Barta24

মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬

English

বাজেট ২০১৯-২০

বাজেটে যতবেশি ঘাটতি ততবেশি সংশোধন

বাজেটে যতবেশি ঘাটতি ততবেশি সংশোধন
বাজেট নিয়ে জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের প্রতিক্রিয়া, ছবি: বার্তা২৪
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

বাজেটে যতবেশি ঘাটতি ততবেশি সংশোধন। ফলে সংশোধনের পর বাজেটের মূল চরিত্র আর রক্ষা করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

শনিবার (১৫ জুন) জাপার বনানী কার্যালয়ে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ মন্তব্য করেন।

জিএম কাদের বলেন, ‘সংসদে অনেক তর্ক বিতর্কের পর দেশব্যাপী আলাপ আলোচনা ও মতামতের মাধ্যমে যে বাজেট গৃহীত হয় বাস্তবায়নকালীন সংশোধনের ধাক্কায় তার উদ্দেশ্য ও অনুমোদিত রূপরেখার ব্যাপক পরিবর্তনের আশঙ্কা থাকে।’

'আবার ঘাটতি মোকাবিলায় সময়ে সময়ে এসআরও জারির মাধ্যমে ট্যাক্স বাড়ানো হয়। এতে পরোক্ষ কর বেড়ে যায়, সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমরা চাই নিম্নবিত্তের ওপর বোঝা কম পড়ুক। প্রত্যক্ষ কর বেশি বাড়লে সাধারণ ধনিক শ্রেণির ওপর প্রভাব পড়ে তারা এটা সামলে উঠতে পারেন বলে মন্তব্য করেন জিএম কাদের।'

তিনি বলেন, 'জাতীয় পার্টি চায় অপেক্ষাকৃত অবস্থাপন্ন থেকে বেশি হারে রাজস্ব আদায়ের ব্যবস্থা করা হোক। স্বল্প আয়ের মানুষের ঘাড়ে দায় কম চাপানো হোক। বাজেট প্রস্তাবে তেমনটি দেখানো হয়েছে। রাজস্ব আয়কর থেকে ৩৫ শতাংশ, মূল্য সংযোজন কর থেকে ৩৭ শতাংশ ও আমদানি শুল্ক থেকে ২৭ দশমিক ২ শতাংশ আয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।

রাজস্ব আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যে পদ্ধতিতে আয়ের কথা বলা হয়েছে বর্তমান আয়কর বিভাগের অপর্যাপ্ত অবকাঠামো ও লোকবলের কারণে প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞরা। আয়কর ও ভ্যাট থেকে যে আয়ের আশা করা হচ্ছে, তার থেকে অনেক কম আয় হবে। এতে করে বাস্তবে যা ঘটতে পারে অতীত অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, আমদানি শুল্কের মাধ্যমে যতটা সম্ভব ঘাটতি পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ জন্য এসআরও জারি করে নতুন হার নির্ধারণ করা হয়। সে ক্ষেত্রে নিম্নবিত্ত ও উচ্চবিত্ত সমানভাবে করের বোঝা বহন করবে এটা কাম্য নয়।

১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা ঘাটতি মোকাবেলায় দেশি-বিদেশি ব্যাংক ঋণ, সাহায্য ও সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে পূরণ করা। এখনই ব্যাংকে তারল্য সংকটের খবর পাওয়া যাচ্ছে। নতুন করে সরকার ঋণ নিলে ব্যাংকিং খাত আরও জটিলতার মধ্যে পড়বে। বেসরকারি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সমস্যা হতে পারে বলে মনে করেন জিএম কাদের।

কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে বাধা হবে এ ধরণের পদক্ষেপ যে কোনো ভাবেই পরিহার করতে হবে। বিদেশি ঋণের সুদের হার বেশি, নানা রকম জটিল শর্ত থাকে সে কারণে বিদেশি ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সাবধানী হওয়ার দাবি জানান জিএম কাদের।'

জিএম কাদের বলেন, 'বাজেটে ভোজ্য তেল, চিনি, গুঁড়াদুধের ভ্যাট বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। আমরা দাম না বাড়ানোর প্রস্তাব করছি। একইভাবে মোবাইল আর বিলাসিতার বিষয় নয়। কৃষক, মজুর সবার হাতেই দেখা যায়। মোবাইলে কথা বলার ওপর আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহার করা বাঞ্ছনীয়।'

