Alexa

অনিশ্চয়তার মুখে ছাত্রদলের কাউন্সিল

অনিশ্চয়তার মুখে ছাত্রদলের কাউন্সিল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল/ ছবি: সংগৃহীত

বয়স্কদের বাদ দিয়ে কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি ঘোষণা করলে দলের ভেতরে বিদ্রোহের বড় শঙ্কা দেখা দেওয়ায় অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বিএনপির ভ্যানগার্ড খ্যাত জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কাউন্সিল।

বিএনপির এই অঙ্গ সংগঠনের সবশেষ কমিটির মেয়াদ শেয় হয়েছে আরও দুই বছর ৯ মাস আগে। এ সময়ের মধ্যে কাউন্সিলের দাবি উঠলেও তা করতে পারেনি দলটি। নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে চলতি বছরের মার্চ মাসে গঠন করা হয় সার্চ কমিটি। এরপর কেটে যায় আরও দুটি মাস।

অবশেষে জুন মাসের ৩ তারিখে ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত করা হয় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে। যেখানে কাউন্সিলরদের মতামতের ভিত্তিতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সংসদ গঠনে ৪৫ দিন সময় বেঁধে দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নতুন কমিটির নেতৃত্বের যোগ্যতা হিসেবে ২০০০ সাল থেকে পরবর্তী যেকোনো বছরে এসএসসি অথবা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। আর এখানেই বাঁধে বিপত্তি। বিপাকে পড়েছে ১১ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা দল বিএনপি। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা দলের কার্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়েছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত গণ অবস্থান কর্মসূচিও পালন করেন বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।

দীর্ঘদিন বিএনপি ক্ষমতার বাইরে থাকায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা, মামলার শিকার হয়েছেন। আবার কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিটে কাজ না থাকায় নতুন নেতৃত্বও তৈরি হয়নি। ফলে কমিটিতে দীর্ঘদিনের জট তৈরি হয়েছে। হঠাৎ করে বয়সসীমা বেঁধে দেওয়া হলে অনেকে বঞ্চিত হবেন।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, ছাত্রদলের কমিটি গঠনে বয়সের কোনো সীমারেখা নির্ধারণ না করে স্বল্প মেয়াদে আগামী ১ জানুয়ারি পর্যন্ত একটি কমিটি গঠন এবং পরের কমিটিকেও এক বছরের স্বল্প মেয়াদে গঠন করে ছাত্রদলের নেতৃত্বের জট কমাতে হবে।

সর্বশেষ ২০১৪ সালের অক্টোবরে রাজীব আহসানকে সভাপতি ও আকরামুল হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠন করা হয় কেন্দ্রীয় কমিটি। যার মেয়াদ ২০১৬ সালের অক্টোবরে শেষ হয়। মেয়াদউত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে দল সংগঠনটি চলছে প্রায় ৩ বছর।

মেয়াদউত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্তির পর গত ৯ জুন ছাত্রদলের কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে তিনটি কমিটি গঠন করা হয়। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকনকে প্রধান করে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলনকে বাছাই কমিটি ও ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুকে প্রধান করে আপিল কমিটি গঠন করা হয়।

ছাত্রদলের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সাহেদুল ইসলাম বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘হঠাৎ করে পার্টি সিদ্ধান্ত নিয়েছে ২০০০ সালের মধ্যে যারা এসএসসি দিয়েছে তারা ছাত্রদলের রাজনীতি করবে। যদি নিয়মিত কমিটি হতো আমরাও নিয়মিত কমিটির মাধ্যমে নেতৃত্ব দিয়ে যুবদল, সেচ্ছাসেবক দল বা অন্য দল করার সুযোগ পেতাম। নিয়মিত কমিটি না হওয়ার কারণে জট তৈরি হয়েছে। এই জটের জন্য হাইকমান্ড দায়ী।’

তিনি বলেন, ‘পরপর দুই মেয়াদে ধারাবাহিক কমিটি দেওয়া হোক। যার মধ্য দিয়ে নেতৃত্বের জট খুলবে। প্রয়োজনে স্বল্প মেয়াদে কমিটি দে্রয়া হোক। কিন্তু যে বাইন্ডিং দিয়েছে, তা মানতে রাজি না। ধারাবাহিক কমিটির মাধ্যমে যাদের ছাত্রত্ব আছে তারাই কমিটির নেতৃত্ব দেবে, এতে কোনো আপত্তি নেই।’

ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আলম সৈকত বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছি। তিনি সাবেকদের নিয়ে বসেছিলেন। আমরা বলেছিলাম বয়সের সীমা রাখা যাবে না। তিনিও একমত। হঠাৎ করে দেখলাম ঈদের আগের রাতে বলা হলো, ২০০০ সালের পর যারা এসএসসি দিয়েছে তাদের দিয়ে কমিটি হবে।’

জানা যায়, সম্প্রতি লক্ষ্মীপুরসহ বেশ কয়েকটি জেলায় ছাত্রদলের কমিটি সম্পন্ন করা হয়েছে। যেখানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে বয়সসীমা মেনে পদ দেওয়া হয়েছে। বয়স্কদের পদে রাখা হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন :

রাজনীতি এর আরও খবর