Barta24

শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬

English

জাপার ৪১ সদস্যের প্রেসিডিয়াম সভার সদস্য ৫৪ জন!

জাপার ৪১ সদস্যের প্রেসিডিয়াম সভার সদস্য ৫৪ জন!
ছবি: সংগৃহীত
সেরাজুল ইসলাম সিরাজ
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় পার্টির (জাপা) ৪১ সদস্যের প্রেসিডিয়ামের সভায় আগে থেকেই রয়েছে ৪৬ জন। বৃহস্পতিবার (৯ মে) নতুন করে আরও আটজনকে পদোন্নতি দেওয়ায় তা ৫৪ -তে গিয়ে ঠেকলো।

যাদেরকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে একজন ছাড়া আর সবার বিষয়ে তৃণমূল কর্মীদের আপত্তি রয়েছে। সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ দিদার বখত (সাতক্ষীরা) ছাড়া অন্যদের প্রমোশন যথাযথ হয়নি বলে মনে করেন অনেকে। সিনিয়র নেতারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, প্রেসিডিয়াম সভার আর কোনো মানইজ্জত থাকলো না। আমার পাশে কাকে দেখব এখন! আলু পটল ব্যবসায়ীকে প্রেসিডিয়াম সদস্য করা হয়েছে। সর্বোচ্চ পরিষদ এখানে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও অভিজ্ঞদের মূল্যায়ন করা উচিৎ ছিল।

এরই মধ্যে এই গণপ্রমোশনের প্রতিক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রমোশনের চিঠি ইস্যুর ঘণ্টা খানেকের মধ্যে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন নারায়নগঞ্জ-৩ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা। যদিও তিনি বিষয়টি খোলাশা করেননি।

জাতীয় পার্টির আগে প্রতিষ্ঠিত হয় যুব ও ছাত্র সংগঠন। সেই নতুন বাংলা ছাত্র সমাজের নারায়নগঞ্জ জেলার সভাপতি ছিলেন লিয়াকত হোসেন খোকা। পরে জাতীয় ছাত্র সমাজের কেন্দ্রীয় কমিটি ও যুব সংহতির শীর্ষপদে দায়িত্ব পালন করেন। তার এই পদত্যাগের বিষয়টি টক অব দ্য পার্টিতে পরিণত হয়েছে।

লিয়াকত হোসেন খোকা বার্তা২৪.কমকে বলেন, ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথাযথ মুল্যয়ন করা উচিৎ। আরও স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রমোশন দেওয়া উচিৎ ছিল। স্যারের (হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ) এই অসুস্থতার সুযোগ একটি চক্র দলটাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

প্রমোশনের সঙ্গে পদত্যাগ সম্পর্কিত কি-না, জানতে চাইলে জবাবে সরাসরি হ্যাঁ বা না, কোনটাই বলেননি তিনি। বলেছেন, পার্টিতে যা হচ্ছে তাতে অনেকের মতো আমিও হতাশ। এতে নেতাকর্মীদের মধ্যে একটা প্রভাব পড়বে। ভোটের আগে থেকেই, যেভাবে দলটাকে এগিয়ে নেওয়া উচিৎ ছিল, সেভাবে হয়নি। অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মহাজোট থেকে আমাদের ৪০-৪৫টি আসন পাওয়ার কথা। কিন্তু কেন পেলাম না।

দলের যুব বিষয়ক যুগ্ম সম্পাদক আবু সাঈদ স্বপন সন্ধ্যার পর পদত্যাগ করেন। অসম প্রমোশনের কারণে এই পদত্যাগ বলে বার্তা২৪.কমকে জানান তিনি। বলেন, ‘দেখেন কাদের প্রমোশন দেওয়া হয়েছে! আরতো মেনে নেওয়া যায় না। আরও অনেকে পদত্যাগের লাইনে আছে।’

এছাড়া যুব বিষয়ক সম্পাদক বেলাল হোসেনও পদত্যাগ করেছেন।

নেতাকর্মীরা বলেছেন, জাতীয় পার্টির ভেতরে গণতন্ত্র বলতে কিছুই নেই, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কথাই শেষ কথা। তিনি যখন যাকে খুশি শোকজ-বহিষ্কার করেন, যখন যাকে খুশি প্রমোশন দেন।

গঠনতন্ত্রে সেই পদ থাকুক আর নাই থাকুক, তাতেও কিছুই যায় আসে না। একই ব্যক্তিকে এক মাসের ব্যবধানে দু’বার প্রমোশন দিয়েছেন এরশাদ। পার্টিতে যোগদানের আগেই সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী পরিষদ প্রেসিডিয়ামের সদস্য করা হয়েছে, এমন হাস্যকর নজিরও রয়েছে জাপায়।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রেসিডিয়ামের সভায় ৪১ জন সদস্য রাখার বিধান রয়েছে। গত নির্বাচনের আগে পরে পাঁচজনকে প্রমোশন দিয়ে প্রেসিডিয়ামের সদস্য করা হয়। নতুন করে আটজনকে প্রমোশন দেওয়ায় এখন সদস্য সংখ্যা হলো ৫৪ জনে।

অবশ্য পার্টির গঠনতন্ত্রে এরশাদকে অনেকটাই স্বেচ্ছাচারী ও নিরঙ্কুশ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ২০ এর উপধারা (১) বলা হয়েছে, ‘গঠনতন্ত্রের অন্যধারায় যাহাই উল্লেখ থাকুক না কেন-জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বিশেষ ক্ষমতাপ্রাপ্ত থাকবেন। এ ক্ষমতাবলে তিনি প্রয়োজন বোধে প্রতিটি স্তরের কমিটি গঠন, পুনর্গঠন, বাতিল, বিলোপ করতে পারবেন। তিনি যেকোনো পদ সৃষ্টি বা অবলুপ্ত করতে পারবেন। চেয়ারম্যান জাতীয় পার্টির যেকোনো পদে যেকোনো ব্যক্তিকে নিয়োগ, যেকোনো পদ থেকে যেকোনো ব্যক্তিকে অপসারণ ও যেকোনো ব্যক্তিকে তার স্থলাভিষিক্ত করতে পারবেন।’

জিএম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যান করা হয় ২০১৬ সালে জানুয়ারি মাসে। তখন গঠণতন্ত্রে এই পদ ছিলো না। রংপুরের এক জনসভায় ছোট ভাই জিএম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যান ঘোষণা দেন। এর অল্পদিনের মাথায় রওশন পন্থীদের চাপে রওশনকে সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান করা হয়। সেই পদও কিন্তু গণতন্ত্র মোতাবেক ছিলো না। পরে কাউন্সিলে (১৪ মে, ২০১৬) গঠনতন্ত্রের সংশোধনী এনে সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ও কো-চেয়ারম্যান পদ সংযোজন করা হয়।

জাপায় কখন কার প্রমোশন হয়, আর কখন কাকে বহিষ্কার করা হয় তারও কোনো ঠিক ঠিকানা নেই। স্ত্রী রওশন এরশাদ ও ছোট ভাই জিএম কাদেরও এই শোকজের হাত থেকে রক্ষা পাননি। কাউন্সিলের বাইরে গিয়ে কয়েক বছরে তিন দফায় শুধু মহাসচিব পদেই রদবদল করেছেন।

প্রথমে হাওলাদারকে সরিয়ে জিয়াউদ্দিন বাবলুকে, পরে বাবলুকে সরিয়ে আবার হাওলাদার জাতীয় পার্টির মহাসচিব করেন। সর্বশেষ গত নির্বাচনের কয়েকদিন আগে হাওলাদারকে সরিয়ে মসিউর রহমান রাঙ্গাকে মহাসচিব করেছেন। আবার হাওলাদারকে কয়েকদিনের মাথায় সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী করেছেন।

এরশাদের স্বেচ্ছাচারী এই মনোভাবের কারণে এখন বহুধাভাগে বিভক্ত জাপা। এরশাদের নেতৃত্বে ‍মূলধারা জাপাসহ জাতীয় পার্টি জেপি, বিজেপি ও জাতীয় পার্টি (জাফর) নামে চারটি ধারা সক্রিয়। দু’টি ধারা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটে, দু’টি ধারা বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটভুক্ত রয়েছে। আবার অনেকে লাঙ্গল ছেড়ে ধানের শীষ ও নৌকার হাল ধরেছেন।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ শারীরিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন। বয়সগত কারণে তার রাজনীতি সক্রিয় হওয়া বেশ কঠিন। এই মুহূর্তে এমন প্রমোশন পার্টিতে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

আপনার মতামত লিখুন :

নারী ও শিশু অধিকার রক্ষায় বিএনপির নতুন সংগঠন

নারী ও শিশু অধিকার রক্ষায় বিএনপির নতুন সংগঠন
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন

নারী ও শিশু অধিকার রক্ষায় নতুন একটি সংগঠন গঠন করেছে বিএনপি। ‘নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম’ নামে নবগঠিত এ সংগঠনের আহ্বায়ক করা হয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমানকে।

