Barta24

শনিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৯, ২ ভাদ্র ১৪২৬

English

রাঙার একগুচ্ছ পরিকল্পনা, সঙ্গে হুমকিও

রাঙার একগুচ্ছ পরিকল্পনা, সঙ্গে হুমকিও
আলোচনা সভায় জাপা মহাসচিবসহ দলীয় নেতাকর্মীরা, ছবি: বার্তা২৪
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

মাত্র দুদিন আগে জাতীয় পার্টির মহাসচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন মসিউর রহমান রাঙা। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আত্মীয় রাঙার আরেকটি বড় পরিচয় হচ্ছে তিনি একাধারে মোটরমালিক ও শ্রমিক নেতাও।

সোমবার (৩ ডিসেম্বর) দায়িত্ব নেওয়ার পর বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) প্রথমবার দলীয় কোনো আলোচনা সভায় অংশ নিলেন। সেখানে তিনি তার একগুচ্ছ পরিকল্পনার পাশাপাশি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে তার জন্য হুশিয়ারিও উচ্চারণ করেন।

রাঙা বলেন, 'প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং আগামীতে যারা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন তাদেরকে পর্যায়ক্রমে পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বসতে হবে। প্রেসিডিয়াম সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, ঢাকায় তামশা না করে ঢাকার বাইরে যেতে হবে। আগামীতে মিটিং করে সবার দায়িত্ব বণ্টন করে দেওয়া হবে। দায়িত্ব নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যাবেন তাহলে হবে না। প্রত্যেককে তার দায়িত্ব পালন করতে হবে।'

'নতুনদের জন্য জায়গা ছেড়ে দিতে হবে। আমি প্রেসিডিয়াম সদস্য, আবার মহানগরও ধরে রাখবো একইসঙ্গে চারটি পোষ্ট ধরে রাখবো এটা হবে না। যারা চারটি পদ ধরে আছেন তারা ছেড়ে দেন। প্রেসিডিয়ামে অনেককে দেখেছি যারা হাঁটতে চলতে পারেন না, তাদেরকে অনুরোধ করবো আপনারা পদ ছেড়েদেন। আপনাদের আমরা অবশ্যই সম্মান করবো।'

'নির্বাচনের পর পর্যায়ক্রমে প্রত্যেকদিন ৩জন করে এমপি কাকরাইল কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বসবেন। নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। আমি শুনেছি কাকরাইল পার্টি অফিসে গেলে অনেককে অপমান করা হয়। আমি হুশিয়ার করছি, আমি ভেসে আসিনি, আমি কিন্তু মোটর শ্রমিক নেতা'

তিনি আরো বলেন, 'যারা দল ছেড়ে চলে গেছেন তাদেরকে কড়জোর অনুরোধ করবো আপনারা ফিরে আসনে। অনেক ভালো ভালো প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন, মন্ত্রী ছিলেন, আপনাদের কাছে আমরা এরশাদের সময়কার কথা শুনতে চাই। এরশাদ যখন ক্ষমতায় ছিলো তখনতো আমরা ছোট ছিলাম। আপনারা ফিরে আসেন আমি পার্টির চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলবো।'

পার্টির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃত্বেও সংস্কার আনার কথা উল্লেখ করে বলেন, 'এই সংগঠনগুলোকেও চাঙ্গা করতে হবে। অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী রয়েছে। যারা দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না ছেড়ে দেন।'

জাপা মহাসচিব আরো বলেন, 'আমাদের যদি ৫০ জন এমপি নির্বাচিত হয়, তাহলে আরও ১০ জনের মতো মহিলা পাবো। সারাদেশে দলকে চাঙ্গা করবো। আমরা এরশাদের সৈনিক আমাদের অন্য কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। আমরা অন্য কোথাও যেতেও চাই না। আমরা সকলে মিলে দলকে সংগঠিত করব।'

তিনি বলেন, আমি বেশি ভালো সময়ে দলের দায়িত্বে আসিনি। আর মাত্র ২৪দিন আছে, তারপর নির্বাচন। আমি মিডিয়া কর্মীদের বলি, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করেন। আমরা ভবিষ্যতে মিডিয়ার সঙ্গে অতীতেও ছিলাম, এখনও আছি ভবিষ্যতেও থাকবো। আমাদের নেতাকর্মীদের কথা বলার সুযোগ করে দেন।'

তথ্য প্রযুক্তি আইন সংসদে পাশের আগে সাংবাদিকদের পক্ষ নিয়ে বিরোধিতা করার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, 'আমরা বিরোধিতা করেছিলাম, কিন্তু আমাদের এমপি কম থাকায় আটকাতে পারিনি।'

আপনার মতামত লিখুন :

ছাত্রদলের কাউন্সিলের মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু

ছাত্রদলের কাউন্সিলের মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু
বিএনপি নেতাদের কাছ থেকে মনোনয়ন ফরম নিচ্ছেন ছাত্রদলের এক নেতা

বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ষষ্ঠ কাউন্সিলের নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু হয়েছে।

শনিবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মনোনয়ন ফরম বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন নির্বাচনের আপিল কমিটির প্রধান ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু।

নতুন তারিখ অনুযায়ী আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কাউন্সিলরদের ভোটে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, যারা এই দুঃসময়ে ছাত্রদলকে এগিয়ে নিতে শত নির্যাতন উপেক্ষা করে, কারাবরণ করে, হামলা-মামলা সহ্য করে তারেক রহমানের চিন্তা ও পরামর্শে একত্রিত হচ্ছেন তাদের অভিনন্দন জানাই।

তিনি বলেন, আমাদের ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বীরের বেশে দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং আমাদের জনপ্রিয় নেত্রী চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে মুক্ত করতে ছাত্রদলের আগামী নেতৃত্ব সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করছি।

উদ্বোধনের পর মনোয়নপত্র সংগ্রহ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল, ছাত্রদলের বিলুপ্ত কমিটির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সহ-সম্পাদক মামুন খান এবং ছাত্রদল নেতা আলিমুল হাকিম মুন্সি।

নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনয়নপত্র বিতরণ ১৭ ও ১৮ আগস্ট। জমা দেওয়া যাবে ১৯ ও ২০ আগস্ট। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৩১ আগস্ট। ২২-২৬ আগস্ট যাচাই-বাছাই শেষে ২ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।

এরপর ১২ সেপ্টেম্বর মধ্যরাত পর্যন্ত প্রার্থীরা ভোটের জন্য প্রচার চালাতে পারবেন। ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ভোটগ্রহণ হবে।

মনোনয়ন ফরম বিতরণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ড. আসাদুজ্জামান রিপন, ফজলুল হক মিলন, অ্যাড. রুহুল কবির রিজভী, সভাপতি আজিজুল বারী হেলাল,আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, রাজিব আহসান, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, ডাকসুর সাবেক জিএস খায়রুল কবির খোকন, সভাপতি সাবেক ছাত্রনেতা এবি এম মোশাররফ হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিউল বারী বাবু, হাবিবুর রশিদ হাবিব, আকরামুল হাসান প্রমুখ।

'সরকার দেশকে রাজনীতি শূন্য করার চক্রান্ত করছে'

'সরকার দেশকে রাজনীতি শূন্য করার চক্রান্ত করছে'
বিএনপিতে যোগদান অনুষ্ঠানে মির্জা ফকরুল, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, 'আওয়ামীলীগ সরকার বাংলাদেশকে সম্পূর্ণভাবে রাজনীতি শূন্য করে দেওয়ার চক্রান্ত শুরু করেছে। তাদের মূল উদ্দেশ্য দেশে একটি দল থাকবে, আর কোনো দল থাকবে না।' 

শনিবার (১৭ আগস্ট) সকালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির বেশ কয়েকজন নেতার বিএনপিতে যোগদান উপলক্ষে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় গাজীপুরের পৌর সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র মো. আব্দুল করিমসহ তার অনুসারীরা বিএনপিতে যোগদান করেন। বিএনপির মহাসচিব তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566025625294.jpg

 

এই সরকার অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ভাবে বাংলাদেশেকে রাজনীতি শূন্য করে দিচ্ছে দাবি করে বিএনপির এ নেতা বলেন, 'সরকার বিরাজনীতিকরণ করছে। যেন বাংলাদেশের মানুষ রাজনীতি না করতে পারে, রাজনৈতিক দলগুলোও যেন রাজনীতি না করতে পারে এজন্য একে একে সংবিধানে পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। সেই পরিবর্তন করে সরকার বাংলাদেশকে সম্পূর্ণভাবে রাজনীতি শূন্য করে দেওয়ার একটা চক্রান্ত শুরু করেছে। তাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে এই দেশে এক দল থাকবে, আর কোনো দল থাকবে না। আগে তারা বাকশাল করেছিল এখন তারা আবার একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়।'

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566025738765.jpg

 

মির্জা ফখরুল বলেন, 'যখন বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকারের কর্মকাণ্ডে রাজনীতি করা কঠিন হয়ে পড়েছে, ২৬ লাখ মানুষকে আসামি করা হয়েছে, ১ লাখের বেশি মামলা করা হয়েছে, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে আবদ্ধ করে রাখা হয়েছে, সেই সময় মো.আব্দুল করিমের মতো একজন জনপ্রিয় নেতা বিএনপিতে যোগ দেওয়া নিঃসন্দেহে উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এই সময়ে তার বিএনপিতে যোগ দেওয়াটা আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে।'

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, গাজীপুর মহানগর বিএনপি'র সভাপতি হাসান উদ্দিন সরকারসহ মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র