বাজেটে যতবেশি ঘাটতি ততবেশি সংশোধন

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
বাজেট নিয়ে জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের প্রতিক্রিয়া, ছবি: বার্তা২৪

বাজেট নিয়ে জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের প্রতিক্রিয়া, ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

বাজেটে যতবেশি ঘাটতি ততবেশি সংশোধন। ফলে সংশোধনের পর বাজেটের মূল চরিত্র আর রক্ষা করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

শনিবার (১৫ জুন) জাপার বনানী কার্যালয়ে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ মন্তব্য করেন।

জিএম কাদের বলেন, ‘সংসদে অনেক তর্ক বিতর্কের পর দেশব্যাপী আলাপ আলোচনা ও মতামতের মাধ্যমে যে বাজেট গৃহীত হয় বাস্তবায়নকালীন সংশোধনের ধাক্কায় তার উদ্দেশ্য ও অনুমোদিত রূপরেখার ব্যাপক পরিবর্তনের আশঙ্কা থাকে।’

'আবার ঘাটতি মোকাবিলায় সময়ে সময়ে এসআরও জারির মাধ্যমে ট্যাক্স বাড়ানো হয়। এতে পরোক্ষ কর বেড়ে যায়, সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমরা চাই নিম্নবিত্তের ওপর বোঝা কম পড়ুক। প্রত্যক্ষ কর বেশি বাড়লে সাধারণ ধনিক শ্রেণির ওপর প্রভাব পড়ে তারা এটা সামলে উঠতে পারেন বলে মন্তব্য করেন জিএম কাদের।'

তিনি বলেন, 'জাতীয় পার্টি চায় অপেক্ষাকৃত অবস্থাপন্ন থেকে বেশি হারে রাজস্ব আদায়ের ব্যবস্থা করা হোক। স্বল্প আয়ের মানুষের ঘাড়ে দায় কম চাপানো হোক। বাজেট প্রস্তাবে তেমনটি দেখানো হয়েছে। রাজস্ব আয়কর থেকে ৩৫ শতাংশ, মূল্য সংযোজন কর থেকে ৩৭ শতাংশ ও আমদানি শুল্ক থেকে ২৭ দশমিক ২ শতাংশ আয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।

রাজস্ব আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যে পদ্ধতিতে আয়ের কথা বলা হয়েছে বর্তমান আয়কর বিভাগের অপর্যাপ্ত অবকাঠামো ও লোকবলের কারণে প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞরা। আয়কর ও ভ্যাট থেকে যে আয়ের আশা করা হচ্ছে, তার থেকে অনেক কম আয় হবে। এতে করে বাস্তবে যা ঘটতে পারে অতীত অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, আমদানি শুল্কের মাধ্যমে যতটা সম্ভব ঘাটতি পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ জন্য এসআরও জারি করে নতুন হার নির্ধারণ করা হয়। সে ক্ষেত্রে নিম্নবিত্ত ও উচ্চবিত্ত সমানভাবে করের বোঝা বহন করবে এটা কাম্য নয়।

১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা ঘাটতি মোকাবেলায় দেশি-বিদেশি ব্যাংক ঋণ, সাহায্য ও সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে পূরণ করা। এখনই ব্যাংকে তারল্য সংকটের খবর পাওয়া যাচ্ছে। নতুন করে সরকার ঋণ নিলে ব্যাংকিং খাত আরও জটিলতার মধ্যে পড়বে। বেসরকারি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সমস্যা হতে পারে বলে মনে করেন জিএম কাদের।

কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে বাধা হবে এ ধরণের পদক্ষেপ যে কোনো ভাবেই পরিহার করতে হবে। বিদেশি ঋণের সুদের হার বেশি, নানা রকম জটিল শর্ত থাকে সে কারণে বিদেশি ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সাবধানী হওয়ার দাবি জানান জিএম কাদের।'

জিএম কাদের বলেন, 'বাজেটে ভোজ্য তেল, চিনি, গুঁড়াদুধের ভ্যাট বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। আমরা দাম না বাড়ানোর প্রস্তাব করছি। একইভাবে মোবাইল আর বিলাসিতার বিষয় নয়। কৃষক, মজুর সবার হাতেই দেখা যায়। মোবাইলে কথা বলার ওপর আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহার করা বাঞ্ছনীয়।'

অর্থমন্ত্রী অসুস্থ থাকায় প্রধানমন্ত্রী নিজে বাজেট পাঠ করে তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব প্রমাণ দিয়েছেন। যুবকদের কর্মসংস্থান, কারিগরি প্রশিক্ষণকে গুরুত্ব দেওয়ায় সাধুবাদ জানাচ্ছি। অর্থনৈতিক অঞ্চলের বরাদ্দ ১’শ কোটি থেকে বাড়িয়ে হাজার কোটি টাকা করার প্রস্তাব করেন জিএম কাদের।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা, প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অধ্যাপক ইকবাল হোসেন রাজু প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন :