Barta24

বুধবার, ২৪ জুলাই ২০১৯, ৯ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

খালেদাকে মুক্ত করতে কর্মসূচি চাইলেন প্রার্থীরা

খালেদাকে মুক্ত করতে কর্মসূচি চাইলেন প্রার্থীরা
ছবি: বার্তা২৪
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের গণশুনানিতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে নতুন কর্মসূচি চেয়েছেন গত নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীরা। তারা বলেছেন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত না করতে পারলে দেশে গণতন্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব নয়।

শুক্রবার (২২ ডিসেম্বর) সকালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে গণশুনানি শুরু হয়। সকাল থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত চলে গণশুনানি। এতে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৪৩ জন প্রার্থী অংশ নেন এতে। গত ৩০ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনের স্ব স্ব এলাকার পরিস্থিতি তুলে ধরেন তারা।

জামালপুর-৫ আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, নির্নাচনে আমাদের পরাজয় হয়নি। আমাদের পরাজয় সেদিনই হয়েছে যেদিন খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে। যেদিন তারেক রহমানকে সাজা দেওয়া হয়েছে। আমাদের নেতাদের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা দেওয়া হয়েছে। আমরা ১২ বছর সংগ্রাম করেছি, তারপর যখন আমাদের সকল দাবি থেকে সরে এসে নির্বাচনে গিয়েছি, সেদিনই আমাদের পরাজয় হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের নেতৃকে মুক্ত করতে হবে। তারেক রহমান ও নেত্রীর মুক্তির জন্য কর্মসূচি দিতে হবে। আন্দোলন ছাড়া তাদের মুক্তি সম্ভব নয়। আন্দোলনে আগেও ছিলাম, সামনেও থাকব।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/22/1550843975188.jpg

নরসিংদী-২ আসনের প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন বকুল ড. কামাল হোসেনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আজকে বিএনপি একটা অর্গানাইজেশন নয়, বিএনপি মানে বাংলাদেশ। নেত্রী আপনার উপর দায়িত্ব দিয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়াকে বের করার জন্য আমরা কিছুই করতে পারি নাই। খালেদা জিয়ার মুক্তি জন্য কর্মসূচি চাই, আন্দোলন চাই। খালেদা জিয়া আপনাকে এই চেয়ারের দায়িত্ব দিয়েছেন, আপনি তার মুক্তির জন্য কর্মসূচি দেন। আমরা আপনার সামনে থাকব।

অন্যান্য প্রার্থীর মতো ঢাকা-১ আসনের খন্দকার আবু আশফাক বলেন, নির্বাচন করতে পারি নাই, আমাদের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে, নির্বাচন থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যখন নির্বাচনের ফল ঘোষণা করলো, তখন কিন্তু আমরা কর্মসূচি দিতে পারতাম। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে এবং তারেক রহমানকে দেশে আনতে কর্মসূচি বা প্রোগ্রাম চাই।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/22/1550843943948.jpg

মাগুড়া-২ আসনের প্রার্থী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, কেন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না? তারেক জিয়াকে দেশে আসতে দেওয়া হচ্ছে না? কারণ তারা বাইরে থাকলে সরকারের তাখতে তাউস ভেঙ্গে যেত। এই নির্বাচনে যাওয়া আমাদের ভুল হয়েছে। আমাদের সাত দফা দাবি মানা হয়নি। তারপরেও যাওয়া উচিৎ হয়নি। এটাকে একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলা যায় না। আমাদের ভাবতে হবে, কীভাবে আন্দোলন জোরদার করা যায়, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা যায়।

হবিগঞ্জ-১ আসনের ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, আমরা নির্বাচনের পূর্বেই ধারণা করেছিলাম, সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ হয়তো আমাদের থাকবে না। নির্বাচনের সময় নিজের বাড়িতে মিটিং করেছি। মিটিং শেষে নেতারা যখন ঘর থেকে বের হন, সাদা পোশাকধারী লোক তাদের মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। আমার এলাকায় নির্বাচনের এক মাস পূর্বেই কর্মীরা বাড়ির বাইরে পলাতক ছিলেন। নেতাদের না পেয়ে ১৬ বছরের ছেলেদের ধরে নিয়ে যায়। নির্বাচনের রাতে প্রায় ২০টা ফোন আসলো, ভোট তো অর্ধেক হয়ে গেছে!

