Barta24

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বিএনপির সংসদে যাওয়ার কারণ জানালেন ফখরুল

বিএনপির সংসদে যাওয়ার কারণ জানালেন ফখরুল
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর / ছবি: বার্তা২৪
শিহাবুল ইসলাম স্টাফ করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

সব জল্পনা কল্পনা শেষে সোমবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টার দিকে সংসদ ভবনে শপথ নেন বিএনপির নির্বাচিত চারজন প্রার্থী। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী নিজ কার্যালয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে (এমপি) তাদের শপথবাক্য পাঠ করান। তবে শপথ নেননি দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শপথ নেওয়া বিএনপির এই চারজন হলেন- বগুড়া-৪ আসনে মোশাররফ হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে মো. আমিনুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে মো. হারুন অর রশীদ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া।

এর আগে গত ২৫ এপ্রিল ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে জাহিদুর রহমান দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে শপথ নিয়েছেন। যদিও পরে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বিএনপির সংসদে যাওয়ার বিষয়ে সোমবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে একা সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তারেক রহমানের নির্দেশেই তারা শপথ নিয়েছেন। কথা বলার যে সীমিত সুযোগ আছে, তার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করতে বিএনপির নির্বাচিতরা সংসদে গেছেন। যা সরকারের বৈধতা দেওয়া নয়।’

তবে তিনি কবে সংসদে যোগ দিচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘অপেক্ষা করুন জানতে পারবেন।’

সংসদ সদস্য হিসবে শপথ নেওয়ার আজকেই শেষ দিন হওয়ায় আপনি সময় চেয়ে স্পিকারের কাছে আবেদন করেছেন কিনা জানতে চাইলে ফখরুল বলেন, ‘আমি তো বললাম সময় আসুক জানতে পারবেন। আমি কী করেছি না করেছি আপনারা সময় হলেই জানতে পারবেন।’

সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নির্বাচনকে বৈধতা দেওয়া কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের বৈধতা দেওয়ার প্রশ্নই উঠে না। আমরা স্পষ্ট করে বলেছি যে, আমাদের কথা বলার সীমিত যে সুযোগ আছে, তার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করতে সংসদে যাচ্ছি। আমরা এই সংসদ বৈধতা দিচ্ছি না। আমরা শুধু ব্যবহার করছি গণতান্ত্রিক স্পেসটুকু। কারণ, প্রথমটি গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হিসেবে এবং দ্বিতীয়টা কৌশলগত কারণে। আমরা দলের সর্বস্তরে নেতা-কর্মী ও বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘পলিটিক্সে আজকে যেটা হবে, কালকে সেটা হবে এমন তো মানে নেই। আমি বলেছি যে, অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন তো করতে হতে পারে, সেটাই পলিটিক্স। আমাদের যেটার প্রয়োজন দলের জন্য, রাজনীতির জন্য, দেশের জন্যে, আমরা সেটাই করছি।’

কোনো চাপে সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্তের পরিবর্তন হয়েছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না কোনো চাপে নয়।’

সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতায় আপনারা সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কি-না এমন প্রশ্নে ফখরুল বলেন, ‘সমঝোতার প্রশ্ন কোথায় দেখলেন আপনারা। আমরা বলছি যে, সংসদের ভেতরে ও বাইরে দুইখানে আমরা খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসা, পুনরায় নির্বাচন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য লড়ে যেতে চাই। সংসদ এমন একটা জায়গা, যেখানে একটা স্পেস আছে টিল-টুডে। যেখানে কিছু কথা বলা যায়। সেই কথা বলার জন্য আমাদের যারা নির্বাচিত তারা শপথ নিয়েছেন।’

বিকেলে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘সরকারের চাপে শপথ গ্রহণ করেছেন এমপিরা।’

এ বিষয়ে সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সেটা শপথ গ্রহণের আগের বক্তব্য ছিল।’

তাহলে কী আপনাদের ওপর কোনো চাপ নেই? জবাবে ফখরুল বলেন, ‘আমরা মহাচাপে আছি। গণতন্ত্রের লেশমাত্র নেই, আমাদের কথা বলতে দেওয়া হয় না। এই চাপ তো আছেই। আমাদের নেত্রী জেলে। এসব সরকারের চাপ নয় কী?’

ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সাংসদ জাহিদুর রহমান দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে শপথ নেওয়ায় তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এখন কি তার বহিষ্কারদেশ প্রত্যাহার করা হবে এমন প্রশ্নে ফখরুল বলেন, ‘সেটা সময় মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন: শপথ নিলেন ফখরুল বাদে বিএনপির বাকিরা

আরও পড়ুন: সংসদ অধিবেশনে যোগ দিলেন বিএনপির ৫ এমপি

আরও পড়ুন: তারেকের নির্দেশেই বিএনপির এমপিরা শপথ নিয়েছেন: ফখরুল

আপনার মতামত লিখুন :

জাতীয় পার্টিতে দ্বন্দ্ব-বিভেদ নেই: জি এম কাদের

জাতীয় পার্টিতে দ্বন্দ্ব-বিভেদ নেই: জি এম কাদের
জাতীয় পার্টির সংবাদ সম্মেলন

 

‘মিডিয়াকর্মীরা যেকোন তথ্যের জন্য আমার সঙ্গে কিংবা আমার প্রেস শাখার সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। প্রকাশ উপযোগী কোন তথ্য আপনাদের কাছে কখনোই গোপন রাখা হবে না’, বলেছেন জাতীয় পার্টির নতুন চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে জাতীয় পার্টির বনানী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। এদিন জি এম কাদেরকে দলের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়।

জি এম কাদের বলেন, আমাদের এই বিপদের দিনে আপনারা আমাদের পাশে ছিলেন। বিপদে যে পাশে থাকে সেই তো প্রকৃত বন্ধু। তাই মিডিয়াকর্মীরা প্রমাণ করলেন, আপনারা আমাদের একান্ত আপন এবং প্রকৃত বন্ধু। আমাদের দুঃখে-সুখে সবসময় এভাবেই আমাদের পাশে থাকুন—আজ শোকাতুর হৃদয় নিয়ে আপনাদের কাছে এ আবেদন জানাতে চাই।

তিনি বলেন, ওনার (হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার পর রংপুরে তার দাফন পর্যন্ত আপনারা মিডিয়াকর্মীরা যে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন তা আমার কাছে বর্ণনাতীত। এর জন্য শুধু কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে খুব কম হয়ে যাবে। আমরা আপনাদের এই অবদানের কথা কোনদিন ভুলতে পারব না।

জি এম কাদের আরও বলেন, একটি বিষয় আমি আপনাদের সুস্পষ্টভাবে অবহিত করতে চাই, জাতীয় পার্টির মধ্যে কোনো ধরনের বিভেদ, দ্বন্দ্ব, মতানৈক্য নেই। আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি এবং থাকব। ওনার শোককে আমরা শক্তিতে রূপান্তরিত করে তার আদর্শ ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাব।

তিনি বলেন, এরশাদের দাফন করার ব্যাপারে ঢাকার বনানীস্থ সেনা কবরস্থান ও রংপুরে তার নিজ বাসভবন পল্লী নিবাসের প্রস্তাব ছিল। শেষ পর্যন্ত রংপুরবাসীর ভালোবাসার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা পারিবারিকভাবে রংপুরেই তাকে সমাহিত করেছি। সেখানে সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় এবং সামরিক মর্যাদায় তাকে দাফন করা হয়েছে। আমরা অচিরেই একটি স্মরণসভার আয়োজন করব।

জিএম কাদের বলেন, ওনার (এরশাদ) অসুস্থতা ও মৃত্যুর কারণে গত এক মাসে আমরা কোন সাংগঠনিক কাজে মন দিতে পারিনি। অচিরেই আমরা পার্টি থেকে সাংগঠনিক টিম গঠন করে প্রত্যেক বিভাগ ও জেলায় সংগঠনকে শক্তিশালী করার কাজ শুরু হবে।

জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ আমৃত্যু দলের চেয়ারম্যান ছিলেন। গত রোববার (১৪ জুলাই) ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মারা যান তিনি। এর আগে গত ৪ মে ছোট ভাই জি এম কাদেরকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলেন এরশাদ।

শনিবার জাতীয় পার্টির জরুরি সভা

শনিবার জাতীয় পার্টির জরুরি সভা
ছবি: সংগৃহীত

আগামী শনিবার (২০ জুলাই) সকাল ১০টায় জাতীয় পার্টির নির্বাহী কমিটির জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে। পার্টির বনানী কার্যালয়ে আয়োজিত এই সভায় দেশের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় পার্টির কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে বলে জানা গেছে।

দলের প্রেসিডিয়ামের সদস্যবৃন্দ, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা, ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম মহাসচিব ও সম্পাদকমণ্ডীর সদস্য, নির্বাহী ও কেন্দ্রীয় সদস্যবৃন্দ, প্রত্যেক অঙ্গসংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, দুই মহানগরের থানা কমিটি সমূহের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দকে এই সভায় উপস্থিত থাকার জন্য বলা হয়েছে।

সম্ভব হলে ঢাকার বাইরে থেকেও সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দকে সভায় যোগদানের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা এমপি।

এদিকে প্রত্যেক জেলা-উপজেলায় এরশাদের জন্য দোয়া ও স্মরণসভা আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ৪০ দিন পর্যন্ত দোয়া ও স্মরণসভা আয়োজনের অনুরোধ জানিয়েছেন মসিউর রহমান রাঙ্গা।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র