শুক্রবার (২৩ আগস্ট) সকালে রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সেলিমা রহমান বলেন, এটা একটি সামাজিক সংগঠন। বিএনপি গণতান্ত্রিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ রাজনৈতিক দল, সামাজিক অধঃপতনের অরাজক পরিস্থিতির সময় নির্বিকার বসে থাকতে পারে না। খুন-ধর্ষণের পৈশাচিক বিকৃতি আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজকে গ্রাস করে ফেলেছে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বত্র ঘৃণা ছড়ানোর ফলে ক্ষমতাঘনিষ্ঠ সমাজবিরোধীরা আশকারা পাচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশব্যাপী ধর্ষণ ও শিশু নির্যাতনের পরিস্থিতি জনমনে গভীর উৎকণ্ঠার জন্ম দিয়েছে। ধর্ষণ ও ধর্ষণ প্রচেষ্টার কারণে শিশু হত্যার ঘটনা এখন সংবাদপত্রের উল্লেখযোগ্য সংবাদ। অভিভাবকরা মেয়ে ও শিশু সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে রীতিমতো আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। আইনের প্রয়োগ নেই বলেই সমাজবিরোধীরা ধর্ষণ-নিপীড়নে উৎসাহিত হচ্ছে। আইনের শাসনের অভাবে মাদকের বিস্তার এবং মূল্যবোধের অবক্ষয়সহ বিভিন্ন কারণে নারী ও শিশু নির্যাতন বাড়ছে। আমরা মনে করি, এই কারণগুলো সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে মোকাবিলা করতে হবে।

নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য জানাতে সেলিমা রহমান বলেন, নারী ও শিশু অধিকার রক্ষার যাবতীয় কার্যক্রমকে শক্তিশালী এবং বেগবান করা; নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা; এই জনগোষ্ঠীর জীবন সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রতিবন্ধকতাপূর্ণ, এদের মধ্যে যারা ভিক্টিম হচ্ছে তাদের আইনগত ও চিকিৎসাগত সহায়তা দেয়ার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করা; বিশেষভাবে দুস্থ ভিক্টিমদের শারীরিক ও মানসিক চিকিৎসাসহ সম্ভাব্য আইনগত সহায়তা দেওয়া; ভিক্টিম নারী ও শিশুদের মানবাধিকার সমুন্নত রাখা; ‘নারীকে নির্যাতন করা অন্যায়’ এটি পরিবার থেকে শিশুকে শেখানো। এ সংগঠনের লক্ষ্য নারীর বর্তমান অবস্থা থেকে আরও বেশি ক্ষমতায়নে জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দান; নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সচেতন যুব সমাজকে সম্পৃক্ত করা; যেকোন গণমাধ্যমে আলাপচারিতা ও পারস্পরিক কথাবার্তায় যাতে নারীবিদ্বেষী বক্তব্য প্রচার না পায়, সেক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগ গড়ে তোলা।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, সব পেশার মানুষ এ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন। পরে তিনি সংগঠনের সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন।

সংগঠনের উল্লেখযোগ্যরা হলেন—প্রধান উপদেষ্টা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, উপদেষ্টা: খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, জয়নুল আবেদীন, রুহুল কবির রিজভী। সদস্য সচিব: নিপুন রায়।

সদস্য: আজিজুল বারী হেলাল, আমিনুল হক, রাশেদা বেগম হিরা, মীর সরাফত আলী সপু, অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, আফরোজা আব্বাস, বেবী নাজনীন।

শুভ শক্তির উত্থান ঘটাতে হবে: ফখরুল

শুভ শক্তির উত্থান ঘটাতে হবে: ফখরুল
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, পুরনো ছবি

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে হিন্দু ধর্মের সকল মানুষকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, ‘ভগবান শ্রীকৃষ্ণ পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়ে জনসমাজে বিরাজমান অন্যায়কে পরাস্ত করে শান্তি ও কল্যাণ স্থাপন করেন। বাংলাদেশেও অশুভ শক্তিকে পরাভূত করে গণতন্ত্রের শুভ শক্তির উত্থান ঘটাতে হবে।’

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের আরাধ্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন, শুভ জন্মাষ্টমী অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। সকল ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসবের মূলবাণী, মানুষে-মানুষে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও শুভেচ্ছাবোধ। সকল কালে, যুগে বিভিন্ন ধর্মের প্রবক্তাগণ মানুষকে সত্য, ন্যায় ও কল্যানের পথে চালিত হওয়ার উপদেশ দিয়েছেন। ভগবান শ্রীকৃষ্ণও একই উদ্দেশ্যে পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়ে জনসমাজে বিরাজমান অন্যায়কে পরাস্ত করে শান্তি ও কল্যাণ স্থাপন করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ ঐতিহ্যগতভাবে ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ হিসেবে সকল ধর্মের মানুষের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনে বিশ্বাসী।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র