Barta24

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

English

ক্ষমতার বাইরে থাকা নেতারা একমঞ্চে উঠছেন দুপুরে

ক্ষমতার বাইরে থাকা নেতারা একমঞ্চে উঠছেন দুপুরে
আজও এভাবে একমঞ্চে দেখা যেতে পারে ক্ষমতার বাইরে থাকা জাতীয় নেতাদের, ফাইল ছবি
মুজাহিদুল ইসলাম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট


  • Font increase
  • Font Decrease

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবি আদায়ের লক্ষে যুগপৎ আন্দোলনে একমত হয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অধীন ১৪ দলীয় মহাজোটের বাইরে থাকা অধিকাংশ রাজনৈতিক দল।

এর অগ্রভাগে রয়েছেন বিকল্প ধারার সভাপতি, সাবেক রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট ও গণ ফোরাম সভাপতি ড. কামালের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া।

শনিবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে ‘নাগরিক সমাবেশ’ আহবান করেছে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া।

জানা গেছে, এই সমাবেশে যোগ দিবে বিএনপি, ২০ দলীয় জোটের নিবন্ধিত সব দল, বিকল্প ধারা, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), নাগরিক ঐক্য ও বিভিন্ন বাম সংগঠনের শীর্ষ নেতারা।

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহবায়ক ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও যুক্তফন্টের চেয়ারম্যান একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী।

সমাবেশে আরও উপস্থিত থাকবেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে দলের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতাসহ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার অন্যতম শরিক গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি প্রমুখ।

সমাবেশ থেকে সকল রাজনৈতিক দলের নেতা, বুদ্ধিজীবী ও বিশিষ্ট নাগরিক সমাজের ব্যক্তিবর্গ যেসব পরামর্শ দেবে তার ওপর ভিত্তি করে এগিয়ে নেওয়া হবে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়াকে।

এ সমাবেশের মূল লক্ষ্য কার্যকর গণতন্ত্র, নিরপেক্ষ নির্বাচন এবং জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা।

সম্প্রতি নাগরিকের ভোটাধিকার নিশ্চিতে নিরপেক্ষ নির্বাচন ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বিনির্মানের প্রত্যয়ে ৫ দফা দাবি ও ৯ দফা লক্ষ্য ঘোষণা করেছে যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া। যে উদ্দ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও প্রধান বিরোধী দল বিএনপিসহ নাগরিক সমাজ।

আপনার মতামত লিখুন :

আ'লীগ জেলের তালা ভেঙেছে বিএনপিকেও ভাঙতে হবে: দুদু

আ'লীগ জেলের তালা ভেঙেছে বিএনপিকেও ভাঙতে হবে: দুদু
মানববন্ধনে বিএনপির নেতাকর্মীরা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বিএনপি'র ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, 'খা‌লেদা জিয়া‌কে মুক্ত কর‌তে হ‌লে জেলের তালা ভাঙতে হবে। আন্দোলন করতে হবে। এটা ছাড়া কোনো পথ নেই। আওয়ামী লীগও জেলের তালা ভেঙেছে বিএনপিকেও ভাঙতে হবে। এটাই রাজনীতি, এটাই এখন আমাদের লক্ষ্য, জেলখানা যারা নিয়ন্ত্রণ করছেন তারা গণতন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করছেন।'

বুধবার (২১ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে 'দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি' শীর্ষক এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। মানববন্ধনের আয়োজন করে দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন নামের একটি সংগঠন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শামসুজ্জামান দুদু ব‌লেন, 'আইন-আদালত করে কোনো লাভ হবে না, যারা সিনিয়র আইনজীবী আছেন তারা স্পষ্ট করে এ কথা বলেছেন। যদি তাকে (খালেদা জিয়াকে) বের করতে হয় তাহলে এই স্লোগান আমাদেরকে দিতে হবে। অতীতে যেমন শেখ মুজিবকে বের করার জন্য স্লোগান দিয়েছে মানুষ। ঠিক তেমনি স্লোগান দিতে হবে, জেলের তালা ভাঙবো বেগম জিয়াকে আনব। পাকিস্তান আমলে স্লোগান ছিল- জেলের তালা ভাঙবো শেখ মুজিবকে আনব। জেলের তালা ভাঙতে হবে।'

তিনি বলেন, 'বিএনপি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে পরিবর্তনের প্রত্যাশা করে, বিএনপি হত্যাকাণ্ড, নৈরাজ্য পছন্দ করে না। বিএনপি রাজপথের আন্দোলন, নির্বাচন, গণঅভ্যুত্থানে বিশ্বাস করে। সেজন্য আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। এক কাতারে শামিল হই। দেশ রক্ষা করি, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করি। আন্দোলনে আমাদের ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। এছাড়া কোনো বিকল্প নেই। খালেদা জিয়া যদি এখন জেলের বাইরে থাকতেন, তাহলে তিনি কৃষকদের পাশে দাঁড়াতেন, শ্রমিকদের পাশে দাঁড়াতেন, ছাত্রদের পাশে দাঁড়াতেন, ঢাকা শহরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মানুষ যে অসহায় জীবন যাপন করছে তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়াতেন, কৃষকরা ধানের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে ধান ক্ষেতে আগুন দিয়েছে তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়াতেন।'

