Barta24

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

দেশের ঋণ বেড়েই চলছে: নজরুল ইসলাম খান

দেশের ঋণ বেড়েই চলছে: নজরুল ইসলাম খান
আলোচনা সভায় নজরুল ইসলাম খান, ছবি: বার্তা২৪.কম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, 'দেশের ঋণের পরিমাণ বেড়েই চলেছে। একটা শিশু জন্মগ্রহণ করার পর তার মাথাপিছু ঋণ ৬০ হাজার টাকা। এভা‌বে চল‌তে থাক‌লে দেশ এক‌দিন ধ্বংস হ‌য়ে যা‌বে।'

বুধবার (১৫ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে '৪৩ তম ফারাক্কা লংমার্চ দিবস, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বর্তমান রাজনৈতিক মহাসংকট উত্তরণে মাওলানা ভাসানীর আদর্শ অনুসরণের বিকল্প নেই' শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভার আয়োজন করে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ ভাসানী)।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম খান বলেন, 'একটা সময় দেশের বাজেটের বরাদ্দের অধিকাংশ অংশ রাখা হতো স্বাস্থ্য, শিক্ষা বা প্রতিরক্ষা খাতে। কিন্তু বর্তমানে দে‌শের বাজেটের অধিকাংশ বরাদ্দ রাখা হচ্ছে বি‌দেশিদের ঋণ-সুদ পরিশোধ করতে।'

তিনি বলেন, 'দেশে এখন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে যে, কৃষক তার নিজের ফসলে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। কারণ ফসল কেটে ঘরে তুলে আনলে তার লস হবে। শুধু কৃষকের লস হ‌চ্ছে তা নয়, বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকদেরকে রাস্তায় নামতে হচ্ছে, আন্দোলন করতে হচ্ছে। এ কোন দেশে বাস করছি আমরা?'

বিএনপির এই নেতা বলেন, 'দেশে আগে শুনি নাই এত মা-বোনদের ধর্ষণ-নির্যাতনের কথা। আবার এর বিচার চাইতে গিয়ে প্রতিদান না পেয়ে আত্মহত্যা করেছে, পিতা, কন্যাকে নিয়ে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করছে। বেকারত্ব, জিনিসপত্র দাম বেড়েই চলেছে, মানুষ ভূমিহীন হয়ে পড়ছে। অথচ মন্ত্রীরা বলেন, আমাদের মাথাপিছু আয় বাড়ছে, জিনিসপত্র দাম কমছে, মানুষ শান্তিতে আছে। আমার মনে হয়, এসব মন্ত্রীরা কখনও বাজার ঘুরে দেখেন না। মানুষের কাছে গিয়ে মানুষের কষ্ট গুলো বুঝেন দেখেন না।'

দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে এই নেতা বলেন, 'আমরা একটি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের জন্য অপেক্ষা করছি, দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য। কারণ মহান মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম যে গণতন্ত্রের, মানুষের শান্তির জন্য, তা আমরা হারিয়ে ফেলেছি। এজন্য আন্দোলনের একমাত্র যোগ্য নেতা, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার মু‌ক্তি শুধুমাত্র একজন নেত্রীর মুক্তি নয়, একজন ব্যক্তির মু‌ক্তি নয়, তার মুক্তি মানে দেশের গণতন্ত্রের মুক্তি। তাই তাকে আগে মুক্তি করতে হবে, তাহলেই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি অ্যাড. মো. আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, লেবার পার্টির মহাসচিব মোস্তা‌ফিজুর রহমান ইরান, বিএন‌পির সহ-শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ফ‌রিদা ম‌নি শ‌হিদুল্লাহ প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন :

রংপুরে এরশাদের দাফনের সম্মতি দিয়ে যা বললেন রওশন

রংপুরে এরশাদের দাফনের সম্মতি দিয়ে যা বললেন রওশন
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও রওশন এরশাদ

রংপুরে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দাফনের সম্মতি জানিয়ে রওশন এরশাদ বলেছেন, ‘বৃহত্তর রংপুরবাসীর অভূতপুর্ব আবেগে আমি আজীবন কৃতজ্ঞ ও চিরঋণী হয়ে রইলাম।’

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দুপুরে এক বিবৃতিতে এমন মন্তব্য করেছেন এরশাদের সহধর্মিনী জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা রওশন এরশাদ।

এরশাদের দাফন প্রশ্নে রংপুরবাসীর আবেগকে সম্মান জানিয়ে তিনি রংপুরে দাফনের অনুমতি দেন। তিনি পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গার সঙ্গে ফোনে কথা বলে তার সম্মতির কথা জানান।

বিবৃতিতে রওশন বলেছেন, ‘তাঁর (এরশাদ) মৃত্যুতে আপনারা যে অভাবনীয় শ্রদ্ধা, সম্মান ও সহানুভুতি প্রকাশ করেছেন। তার জন্য আমি জানাচ্ছি  আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।’

