Barta24

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বিরোধীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সংলাপ ‘রাজনৈতিক’ নাকি ‘সৌজন্যতা’?

বিরোধীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সংলাপ ‘রাজনৈতিক’ নাকি ‘সৌজন্যতা’?
ছবি: সংগৃহীত
রেজা-উদ্-দৌলাহ প্রধান
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

দলীয় সরকারের অধীনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোকে ধন্যবাদ জানাতে চান আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের সঙ্গে যৌথসভায় প্রধানমন্ত্রী তার এই ইচ্ছার কথা জানান।

নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রীর এমন ইচ্ছা রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও বিরল বলে মনে করছেন অনেকে। ফলে এটা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। তবে প্রধানমন্ত্রীর এই ইচ্ছা শুধুই ‘সৌজন্যতা’ নাকি ‘রাজনৈতিক কৌশল’ সেটাও বুঝতে চান অনেকে। এমনকি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাই জানেন না এটার মূল উদ্দেশ্য কী। তবে প্রধানমন্ত্রীর দাওয়াতের অপেক্ষায় আছেন অনেক দলের নেতা।

নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মহলের শুভেচ্ছা বার্তায় সিক্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এখন তিনি দেশ গঠনে অনেকটা নির্ভার। রোববার প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে অফিসও করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলগুলোর আপত্তি ও দাবি ততটা আমলে না নিলেও তাদের সঙ্গে দেখা করতে চান। যেটাকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের উদ্যোগের ফলে রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যে যেমন দেখা সাক্ষাৎ হবে তেমনি মতপার্থক্যগুলো পরিস্কার হবে। অনেক কঠিন বিষয়ও সহজেই সমাধান হতে পারে।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ একাধিক নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশে দলীয় সরকারের অধীনে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে। এই অর্জন সবার। এজন্য চলতি মাসের শেষের দিকে প্রধানমন্ত্রী গণভবনে নির্বাচনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বসতে চান, ধন্যবাদ দিতে চান। তবে ধন্যবাদের আড়ালে বিভিন্ন আলাপ-আলোচনাও হবে। কেননা দেশকে এগিয়ে নিতে বিরোধীপক্ষের চিন্তা-ভাবনাগুলোও জানতে চান প্রধানমন্ত্রী।

তারা আরো জানান, নির্বাচনের আগে সংলাপে শুধু রাজনীতি নয়, দেশ গঠনের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যে তাদের ভুলে যাননি, তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করার আগ্রহ যে তার আছে, সেই বিষয়টাই মুখ্য।

এদিকে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থীদের বিজয়ের পর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ বিএনপির নেতারা অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে। ফলে দেশে পুনরায় নির্বাচন হওয়া প্রয়োজন। এমনকি বিএনপি’র বিজয়ী প্রার্থীরা শপথও নেননি।

রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে প্রধানমন্ত্রীর সংলাপের আগ্রহকে ইতিবাচকভাবে দেখছে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সবাইকে ডাকবেন সংলাপে, একটু তো ইঙ্গিত থাকবে কী কী বিষয় নিয়ে এই সংলাপ। যদি সেটা আমাদের কাছে বিবেচনাযোগ্য হয়, তখন আমরা কমিটিতে সিদ্ধান্ত নেবো।’

প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় নিয়ে ড. কামাল হোসেনের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম বার্তা২৪.কম’কে বলেন, ‘ওনাদের প্রত্যাশা অনেক কিছু, সেটা থাকতেই পারে। এখন অপেক্ষা করতে হবে যে কী প্রক্রিয়ায় শুরু হয়। দাওয়াতটা কী প্রক্রিয়ায় হয় সেটা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘তাদেরকে দাওয়াত দেওয়া হবে। দাওয়াত যখন দেওয়া হবে সেখানে কথাবার্তা হবে। এটাই এক ধরনের সংলাপ।’

