Barta24

বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬

English

ঐক্যবদ্ধ থাকলে অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়: ড. কামাল

ঐক্যবদ্ধ থাকলে অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়: ড. কামাল
সভায় বক্তব্য দেন ড. কামাল হোসেন / ছবি: বার্তা২৪
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা এবং গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ‘ঐক্যবদ্ধ থাকলে অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়, এটা আমরা বার বার প্রমাণ করেছি। আমরা যখনই একটা লক্ষ্য নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি, তখনই জয়ী হয়েছি। স্বাধীনতার ফসল সকলের ঘরে ঘরে পৌঁছাতে জনগণের ঐক্য অপরিহার্য।’

শনিবার (২৫ মে) সুপ্রিমকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের মিলনায়তনে ‘মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বাস্তবায়নে, মুক্তির লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ হোন, কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তুলুন’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। নাগরিক ঐক্য এ সভার আয়োজন করে।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সংবিধানকে সমুন্নত রাখতে হবে, সংবিধান দেশের মৌলিক আইন, সংবিধানকে যদি আমরা সমর্থন করি তাহলে এটাকে সমুন্নত রাখতে আমরা বাধ্য। গণতন্ত্রের পক্ষেও আমরা একটা ঐক্য বজায় রাখব। ঐক্যবদ্ধ শক্তিকে নিয়েই দেশে আমরা প্রকৃত অর্থে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারব।’

তিনি বলেন, 'ইতিহাস বলে বাংলাদেশের এমন কোনো সমস্যা নাই যে জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলে সমাধান করা যায় নাই। আমরা অনেক কঠিন সময় দেখেছি। স্বাধীনতা অর্জনের মধ্য দিয়ে আমরা অসম্ভবকে সম্ভব করেছি। দেশ স্বাধীন করতে পেরেছি। আমাদের লক্ষ্য, সংবিধান অনুযায়ী দেশ শাসন হোক, গণতন্ত্র থাকুক। এটা আমরা সবাই চাই। স্বাধীনতা রক্ষা করতে হলে, স্বাধীনতার ফসল সকলের ঘরে ঘরে যদি পৌঁছাতে হয়, তাহলে জনগণের ঐক্য অপরিহার্য।'

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/25/1558796719470.jpg

দেশের এই প্রবীণ আইনজ্ঞ ও সংবিধান প্রণেতা বলেন, ‘বহুদলীয় গণতন্ত্র হতে পারে কিছু মৌলিক বিষয়ে ঐক্যমতের ভিত্তিতে। আমাদের বিভিন্ন মত, বিভিন্ন বিষয় থাকতে পারে, কিন্তু দেশের জনগণ সকল ক্ষমতার মালিক, এটা নিয়ে দ্বিমতের কোনো অবকাশ নেই। কেননা স্বাধীনতাই থাকে না, এটা আমরা যদি না মানি। জনগণ তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ করবে তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে। নির্বাচনের অর্থ হবে অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন।’

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের মধ্যে ত্রুটি থাকলে যারা নির্বাচিত হবে তারা জনগণের প্রতিনিধি দাবি করতে পারবে না। সেটা না করতে পারলে আমি বলবো স্বাধীন দেশের যে বৈশিষ্টা সেটাই হারিয়ে ফেলবো। স্বাধীন দেশ শাসন করবে, যারা অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্য দিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছে।’

উপস্থিত বিভিন্ন দলের নেতাদের উদেশ্য করে তিনি বলেন, সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকেন সংবিধানকে সমুন্নত রেখে। সংবিধানের প্রতিশ্রুতি, নির্ভেজাল গণতন্ত্র, মানুষের মৌলিক অধিকার, এ সবগুলো আমরা নিশ্চিত করবো ঐক্যবদ্ধ হয়ে।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ঢাবি আইন বিভাগের শিক্ষক আসিফ নজরুল, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী, বিপ্লবী ওয়ার্কার পার্টি নেতা সাইফুল হক, জে এস ডি'র নেতা আব্দুল মালেক রতন, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া, বিএনপি চেয়ারপারনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আব্দুস সালাম প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন :

জাতীয় পার্টির বিভাগীয় সাংগঠনিক কমিটি গঠন

জাতীয় পার্টির বিভাগীয় সাংগঠনিক কমিটি গঠন
জাতীয় পার্টির পতাকা

জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক কার্যক্রম বেগবান ও গতিশীল করতে পৃথক বিভাগীয় সাংগঠনিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের সাংগঠনিক আদেশে এসব টিমের অনুমোদন দিয়েছেন।

টিমগুলো সংশ্লিষ্ট বিভাগের অন্তর্গত সব জেলা সফর করে জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক ও আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল, বেগবান ও নেতৃত্বের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে ভূমিকা পালন করবে।

কমিটির কার্যভার গ্রহণের এক মাসের মধ্যে সাংগঠনিক কার্যাদি সম্পন্ন করবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকার সাংগঠনিক অবস্থান অবগত করবে কেন্দ্রকে। এ ছাড়া জেলা-উপজেলা পর্যায়ে পার্টির গ্রুপিং নিরসনকে মুখ্য দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা বিভাগীয় টিম
ঢাকা বিভাগের কমিটির আহ্বায়ক প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক ভিপি আলমগীর সিকদার লোটন। সদস্যরা হলেন—প্রেসিডিয়াম সদস্য হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, ভাইস চেয়ারম্যান জহিরুল আলম রুবেল।

রাজশাহী বিভাগীয় টিম
প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাড. শেখ সিরাজুল ইসলামকে আহ্বায়ক, সদস্য সচিব করা হয়েছে প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রশিদ সরকারকে। এ টিমের সদস্যরা হলেন—ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপি, ভাইস চেয়ারম্যান আহসান আদেলুর রহমান এমপি, যুগ্ম মহাসচিব এস.এম. ইয়াসির।

বরিশাল বিভাগীয় টিম
আহ্বায়ক করা হয়েছে লঞ্চ মালিক সমিতির নেতা প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু এমপি, সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন প্রেসিডিয়াম সদস্য এমরান হোসেন মিয়া। সদস্যরা হলেন—নাসরিন জাহান রতনা এমপি, ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক মহাসিনুল ইসলাম হাবুল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফখরুল আহসান শাহজাদা।

রংপুর বিভাগীয় টিম
জাপার দুর্গখ্যাত এই বিভাগের টিমের আহ্বায়ক করা হয়েছে কিশোরগঞ্জের সন্তান প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু এমপি, সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন মো. আজম খান। সদস্যরা হলেন—প্রেসিডিয়াম সদস্য রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, প্রেসিডিয়াম সদস্য শিল্পপতি এস এম ফখর উজ জামান জাহাঙ্গীর, কেন্দ্রীয় সদস্য পনির উদ্দিন আহমেদ এমপি।

খুলনা বিভাগীয় টিম
আহ্বায়ক প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহিদুর রহমান টেপা, সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায়। সদস্যরা হলেন—প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ দিদার বখ্ত, উপদেষ্টা হাসান সিরাজ সুজা, যুগ্ম মহাসচিব মনিরুল ইসলাম মিলন।

সিলেট বিভাগীয় টিম
আহ্বায়ক করা হয়েছে প্রেসিডিয়াম সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এমপিকে। সদস্য সচিব প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী মামুনুর রশীদ, সদস্য হিসেবে রয়েছেন প্রেসিডিয়াম সদস্য এটিইউ তাজ রহমান, যুগ্ম মহাসচিব হাসিবুল ইসলাম জয়, নির্বাহী সদস্য পীর ফজলুর রহমান মেজবাহ এমপি।

অন্যান্য সব বিভাগে সাংগঠনিক টিম ঘোষণা দেওয়া হলেও চট্টগ্রাম বিভাগের টিম ঘোষণা দেওয়া হয়নি। গত জুনের শেষ সপ্তাহে জাতীয় পার্টির বিভাগীয় সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বেশির ভাগ নেতা সংগঠনকে শক্তিশালী করার জন্য বিভাগীয় সাংগঠনিক টিম গঠনের প্রস্তাব দেন। নেতারা তখন অনেকেই পার্টির তৃণমূলের নাজুক অবস্থার কথা তুলে ধরেছিলেন। তারা বলেছিলেন, ‘হায়ার ফায়ারে পার্টি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা টাকা শ্রম দিয়ে দল পরিচালনা করি। আর ভোটের সময় নেতা হায়ার করে প্রার্থী করা হয়। আমরা চাই এখনই প্রার্থী চুড়ান্ত করে দেওয়া হোক। তারা তাদের নির্বাচনী এলাকায় দলকে সংগঠিত করবে।’

ওই সভাতেই পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের সাংগঠনিক টিম গঠনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। মাঝে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যূতে বিষয়টি কিছুটা পিছিয়ে পড়ে। যারা পার্টির নির্দেশনা না মেনে সভায় অনুপস্থিত আছেন তাদের বিরুদ্ধে ওই সভায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। যৌক্তিক কারণ দেখাতে ব্যর্থ হলে তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হবে বলেও হুঁশিয়ার করা হয়। কিন্তু সেই ঘোষণা ঘোষণাই থেকে যায়। এমনকি সভায় অনুপস্থিত একাধিক নেতা সাংগঠনিক টিমের দায়িত্ব পেয়েছেন।

দেশে কি কোনো সরকার আছে, প্রশ্ন দুদুর

দেশে কি কোনো সরকার আছে, প্রশ্ন দুদুর
প্রেসক্লাবের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন শামসুজ্জামান দুদু, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, চামড়া শিল্পের বিপর্যয়ের পর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে দেশে কোনো সরকার আছে কিনা? প্রধানমন্ত্রী আছে কি নেই? সরকার আছে কি নেই? এটা একটা বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশে সরকার থাকলে চামড়া শিল্পের এমন বিপর্যয় হতো না। 

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে 'আমার দেশ আমার শিল্প' শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভার আয়োজন করে ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ সেন্টার (এনআরসি) নামে একটি সংগঠন।

সভায় দুদু আরও বলেন, 'দেশে সরকার থাকলে তো ডেঙ্গুতে এতো মানুষের মৃত্যু হতো না? ব্যাংকের টাকা চুরি হওয়ার কথা না। সরকার প্রধান থাকলে নিশ্চয়ই একটি তদারকির ব্যবস্থা করতেন।'

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566293116575.jpg

 

ছাত্রদলের সাবেক এ নেতা বলেন, '৭১ সালে যে দেশ রক্ত দিয়ে স্বাধীন হয়েছে, সেই দেশটা একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। এখন দেশে আইন-শৃঙ্খলা বলতে আর কিছু নেই। দেশের বিচার ব্যবস্থার ওপর মানুষ এখন আস্থাহীন। স্বাস্থ্য খাত এখন বিলুপ্তির পথে। ডেঙ্গুতে এখন শুধু ঢাকাতে নয় সারা দেশের মানুষ অসহায়। কখন সে মৃত্যুবরণ করবে সে নিজেও জানে না। চামড়া শিল্প এখন মহা বিপর্যয়ের সম্মুখীন। এতটা বিপর্যয় বাংলাদেশ এর আগে কখনো দেখা যায়নি। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের সর্বনিম্ন পর্যায়ের এতিম অসহায় শিশুরা।

আয়োজক সংগঠনের পরিচালক বাবুল তালুকদারের সভাপতিত্বে এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য ডি এম আমিরুল ইসলাম অমরের সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুক ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাড. সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র