Barta24

বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

খালেদাকে ছোট করতে নোংরা প্রহসন চলছে: নজরুল

খালেদাকে ছোট করতে নোংরা প্রহসন চলছে: নজরুল
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান , ছবি: সংগৃহীত
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
ঢাকা
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘খালেদা জিয়াকে হেয় করতেই এতিমের টাকা মেরে খেয়েছে বলে মিথ্যা বলা হচ্ছে। মিথ্যা বলে তাকে হেয় করার কৌশল নিয়েছে সরকার। তাকে ছোট করতে বাংলাদেশে নোংরা প্রহসন চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।’

মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় শ্রমিকদলের নেতা মরহুম আবুল কাশেম চৌধুরী, মরহুম শহীদুল ইসলাম চৌধুরী দুলাল, মরহুম মোহাম্মাদ উল্লাহ ভুঁইয়ার স্মরণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির অঙ্গ সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদল এ সভার আয়োজন করে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘একটা মিথ্যা মামলা, যাতে খালেদা জিয়ার সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ করা যায়নি, সেই মামলায় তাকে সাজা দেওয়া হয়েছে। মামলার রায়ে কোথাও বলা নাই যে তিনি এতিমের টাকা চুরি করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এতিমের টাকা তসরুপের কথা বলা হয়েছে। সে টাকা ব্যাংকে জমা আছে এবং সেটা কয়েক গুণ বেড়েছে। ওই টাকা কেউ তসরুপ করেনি। তাই এর জন্য তার সাজা হয়েছে এই তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট। যারা এ কথা হলে তারা মিথ্যা কথা বলে। কেনো বলে এই কথা, কারণ খালেদা জিয়াকে হেয় করার জন্য।’ 

তিনি বলেন, কেনো তাকে হেয় করা দরকার? কারণ তার থেকে বড় হওয়ার ক্ষমতা বাংলাদেশের কারো নাই। কিন্তু তাকে ছোট করতে হবে। কিভাবে?

‘তার পা টা কেটে দেন যাতে ছোট হয়ে যায়। এই যে নোংরা রাজনীতি, কৌশল, যে আমি আপনার চেয়ে বড় হওয়ার চেষ্টা করবো না। কিন্তু আপনার পা টা কেটে আপনাকে ছোট করে ফেলবো! এই নোংরা প্রহসন বাংলাদেশে চলছে। আমরা এগুলো দেখতে চাই না। আমরা চাই দেশে গণতান্ত্রিক রাজনীতি বিরাজ করুক।’ 

সরকারের সমালোচনা করে শ্রমিকদলের সাবেক এই নেতা বলেন, আমাদের দেশে এখন গণতান্ত্রিক সরকার নেই। তাই তারা নোংরা কৌশল করবেই। কারণ ভাল কৌশলে তাদের বিজয়ী হওয়ার সামর্থ্য তাদের (আওয়ামী লীগের) নেই। আমরা চ্যালেঞ্জ করতে চাই, খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে যদি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন দেওয়া হয় তাহলে এই সরকারের বিজয়ী হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নাই।

খালেদা জিয়ার গৃহকর্মী ফাতেমাকে নিয়ে মিথ্যাচার করা হচ্ছে মন্তব্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘একটি টিভি চ্যানেলে ম্যাডামের সঙ্গে যে মেয়েটি (ফাতেমা) থাকে, স্বেচ্ছায় কারাবরণ করেছে, তার বাবাকে দিয়ে একটি সাক্ষাৎকার প্রচার করেছে। এ চ্যানেলটিকে আমরা চিনি। তাদের প্রতিদিনের খবর দেখলে বুঝা যায়, তারা কাদের জন্য কাজ করে। আমি মহাসচিব (মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে) কে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে একটা ব্যাপার শোনা গেলো এটা কি?

