Alexa

কর্তৃত্ব করার জন্য আসিনি: জিএম কাদের

কর্তৃত্ব করার জন্য আসিনি: জিএম কাদের

সবার মাঝে জাপার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও জাপা মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা, ছবি: বার্তা২৪

জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, আমি কর্তৃত্ব করার জন্য আসিনি, জাপার সেবা করার জন্য এসেছি। এককভাবে দল চালাতে চাই না,সবার মতামতের ভিত্তিতে জাপাকে এগিয়ে নিতে চাই।

সোমবার (৬ মে) জাপার বনানী কার্যালয়ে জাতীয় যুব সংহতি আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। জিএম কাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনোনীত হওয়ায় এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।

জিএম কাদের বলেন, ‘যারা ত্যাগ স্বীকার করে এই ধরণের মানুষগুলোকে নিয়ে দল চালাতে চাই। হঠাৎ করে কেউ এলো, দলে বড় পদ দেওয়া হলো। আমি মনে করি এটা দেশ ও দলের জন্য মঙ্গল হতে পারে না। অনেক ক্ষেত্রে যেটা লক্ষ্য করেছি। কিন্তু বিশেষ সময়ে বিশেষ কিছু হতে পারে। এটা প্রচলিত নিয়ম হতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘রাজনীতি অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসার মতো হয়েছে, অনেকটা জমিদারীর মতো বংশ পরম্পরে। আমি কিন্তু সেভাবে দেখি না। বড় জায়গায় যাওয়া মানে মানুষের জন্য ততবেশি কাজ করার সুযোগ। ততবেশি সেবা করার সুযোগ। আমি রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনতে চাই। ত্যাগ স্বীকার মানসিকতা নিয়ে রাজনীতিতে আসতে হবে।'

জিএম কাদের বলেন, 'পরিবার থেকে নেতৃত্ব আসা আমাদের দেশের সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। আমার বিশ্বাস অনেকে আমাকে পছন্দ করে, আমার গুণাগুণের কারণে আমাকে নেতৃত্বে দেখতে চায়। আমিও দলের স্বার্থে কাজ করে যাব। সঠিকভাবে দল চালানোর জন্য আপনারদের সঙ্গে আলোচনা করব।'

জিএম কাদের বলেন, 'আমি জাপার দুঃসময়ে ১৯৯০ সালে রাজনীতিতে এসেছি। তখন আমার ভাই পার্টির চেয়ারম্যান জেলে ছিলেন। অনেক প্রতিকূল অবস্থায় রাজনীতি করেছি। আমার মন্ত্রণালয় চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে। জাতীয় পার্টিকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার জন্য এসেছি।'

জাপা মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা এমপি বলেন, ‘কোথায় থেকে কি হয়েছে, কোথায় পয়সা এসেছে, মহাসচিবের খুব বেশি ভূমিকা পালনের সুযোগ ছিলনা। পার্টির চেয়ারম্যান সিদ্ধান্তে একমত আছি। নিজেদের মধ্যে কানামাছি খেলার সুযোগ নেই।’

আগামীতে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হতে পারে জাপা। সম্ভাবনাময় দল হচ্ছে জাপা। আমাদের কোনো বিতর্ক থাকলে দলীয় ফোরামে আলোচনা করব। কিন্তু এরশাদের সিদ্ধান্তে বিরোধিতা করার সুযোগ নেই। কাউকে বাদ দিয়ে নয় সবাইকে নিয়ে দল করতে হবে বলে মন্তব্য করেন রাঙ্গা।

জাপা মহাসচিব বলেন, ‘আমি নির্বাচনের কয়েকদিন আগে দায়িত্ব পেয়েছি। প্রতিমন্ত্রী থাকা অবস্থায় একদিন হাজত খাটতে হয়েছে। হাজত মানে কারাগার নয়, ধরেন আমাকে বলা হলো এখানে বসে থাকতে হবে। এ রকম পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে যেতে হয়েছে।’

প্রেসিডিয়াম সদস্য রেজাউল ইসলাম ভূইয়া বলেন, ‘জাপার নেতাকর্মীরা এরশাদের সিদ্ধান্তে ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। আমার বিশ্বাস জীবিত এরশাদের চেয়ে মৃত এরশাদ বেশি শক্তিশালী হবে। সে কারণে অন্যকিছু ভাববার সুযোগ নেই।’

যুব সংহতির সভাপতি আলমগীর শিকদার লোটনের সভাপতির বক্তব্যে বলেন, ‘যারা পার্টির সাইনবোর্ড বিক্রি করেছে তাদেরকে চিহ্নিত করার সময় এসেছে। হঠাৎ এসে একটা লোক প্রেসিডিয়াম সদস্য হবে, হঠাৎ এমপি হবে এটা ঠেকাতে হবে।’

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, মাসুদা এম রশীদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান সরদার শাজাহান, উপদেষ্টা নাজমা আক্তার, যুগ্ম মহাসচিব হাসিবুল ইসলাম জয়, কেন্দ্রীয় নেতা সোলায়মার সানি প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন :

রাজনীতি এর আরও খবর