অন্যদিকে ‘সংলাপের’ বিষয় নাকচ করে দিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল-আলম হানিফ বার্তা২৪.কম’কে বলেন, ‘সংলাপের কথা তো বলা হয়নি। নির্বাচনের আগে যেসব রাজনৈতিক দলের নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়েছিলেন তাদেরকে গণভবনে চা-পানির দাওয়াত দেওয়া হবে। যার ইচ্ছে হবে সে চা-পানি খেতে আসবে। তবে আমরা আশা করি সবাই আসবে।’

 

আপনার মতামত লিখুন :

এরশাদের মরদেহ ১১টায় রংপুর পৌঁছাবে

এরশাদের মরদেহ ১১টায় রংপুর পৌঁছাবে
ঢাকায় এরশাদের মরদেহের সামনে নেতাকর্মীদের ভিড়, ছবি: ফাইল ফটো

বেলা ১১টায় হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মরদেহবাহী হেলিকপ্টার রংপুর সেনানিবাসে অবতরণ করবে। সেখান থেকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত লাশবাহী গাড়িতে করে সোজা জানাজা স্থল রংপুর ঈদগাহ মাঠে নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা।

তিনি জানান, গাড়িতেই থাকবে মরদেহ, কাচের ঢাকনার ওপর দিয়ে এক নজর দেখার ব্যবস্থা করা হবে। বাদ জোহর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

দাফনের বিষয়ে সর্বশেষ সিদ্ধান্ত কী জানতে চাইলে ১৬ জুলাই সকালে রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) মেয়র বলেন, ‘আমরা চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি রংপুরে দাফন করার জন্য। শরীরে এক বিন্দু রক্ত থাকা পর্যন্ত স্যারের মরদেহ রংপুর থেকে নিতে দেওয়া হবে না।’

আপনাদের এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়েছে কী। এমন প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, ‘হ্যাঁ গতরাতে (১৫ জুলাই) ফোনে কথা হয়েছে। তখন উনি আমাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। আমি তাকে সাফ জানিয়ে দিয়েছি বিষয়টি আমার একার সিদ্ধান্ত নয়, রংপুরের ৮ জেলার নেতাদের সিদ্ধান্ত।’

‘আমরা বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি একা এই সিদ্ধান্তের বাইরে যেতে পারব না। আমরা রংপুরেই দাফন করব। বাধা এলে আমারও প্রস্তুত আছি।’

রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সেক্রেটারি এসএম ইয়াসির বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জীবিত থাকা অবস্থায় এক সফরে নিজেই রংপুর দাফন করার বিষয়ে ওসিয়ত করে গেছেন। আমরা সেটাই পালন করছি। একটি গ্রুপ লাশ নিয়ে রাজনীতি করতে চায়, আমরা সেটা হতে দিতে পারি না।’

জাতীয় পার্টির সারাদেশের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের প্রথম চাওয়া ছিল ঢাকায় দাফন করা হোক। তবে সেটা হতে হবে উন্মুক্ত স্থানে। যেখানে মসজিদ- মাদরাসা নিয়ে কমপ্লেক্স থাকবে। কিন্তু এরশাদের মৃত্যুর পর যখন সামরিক কবরস্থানে দাফনের ঘোষণা করা হয় তখন অনেকেই বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। রংপুরে দাফনের বিষয়ে সারা দেশের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মৌন সমর্থন রয়েছে বলে জানা গেছে। তারা মনে করছেন সামরিক কবরস্থানে দাফন করলে সেখানে যখন তখন যেতে পারবেন না। তার চেয়ে রংপুর অনেক ভালো, চাইলেই দেখে আসতে পারবেন।

অজেয় এরশাদ

অজেয় এরশাদ
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, পুরনো ছবি

রংপুরের কারমাইকেল কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠানের আটশ’ মিটার দৌড় প্রতিযোগিতায় অন্যরা যখন সাতশ’ মিটার শেষ করেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তখন আটশ’ মিটারই শেষ করেছিলেন। দর্শকদের মধ্যে যারা অমনোযোগী ছিলেন, তাদের কেউ কেউ নাকি দ্বিধায় পড়ে গিয়েছিলেন।

