Barta24

বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬

English

বগুড়া-৬ উপনির্বাচন: খালেদার বিকল্প সিরাজ!

বগুড়া-৬ উপনির্বাচন: খালেদার বিকল্প সিরাজ!
ছবি: সংগৃহীত
মুজাহিদুল ইসলাম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

বগুড়া-৬ আসনে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ২৪ জুন। বগুড়া সদর এলাকা নিয়ে গঠিত এ আসনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি তাদের একক প্রার্থী চূড়ান্ত করলেও বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন তিনজন।

নির্বাচন কমিশন থেকে যাচাই বাছাইয়ের পর আলোচনা করে দল একজনকে চূড়ান্ত করবে বলে জানা গেছে। বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া তিনজনের মধ্যে গোলাম মোহাম্মদ সিরাজই চূড়ান্ত মনোনয়ন পেতে যাচ্ছেন বলে দলের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

দলের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিএনপি এই আসনটিকে কোনোভাবেই ছাড় দেবে না। কেননা দীর্ঘদিন ধরে এই আসনে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নির্বাচিত হয়ে আসছেন। বিএনপি পরাজিত হলে খালেদা জিয়া ও দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে। কেন্দ্রীয় নেতারাও চেষ্টা করছেন যত দ্রুত সম্ভব অভ্যন্তরীণ সমস্যা কাটিয়ে একক প্রার্থীকে বিজয়ী করতে কাজ করার। দল যাকেই মনোনয়ন দিক না কেন সবাই যাতে দলের হয়ে কাজ করে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন তারা।

দলের বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, সবদিক বিবেচনায় গোলাম মোহাম্মদ সিরাজকেই চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক দল। অর্থবিত্ত ও দল পরিচালনার দক্ষতা অনুযায়ী তিনি অধিক যোগ্য। যার কারণে দল তাকেই মনোনয়ন দেবে।

বগুড়া-৬ আসনটি বিএনপির ঘাটি হিসেবে পরিচিত। যেখান থেকে দলীয় প্রধান খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত হয়ে আসছেন। সবশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুর্নীতির একটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় তিনি প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে পারেননি। সেখানে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অংশগ্রহণ করে নির্বাচিত হন। বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নিলেও তিনি শপথ নেননি। ফলে আসনটি শূন্য হয়।

এই আসনটিতে উপ-নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন তারেক রহমানসহ দলের সিনিয়র নেতারা। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধান খালেদা জিয়ার নামে মনোনয়ন ফরম নিতে দলের নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেন। এতে খালেদা জিয়া রাজী হননি। খালেদা জিয়া রাজী না হওয়ায় আসনটিতে মনোনয়ন পেয়েছেন বগুড়া-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ। তিনি বগুড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক।

একই আসনে বগুড়া পৌরসভার মেয়র ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট এ কে এম মাহবুবর রহমান ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা মনোনয়ন দিয়েছে দল। নির্বাচন কমিশনে বাছাই প্রক্রিয়ায় কেউ বাদ পড়লে যাতে বিকল্প প্রার্থী দিতে পারে সেজন্য দল একাধিক প্রার্থী রাখা হয়েছে।

এদিকে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন এস এম টি জামান নিকেতা। যিনি বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে মনোয়ন পেয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নুরুল ইসলাম ওমর।

বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বার্তা২৪.কমকে জানান, ‘কৌশলগত কারণে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ নেননি। এখন দল যেহেতু নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমাদের সকলের উচিত হবে নিজেদের মধ্যে মনোমালিন্য দূর করে দলের জন্য কাজ করা।’

উল্লেখ্য,গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসনে আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী ছিল না। মহাজোট থেকে প্রার্থী ছিলেন জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম ওমর। বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে এ আসনে নির্বাচন করে বিজয়ী হন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের বাড়ি এ আসনে। ১৯৯১ সাল থেকে বরাবরই ওই আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে আসছিলেন খালেদা জিয়া।

 

 

আপনার মতামত লিখুন :

জাতীয় পার্টির বিভাগীয় সাংগঠনিক কমিটি গঠন

জাতীয় পার্টির বিভাগীয় সাংগঠনিক কমিটি গঠন
জাতীয় পার্টির পতাকা

জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক কার্যক্রম বেগবান ও গতিশীল করতে পৃথক বিভাগীয় সাংগঠনিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের সাংগঠনিক আদেশে এসব টিমের অনুমোদন দিয়েছেন।

টিমগুলো সংশ্লিষ্ট বিভাগের অন্তর্গত সব জেলা সফর করে জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক ও আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল, বেগবান ও নেতৃত্বের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে ভূমিকা পালন করবে।

কমিটির কার্যভার গ্রহণের এক মাসের মধ্যে সাংগঠনিক কার্যাদি সম্পন্ন করবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকার সাংগঠনিক অবস্থান অবগত করবে কেন্দ্রকে। এ ছাড়া জেলা-উপজেলা পর্যায়ে পার্টির গ্রুপিং নিরসনকে মুখ্য দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা বিভাগীয় টিম
ঢাকা বিভাগের কমিটির আহ্বায়ক প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক ভিপি আলমগীর সিকদার লোটন। সদস্যরা হলেন—প্রেসিডিয়াম সদস্য হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, ভাইস চেয়ারম্যান জহিরুল আলম রুবেল।

রাজশাহী বিভাগীয় টিম
প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাড. শেখ সিরাজুল ইসলামকে আহ্বায়ক, সদস্য সচিব করা হয়েছে প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রশিদ সরকারকে। এ টিমের সদস্যরা হলেন—ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপি, ভাইস চেয়ারম্যান আহসান আদেলুর রহমান এমপি, যুগ্ম মহাসচিব এস.এম. ইয়াসির।