অর্থমন্ত্রী অসুস্থ থাকায় প্রধানমন্ত্রী নিজে বাজেট পাঠ করে তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব প্রমাণ দিয়েছেন। যুবকদের কর্মসংস্থান, কারিগরি প্রশিক্ষণকে গুরুত্ব দেওয়ায় সাধুবাদ জানাচ্ছি। অর্থনৈতিক অঞ্চলের বরাদ্দ ১’শ কোটি থেকে বাড়িয়ে হাজার কোটি টাকা করার প্রস্তাব করেন জিএম কাদের।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা, প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অধ্যাপক ইকবাল হোসেন রাজু প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন :

জাতীয় পার্টি কার্যকর বিরোধী দল হিসেবে রাজনীতির মাঠে আছে

জাতীয় পার্টি কার্যকর বিরোধী দল হিসেবে রাজনীতির মাঠে আছে
জিএম কাদের

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেছেন, 'বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিশাল শূন্যতা বিরাজ করছে। জনসাধারণের দাবি ও ভাষা বোঝে এমন একটি রাজনৈতিক শক্তি খুঁজছে সাধারণ মানুষ। ঐক্যবদ্ধ জাতীয় পার্টি আরো শক্তিশালী হয়ে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণের রাজনীতি করবে।

সোমবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী অফিসে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবদুস সাত্তার পোদ্দার এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের-এর হাতে ফুল দিয়ে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। এসময় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানিয়ে এসব কথা বলেন।

গোলাম মোহাম্মদ কাদের আরো বলেন, 'জাতীয় পার্টি কার্যকর বিরোধী দল হিসেবে রাজনীতির মাঠে আছে। আমরা সরকারের চোখে আঙ্গুল দিয়ে তাদের ভুল ক্রুটি ধরিয়ে দেবো। আমরা দেশ ও জনগণের পক্ষে ইতিবাচক রাজনীতি করব'।

জাতীয় পার্টির এই নেতা বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে সরকারকে বাধ্য করা যায়না। বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিলো তখন আওয়ামী লীগ তাদের দাবি আদায়ে সরকারকে বাধ্য করতে পারেনি। আবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বিএনপিও সরকারকে বাধ্য করতে পারেনি। যারা কথায় কথায় সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করতে চায়, সেটা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একেবারেই অসম্ভব। তাই প্রতিটি দলেরই উচিত নির্বাচিত প্রতিটি সরকারকেই রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য ৫ বছর সময় দেয়া এবং পরবর্তী নির্বাচনের জন্য নিজ দলকে সংগঠিত করা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায়, এ্যাড. রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, নাজমা আখতার এমপি, ভাইস চেয়ারম্যান জহিরুল আলম রুবেল, আহসান আদেলুর রহমান এমপি, যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু প্রমুখ।

বিএনপি'র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

বিএনপি'র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা
বক্তব্য রাখছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

পহেলা সেপ্টেম্বর দলের ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। কর্মসূচিগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, র‍্যালি, আলোচনা সভা ও দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও ফাতিহা পাঠ।

সোমবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে বিএনপির এক যৌথসভা শেষে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

১ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। এরপর সকাল ১০টায় বিএনপি’র কেন্দ্রীয় ও সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের নিয়ে শেরেবাংলা নগরস্থ সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করা হবে। দোয়া ও মোনাজাত শেষে র‌্যালির আয়োজন করা হবে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ২ সেপ্টেম্বর আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পোস্টার ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে

রাজধানী ঢাকা ছাড়াও সারাদেশে বিএনপি তাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। পহেলা সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী বিএনপি’র সকল ইউনিট সকাল ৬টায় দলীয় কার্যালয়গুলোতে দলীয় পতাকা উত্তোলন করবে। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের সুবিধানুযায়ী দলের জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের ইউনিটগুলো দিবসটি উপলক্ষে কর্মসূচি গ্রহণ করবে। ঢাকার মতো সারাদেশেও র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করতে বলা হয়েছে।

দুপুরে আয়োজিত যৌথ সভায় উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন-নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, মাহবুবের রহমান শামিম, বিলকিস জাহান শিরিন, সৈয়দ ইমরান সালেহ প্রিন্স, ডা. সাখওয়াত হাসান জীবন. প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী. সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. আব্দুস সালাম প্রমুখ।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র