নির্বাচন ভাগাভাগির নয়, জয়ের লড়াই: সুব্রত চৌধুরী

মুজাহিদুল ইসলাম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
সুব্রত চৌধুরী

সুব্রত চৌধুরী

  • Font increase
  • Font Decrease

‘ধানের শীষ’ প্রতীকে একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ১৬০ জন প্রার্থীকে প্রস্তুত করেছে ড. কামাল হোসেনের দল গণফোরাম। তবে বৃহত্তর ঐক্যের প্রশ্নে সর্বোচ্চ ছাড় দিতেও প্রস্তুত দলটি। লক্ষ্য গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, ন্যায় ভিত্তিক ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বিনির্মাণ। তাই নির্বাচনে আসন ভাগাভাগি নিয়ে সমস্যা হবে না কারণ জয়ের লড়াইয়ে বিজয়ী হওয়াটাই মুখ্য- বলেন সুব্রত চৌধুরী। 

বুধবার (২১ নভেম্বর) বার্তা২৪.কমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সমসাময়িক রাজনৈতিক ভাবনা তুলে ধরেন গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা সুব্রত চৌধুরী।

নির্বাচনে ভোটারদের আস্থা ফেরানোর বিষয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী বলেন, এটা একটা চ্যালেঞ্জ। নির্বাচন কমিশন ভোটে আস্থা ফেরাতে কোন ব্যবস্থা নেয় নি। উল্টো নানারকমের বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। যেমন সাংবাদিকদের বলা হয়েছে পোলিং স্টেশনে ঢুকবা কিন্তু লাইভ করতে পারবা না এবং বিদেশি পর্যবেক্ষকদের বলা হযেছে পুতুলের মতো দাড়িয়ে থাকতে হবে। তার মানে কি, যেনতেনভাবে বর্তমান দলকে আবার ক্ষমতায় আনার পরিকল্পনা আছে। সরকার যদি এগুলো করে নিজেরাও নিরাপদে থাকতে পারবে না। তারা সেই জায়গায় যেনো রাষ্ট্রটাকে না নিয়ে যায়।

ভোটে জনগণ আন্দোলন করে ভোটকেন্দ্রে আসবে, প্রতিরোধ করবে এমনটি কেন মনে করছেন?- এ বিষয়ে বলেন, জনগণ অপেক্ষায় আছে, তাদের অপকর্মের দরুণ এই সরকারকে তারা একদিনের জন্যও সহ্য করতে পারছে না। সেজন্য আমরা বলছি, সামনে আমাদের একটা সুযোগ আসছে। এটা শুধু জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সুযোগ না, ১৬ কোটি মানুষের সুযোগ। এবং আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও ৩০ লক্ষ্য শহীদের যে স্বপ্ন আওয়ামী লীগ ভেঙ্গে চুরমার করে দিয়েছে সে জায়গা থেকে আমরা বের হয়ে আসতে চাই।

তিনি বলেন, এখন মানুষের ভোট কেন্দ্রে যাওয়া যদি নিশ্চিত করতে পারি, এবং একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন যেটা প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে, ‘তিনি কারচুপির নির্বাচন করবেন না।’ এটাকে যদি আমরা ধরে নিই তাহলে আমাদের বিজয় অবশ্যম্ভাবী। জনগণ ভোটকেন্দ্রে যাবে এবং ভোটের হিসেব তারা নেবে। জনগণের মধ্যে যদি একটা জোয়ার সৃষ্টি হয়, কোন প্রতিবন্ধকতা, কোন নীল নকশা, কোন রাজ চালাকি কাজে লাগবে না। অতীতে যেমন মানুষ উচিত শিক্ষা দিয়েছে যারা এগুলো করেছে। আমার আশঙ্কা হচ্ছে, সরকার যদি সে পথে যায়, জনগণ উচিত শিক্ষা দিয়ে দেবে। ইতিহাস থেকে তাদের শিক্ষা নেয়া উচিত।”

ভোটের মাঠে যেতে দৃশ্যমান কোন বাধা আছে কি-না এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের এ আইনজীবী বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপে গিযেছিলাম। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মাধ্যমে সংলাপের শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে দ্বিতীয় বার সংলাপেও তিনি আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেও বলেছেন, দলীয় সরকারের অধিনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তিনি দেখিয়ে দিতে চান দলীয় সরকারের অধীনেও একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। ‘তিনি আরও বলেছেন কোন কারচুপির নির্বাচন করে আমি (অর্থাৎ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী) ও আমার দল বিজয়ী হতে চাইনা।’ সেই কারণে ওনার কথার উপর আমরা আস্থা এবং বিশ্বাস রেখে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করি। আমরা আশা করেছিলাম যে, তিনি উনার কথা রাখবেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ এবং বেদনার সঙ্গে বলছি, একটি হচ্ছে সরকারি দলের কর্মকাণ্ড এবং সরকারের কর্মকাণ্ড যেটা নির্বাচন কালীন সরকার হওয়ার কথা ছিল, উনিই বলেছিলেন একটা ছোট সরকার হবে, নিয়ম রক্ষার কাজ করবে। কিন্তু বাস্তবে দেখলাম উনি পুরো বহর রেখে দিয়েছেন এবং অনির্বাচিত উপদেষ্টাদেরও রেখে দিয়েছেন। আবার এমন কিছু কাজ করছেন, জাতীয় পতাকা গাড়িতে রেখে দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছেন নির্বাচনী কাজে অংশগ্রহণ করছেন যেটা সমস্ত আইন কানুন বিধিবিধান উপেক্ষ করে। নির্বাচন কমিশন তাদের ক্ষমতা থাকা সত্বেও কোন ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করে নাই।

নির্বাচনে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের ভুমিকার বিষয়ে তিনি বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে যাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে, আমরা দেখতে পাচ্ছি, তাদের নির্বাচন কমিশন থেকে নানা নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে, ঢাকায় আনা হয়েছে। তাদেরকে গণভবনে নিযে গিয়ে দলীয় নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। অর্থাৎ সরকারি দলের পক্ষে কাজ করার নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। যারা প্রিসাইডিং অফিসারদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে সেখানে পুলিশ তাদের পেছনে লেগে গেছে। তাদের বাড়িতে যাচ্ছে এবং নানারকম রাজনৈতিক পরিচয় খুজে বের করার চেষ্ট করছে। এটা একটা ভয় ভীতি আতঙ্কের মধ্যে সবাইকে ফেলে দিয়েছে। তবে কোন কলাকৌশল, নীল নকশা কাজে আসবে না। জনগণ সমুচিত জবাব দেবে।

গণফোরামের নির্বাচন প্রস্তুতি নিয়ে সুব্রত চৌধুরী বলেন, আমাদের গণফোরামের একক প্রার্থী হিসেবে ১৬০ জনকে চূড়ান্ত করা হতে পারে। যেখান থেকেই দেয়া হোক না কেন আমরা প্রস্তুত আছি। তবে বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে সর্বোচ্চ ছাড় দিতে প্রস্তুত আছে গণফোরাম। সেক্ষেত্রে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে অন্য দলগুলোর একই মানসিকতা থাকতে হবে। এখানে  আসন ভাগাভাগি মুখ্য নয়, জয়ের লড়াই এটা। আমরা আসন নিয়ে কোন ধরনের ঝুঁকি নিবো না। 

ইশতেহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি হচ্ছে, আরও সপ্তাহ খানিক সময় লাগবে। গণফোরাম ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট একসঙ্গে ইশতেহার ঘোষণা করবে।

আপনার মতামত লিখুন :

এ সম্পর্কিত আরও খবর