Barta24

বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

দলীয় নেতাকর্মীদের সুবিধা দিতে সরকারের চাল আমদানি: মির্জা ফখরুল

দলীয় নেতাকর্মীদের সুবিধা দিতে সরকারের চাল আমদানি: মির্জা ফখরুল
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর/ ছবি: বার্তা২৪.কম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সুবিধা দিতেই সরকার চাল আমদানি করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, 'কৃষকদের যে দুরবস্থা, তা সরকারের ভুল নীতির প্রতিফলন। সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী দেশ খাদ্যে বিশেষ করে চাল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে চাল উৎপাদনের পরিমাণ তিন কোটি ৬২ লাখ টন। অথচ এই সময়ে সরকারি ও বেসরকারিভাবে চাল আমদানির পরিমাণ ৬৯ লাখ মেট্রিক টন।’

শনিবার (২৫ মে) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল সিপিডির এক পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, '২০১৬ সালে সিপিডির অর্থপাচার শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয় ২০১৩-১৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশে যত চাল বিদেশ থেকে আনা হয়েছে, তাতে আমদানি মূল্য ছিল টন প্রতি ৮০০ থেকে এক হাজার ডলার। অথচ ঐ সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে চালের মূল্য ছিল টন প্রতি ৫০০ ডলার। এই বাড়তি টাকা দেশ থেকে ওভার ইনভয়েজের মাধ্যমে পাচার হয়েছে বলে ঐ প্রতিবেদনে ইঙ্গিত করা হয়।'

মির্জা ফখরুল বলেন, 'সরকারের অংশীদার একটি দলের প্রধান, সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেননও চাল আমদানিতে সরকারের দুর্নীতির কথা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন। এছাড়াও সরকারি দলের সাংসদ রমেশ চন্দ্র সেনও এহেন পরিস্থিতির জন্য এ সরকারের সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামকে দায়ী করেছেন।'

তিনি বলেন, 'সরকারী ধান/চাল সংগ্রহের মূল দুটি হলো- কৃষককে মূল্য সহায়তা (প্রাইজ সাপোর্ট) দেওয়া ও সরকারি মওজুদ ব্যবস্থপনা (পাবলিক স্টক ম্যানেজমেন্ট)। এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে হলে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান চাল সংগ্রহ করতে হবে। এতে কিছুটা হলেও কৃষক লাভবান হবে। কিন্তু সরকার সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে না কিনে কিনছে চালকল মালিকদের কাছ থেকে। অর্থাৎ মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের কাছ থেকে। এতে লাভবান হচ্ছে চালকল মালিকরা। আর সর্বশান্ত হয়ে মনের দুঃখে কৃষক তার ধান ক্ষেতেই আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলছে।'

সংবাদ সম্মেলনে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন :

নির্যাতনকে হাতিয়ার হিসেবে নিয়েছে সরকার: মির্জা ফখরুল

নির্যাতনকে হাতিয়ার হিসেবে নিয়েছে সরকার: মির্জা ফখরুল
রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়নে বিএনপির আলোচনা সভা/ ছবি: বার্তা২৪.কম

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার জন্য নির্যাতনকে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হিসেবে ধরে নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার।’

বুধবার (২৬ জুন) বিকালে রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়নে নির্যাতিতদের সমর্থনে আন্তর্জাতিক দিবস-২০১৯' পালন উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। 'নীরবতাও নির্যাতনের কারণ হতে পারে' বিষয়ক আলোচনা সভার আয়োজন করে বিএনপি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশে বিগত এক যুগেরও বেশি সময় অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও সচেতনভাবে বাংলাদেশের জনগণের ওপর নির্যাতনের স্টিমরোলার চলছে। উদেশ্য একটিই; ক্ষমতা, একদলীয় শাসন ব্যবস্থাকে চিরস্থায়ী করা।’

‘পৃথিবীর অনেক দেশেই নির্যাতনকে সবচেয়ে বড় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয় ক্ষমতাসীনদের ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশ করার জন্য।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/26/1561559211167.jpg

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে যা দেখতে পাই, তা উত্তর কোরিয়াতে দেখতে পাই। আবার রাশিয়া, সিরিয়া, আফগানিস্তান ও আমাদের পাশের দেশে দেখতে পাই, ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার জন্য নির্যাতনকে সবচেয়ে হাতিয়ার হিসেবে নেওয়া হয়েছে।’

