যাপারে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারও আমাদের সহযোগিতা করছে। সেখানে একটা মামলা হয়েছে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে’।

কানাডার আইনে মৃত্যুদণ্ড দেয়া বিধান নেই, সেজন্য  আইনটি শিথিল করে নূর চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকার একটি মামলাও করেছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘আইনটিকে শিথিল করে নূর চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে কানাডায় একটি মামলা করেছে বাংলাদেশ সরকার এবং সেখানে আলাপ আলোচনা অব্যাহত আছে’। 

বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত, বিচারের পথ বন্ধ করতে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ ও পঞ্চম সংশোধনী কেন করা হয়েছিল– বিএনপি’র কাছে এই তিন প্রশ্নে জবাব চেয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

কাদের বলেন, ‘বিএনপির কাছে বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে কারা জড়িত? সেই খুনিদের বিচারের পথ বন্ধ করতে কেন ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি? কেন এই ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে বাংলাদেশের লাখো শহীদের রক্তের অক্ষরে রচিত সংবিধান পরিবর্তন করে পঞ্চম সংশোধনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল? হত্যাকারীদের বিচারের পথ রুদ্ধ করতে। এই প্রশ্নের জবাব বিএনপি আজও দেয়নি। আমি আবারও সেই প্রশ্নের জবাব চাচ্ছি।’

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে জিয়াউর রহমানও আছেন মন্তব্য করে কাদের বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যার পর জেনারেল জিয়াউর রহমান, মেজর ডালিমের সঙ্গে দেখা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য করেছিল “ওয়েল ডান, মেজর ডালিম; কনগ্রাচ্যুলেশন”। তার অর্থ কি? এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে তিনিও আছেন’।

‘যে খুনিদের আজকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কূটনৈতিক প্রয়াস এমনকি মামলা পর্যন্ত করতে হচ্ছে, সেই খুনিদের নিরাপদে বিদেশে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন কে? জিয়াউর রহমান। এই খুনিদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়েছিলেন কে? জিয়াউর রহমান’।

‘এই খুনিদের বিচার হবে না এই মর্মে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেছিলেন কে? জিয়াউর রহমান? এবং এই খুনিদের বিচার কাজ বন্ধ করতে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে পঞ্চম সংশোধনীতে আমাদের সংবিধানেও অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন জিয়াউর রহমান’।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্য উপস্থিত ছিলেন  পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন :