উল্টো কিছু করলে তাদের থামাতে হবে : ড. কামাল  

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,বার্তা২৪.কম
মহানগর নাট্যমঞ্চে গণফোরামের বিশেষ কাউন্সিল-২০১৯ এ বক্তব্য দেন ড. কামাল হোসেন, ছবি:বার্তা২৪.কম

মহানগর নাট্যমঞ্চে গণফোরামের বিশেষ কাউন্সিল-২০১৯ এ বক্তব্য দেন ড. কামাল হোসেন, ছবি:বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

গণফোরাম সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ক্ষমতার উৎস জনগণ, আর কেউ না। সুতরাং আপনাদের দেখতে হবে, যারা ক্ষমতায়, তারা কি দেশের স্বার্থে কাজ করছেন, নাকি নিজের স্বার্থে কাজ করছেন, নাকি অন্য কিছু করছেন। উল্টো কিছু করলে আপনাদের সংগঠিত হয়ে তাদের (সরকারকে) থামাতে হবে।

শুক্রবার সকালে আয়োজিত রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে গণফোরামের বিশেষ কাউন্সিলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দীর্ঘ ৮ বছর পর দলটির বিশেষ কাউন্সিলে বসেন ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরাম। 'দল পুনর্গঠনের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যন্ত চাঙ্গা করা, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নতুন করে আয়োজনের দাবিতে সারাদেশে আন্দোলন গড়ে তোলা ও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সরকারসহ জনগণের সামনে একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক বক্তব্য তুলে ধরার উদ্দেশ্য নিয়েই আয়োজন করা হয় বিশেষ কাউন্সিল।

কাউন্সিলে প্রথম পর্বের বক্তব্যে ড. কামাল বলেন, জনগণ গণতন্ত্রের পাহারাদার। আর নাগরিকরা যদি দায়িত্ব পালন না করেন তাহলে গণতন্ত্র স্বৈরতন্ত্রে পরিণত হয়। দেশের মালিক হিসেবে আপনাদের (জনগণ) দেখতে হবে যে, সংবিধানে যা লেখা আছে, সে অনুযায়ী ক্ষমতাসীনরা রাষ্ট্র পরিচালনা করছে কি না। আর প্রশাসন ও পুলিশের যে দায়িত্ব-কর্তব্য সেগুলোও সংবিধানে স্পষ্টভাবে লেখা আছে। পুলিশ এ দেশের মালিক না, তারা সেবক।

তিনি বলেন, ‘সংবিধান ও আইন অনুযায়ী পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করবেন। তাই আপনারা সতর্ক থাকবেন, যাতে পুলিশ তাদের দায়িত্বের বাইরে গিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার না করে, অন্যায় ও অত্যাচার করতে না করতে পারে।’

এসময় উপস্থিত দলীয় নেতা-কর্মীদের নিরাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রবীণ এই আইনজীবী বলেন, প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা জনগণের হয়ে যে রায়টা দিলেন, আমি মনে করি সেটা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখে গেলেন। এ কথা শুনে যে আপনারা যে করতালি দিলেন, এটা উনাকে জানানো হবে।

আমরা আজকে বলি যে, স্বৈরশাসনের চিত্র দেখা যাচ্ছে। কিন্তু নিরাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমরা দেখেছি, শাসকগোষ্ঠী অনেক সময় স্বৈরাচারের দিকে অগ্রসর হয়ে স্বৈরাচার হয়ে যায়। কিন্তু এ দেশে মানুষ কখনও স্বৈরতন্ত্রকে মেনে নেয়নি এবং নেবে না।

উল্লেখ্য, কাউন্সিলের শুরুতে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং সংগীত বাজিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করেন ড. কামাল হোসেন। গণফোরাম নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসিন মন্টু, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পথিক, প্রেসডিয়াম সদস্য জগলুল হায়দার আফ্রিক, সদস্য অধ্যাপক আবু সাঈদ, মোকাব্বির খান সহ দলটির নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন :

এ সম্পর্কিত আরও খবর