বরিশাল বিভাগীয় টিম
আহ্বায়ক করা হয়েছে লঞ্চ মালিক সমিতির নেতা প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু এমপি, সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন প্রেসিডিয়াম সদস্য এমরান হোসেন মিয়া। সদস্যরা হলেন—নাসরিন জাহান রতনা এমপি, ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক মহাসিনুল ইসলাম হাবুল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফখরুল আহসান শাহজাদা।

রংপুর বিভাগীয় টিম
জাপার দুর্গখ্যাত এই বিভাগের টিমের আহ্বায়ক করা হয়েছে কিশোরগঞ্জের সন্তান প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু এমপি, সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন মো. আজম খান। সদস্যরা হলেন—প্রেসিডিয়াম সদস্য রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, প্রেসিডিয়াম সদস্য শিল্পপতি এস এম ফখর উজ জামান জাহাঙ্গীর, কেন্দ্রীয় সদস্য পনির উদ্দিন আহমেদ এমপি।

খুলনা বিভাগীয় টিম
আহ্বায়ক প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহিদুর রহমান টেপা, সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায়। সদস্যরা হলেন—প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ দিদার বখ্ত, উপদেষ্টা হাসান সিরাজ সুজা, যুগ্ম মহাসচিব মনিরুল ইসলাম মিলন।

সিলেট বিভাগীয় টিম
আহ্বায়ক করা হয়েছে প্রেসিডিয়াম সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এমপিকে। সদস্য সচিব প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী মামুনুর রশীদ, সদস্য হিসেবে রয়েছেন প্রেসিডিয়াম সদস্য এটিইউ তাজ রহমান, যুগ্ম মহাসচিব হাসিবুল ইসলাম জয়, নির্বাহী সদস্য পীর ফজলুর রহমান মেজবাহ এমপি।

অন্যান্য সব বিভাগে সাংগঠনিক টিম ঘোষণা দেওয়া হলেও চট্টগ্রাম বিভাগের টিম ঘোষণা দেওয়া হয়নি। গত জুনের শেষ সপ্তাহে জাতীয় পার্টির বিভাগীয় সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বেশির ভাগ নেতা সংগঠনকে শক্তিশালী করার জন্য বিভাগীয় সাংগঠনিক টিম গঠনের প্রস্তাব দেন। নেতারা তখন অনেকেই পার্টির তৃণমূলের নাজুক অবস্থার কথা তুলে ধরেছিলেন। তারা বলেছিলেন, ‘হায়ার ফায়ারে পার্টি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা টাকা শ্রম দিয়ে দল পরিচালনা করি। আর ভোটের সময় নেতা হায়ার করে প্রার্থী করা হয়। আমরা চাই এখনই প্রার্থী চুড়ান্ত করে দেওয়া হোক। তারা তাদের নির্বাচনী এলাকায় দলকে সংগঠিত করবে।’

ওই সভাতেই পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের সাংগঠনিক টিম গঠনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। মাঝে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যূতে বিষয়টি কিছুটা পিছিয়ে পড়ে। যারা পার্টির নির্দেশনা না মেনে সভায় অনুপস্থিত আছেন তাদের বিরুদ্ধে ওই সভায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। যৌক্তিক কারণ দেখাতে ব্যর্থ হলে তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হবে বলেও হুঁশিয়ার করা হয়। কিন্তু সেই ঘোষণা ঘোষণাই থেকে যায়। এমনকি সভায় অনুপস্থিত একাধিক নেতা সাংগঠনিক টিমের দায়িত্ব পেয়েছেন।

দেশে কি কোনো সরকার আছে, প্রশ্ন দুদুর

দেশে কি কোনো সরকার আছে, প্রশ্ন দুদুর
প্রেসক্লাবের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন শামসুজ্জামান দুদু, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, চামড়া শিল্পের বিপর্যয়ের পর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে দেশে কোনো সরকার আছে কিনা? প্রধানমন্ত্রী আছে কি নেই? সরকার আছে কি নেই? এটা একটা বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশে সরকার থাকলে চামড়া শিল্পের এমন বিপর্যয় হতো না। 

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে 'আমার দেশ আমার শিল্প' শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভার আয়োজন করে ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ সেন্টার (এনআরসি) নামে একটি সংগঠন।

সভায় দুদু আরও বলেন, 'দেশে সরকার থাকলে তো ডেঙ্গুতে এতো মানুষের মৃত্যু হতো না? ব্যাংকের টাকা চুরি হওয়ার কথা না। সরকার প্রধান থাকলে নিশ্চয়ই একটি তদারকির ব্যবস্থা করতেন।'

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566293116575.jpg

 

ছাত্রদলের সাবেক এ নেতা বলেন, '৭১ সালে যে দেশ রক্ত দিয়ে স্বাধীন হয়েছে, সেই দেশটা একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। এখন দেশে আইন-শৃঙ্খলা বলতে আর কিছু নেই। দেশের বিচার ব্যবস্থার ওপর মানুষ এখন আস্থাহীন। স্বাস্থ্য খাত এখন বিলুপ্তির পথে। ডেঙ্গুতে এখন শুধু ঢাকাতে নয় সারা দেশের মানুষ অসহায়। কখন সে মৃত্যুবরণ করবে সে নিজেও জানে না। চামড়া শিল্প এখন মহা বিপর্যয়ের সম্মুখীন। এতটা বিপর্যয় বাংলাদেশ এর আগে কখনো দেখা যায়নি। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের সর্বনিম্ন পর্যায়ের এতিম অসহায় শিশুরা।

আয়োজক সংগঠনের পরিচালক বাবুল তালুকদারের সভাপতিত্বে এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য ডি এম আমিরুল ইসলাম অমরের সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুক ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাড. সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র