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/22/1550843922029.jpg

গণশুনানির বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ, আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, ড. নুরুল আমিন বেপারী, অ্যাডভোকেট ড. মহসিন রশীদ, সাবেক বিচারপতি আ ক ম আনিসুর রহমান খান, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কৃষক-শ্রমিক লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, ঐক্যফ্রন্টের নেতারা, বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ, সারা দেশ থেকে আসা জোটের প্রার্থীরা।

আপনার মতামত লিখুন :

এরিকের সুরা পাঠে এরশাদের দোয়া মাহফিল

এরিকের সুরা পাঠে এরশাদের দোয়া মাহফিল
বাবার জন্য দোয়া করছে এরিক, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বারিধারার বাসায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্মরণে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে সুরা পাঠ করলেন ছেলে এরিক এরশাদ।

তার দোয়া পাঠের মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) বাদ আছর প্রেসিডেন্ট পার্কে পরিবারের পক্ষ থেকে আয়োজিত এ দোয়া মাহফিল শুরু হয়।

দোয়ার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, ‘ওনার (এরশাদ) চারটি জানাজায় যে লোক সমাগম হয়েছে, তা অভূতপূর্ব। যেখানে যে জানাজা হয়েছে, সেখানকার লোক সেটাকে রেকর্ড বলেছেন। এটা ওনার প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চিঠি দিয়ে শোক প্রকাশ করেছেন। মোদি লিখেছেন, এরশাদ আমাদের অকৃত্রিম বন্ধু ছিলেন। তিনি বাংলাদেশের জন্য যা করে গেছেন, দেশের মানুষ ওনাকে চিরকাল স্মরণ রাখবে। আরো অনেক দেশ থেকে প্রশংসাসূচক চিঠি এসেছে।’

শুধু দেশে নয়, বিদেশেও সম্মান পেয়েছেন তিনি। শুধু গরিব নয়, বিত্তশালীরাও ওনার জন্য চোখের জল ফেলেছেন বলে মন্তব্য করেন জিএম কাদের।

দোয়া মাহফিলে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা ছাড়াও তার প্রতিবেশীরা অংশ নেন। মোনাজাতের প্রায় পুরোটা সময় ধরে চোখের জল ফেলেন এরিক।

সিনিয়র নেতাদের মধ্যে এ মাহফিলে অংশ নেন মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা, সাবেক মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান, আব্দুস সাত্তার, শেখ সিরাজুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান, সালমা ইসলাম এমপি, মেজর (অব.) খালেদ আখতার, ফখর উজ জামান জাহাঙ্গীর সৈয়দ দিদার বখত, রেজাউল ইসলাম ভুইয়া প্রমুখ।

রওশনের চিঠিকে উড়ো বললেন জিএম কাদের

রওশনের চিঠিকে উড়ো বললেন জিএম কাদের
রওশন এরশাদ ও জিএম কাদের, ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের দায়িত্বের প্রশ্নে রওশন এরশাদের বিবৃতিকে উড়ো চিঠি বলে মন্তব্য করেছেন পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

যেহেতু অফিসিয়ালি এ ধরনের কোনো চিঠি আমরা পাইনি, তাই এ বিষয়ে এখনই কোনো প্রতিক্রিয়া জানাতে চাচ্ছি না। কোনো প্রতিক্রিয়া থাকলে মিডিয়া ডেকে জানানো হবে বলেও মন্তব্য করেছেন এরশাদের এই সহোদর।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সোমবার (২২ জুলাই) দিনগত রাতে জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদসহ ১০ জন প্রেসিডিয়াম সদস্য এক যৌথ বিবৃতি দেন। সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা রওশন এরশাদের প্যাডে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি, জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদেরকে চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। যা আদৌ কোনো যথাযথ ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালনকালে পার্টির গঠনতন্ত্রের ধারা ২০(২) এর খ ধারা প্রয়োগ করতে পারবেন। (মনোনীত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রেসিডিয়ামের সংখ্যাধিক্যের মতামতের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করবেন। চেয়ারম্যানের অবর্তমানে ধারা ২০(২) এর ক উপেক্ষা করা যাবে না)। আশা করি, তিনি (জিএম কাদের) পার্টির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী চেয়ারম্যান না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।

রওশন এরশাদের ওই হাতে লেখা চিঠির সত্যতা এবং এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন কাদের পন্থীরা। তাদের বক্তব্য হচ্ছে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জীবিত থাকা অবস্থায় ভবিষ্যৎ চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছেন জিএম কাদেরকে। এ নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। আবার সংখ্যাধিক্য সিনিয়র নেতাসহ পার্টির তৃণমূলের পূর্ণাঙ্গ সমর্থন রয়েছে জিএম কাদেরের প্রতি।

জীবিত এরশাদের একটি নির্দেশনার বলে জিএম কাদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে চেয়ারম্যান হয়ে গেছেন, ১৮ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেন পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা। জাতীয় পার্টির মহাসচিবের এমন ঘোষণার চার দিনের মাথায় রওশন গ্রুপ এমন প্রতিক্রিয়া দেখাল।

জাতীয় পার্টির এ নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব অনেক পুরনো। এরশাদ জীবিত থাকা অবস্থায় গত ১৬ জানুয়ারি জিএম কাদেরকে তার অবর্তমানে পার্টির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। পরে ২২ মার্চ আরেক সাংগঠনিক নির্দেশনায় ১৬ জানুয়ারির নির্দেশনা বাতিল করেন এরশাদ।

এরপর কাদেরকে বহালে আন্দোলনে নামেন রংপুরের নেতারা। অনেকটা বাধ্য হয়ে ২২ মার্চের নির্দেশনা বাতিল করে কাদেরকে পুনর্বহাল করেন এরশাদ। নতুন করে নির্দেশনা জারি করা হয়। ওই চিঠিতে বলা হয়, এরশাদের অবর্তমানে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন জিএম কাদের।

চিঠিতে এরশাদ লিখেছেন, গত ২২ মার্চ যে সাংগঠনিক নির্দেশ দিয়েছিলাম আজকের চিঠির মাধ্যমে আগের আদেশটি বাতিল ঘোষণা করছি।

জিএম কাদেরকে ব্যর্থ উল্লেখ করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও কো-চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর দিন ২৩ মার্চ জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতার পদ থেকেও সরিয়ে দেন। বিরোধী দলীয় উপনেতা করেন রওশন এরশাদকে।

এর আগে ছোট ভাই জিএম কাদেরকে ১৮ জানুয়ারি এক সাংগঠনিক আদেশে জাপার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং ভবিষ্যৎ চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছিলেন।

গঠনতন্ত্রে পদ না থাকলেও ২০১৬ সালে জিএম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছিলেন এরশাদ। এরপর রওশন পন্থীদের চাপে রওশন এরশাদকে সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান করেছিলেন এরশাদ।

এরশাদ মারা যাওয়ার পর থেকেই শঙ্কা ছিল নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব নিয়ে। জিএম কাদের চেয়ারম্যান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পর রওশন পন্থীদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে অনেকে উদ্বিগ্ন ছিলেন। শনিবার (২০ জুলাই) রওশনের বাসায় গিয়েছিলেন জিএম কাদের। তখন কথা রটে যায়, রওশন এরশাদ দেবর কাদেরকে চেয়ারম্যান হিসেবে আশির্বাদ করে দিয়েছেন। আর রওশন সংসদীয় দলের নেতা হবেন। এ খবরে পার্টির নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি নেমে এসেছিল। কিন্তু নতুন প্রতিক্রিয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে নেতাকর্মীদের মধ্যে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র