রাঙার একগুচ্ছ পরিকল্পনা, সঙ্গে হুমকিও

আলোচনা সভায় জাপা মহাসচিবসহ দলীয় নেতাকর্মীরা, ছবি: বার্তা২৪

মাত্র দুদিন আগে জাতীয় পার্টির মহাসচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন মসিউর রহমান রাঙা। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আত্মীয় রাঙার আরেকটি বড় পরিচয় হচ্ছে তিনি একাধারে মোটরমালিক ও শ্রমিক নেতাও।

সোমবার (৩ ডিসেম্বর) দায়িত্ব নেওয়ার পর বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) প্রথমবার দলীয় কোনো আলোচনা সভায় অংশ নিলেন। সেখানে তিনি তার একগুচ্ছ পরিকল্পনার পাশাপাশি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে তার জন্য হুশিয়ারিও উচ্চারণ করেন।

রাঙা বলেন, 'প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং আগামীতে যারা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন তাদেরকে পর্যায়ক্রমে পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বসতে হবে। প্রেসিডিয়াম সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, ঢাকায় তামশা না করে ঢাকার বাইরে যেতে হবে। আগামীতে মিটিং করে সবার দায়িত্ব বণ্টন করে দেওয়া হবে। দায়িত্ব নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যাবেন তাহলে হবে না। প্রত্যেককে তার দায়িত্ব পালন করতে হবে।'

'নতুনদের জন্য জায়গা ছেড়ে দিতে হবে। আমি প্রেসিডিয়াম সদস্য, আবার মহানগরও ধরে রাখবো একইসঙ্গে চারটি পোষ্ট ধরে রাখবো এটা হবে না। যারা চারটি পদ ধরে আছেন তারা ছেড়ে দেন। প্রেসিডিয়ামে অনেককে দেখেছি যারা হাঁটতে চলতে পারেন না, তাদেরকে অনুরোধ করবো আপনারা পদ ছেড়েদেন। আপনাদের আমরা অবশ্যই সম্মান করবো।'

'নির্বাচনের পর পর্যায়ক্রমে প্রত্যেকদিন ৩জন করে এমপি কাকরাইল কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বসবেন। নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। আমি শুনেছি কাকরাইল পার্টি অফিসে গেলে অনেককে অপমান করা হয়। আমি হুশিয়ার করছি, আমি ভেসে আসিনি, আমি কিন্তু মোটর শ্রমিক নেতা'

তিনি আরো বলেন, 'যারা দল ছেড়ে চলে গেছেন তাদেরকে কড়জোর অনুরোধ করবো আপনারা ফিরে আসনে। অনেক ভালো ভালো প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন, মন্ত্রী ছিলেন, আপনাদের কাছে আমরা এরশাদের সময়কার কথা শুনতে চাই। এরশাদ যখন ক্ষমতায় ছিলো তখনতো আমরা ছোট ছিলাম। আপনারা ফিরে আসেন আমি পার্টির চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলবো।'

পার্টির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃত্বেও সংস্কার আনার কথা উল্লেখ করে বলেন, 'এই সংগঠনগুলোকেও চাঙ্গা করতে হবে। অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী রয়েছে। যারা দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না ছেড়ে দেন।'

জাপা মহাসচিব আরো বলেন, 'আমাদের যদি ৫০ জন এমপি নির্বাচিত হয়, তাহলে আরও ১০ জনের মতো মহিলা পাবো। সারাদেশে দলকে চাঙ্গা করবো। আমরা এরশাদের সৈনিক আমাদের অন্য কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। আমরা অন্য কোথাও যেতেও চাই না। আমরা সকলে মিলে দলকে সংগঠিত করব।'

তিনি বলেন, আমি বেশি ভালো সময়ে দলের দায়িত্বে আসিনি। আর মাত্র ২৪দিন আছে, তারপর নির্বাচন। আমি মিডিয়া কর্মীদের বলি, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করেন। আমরা ভবিষ্যতে মিডিয়ার সঙ্গে অতীতেও ছিলাম, এখনও আছি ভবিষ্যতেও থাকবো। আমাদের নেতাকর্মীদের কথা বলার সুযোগ করে দেন।'

তথ্য প্রযুক্তি আইন সংসদে পাশের আগে সাংবাদিকদের পক্ষ নিয়ে বিরোধিতা করার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, 'আমরা বিরোধিতা করেছিলাম, কিন্তু আমাদের এমপি কম থাকায় আটকাতে পারিনি।'

রাজনীতি এর আরও খবর

//election count down