মহাসচিব বললেন, একশ ভাগ মিথ্যা একটা রিপোর্ট করা হয়েছে। সম্ভবত বেচারা গরীব মানুষ তাকে ম্যানেজ করে রিপোর্টটা চালানো হয়েছে। মাত্র কয়েকদিন আগে তাকে তার প্রাপ্য টাকা দিয়েছি। যা পাবেন তার চেয়ে বেশি দেওয়া হয়েছে।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আনোয়ার হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম খান নাসিম প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন :

১/১১ -এর ষড়যন্ত্রকারীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি

১/১১ -এর ষড়যন্ত্রকারীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

২০০৭ সালে ১/১১ ঘটনার মাধ্যমে যারা দেশে সেনাসমর্থিত অগণতান্ত্রিক সরকার আনতে বাধ্য করেছিল, সেই ষড়যন্ত্রকারীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা।

দলটির সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারাবন্দী দিবস উপলক্ষে বুধবার (১৭ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে স্বপ্ন ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সিনিয়র কয়েকজন নেতা এ দাবি জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ’১/১১ -এর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে অন্যায়ভাবে তাকে জেলে পাঠানো হয়ে হয়েছিল। যারা এ ষড়যন্ত্রে জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় আনা উচিৎ।’

আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে দেশের বাইরে এখনো ষড়যন্ত্র হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, এসব ষড়যন্ত্র করে কোনো লাভ হবে না। দেশের মানুষ শেখ হাসিনার সরকারের সাথে আছে। দেশের মানুষের সমর্থন আছে বলেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে টানা তৃতীয়বারের মতো দেশ পরিচালনা করছে আওয়ামী লীগ।

২০০৭ সালে সালে মাইনাস টু নয়, মাইনাস ওয়ান ষড়যন্ত্র হয়েছিল দাবি করে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, কেবল শেখ হাসিনাকে দেশর জনগণ ও রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে দূরে রাখতে ৭১-এর শত্রু ও তাদের মিত্ররা এ ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করেছিল।

তিনি দাবি করেন, জনগণ উদগ্রীব ছিল বলে জনদাবির মুখে শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় তৎকালীন সেনা সর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার।

বিএনপি চেয়ারপাসন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে হানিফ বলেন, তিনি কেবল আইনি প্রক্রিয়া ও রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার সুবাদে মুক্তি পেতে পারেন। আন্দোলন করে লাভ হবে না।

সভায় সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, ২০০৭ ও ২০০৮ সালে সংস্কারের নামে অওয়ামী লীগের অনেক সিনিয়র নেতা সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে সহযোগিতা করে দলের সভাপতি শেখ হাসিনাকে নির্লজ্জভাবে সরাতে চেয়েছিল। শেখ হাসিনার মুক্তির জন্য দলের অনেক সিনিয়র আইনজীবীও কোনো প্রচেষ্টা চালাননি। সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ জুনিয়র বেশ কিছু আইনজীবী নিয়ে অইনি লড়াই চালিয়ে যান।

সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক বলেন, দেশের জনগণ চেয়েছিল বলেই ১/১১ -এর সেনাসমর্থিত সরকার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

স্বপ্ন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য দেন চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন রুহুল, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব শাবান মাহমুদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই সেনাসর্থিত তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করে। দীর্ঘ প্রায় ১১ মাস কারাভোগের পর ২০০৮ সালের ১১ জুন সংসদ ভবন চত্বরে স্থাপিত বিশেষ কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান।

অ্যাড. মনিরের বহিষ্কারাদেশ তুলে নিল বিএনপি

অ্যাড. মনিরের বহিষ্কারাদেশ তুলে নিল বিএনপি
অ্যাড. মনির হোসেন/ ছবি: সংগৃহীত

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সুপ্রিম কোর্ট শাখার সহ-সভাপতি অ্যাড. মনির হোসেনের বহিষ্কারাদেশ তুলে নিয়েছে কেন্দ্রীয় বিএনপি।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের চিঠির অনুলিপি হাতে পেলেও গত ১১ জুলাই বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাড. রুহুল কবির রিজভী এতে স্বাক্ষর করেন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দলের গঠনতন্ত্রের ৫ (গ) ধারা মোতাবেক মনির হোসেনকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। মহাসচিবের নির্দেশক্রমে এ বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হলো।’

প্রসঙ্গত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির গত ১৩ ও ১৪ মার্চের নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের বাইরে স্বতন্ত্র সম্পাদক প্রার্থী হন অ্যাড. মনির হোসেন। দলের সমর্থিত প্যানেলের বাইরে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় গত ১২ মার্চ আইনজীবী মনির হোসেনকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় বিএনপি।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র