খেলাধুলার পাশাপাশি অন্যান্য জায়গাতেও অজেয় ছিলেন এরশাদ। জীবনে কখনও কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি। যখন যেখানে যে পদে নির্বাচন করেছেন দেশের জনগণ তাকে সেখানেই বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছে। অনেকটা গর্ব করেই বলতেন এসব কথা।

ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা জীবদ্দশায় বারবার উল্লেখ করেছিলেন। তিনি বলতেন, ‘সামরিক শাসক ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পর কারাগারে পাঁচটি আসনে জয়ী হওয়ার নজির পৃথিবীতে নেই। একমাত্র আমি জেলে থেকেও পাঁচটি আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছিলাম। অন্য অনেক নেতা পরাজয় বরণ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।’

ষষ্ঠ জাতীয় সংসদে বিজয়ী হওয়া ওই পাঁচটি আসন ছিল- বৃহত্তর রংপুরের। এরপর ১৯৯৬ সালেও পাঁচ আসনে নির্বাচন করে সবক’টি থেকেই বিজয়ী হন। পরে রংপুর সদর আসন রেখে অন্যগুলো ছেড়ে দেন। ২০০১ সালে তিনটি আসনে নির্বাচন করে তিনটিতেই বিজয়ী হন। এসব বিজয়ী হওয়া নিয়ে তাকে অনেকে ব্যঙ্গ করে বলতেন, ‘রংপুরের বাইরে থেকে নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে দেখাক।’ বিরোধীদের সেই চ্যালেঞ্জেও শতভাগ সফল হন প্রয়াত এরশাদ।

২০০৮ সালে রংপুর সদরের পাশাপাশি ঢাকার প্রেসটিজিয়াস আসন ক্যান্টনমেন্ট, গুলশান, বনানী থেকে নির্বাচন করে বিএনপির প্রার্থীকে বিপুল ভোটে পরাজিত করেন। এসব ঘটনাক্রমের নজির উত্থাপন করে এরশাদ বলতেন, ‘আমি কখনও স্বৈরাচার ছিলাম না। আমি যে জনপ্রিয় ছিলাম, জনগণ তা ভোটের মাধ্যমে জানান দিয়েছে। কিন্তু যারা আমাকে স্বৈরাচার বলেন, তারা কিন্তু জনগণের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন কখনও কখনও।’

১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ থেকে টানা প্রায় নয় বছর রাষ্ট্রপতি ছিলেন এরশাদ। রোববার (১৪ জুলাই) সকাল পৌনে ৭টার দিকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। 

১৯৩০ সালের ২০ মার্চ কুড়িগ্রামে নানার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পাঁচ ভাই পাঁচ বোনের মধ্যে দ্বিতীয় এবং ভাইদের মধ্যে সবার বড় ছিলেন তিনি।

অনেকদিন ধরেই অসুস্থতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন নব্বই বছরে পা রাখা এরশাদ। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গত ২০ নভেম্বর ইমানুয়েলস কনভেনশন সেন্টারে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সামনে সবশেষ আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেন তিনি। এরপর অসুস্থতার কারণে আর কোনো কর্মসূচিতে অংশ নেননি। ৬ ডিসেম্বর গাড়িতে করে অফিসের সামনে এলেও রাস্তায় গাড়িতে বসে কথা বলেই চলে যান।

১০ ডিসেম্বর চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যান এরশাদ। ২৬ ডিসেম্বর দেশে ফিরলেও নির্বাচনী প্রচারণায় যোগ দেননি। এমনকি নিজের ভোটও দিতে যেতে পারেননি তিনি।

ভোটের পর শপথ নেন আলাদা সময়ে গিয়ে। সেদিনও স্পিকারের কক্ষে হাজির হয়েছিলেন হুইল চেয়ারে বসে। ২০ জানুয়ারি ফের সিঙ্গাপুরে যান চিকিৎসার জন্য। ফেরেন ৪ ফেব্রুয়ারি।

গত ২৬ জুন তার স্বাস্থ্যের অবনতি হলে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ জুলাই চিরবিদায় নিলেন তিনি।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র