তি‌নি আরও ব‌লেন, 'ব্যাংক ও শেয়ার মার্কেটে যে টাকা লুট হয়েছে তার বিরুদ্ধে তিনি প্রতিবাদ করতেন। খালেদা জিয়া বাংলাদেশের অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য লড়াই করতেন, রাজপথে নেমে আসতেন। কিন্তু তাকে জেলে আটকে রাখা হয়েছে, যাতে তিনি দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে না পারেন, অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে না পারেন।'

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, শহিদুল ইসলাম বাবুল, বিএনপির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী, ছাত্রদ‌লের সহ সাধারণ সম্পাদক আরিফা সুলতানা রুমা, কৃষক দ‌লের সদস্য লায়ন মিয়া মো. আনোয়ার, মৎস্যজীবী দ‌লের নেতা ইসমাঈল হো‌সেন সিরাজী, জাগপার সহ সভাপতি, আবু মোজ্জাফর মোহাম্মদ আনাস প্রমুখ।

২১ আগস্ট মামলায় পলাতকদের রায় কার্যকর সম্ভব: আইনমন্ত্রী

২১ আগস্ট মামলায় পলাতকদের রায় কার্যকর সম্ভব: আইনমন্ত্রী
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

২১ আগস্ট মামলায় পলাতকদের রায় কার্যকর সম্ভব বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

তিনি বলেন, ২১ আগস্ট মামলায় পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের রায় কার্যকর করা আমাদের পক্ষে সম্ভব। আমরা তাদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছি।

বুধবার (২১ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে গ্রেনেড হামলা মামলায় পলাতক তারেক রহমানসহ বাকি আসামিদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, পলাতকদের ফিরিয়ে আনার পথে কিছুটা জটিলতা ছিল আজও আছে, সেটাও সমাধানের চেষ্টা করছি। আমরা আশা করি, এই রায় কার্যকর করার জন্য তাদেরকে ফিরিয়ে আনা আমাদের পক্ষে সম্ভব হবে।

মামলার রায় পরবর্তী কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, বিচারিক আদালত যদি কাউকে ফাঁসি দেয় তাহলে ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৭০ ধারা অনুযায়ী সেই মামলা ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্ট ডিভিশনে চলে যায়। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা ও হত্যা মামলার রায়ে কিছু সংখ্যক লোকের ফাঁসি হয়েছে, কিছু আসামির যাবজ্জীবন হয়েছে। ফাঁসি হওয়ার কারণে তা ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্ট বিভাগে চলে গেছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, যারা যাবজ্জীবন পেয়েছেন তারাও হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করছেন। হাইকোর্ট বিভাগের নিয়ম হচ্ছে, ডেথ রেফারেন্স ও যাবজ্জীবন সাজাটাকে একসঙ্গে ট্যাগ করে তারা শুনানি করেন। সেই ক্ষেত্রে কিছু ফরমালিটিজ আছে সেগুলো কম্পিলিট করতে হয়।

'এক্ষেত্রে যাদের ফাঁসি হয়েছে তাদের পেপারবুক সরকারের তৈরি করে দিতে হয় বিজি প্রেসের মাধ্যমে। এ পেপারবুকের মধ্যে মামলার যাবতীয় কাগজপত্র থাকে। এটা তৈরি করে মামলাটি শুনানির জন্য প্রস্তুত এবং শুনানি হয়।'

তিনি বলেন, আমি এটুকু বলতে পারি এ মামলার পেপারবুক তৈরি হওয়ার জন্য যে আনুষঙ্গিক কার্যক্রম সেটা শুরু হয়ে গেছে। যেমন কাগজপত্র আসার পরে সেটা সটিং হয়, তারপরে এটা বিজি প্রেসে চলে যায়। আমি এটুকু বলতে পারি একাজ শুরু হয়ে গেছে।

আনিসুল হক বলেন, আমরা প্রসিকিউশন থেকে দেখবো এ পেপারবুক তৈরির কাজটা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব যেন শেষ হয়। এ মামলার মোট সাক্ষী ২২৫ জন, ফলে পেপারবুক অনেক বড় হবে। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত মামলাটির শুনানি শুরু করব।

রায়ের ১০ মাস পার হলেও হাইকোর্ট বিভাগে শুনানি হচ্ছে না কেন এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এটা বেশি সময় নয় আমরা বলতে পারি আগামী ২ থেকে ৪ মাসের মধ্যে মামলাটির পেপারবুক তৈরি হয়ে যাবে, তখন শুনানি হবে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র