Barta24

রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

দেশে স্বৈরতন্ত্রের জায়গা নাই: ড. কামাল

দেশে স্বৈরতন্ত্রের জায়গা নাই: ড. কামাল
শোক সভায় বক্তব্য দেন ড. কামাল হোসেন / ছবি: বার্তা২৪
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, `বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্র অনেকবার চেষ্টা করেছে গণতন্ত্র ধ্বংস করতে, চিরস্থায়ী হতে। কিন্তু কেউ পারেনি। হানড্রেড পার্সেন্ট গ্যারান্টি বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের কোনো জায়গা নাই।'

সোমবার (১৩ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহর স্মরণে এক নাগরিক শোক সভায় তিনি এ কথা বলেন।

ড. কামাল বলেন, 'এখন আমরা গণতন্ত্রের কথা বলি, কিন্তু স্বৈরতন্ত্রের আলামত চারদিকে। নিরাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। এখানে উপস্থিত সবাই ঐক্যের পক্ষে, মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধকে কেন্দ্র করে আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। স্বৈরতন্ত্র অনেকবার চেষ্টা করেছে এদেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে, চিরস্থায়ী হতে। কিন্তু কেউ পারেনি। আমি আমার অভিজ্ঞতার আলোকে হানড্রেড পার্সেন্ট গ্যারান্টি দিতে পারি, বাংলাদেশের স্বৈরতন্ত্রের কোনো জায়গা নাই।’

সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করে এই সংবিধান প্রণেতা বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন আমি শিক্ষকতা করি, তখন থেকে তাকে জানি। আজকে আমি মোটেও নিরাশ নই। কারণ মাহফুজ উল্লাহকে শ্রদ্ধা জানাতে সব মহলের লোক এখানে একত্রিত হয়েছেন। তাকে সম্মান জানাচ্ছেন কেন? কারণ তিনি ঝুঁকি নিয়েছিলেন, সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন। যখন উচিৎ কথা বলা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, তখন তিনি উচিৎ কথা বলেছিলেন।’

একই সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল তার স্মৃতির স্মরণ করতে গিয়ে বক্তব্যের শুরুতেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। ফখরুল বলেন, ‘তার (মাহফুজ উল্লাহ) সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক এতো ঘনিষ্ঠ ছিল, যে তিনি আমার পাশে থাকবেন না এটা কখনো ভাবিনি। তিনি চলে যাওয়ার কিছুদিন আগে, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারস ইন্সটিটিউশনে একটি অনুষ্ঠানে এসেছিলেন। সেখানে মাহফুজ উল্লাহ বিএনপির কঠিন সমালোচনা করেছিল। এটাই ছিল তার সবচেয়ে বড় গুণ। সত্যকে সত্য বলতে কখনো সে দ্বিধা করেননি।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, 'সে ছাত্র জীবন থেকেই অত্যন্ত সমাজ সচেতন ও রাজনীতিক কর্মী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছিলেন। পরবর্তীকালে রাজনীতিতে না থেকে সাংবাদিকতায় আসে। এই পেশায় থেকে সে চেষ্টা করেছে এই সমাজের পরিবর্তনের। চেষ্টা করেছে কীভাবে এই রাষ্ট্রকে কল্যাণমূলক করা যায় তার জন্য কাজ করতে। চেষ্টা করেছে স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে, গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখতে।'

ঢাবির সাবেক উপচার্য ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. এমাজউদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘মাহফুজ উল্লাহ এমন একটি সময় তাকে আমরা হারিয়েছি, যখন তার সত্যতা, স্বচ্ছতা, সাহসিকতা জাতির খু্ব প্রয়োজন ছিল।’

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন বলেন, ‘স্বাধীন সাংবাদিকতা আর নেই। যেখানে ভোটাধিকার থাকে না, সেখানে কথা বলার স্বাধীনতা থাকে না। পেশাজীবী, আইনজীবী আর সাংবাদিকরা যদি দলীয় কর্মী না হতেন তাহলে বাংলাদেশের ইতিহাস অন্যরকম হতো।'

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘মাহফুজ উল্লাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন। সাংবাদিক হিসেবে পরিবেশ সাংবাদিকতাকে বেছে নিয়েছিলেন। অন্য সবকিছু বাদ দিয়েও তিনি ছিলেন একজন বরেণ্য সাংবাদিক।’

