ঐক্যফ্রন্টে ঐক্য থাকবে: রব

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বৈঠকের পর গণমাধ্যমকর্মীদের ব্রিফ করেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা, ছবি: বার্তা২৪

বৈঠকের পর গণমাধ্যমকর্মীদের ব্রিফ করেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা, ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

সরকারবিরোধী আন্দোলন এবং ঐক্য অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সহ কারারুদ্ধ সব নেতাকর্মীর মুক্তি ও জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে লড়াই করে যাওয়ার সিদ্ধান্ত তাদের।

সোমবার (১০ জুন) বিকালে ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শরিক দল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রবের উত্তরার বাসায় বৈঠক করেন নেতারা। পরে সাংবাদিকদের আ স ম রব বলেন, আমরা জাতির কাছে অঙ্গীকার ও ওয়াদাবদ্ধ। ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে জাতির কাছে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও আইনের শাসন প্রবর্তনের মাধ্যমে জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা, রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনার প্রতিশ্রুতিতে আমরা নির্বাচনে গিয়েছিলাম। এটা আমরা এখনো আদায় করতে পারি নাই। আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন ও ঐক্য অব্যাহত থাকবে। 

‘কিন্তু নির্বাচনে রাষ্ট্রীয়ভাবে ভোট ডাকাতি হয়েছে, এর পরিপ্রেক্ষিতে আপনাদের প্রশ্ন থাকতে পারে, এই প্রশ্নের উত্তর আজকে আমরা দেব না। আমাদের নেতা ড. কামাল হোসেনের সাথে বৈঠক করার পর এ প্রশ্নের উত্তর দেব আমরা।’

ঐক্যফ্রন্ট নেতা বলেন, উন্নয়নের নামে রাষ্ট্রীয় সম্পদের হরিলুট চলছে। একটা বালিশের দাম ছয় হাজার টাকা। পৃথিবীতে এমন ইতিহাস আছে? এই অবস্থায় সরকারের বিরুদ্ধে প্রবল আন্দোলন গড়ে তুলতে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। এজন্য আমাদের নেতা ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে আগামীতে সভায় বসব। এই আন্দোলনের রূপ হবে ঐক্যবদ্ধ; বৃহত্তর ঐক্য। ঐক্যফ্রন্টের ঐক্য আরও বিস্তৃত করতে হবে। এ লক্ষ্যে স্বাধীনতার পক্ষে সরকার বিরোধী আরও যত রাজনৈতিক দল আছে, সবাইকে নিয়ে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে জনগণের গণতন্ত্র মুক্ত করব।

Oikkofront Meeting

ঐক্যফ্রন্ট ছাড়তে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর দেওয়া চিঠির বিষয়ে জেএসডি সভাপতি বলেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া কারাগারে, বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে বোমা পাওয়া গেছে। হাজার হাজার নেতাকর্মী কারাগারে, লাখ লাখ মামলা। তাদের কারাগারে রেখে আমারা রাতে ঘুমাতে পারি না। আমরা কথা দিচ্ছি, তাদের বের করার আগ পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আমাদের শরীক দলের মধ্যে কে কী কথা বললো, সেটা বড় কথা নয়। জনগণের জন্য এই ঐক্য অব্যাহত থাকবে। কামাল হোসেন সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তাদের সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখবেন; তার উপস্থিতিতে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

বিকাল সাড়ে ৪টায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আলোচিত এই বৈঠক শুরু হয়। বৈঠক শেষে সন্ধ্যা ৬টার পর নেতারা ব্রিফ করেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। তবে তার দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য মমিনুল ইসলাম ও যুগ্ম আহবায়ক ডা. জাহিদুর রহমান বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, দলটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আব্দুল কাদের সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক বীর হাবিবুর রহমান তালুকদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল সিদ্দিকী, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাঈদ, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া, ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ।

আরও পড়ুন: ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক শুরু, আসেননি মান্না

আপনার মতামত লিখুন :

এ সম্পর্কিত আরও খবর