সংলাপময় নির্বাচনমুখী রাজনীতি

রেজা-উদ্-দৌলাহ প্রধান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনীতির মাঠ যখন উত্তপ্ত ঠিক তখনেই হঠাৎ করে সংলাপের আবহাওয়ায় পাল্টে যায় রাজনীতির চালচিত্র। যার ফলে রাজপথের আন্দোলন কর্মসূচি পরিহার করে সরকারবিরোধী বিভিন্ন দল জোট এখন সংলাপমুখী। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে রাজনীতির গুমোট পরিবেশ ভাঙতে আগ্রহী বিরোধীজোট। সরকারের তরফ থেকেও খোলামনে সংলাপে বসার আহ্বান এসেছে। দুই পক্ষের এমন পদক্ষেপকে দেশের রাজনীতির জন্য ‘শুভলক্ষণ’ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

নির্বাচন নিয়ে বহুল প্রতিক্ষীত ও প্রত্যাশিত সংলাপের দ্বার উন্মুক্ত হচ্ছে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর)। মাঠের সম্ভাব্য সহিংস রাজনীতি আলোচনার টেবিলে গড়ানোয় স্বস্তি ফিরেছে দেশজুড়ে। তাই সবার চোখ এখন সংলাপের দিকে।

রোববার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সংলাপ চেয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বরাবর দু’টি চিঠি দেয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ড. কামাল হোসেন। চিঠির সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফা দাবি ও ১১ দফা লক্ষ্য সংযুক্ত করা হয়। বিরোধীজোটকে ‘অবাক করে’ পরদিনই সংলাপের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ‘সংবিধানসম্মত সকল বিষয়ে’ আলোচনার জন্য কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে ১ নভেম্বর গণভবনে আমন্ত্রণ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সংলাপে ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ১৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেবে।

হঠাৎ করে ঐক্যফন্ট্রের সংলাপের আহ্বানে সাড়া দেওয়ায় অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোও সংলাপে বসার আগ্রহ প্রকাশ করতে থাকে। মঙ্গলবার সকালে বিকল্পধারা ও যুক্তফ্রন্টের পক্ষ বি. চৌধুরী সংলাপে বসার আগ্রহ জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি দিলে ওইদিন সন্ধ্যায় তাকেও সংলাপে বসার আমন্ত্রণ জানানো হয়। শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় তার সঙ্গে সংলাপে বসবে প্রধানমন্ত্রী। এরপর আজ বুধবার (৩১ অক্টোবর) সংলাপে বসার আগ্রহের কথা জানিয়ে চিঠি দিয়েছে সম্মিলিত জাতীয় জোট এবং জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। প্রধানমন্ত্রীর পিএস-১ এর দফতরে চিঠিটি পৌঁছে দেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায়।

প্রধানমন্ত্রীকে দেয়া ওই চিঠিতে এরশাদ লিখেছেন-‘সংলাপের উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। জাতীয় পার্টির সঙ্গে আলোচনা হলে অনুকূল পরিবেশকে আরও উজ্জ্বল করবে।’ আশা করা যাচ্ছে খুব শিগগির এরশাদকেও সংলাপের স্থান ও সময় জানিয়ে দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

এরশাদের পর সংলাপের আগ্রহ জানিয়ে চিঠি দেয় আসল বিএনপির উদ্যোক্তা কামরুল হাসান নাসিম।

সূত্র জানিয়েছে, রাজপথের বিরোধী বাম জোটগুলো প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সেইসঙ্গে ইসলামী দলগুলোও বসে নেই। তারাও রাজনৈতিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন। ইতোমধ্যে তারা নিজেদের মধ্যে সভা ও আলোচনা সেরে নিয়েছেন।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আমরা রাজনৈতিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছি। দলীয় ফোরামে আলোচনা করে আমরা পরাবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।'

বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান আলহ্বাজ মিসবাহুর রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আমাদের দল ও জোটের মিটিং আছে আগামিকাল। সেখানেই আমরা সংলাপের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব অনুসারে পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেব।’

এদিকে সংলাপের আবহাওয়া তৈরি হওয়ায় তাকে স্বাগত জানিয়েছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্ন্তজাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. আমেনা মোহসীন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘সংলাপে বসতে চাওয়ার আওয়ামী লীগের উদ্যোগকে অমি অবশ্যই স্বাগত জানাচ্ছি। গণতন্ত্রে মুখ দেখাদেখি বন্ধ করে তো আর থাকা যায় না। সংলাপটা উভয় পক্ষের জন্যই প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যে শর্তহীনভাবে সংলাপে বসার কথা বলছে এটাকে আমি বেশি অ্যপ্রিশিয়েট করতে চাই। এটার পেছনে যে রাজনীতি ধরুন আওয়ামী লীগ চাপে পড়ে রাজি হয়েছে কিংবা কেন করছে সেসব প্রশ্ন না করে এটাকে খোলামনে আমাদের সকলের স্বাগত জানানো উচিত।’

আপনার মতামত লিখুন :