ফখরুল বলেন, ‘নির্যাতনের সবচেয়ে বড় উদাহরণ দেশনেত্রী খালেদা জিয়া। সরকারের চক্রান্তের কারণে তাঁকে আটক করে রাখা হয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নির্যাতন, পঙ্গু করে নির্বাসিত করা হয়েছে। কারাগারগুলোতে বিএনপির নেতাকর্মী, সহকর্মীরা রয়েছেন।’

সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. আব্দুল মঈন খান, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদ, শিক্ষাবিদ দিলারা চৌধুরী প্রমুখ।

শেখ হাসিনার মতো প্রাপ্তি আর নেই: আমু

শেখ হাসিনার মতো প্রাপ্তি আর নেই: আমু
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, ছবি: বার্তা২৪

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শিতা ও জাদুকরী নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাওয়া দেখে বিশ্ব নেতারা বিস্ময় প্রকাশ করেছে। তিনি ধাপে ধাপে প্রতিটি ক্ষেত্রে বিচক্ষণতায় দেশকে উন্নত রাষ্ট্রে উপনীত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। এর চেয়ে বড় কোনো প্রাপ্তি বাংলার কারও নেই।’

এমন অগ্রযাত্রাকে ধারাবাহিক রুপ দেওয়ার জন্য দেশবাসীকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

বুধবার (২৬ জুন) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউটে দলের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

সাবেক শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৯ সাল থেকে আজ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে প্রতিটি ক্ষেত্রে উন্নয়নের চিত্র ধরা দিয়েছে। বিশাল জনসংখ্যার দেশে অল্প সময়ে জীবন মানের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে অনেক দেশ ব্যর্থ হয়েছে। নদীর তলদেশ দিয়ে টানেল নির্মাণ করা হবে এমনটা কেউ চিন্তা করেনি, নতুন নতুন শিল্প অঞ্চলের পরিকল্পনা কারও মাথায় আসেনি। প্রধানমন্ত্রী কেবল স্বপ্ন দেখাননি, তিনি বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন। অথচ দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বরাবরই অগ্রযাত্রাকে থামানোর অপপ্রয়াস হয়েছে। সত্যিকারের নাগরিক হিসেবে আমাদের দেশপ্রেমী হতে হবে। কেবল নিজের নয়, সামগ্রিক কল্যাণে কাজ করে যেতে হবে।’

দলে অনুপ্রেবশ ঠেকাতে আওয়ামী লীগের এই উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য বলেন, ‘আমরা চাই দল সুসংগঠিত ও সাংগঠনিক গতিশীলতা বজায় রাখতে। যে কোনো ধরনের বাধা-বিপত্তি মোকাবিলা করে মনোবল ঠিক রেখে অভিষ্ট লক্ষ্যে কাজ করে যেতে হবে। কোনো অনুপ্রবেশকারী, সুবিধাবাদী দিয়ে দল ভারী হোক, দলের ভাবমূতি ক্ষুণ্ন হোক এমনটা মেনে নেওয়া হবে না। এদের চিহ্নিত করতে হবে।’


কেন্দ্রীয় কমিটির উপদফতর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীরে বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, ‘আওয়ামী লীগ শক্তিশালী হলে বাংলাদেশ শক্তিশালী দেশে পরিণত হবে। এ জন্যই বার বার আওয়ামী লীগকে ধ্বংসের পায়তারা হয়েছে, চলছে। কিন্তু দলের প্রতি তৃণমূল নেতাকর্মীদের স্পৃহার কারণে দল মানুষের ভালোবাসা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। ভবিষ্যতেও যদি দল সংকট মুহূর্তে আসে তখনো নেতাকর্মীদের রাজপথে নামতে হবে।’

দলের উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন বলেন, ‘এক সময় মুক্তিযোদ্ধারাও নিজের পরিচয় দিতে ভয় পেতেন। তার সন্তানদের ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা দেওয়া হয়নি। নাগরিকরা নিজেদের অধিকারের কথা বলতে পারতেন না। আওয়ামী লীগ সরকার থাকার কারণেই বিশ্ব ব্যাংককে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর কাজ চলছে।’

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুল রহমানের সঞ্চালনা ও সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রদীপ দাশ। আলোচনা সভা শেষে দলের বিভিন্ন সময় অবদান রাখা নেতাকর্মীদের সম্মাননা দেওয়া হয়।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র