জেএসডির সভাপতি আ স ম আব্দুর রব বলেন, ‘দেশে দুঃসময় চলছে। এই সময় মাহফুজ উল্লাহকে সবচেয়ে বেশি দরকার ছিল। দেশে কোনো রাজনীতি নেই। সত্য কথা বলে বেঁচে থাকা যায় না। প্রতিদিন শিশু ধর্ষণের শিকার হচ্ছে, কিন্তু বিচার হচ্ছে না। সাংবাদিক মরে যাচ্ছে, বিচার হচ্ছে না। পুলিশকে কিছু করা যায় না। কারণ, পুলিশকে দিয়ে ভোট চুরি করা হয়েছে।’

শোক সভায় তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন- গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ঢাবি আইন বিভাগের শিক্ষক আসিফ নজরুল, পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান ড. সাদাত হোসেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম, নিউএজ পত্রিকার সম্পাদক নূরুল কবির, সহ বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদক, সাংবাদিক, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন :

খালেদার মুক্তির ব্যাপারে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যাবে বিএনপি

খালেদার মুক্তির ব্যাপারে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যাবে বিএনপি
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে আন্তর্জাতিকভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার দলগত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার (১৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয় গুলশানে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বৈঠক করেন। বৈঠতে স্কাইপে যুক্ত ছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মির্জা ফখরুল বলেন, ঈদের আগে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার যে জামিনের বিষয়টা এসছিল হাইকোর্টে, সেখানে একটা নেতিবাচক আদেশ হওয়ার পর থেকেই আমাদের ধারণা দৃঢ় হয়েছে যে, বিচার বিভাগ স্বাভাবিক বা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। সরকার বিচার ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করছে। সে ক্ষেত্রে আইনিভাবে এটা অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে যে, আমরা ন্যায়বিচার পাব কিনা!

তিনি বলেন, আমরা খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত ব্যাপারে এবং তার মুক্তির বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যেসব গণতান্ত্রিক দেশ আছে, আমরা তাদের অবহিত করব এবং অন্যায়ভাবে যে খালেদা জিয়াকে আটক করে রাখা হয়েছে—সে বিষয়টা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেব।

কোরবানির পশুর চামড়ার দামে ব্যাপক ধস নামা প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকারের চরম উদাসীনতা ও ব্যর্থতায় এ রকম হয়েছে।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এখনও বিদেশ থেকে ওষুধ আসেনি দাবি করে রোগীদের বিনা খরচে চিকিৎসার ব্যবস্থার দাবি জানান মির্জা ফখরুল।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান ইকবাল ও হাসান মাহমুদ টুকু।

বস্তির মানুষগুলো নিঃস্ব হয়ে গেল: মির্জা ফখরুল

বস্তির মানুষগুলো নিঃস্ব হয়ে গেল: মির্জা ফখরুল
ঝিলপাড় বস্তি পরিদর্শনে যান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

মিরপুরে বস্তির আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত গরিব মানুষগুলো একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেল বলে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন তিনি।

শনিবার (১৭ আগস্ট) ‍দুপুরে পুড়ে যাওয়া ঝিলপাড় বস্তি পরিদর্শন করতে যান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আওয়াল।

তিনি বলেন, বস্তির গরিব মানুষগুলো একেবারেই নিঃস্ব হয়ে গেল! এমন নিদারুণ ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়ার পক্ষে এ ঘটনায় সমবেদনা জানাচ্ছি।

ক্ষতিগ্রস্ত বস্তিবাসীর উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের সীমিত শক্তি ও সামর্থ্যের মধ্যে আমরা আপনাদের পাশে দাঁড়াব।

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, রাজধানীতে বছরের শুরু থেকে কেন একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে? আমি জানি না বস্তি সরিয়ে দেওয়ার জন্য অগ্নিকাণ্ড ঘটানো হয়েছে কিনা। এজন্য নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাই। সেই সঙ্গে কর্তৃপক্ষকে আগুনের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, কেন বারবার আগুন লাগছে? এই মিরপুরে কালশিতে ভয়াবহ আগ্নিকাণ্ড হলো। মানুষ মরল, দগ্ধ হলো। এর আগেও আগুন লেগেছে। এগুলোর সঠিক কারণ বের করা দরকার।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, বস্তিগুলোতে যে বারবার আগুন লাগে তার পেছনে কোন না কোন কারণ থাকে। আমি বলছি না কোন উদ্দেশে বস্তিতে আগুন লাগানো হয়েছে। এটা মানুষের মধ্যে সন্দেহের তৈরি করে, তাই এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।

শুক্রবার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় ঝিলপাড় বস্তিতে আগুন লাগে। ৩ ঘণ্টা ধরে চলা আগুনের লেলিহান শিখায় বস্তির প্রায় ৩ হাজার ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র