Alexa

বিরোধীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সংলাপ ‘রাজনৈতিক’ নাকি ‘সৌজন্যতা’?

বিরোধীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সংলাপ ‘রাজনৈতিক’ নাকি ‘সৌজন্যতা’?

ছবি: সংগৃহীত

দলীয় সরকারের অধীনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোকে ধন্যবাদ জানাতে চান আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের সঙ্গে যৌথসভায় প্রধানমন্ত্রী তার এই ইচ্ছার কথা জানান।

নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রীর এমন ইচ্ছা রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও বিরল বলে মনে করছেন অনেকে। ফলে এটা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। তবে প্রধানমন্ত্রীর এই ইচ্ছা শুধুই ‘সৌজন্যতা’ নাকি ‘রাজনৈতিক কৌশল’ সেটাও বুঝতে চান অনেকে। এমনকি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাই জানেন না এটার মূল উদ্দেশ্য কী। তবে প্রধানমন্ত্রীর দাওয়াতের অপেক্ষায় আছেন অনেক দলের নেতা।

নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মহলের শুভেচ্ছা বার্তায় সিক্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এখন তিনি দেশ গঠনে অনেকটা নির্ভার। রোববার প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে অফিসও করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলগুলোর আপত্তি ও দাবি ততটা আমলে না নিলেও তাদের সঙ্গে দেখা করতে চান। যেটাকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের উদ্যোগের ফলে রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যে যেমন দেখা সাক্ষাৎ হবে তেমনি মতপার্থক্যগুলো পরিস্কার হবে। অনেক কঠিন বিষয়ও সহজেই সমাধান হতে পারে।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ একাধিক নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশে দলীয় সরকারের অধীনে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে। এই অর্জন সবার। এজন্য চলতি মাসের শেষের দিকে প্রধানমন্ত্রী গণভবনে নির্বাচনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বসতে চান, ধন্যবাদ দিতে চান। তবে ধন্যবাদের আড়ালে বিভিন্ন আলাপ-আলোচনাও হবে। কেননা দেশকে এগিয়ে নিতে বিরোধীপক্ষের চিন্তা-ভাবনাগুলোও জানতে চান প্রধানমন্ত্রী।

তারা আরো জানান, নির্বাচনের আগে সংলাপে শুধু রাজনীতি নয়, দেশ গঠনের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যে তাদের ভুলে যাননি, তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করার আগ্রহ যে তার আছে, সেই বিষয়টাই মুখ্য।

এদিকে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থীদের বিজয়ের পর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ বিএনপির নেতারা অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে। ফলে দেশে পুনরায় নির্বাচন হওয়া প্রয়োজন। এমনকি বিএনপি’র বিজয়ী প্রার্থীরা শপথও নেননি।

রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে প্রধানমন্ত্রীর সংলাপের আগ্রহকে ইতিবাচকভাবে দেখছে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সবাইকে ডাকবেন সংলাপে, একটু তো ইঙ্গিত থাকবে কী কী বিষয় নিয়ে এই সংলাপ। যদি সেটা আমাদের কাছে বিবেচনাযোগ্য হয়, তখন আমরা কমিটিতে সিদ্ধান্ত নেবো।’

প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় নিয়ে ড. কামাল হোসেনের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম বার্তা২৪.কম’কে বলেন, ‘ওনাদের প্রত্যাশা অনেক কিছু, সেটা থাকতেই পারে। এখন অপেক্ষা করতে হবে যে কী প্রক্রিয়ায় শুরু হয়। দাওয়াতটা কী প্রক্রিয়ায় হয় সেটা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘তাদেরকে দাওয়াত দেওয়া হবে। দাওয়াত যখন দেওয়া হবে সেখানে কথাবার্তা হবে। এটাই এক ধরনের সংলাপ।’

অন্যদিকে ‘সংলাপের’ বিষয় নাকচ করে দিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল-আলম হানিফ বার্তা২৪.কম’কে বলেন, ‘সংলাপের কথা তো বলা হয়নি। নির্বাচনের আগে যেসব রাজনৈতিক দলের নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়েছিলেন তাদেরকে গণভবনে চা-পানির দাওয়াত দেওয়া হবে। যার ইচ্ছে হবে সে চা-পানি খেতে আসবে। তবে আমরা আশা করি সবাই আসবে।’