Barta24

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

চাল নিয়ে ঘরে ফেরা হলো না বিএনপি নেতা শাহীনের

চাল নিয়ে ঘরে ফেরা হলো না বিএনপি নেতা শাহীনের
বিএনপি নেতা আ্যাডভোকেট মাহবুব আলম শাহীন, ছবি: সংগৃহীত
গনেশ দাস
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বগুড়া
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

চাল কিনে বাসায় ফিরতে পারলেন না বগুড়ার বিএনপি নেতা আ্যাডভোকেট মাহবুব আলম শাহীন। দোকান থেকে এক বস্তা ভাতের চাল এবং পাঁচ কেজি পোলাও এর চাল কিনে প্রাইভেট কারে উঠালেন। চালসহ বাড়ি ফিরবেন বলে গাড়িতেও উঠতে যাচ্ছেন, এমন সময় সদরের নুনগোলা ইউপি চেয়ারম্যান আলীমুদ্দিন তাকে ডাক দেন। তিনি রাস্তা পার হয়ে চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলছিলেন। আর এ সময় দুর্বৃত্তরা তার ওপর হামলা চালায়। প্রথমে ছুরিকাঘাত এবং পরে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করলে ঘটনাস্থলেই মারা যায় শাহীন।

এদিকে প্রাথমিক অনুসন্ধানে পুলিশ জানতে পেরেছে, বিএনপির এ নেতাকে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী খুন করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের আধাঘণ্টা আগে থেকে ৫-৭ জন যুবক ঘটনাস্থলে অবস্থান করেছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা পুলিশকে তথ্য দিয়েছে।

রোববার (১৪ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টা থেকে পৌনে ১১টার মধ্যে বগুড়ার উপশহর বাজার এলাকায় ১০ তলা ভবনের সামনে দুর্বৃত্তরা শাহীনকে ছুরিকাঘাত ও কুপিয়ে খুন করে। রাত ১২ টার পর বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞাসহ জেলার অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শাহীন রাত ১০টার দিকে নিজস্ব প্রাইভেট কার (ঢাকা মেট্রো-গ-২৫-২৮৭৪) চালিয়ে উপশহর বাজার এলাকায় আসেন। বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স নামের একটি চালের দোকানের সামনে প্রাইভেট কার রেখে সেখান থেকে চাল কিনে চালের বস্তা প্রাইভেট কারের পেছনে উঠিয়ে রাখেন। এরপর ১০তলা ভবনের পাশে সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে সদরের নুনগোলা ইউপি চেয়ারম্যান আলীমুদ্দিনের সাথে গল্প করছিলেন।

এমন সময় পেছন থেকে ৫-৭ জন যুবক অতর্কিত হামলা চালিয়ে তার বুকে ও পেটে ছুরিকাঘাত করে। এ সময় লোকজন দৌড়ে পালিয়ে যায়। বিএনপির এ নেতাও সামান্য দৌড়ে গিয়ে রাস্তার ওপর পড়ে যায়। দুর্বৃত্তরা সেখানেও তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে পশ্চিম দিকের রাস্তা দিয়ে দৌড়ে নিশিন্দারা মধ্যপাড়ার দিকে পালিয়ে যায়।

পরে ইব্রাহীম নামের এক যুবক তাকে উদ্ধার করে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রত্যক্ষদর্শী বার্তা২৪.কম-কে বলেন, '৫-৭ জন যুবক আ্যডভোকেট শাহীন ঘটনাস্থলে আসার আধাঘণ্টা আগে থেকে বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স নামের চালের দোকানের সামনে একটি বন্ধ চায়ের দোকানের সামনে অন্ধকারে বসে ছিল। ঘটনার পরপরই ওই যুবকরাই দৌড়ে পশ্চিম দিক দিয়ে পালিয়ে যায়।

জানা যায়, আ্যডভোকেট শাহীনের বাড়ি ঘটনাস্থল থেকে এক কিলোমিটার দুরে ধরমপুর এলাকায়। তিনি প্রতি রাতেই নিজেই গাড়ি চালিয়ে উপশহর বাজারে আসতেন। তিনি এলাকায় একজন জনপ্রিয় ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিএনপির রাজনীতিতে তিনি সক্রিয় হলেও আওয়ামী লীগের এক অংশের নেতাদের সাথে ছিল তার সখ্যতা। তিনি বিগত বিএনপি সরকারের সময়ে বগুড়া মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া তিনি বগুড়া মোটর মালিক গ্রুপের সদস্য, বগুড়া আ্যডভোকেটস বার সমিতির সদস্য এবং জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সক্রিয় সদস্য ছিলেন।

এদিকে আ্যডভোকেট শাহীন খুন হয়েছে এমন খবরে জেলা বিএনপির সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন গভীর রাতে হাসপাতালে ছুটে যান। বিএনপি নেতৃবৃন্দ এই খুনের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে খুনিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবি করেন।

অপরদিকে জেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ্যডভোকেট নাজমুল হুদা পপন বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'আ্যড. শাহীন খুনের প্রতিবাদে জেলা বিএনপি সোমবার বেলা ১১টার দিকে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ সভা আহ্বান করেছে। প্রতিবাদ সভা থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।'

জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সনাতন চক্রবর্তী বার্তা২৪.কম-কে জানান, খুনের সাথে জড়িতদের শনাক্ত এবং গ্রেফতার করতে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।

আপনার মতামত লিখুন :

ধর্ষণের উৎসব শুরু হয়েছে: মির্জা ফখরুল

ধর্ষণের উৎসব শুরু হয়েছে: মির্জা ফখরুল
বিভাগীয় সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, 'পত্রিকা খুললেই ধর্ষণ ছাড়া কোনো খবর নাই। ১০ বছর, ছয় বছর, পাঁচ বছর, ১০০ বছরের নারীকেও পর্যন্ত ধর্ষণ করা হচ্ছে। দেশে ধর্ষণের উৎসব শুরু হয়েছে।'

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে বরিশাল মহানগরের কেন্দ্রীয় হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ মাঠে এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশের অংশ হিসেবে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, 'প্রতিদিন শুধু হত্যা আর হত্যা। এমনকি আদালত পর্যন্ত বাদ যাচ্ছে না। সেটাও নিরাপদ জায়গা নয়। সেখানে গিয়ে বিচারকের সামনে হত্যা করা হচ্ছে। কোথায় যাবেন? কার কাছে যাবেন? সরকার খুব ঢোল বাজায়, নিজেরাই বাজাচ্ছে উন্নয়ন, উন্নয়ন, উন্নয়ন। এমন উন্নয়ন যে, দেশের মানুষ মারা যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। অথচ কৃষক তার ধানের মূল্য পায় না, সরকারি কর্মচারীদের বেতন ভাতা দিন দিন বাড়ানো হচ্ছে। সরকার তাদের ওপর ভর করে এ দেশের জনগণের বঞ্চিত করে দেশ শাসন করতে চায়।'

তিনি বলেন, 'সারা দেশে আওয়ামী লীগ সরকার গত এক যুগে যে ভয়াবহ তাণ্ডব সৃষ্টি করেছে, গণতন্ত্রকে যেভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে, মানুষের অধিকারগুলোকে যেভাবে কেড়ে নিয়েছে এবং মানুষের ওপর যে অত্যাচার-নির্যাতন করছে এটা নজিরবিহীন। সরকার বাংলাদেশে একটা নারকীয় অবস্থার তৈরি করে ফেলেছে।'

খালেদা জিয়ার কারাবাস সম্পর্কে বিএনপির মহাসচিব বলেন, 'একটি মিথ্যা মামলায় দেশনেত্রীকে কারাগারে রাখা হয়েছে। এই মামলায় অন্য সকল আসামির জামিন হয়েছে কিন্তু খালেদা জিয়ার জামিন দিচ্ছে না। কারণ সরকার বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণ করছে, তাই দেশনেত্রীর জামিন হচ্ছে না। আমাদের আইনজীবীরা সব দিক দিয়ে চেষ্টা করেছেন। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। দেশের মানুষ যদি তাদের অধিকার, স্বাধীনতা রক্ষা করতে চায়, তাহলে অবশ্যই সকলকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে।'

সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সাহেবের মৃত্যুতে আমরা শোক প্রকাশ করেছি। কিন্তু এটাতো সত্য যে, তার সরকারের আমলেই এ দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা হয়েছে। তার আমলে বহু মানুষ নিহত হয়েছেন, ছাত্রদের হত্যা করা হয়েছে। জনগণের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তাকে সরানো হয়েছে। আজকে আওয়ামী লীগ তাদের সঙ্গে জোট বেধে জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আজকে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়া হয়। আর যিনি গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করলেন, ৭১ সালে পাক সেনাদের হাতে বন্দী থাকলেন তাকে কারাগারের অন্ধকারের রাখা হচ্ছে।'

বরিশাল মহানগর বিএনপির সভাপতি মজিবুর রহমান সরোয়ারের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ সহ স্থানীয় কয়েক হাজার নেতাকর্মী।

সিঙ্গাপুর নেওয়া হলো রফিকুল ইসলাম মিয়াকে

সিঙ্গাপুর নেওয়া হলো রফিকুল ইসলাম মিয়াকে
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে সিঙ্গাপুর এয়ারওয়েজের একটি বিমানে তাকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত সহকারী মো. মোকছেদুর রহমান আবির।

তিনি জানিয়েছেন, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। এজন্য তাকে ইউনাইডেট হাসপাতাল থেকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়েছে। সেখানে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হসপিটালের নিউরো সার্জন অধ্যাপক অং হি কিটের অধীনে মেরুদণ্ডে অস্ত্রোপচার করা হবে।

রফিকুল ইসলাম মিয়ার সঙ্গে তার সহধর্মিণী প্রফেসর ড. শাহিদা রফিক ও দুই ছেলে মাশরুর রফিক মিয়া ও শাহপুর রফিক মিয়া রয়েছেন বলেও জানান তিনি।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র