বোন তোমার পাশে আছি: পারুলকে ফখরুল

নোয়াখালী সদর হাসপাতালে মির্জা ফখরুলসহ ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীরা, ছবি: সংগৃহীত

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম

নোয়াখলীর সুবর্ণচরে ধর্ষণের শিকার পারুল বেগমকে সান্ত্বনা দিয়ে আপ্লুত হয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেছেন, 'বোন আমরা (বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট) তোমার পাশে আছি। তোমার কোনো ভয় নেই। বোন, এই নির্মমতার একদিন বিচার হবে। আল্লাহ এর বিচার করবেন।'

শনিবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে নোয়াখালী জেলা সদরের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে তাকে দেখতে গিয়ে বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল পারুল বেগমের মাথায় হাত বুলানোর সময় আবেগে কেঁদে ফেলেন। এ সময় চারপাশের নেতাকর্মীরাও অশ্রুসজল হয়ে পড়েন। পারুলে কান্নার সাথে তার স্বামীও বিএনপি মহাসচিবকে জড়িয়ে কাঁদেন। পরে জেএসডির আ স ম আবদুর রব ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের নেতা বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীও পারুলের মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দেন।

এ সময় বিএনপি মহাসচিব, আসম আবদুর রব, কাদের সিদ্দিকী পারুলকে আর্থিক সহযোগিতা করেন। এছাড়া পারুলের স্বামী ও চিকিৎসকদের সাথে কথা বলে তার চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/05/1546678766193.jpg

পরে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে এসে সাংবাদিকদের মির্জা ফখরুল বলেন, 'ভোটের অধিকার থেকে আওয়ামী লীগ জনগণকে বঞ্চিত করেছে। এই বঞ্চিত করার পরে যেহেতু তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে, মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে সেজন্য তারা এখন গণশত্রুতে পরিণত হয়েছে। নির্বাচনের পূর্বে, নির্বাচনের দিন ও নির্বাচনের পরবর্তী যে সহিংসতা সৃষ্টি করেছে তাতে অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছে, পঙ্গু হয়েছে। এমনকি আমার বোন নোয়াখালীতে ধর্ষণ পর্যন্তও হয়েছেন, চার সন্তানে মা তিনি। আমরা এর ধিক্কার জানাচ্ছি, তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। জনগণের কাছে এর বিচার দিচ্ছি।'

এ সময় বিএনপি নেতা বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, জয়নুল আবেদিন ফারুক, আতাউর রহমান ঢালী, শামসুল আলম, মাহবুবউদ্দিন খোকন, হারুনুর রশীদ, শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, কামরুজ্জামান রতন, শিরিন সুলতানা, রেহানা আখতার রানু, সৈয়দ আসিফা আশরাফী পাপিয়া, শামীমা বরকত লাকী, হারুনুর রশীদ, আকবর হোসেন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের হাবিবুর রহমান খোকা, চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার, শায়রুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় নেতাদের মধ্যে ছিলেন, জেলা সভাপতি গোলাম হায়দার বিএসসি, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান, শহর সভাপতি আবু নাসের, অঙ্গসংগঠনের মঞ্জুরুল আজিম সুমন, নুরুল আমিন খান, সাবের আহমেদ, মিজানুর রহমান মিজান, আবু হাসান নোমান প্রমুখ।

উল্লেখ্য গত ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের ভোট গ্রহণের দিন রাতে সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলীতে পারুল তার স্বামী-সন্তানদের বেঁধে পিটিয়ে আহত করা হয়। এবং পারুলকে ঘরের পাশে পুকুর পাড়ে নিয়ে ধর্ষণ করে স্থানীয় আওয়ামী লীগের ১০-১২ জন সদস্য।

রাজনীতি এর আরও খবর