‘প্রিয় দেশবাসী, বিশেষত তাঁর প্রাণপ্রিয় রংপুবাসীর আবেগ ও ভালোবাসায় সম্মানার্থে তাকে রংপুরের মাটিতে সমাধিস্থ করার বিষয়ে আমি ও আমার পরিবার সম্মতি প্রদান করছি।’

মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রওশন এরশাদ।

সেই সঙ্গে পল্লী নিবাসে এরশাদের কবরের পাশে নিজের জন্য জায়গা রাখারও আবেদন জানিয়েছেন রওশন এরশাদ।

আরও পড়ুন: রংপুরেই এরশাদের দাফন, সম্মত রওশন

 

রংপুরেই এরশাদের দাফন, সম্মত রওশন

রংপুরেই এরশাদের দাফন, সম্মত রওশন
এরশাদের মরদেহে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা

 

রংপুরের মানুষের ভালোবাসায় শ্রদ্ধা রেখে রংপুরেই হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে দাফন করার অনুমতি দিয়েছেন তার স্ত্রী রওশন এরশাদ। শুধু তাই নয়, পাশে নিজের জন্যও কবরের জায়গা রাখার অনুরোধ করেছেন তিনি।

রংপুরে এরশাদের দাফনের সম্মতি জানিয়ে রওশন এরশাদ বলেছেন, বৃহত্তর রংপুরবাসীর অভূতপূর্ব আবেগে আমি আজীবন কৃতজ্ঞ ও চিরঋণী হয়ে রইলাম।

এ সংক্রান্ত এক বিবৃতিতে রওশন বলেন, “তার মৃত্যুতে আপনারা যে অভাবনীয় শ্রদ্ধা, সম্মান ও সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন তার জন্য আমি জানাচ্ছি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।

প্রিয় দেশবাসী, বিশেষত তার প্রাণপ্রিয় রংপুবাসীর আবেগ ও ভালোবাসায় সম্মানার্থে তাকে রংপুরের মাটিতে সমাধিস্থ করার বিষয়ে আমি ও আমার পরিবার সম্মতি প্রদান করছি।”

রওশন এরশাদের সম্মতির ফলে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দাফন নিয়ে যে বিভ্রান্তির সৃষ্টির হয়েছিল তার অবসান হলো।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563270977625.jpg
জাতীয় পার্টির সারাদেশের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের প্রথম চাওয়া ছিল এরশাদের মরদেহ ঢাকায় দাফন করার। তবে সেটা হতে হবে উন্মুক্ত স্থানে। যেখানে মসজিদ-মাদ্রাসা নিয়ে কমপ্লেক্স থাকবে। কিন্তু এরশাদের মৃত্যূর পর যখন সামরিক কবরস্থানে দাফনের ঘোষণা দেওয়া হয় তখন অনেকেই বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

অন্যদিকে রংপুরে দাফনের বিষয়ে সারা দেশের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মৌন সমর্থন দেন। বিশেষত রংপুর, রাজশাহীসহ উত্তরের নেতাকর্মীরা যেকোন মূল্যে প্রিয় নেতাকে রংপুরে চিরশায়িত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন।

জাতীয় পার্টি তৃণমূল নেতাকর্মীদের যুক্তি ছিল— সামরিক কবরস্থানে দাফন করলে সেখানে যখন তখন যেতে পারবেন না নেতাকর্মীরা। তার চেয়ে রংপুর দাফন করলে নেতার সমাধিতে সহজেই যেতে পারবেন।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দুপুরে রংপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের চতুর্থ জানাজা সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে সম্পন্ন হয়। জানাজা পড়ান রংপুর জামে মসজিদের খতিব মাওলানা হাফেজ ইদ্রিস আলী।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563268819443.jpg
জানাজায় অংশ নেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের, এরশাদ পুত্র রাহগির আল মাহি সাদ এরশাদ, জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা, সাবেক মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য আবু হোসেন বাবলা, মেজর (অব.) খালেদ আখতার, আজম খান, তাজ রহমান ও শফিকুল ইসলাম সেন্টু।

এছাড়াও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য, রংপুর মহানগরের সভাপতি ও রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা সরকারসহ রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী জানাজায় অংশ নেন।

জানাজার আগে দলের মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা এরশাদের জীবনী তুলে ধরেন। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, বাংলাদেশের মানুষের জন্য তার বিপুল অবদান। ইসলামের জন্য তিনি অনেক কাজ করেছেন। মানুষ হিসেবে কথা ও কাজে ভুলত্রুটি থাকতে পারে। আমি এরশাদের ভাই হিসেবে ক্ষমা চাই। দোয়া চাই। তাকে সবাই ক্ষমা করে দেবেন। তাকে যেন আল্লাহ জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন।

জানাজা শেষে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মরদেহ তার রংপুরের বাসভবন পল্লী নিবাসে নেওয়া হয়।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র