পুন:নির্বাচন চেয়ে সিইসিকে ঐক্যফ্রন্টের স্মারকলিপি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার কাছে স্মারকলিপি দিচ্ছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর/ ছবি: সুমন শেখ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম

একাদশ সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ এনে পুন:নির্বাচনের জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে ড. কামাল নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

বৃহস্পতিবার (৩ জানুয়ারি) বিরোধী এ নির্বাচনী জোটের মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন ভবনে এসে এ স্মারকলিপি জমা দেন।

পরে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এবারের নির্বাচন জাতির সঙ্গে মকারি (উপহাস), ক্রুয়েল মকারি। জাতিকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’ 

দলীয় সরকারের অধীনে কখনই নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটা তো প্রমাণই হলো ২০১৪ সালে নির্বাচন বর্জন করেছিলাম, সেটাই সঠিক। দলীয় সরকারের অধীনে কখনোই সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে না। অনতিবলম্বে নির্বাচন বাতিল করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচনের জোর দাবি জানিয়েছি।’

ইতোমধ্যে নির্বাচনের গেজেট প্রকাশিত হয়েছে, শপথও হয়েছে। এ রকম অবস্থায় সরকারের কাছে না গিয়ে ইসিতে কেন আসল ঐক্যফ্রন্ট- এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ইসিই তো নির্বাচন করেছে, তাদের কাছে আমাদের দাবি জানালাম। এরপরে আমরা অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

স্মারকলিপির শিরোনামে বলা হয়েছে- অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, ভোটারদের সঙ্গে প্রতারণা, ভোট জালিয়াতি, সরকারি প্রশাসন তথা রাষ্ট্রযন্ত্রকে নজিরবিহীনভাবে জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার এবং নির্বাচন কমিশনের সর্বাত্মক পক্ষপাতমূলক কার্যকলাপের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনের ফলাফল বাতিল এবং অনতিবিলম্বে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি।

ফখরুল বলেন, ‘মজার বিষয় হচ্ছে- ব্যালট পেপারের মুড়িতে সই লাগে ভোটারের। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা নেই। প্রতারণা, জালিয়াতির মাধ্যমে ভোটগ্রহণের দায় ইসিকেই বহন করতে হবে। কেননা, নির্বাচনের আগের রাতেই ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ ভোট কেটে ব্যালট বাক্সে ভরে রাখা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের আসতে বাধা দেওয়া হয়।’

‘আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। নির্বাচনের আগের দিন ও রাতে পোলিং এজেন্ট এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের নানারকম হুমকি দেওয়া হয়, গ্রেফতার করা হয়। তাদেরকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয়। ক্ষেত্রেবিশেষে ভোটকেন্দ্রে আসলেও এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রায় সকল কেন্দ্রেই দুপুরের মধ্যে ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যায়। পরে মধ্যাহ্ন বিরতির নামে ভোটকেন্দ্রের মূল ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়। নজিরবিহীনভাবে বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নিস্ক্রিয় করে রাখা হয়। কোনো কোনো কেন্দ্রে ১০০ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়, যা নজীরবিহীন।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিদেশি পর্যবেক্ষকদের দেখানোর জন্য নিজেদের লোক লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। নির্বাচনে নিয়োগ দেওয়া হয় আাওয়ামী লীগের পদধারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা। অনেক ভোটকেন্দ্রেই বিকাল ৪টার আগেই ভোটগণনা শুরু করা হয়। সারাদেশে জালভোটের মহা উৎসব চললেও কোথাও একজন জালভোট প্রদানকারীকেও গ্রেফতার করা হয়নি।’

ঐত্যফ্রন্টের নির্বাচিত প্রার্থীরা শপথ নেবেন না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শপথ নেওয়ার প্রশ্ন আসে কোত্থেকে? আমরা তো ফলাফল প্রত্যাখান করেছি।’

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে- ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের ভেটিং করা হয়নি, দলীয় মনোনয়নে বাধা দেওয়া হয়েছে। মনোনয়নপত্র বাছাই এবং আপিলে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ছিল রহস্যজনক, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নামে গায়েবি মামলা, গ্রেফতার ও নজিরবিহীন নির্যাতন, অন্যায়ভাবে আটক করা হয়েছে।

এছাড়া দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের নিরুৎসাহিত করা হয়েছে, প্রচার কাজে বাধা প্রদান, প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনে রদবদল না করা, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ ও সশস্ত্র বাহিনীকে নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছে।

এ সময় মির্জা ফখরুলের সঙ্গে কাদের সিদ্দিকী, আ স ম আব্দুর রব, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মোস্তফা মহসিন মন্টু, সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

রাজনীতি এর আরও খবর