খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা বিদেশিদের জানালো বিএনপি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবিঃ বার্ত২৪.কম

ছবিঃ বার্ত২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে ঢাকায় অবস্থিত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের জানিয়েছে দলটি।

বৃহস্পতিবার বিকেলে গুলশানে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলীয় প্রধানের স্বাস্থ্যের বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন। প্রায় দেড় ঘণ্টার ওই ব্রিফিংয়ে অন্তত ১৫-১৬টি দেশের কূটনীতিক ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ব্রিফিংয়ে মির্জা ফখরুল কূটনীতিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, 'আমাদের আশঙ্কা, সরকারের সত্যিকার লক্ষ্য হলো সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলা। আমরা মনে করিয়ে দিতে চাই, বাংলাদেশের সংবিধান ও সর্বজনীন অধিকারের নীতি অনুসারে তার জামিন এবং ন্যূনতম উপযুক্ত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। উপযুক্ত স্বাস্থ্যসেবার অধিকারের মধ্যে বড় অংশ হলো হাসপাতালের পরিবেশ এবং রোগীর আত্মবিশ্বাস। কিন্তু এর পরিবর্তে তার মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে এবং তিনি যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন তা পূর্ব পরিকল্পিত ও মানবাধিকারের লঙ্ঘন।'

দুই পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘খালেদা জিয়ার কিডনিতে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে এবং ইতিমধ্যে স্বাস্থ্যের ক্ষতি সাধিত হয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য দিন দিন অবনতি হচ্ছে। তার পছন্দ অনুযায়ী হাসপাতালে চিকিৎসা না দিয়ে সরকার উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে কৌশলে কষ্ট দিচ্ছে। পরিত্যক্ত অন্ধকার কারাগারের ভবনে ফেলে রাখার কারণে তার স্বাস্থ্যের ওপর গভীর প্রভাব পড়েছে। প্রথম অবস্থায় তিনি এতটা অসুস্থ ছিলেন না। হেঁটে কারাগারে গেছেন হাজিরা দিতে। কিন্তু এখন তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে, হুইল চেয়ার ছাড়া চলাফেরা করতে পারেন না। চোখে দেখেন না ঠিকমতো। চিকিৎসক তার এমআরআই করাতে পরামর্শ দিয়েছিলেন, কিন্তু সেটাও করা হয়নি। তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এছাড়া শারীরিক সকল বিষয়ে ও জামিন রাজনীতি সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন বিএনপির মহাসচিব।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে- ব্রিফিংয়ে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীন, জাপান, ফ্রান্স, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, স্পেন, মিয়ানমার, তুরস্ক, মিশর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান, কুয়েতসহ জাতিসংঘ ও বিভিন্ন রাষ্ট্র এবং সংস্থার রাষ্ট্রদূত, প্রতিনিধি ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির পক্ষে মির্জা ফখরুল ছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। এছাড়া বিএনপির ফরেইন অ্যাফেয়ার্স কমিটির (এফএসি) সদস্যরাও অংশ নেন।

আপনার মতামত লিখুন :