উন্নয়নের নামে ঋণের বোঝা চাপানো হচ্ছে: ড. কামাল

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ড. কামাল হোসেন/ ফাইল ছবি

ড. কামাল হোসেন/ ফাইল ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ‘বর্তমান সরকারের আমলে যেসব জিনিসকে বলা হচ্ছে উন্নয়ন, এই উন্নয়ন আইয়ুব, ইয়াহিয়া করেছিল। ওটাকে বঙ্গবন্ধু ঘৃণা করেছিলেন। কেননা তারা যেসব দাবি করেছিল, সবকিছু ঋণ নিয়ে করা হচ্ছিল। এখন আমাদের উপর উন্নয়নের নামে যে ঋণের বোঝা চাপানো হচ্ছে, তা বাড়তে বাড়তে অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেবে।’

তিনি বলেন, ‘এখনই সরকারের পরিবর্তন চাই। নির্বাচন দেন, বলছি না অন্য কোনোভাবে। নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারের পরিবর্তন হোক। যদি সৎ সাহস থাকে, বুকের পাটা থাকে, নির্বাচন দেন। সংসদীয় গণতন্ত্রের কোনো সংকট হলে দুয়েক বছরের মধ্যে নির্বাচন দেওয়া যায়।’ 

বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলার কনফারেন্স লাউঞ্জে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘১৬ কোটি মানুষের সঙ্গে যে বেঈমানি করা হচ্ছে, প্রতারণা করা হচ্ছে, সেগুলো আইয়ুব, ইয়াহিয়াকে হার মানাচ্ছে। নির্বাচিত সরকার হিসেবে নিজেকে মানুষের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে, এটা আমার কাছে সবচেয়ে বড় দু:খ। ৩০ ডিসেম্বর কোনো নির্বাচনই হয়নি।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এ প্রধান নেতা বলেন, ‘এই সরকারের উপর দেশের মানুষের বিন্দুমাত্র আস্থা  নেই। আমাকে মিথ্যুক প্রমাণিত করতে হলে ইলেকশন দেন। অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন দেন।’

সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, 'যিনি (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে বসে আছেন, জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে, এটা খুব ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছেন যে তিনি আর কোনোদিন কোনো নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারবেন না। সেজন্য আবার ঐ একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বাকশাল নিয়ে আসার কথা ভাবছেন।’

‘এটা নিঃসন্দেহ এদেশের জনগণের জন্য একটা আতঙ্কের সংবাদ। এদেশের মানুষ কখনো এক দলীয় শাসন, এক ব্যক্তির শাসন মেনে নেবে না। দেশের মানুষ সব সময় প্রতিবাদ করেছে, বিজয় ছিনিয়ে এনেছে।’ 

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেএসডির সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসিন মন্টু, নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন :