Barta24

শনিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৯, ২ ভাদ্র ১৪২৬

English

প্রতিবাদ করতে না পারলে কিসের ঐক্যফ্রন্ট: আসিফ নজরুল

প্রতিবাদ করতে না পারলে কিসের ঐক্যফ্রন্ট: আসিফ নজরুল
আসিফ নজরুল, ছবি: সংগৃহীত
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো একটা জঘন্যতম নির্বাচন হলো, কিন্তু পরের দিন একটা প্রতিবাদ বা হরতালও ডাকতে পারলো না জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। আজ পর্যন্ত কোনো কর্মসূচি দিতে পারলেন না। প্রতিবাদ করতে যদি না পারেন তাহলে কিসের ঐক্যফ্রন্ট?

শনিবার (২৩ মে) সুপ্রিমকোর্ট বার এসোসিয়েশনের মিলনায়তনে 'মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বাস্তবায়নে, মুক্তির লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ হোন, কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তুলুন' শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন নাগরিক ঐক্য।

আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমরা একটা জিনিস দেখে বড় হয়েছি। দেশে যখন একটা দুইটা লোক হত্যা হতো, তখনই দেখলাম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদত্যাগ চাওয়া হতো। যখন একটা ইলেকশনে ব্যাপক কারচুপি হতো তখন পুরা সরকারের পদত্যাগ দাবি করা হতো। আমরা দেখতাম এরশাদের বিরুদ্ধে যা ইচ্ছে তাই লেখা যেতো। আমরা দেখতাম তারেক রহমান, কোকো'র সম্পর্কে যা ইচ্ছে লেখা যেতো। আমরা দেখতাম রাজপথে প্রতি সপ্তাহে আন্দোলন করা যেতো।

তিনি বলেন, ‘এখন এতো মানুষ হত্যা হয়, গুম হয়, কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি করার সাহস পাচ্ছে না। এই কথাটা বলার মতো মানুষের সাহস পর্যন্ত নাই। যখন একটা দেশের নির্বাচনে আগের রাতে ভোট গুম হয়ে যায়, কিন্তু মানুষের কথা বলার সাহস নাই। এখন গুম হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ, গুম হয়ে যাচ্ছে রাষ্ট্র।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের কঠোর সমালোচনা করে এই বুদ্ধিজীবী বলেন, ‘আপনাদের কিছু কিছু জিনিস আমাদের খুব কষ্ট দেয়। এরকম একটা জঘন্যতম নির্বাচন হলো, কিন্তু আপনারা পরের দিন একটা হরতালও ডাকতে পারলেন না। আজ পর্যন্ত কোনো কর্মসূচি ডাকতে পারলেন না। আশ্চর্য লাগে এটা একটা পলিটিক্স। যার সাক্ষী বাংলাদেশের সকল জনগণ।’

তিনি বলেন, 'আমরা নির্বাচনের দিন সকালে মির্জা ফখরুলকে বলতে দেখি নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে। তাঁর লজ্জা থাকা উচিৎ। আমরা নির্বাচনের দুই তিন দিন আগে থেকে জানি নির্বাচনে কি হচ্ছে। আর উনি জানেন না ইলেকশনে কি হচ্ছে? উনি এখানে থাকলে ভাল হতো, উনাকে বলবেন তাঁর লজ্জা হওয়া উচিৎ। এরকম যদি ঐক্যফ্রন্ট হয়, বিরোধী দল হয় তাহলে আমাদের দেশের ভোটাধিকার ফিরে পাব না। সরকারের অনেক দোষ আছে, তাদের দোষ যতো থাকবে বিরোধী দলকে আরও স্মার্ট, শক্তিশালী হবে। আপনারা তা করতে না পারলে আপনাদের কাছ থেকে কিছু আশা করার নাই।'

আসিফ নজরুল বক্তব্য দেওয়ার সময় মির্জা ফখরুল উপস্থিত হতে পারেননি। পরে তিনি উপস্থিত হন।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ঢাবি আইন বিভাগের শিক্ষক আসিফ নজরুল, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী, বিপ্লবী ওয়ার্কার পার্টি নেতা সাইফুল হক, জে এস ডি'র নেতা আব্দুল মালেক রতন, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া, বিএনপি চেয়ারপারনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আব্দুস সালাম প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন :

বস্তির মানুষগুলো নিঃস্ব হয়ে গেল: মির্জা ফখরুল

বস্তির মানুষগুলো নিঃস্ব হয়ে গেল: মির্জা ফখরুল
ঝিলপাড় বস্তি পরিদর্শনে যান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

মিরপুরে বস্তির আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত গরিব মানুষগুলো একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেল বলে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন তিনি।

শনিবার (১৭ আগস্ট) ‍দুপুরে পুড়ে যাওয়া ঝিলপাড় বস্তি পরিদর্শন করতে যান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আওয়াল।

তিনি বলেন, বস্তির গরিব মানুষগুলো একেবারেই নিঃস্ব হয়ে গেল! এমন নিদারুণ ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়ার পক্ষে এ ঘটনায় সমবেদনা জানাচ্ছি।

ক্ষতিগ্রস্ত বস্তিবাসীর উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের সীমিত শক্তি ও সামর্থ্যের মধ্যে আমরা আপনাদের পাশে দাঁড়াব।

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, রাজধানীতে বছরের শুরু থেকে কেন একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে? আমি জানি না বস্তি সরিয়ে দেওয়ার জন্য অগ্নিকাণ্ড ঘটানো হয়েছে কিনা। এজন্য নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাই। সেই সঙ্গে কর্তৃপক্ষকে আগুনের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, কেন বারবার আগুন লাগছে? এই মিরপুরে কালশিতে ভয়াবহ আগ্নিকাণ্ড হলো। মানুষ মরল, দগ্ধ হলো। এর আগেও আগুন লেগেছে। এগুলোর সঠিক কারণ বের করা দরকার।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, বস্তিগুলোতে যে বারবার আগুন লাগে তার পেছনে কোন না কোন কারণ থাকে। আমি বলছি না কোন উদ্দেশে বস্তিতে আগুন লাগানো হয়েছে। এটা মানুষের মধ্যে সন্দেহের তৈরি করে, তাই এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।

শুক্রবার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় ঝিলপাড় বস্তিতে আগুন লাগে। ৩ ঘণ্টা ধরে চলা আগুনের লেলিহান শিখায় বস্তির প্রায় ৩ হাজার ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

বস্তির আগুনে জড়িতদের শাস্তি চান ড. কামাল

বস্তির আগুনে জড়িতদের শাস্তি চান ড. কামাল
আগুনে পুড়ে যাওয়া ঝিলপাড় বস্তি পরিদর্শনে যান ড. কামাল হোসেন

রাজধানীর মিরপুর-৭ নম্বর সেকশনের ঝিলপাড় বস্তিতে অগ্নিকাণ্ড নিয়ে সন্দেহের তীর ছুড়েছেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, আগুন লাগার সঙ্গে যে বা যারা জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতেই হবে।

শনিবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে আগুনে পুড়ে যাওয়া ঝিলপাড় বস্তি পরিদর্শন শেষে এ কথা বলেন তিনি। এ সময় ড. কামালের সঙ্গে ছিলেন গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া, কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত রায় চৌধুরী, অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান প্রমুখ।

ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাড়ি থেকে নেমে দলের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়ার কাঁধে ভর দিয়ে পোড়া বস্তির পাশে গিয়ে দাঁড়ান ড. কামাল হোসেন। সেখানে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর ফেরার পথে গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি গভীরভাবে তদন্ত করা উচিত। যে বা যারা আগুন লাগানোর সঙ্গে জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতেই হবে।’
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566040108478.jpg
তিনি বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতার জন্য সরকারি উদ্যোগও নিতে হবে, স্থানীয় জনগণের কাছেও আবেদন সবাই সাহায্য করেন। এভাবে ঘটনা ঘটা খুবই নিন্দনীয়। ঈদের সময় মানুষ অন্য চিন্তা না করে জায়গা খালি করার জন্য কিভাবে এমন করতে পারে চিন্তার মধ্যে আসে না।’

গণফোরাম সভাপতি বলেন, ‘সরকারের উচিত যাদের দায়িত্ব ছিল তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছে কি না ক্ষতিয়ে দেখা।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র