Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বাজেট ২০১৯-২০

বাজেটে যতবেশি ঘাটতি ততবেশি সংশোধন

বাজেটে যতবেশি ঘাটতি ততবেশি সংশোধন
বাজেট নিয়ে জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের প্রতিক্রিয়া, ছবি: বার্তা২৪
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

বাজেটে যতবেশি ঘাটতি ততবেশি সংশোধন। ফলে সংশোধনের পর বাজেটের মূল চরিত্র আর রক্ষা করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

শনিবার (১৫ জুন) জাপার বনানী কার্যালয়ে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ মন্তব্য করেন।

জিএম কাদের বলেন, ‘সংসদে অনেক তর্ক বিতর্কের পর দেশব্যাপী আলাপ আলোচনা ও মতামতের মাধ্যমে যে বাজেট গৃহীত হয় বাস্তবায়নকালীন সংশোধনের ধাক্কায় তার উদ্দেশ্য ও অনুমোদিত রূপরেখার ব্যাপক পরিবর্তনের আশঙ্কা থাকে।’

'আবার ঘাটতি মোকাবিলায় সময়ে সময়ে এসআরও জারির মাধ্যমে ট্যাক্স বাড়ানো হয়। এতে পরোক্ষ কর বেড়ে যায়, সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমরা চাই নিম্নবিত্তের ওপর বোঝা কম পড়ুক। প্রত্যক্ষ কর বেশি বাড়লে সাধারণ ধনিক শ্রেণির ওপর প্রভাব পড়ে তারা এটা সামলে উঠতে পারেন বলে মন্তব্য করেন জিএম কাদের।'

তিনি বলেন, 'জাতীয় পার্টি চায় অপেক্ষাকৃত অবস্থাপন্ন থেকে বেশি হারে রাজস্ব আদায়ের ব্যবস্থা করা হোক। স্বল্প আয়ের মানুষের ঘাড়ে দায় কম চাপানো হোক। বাজেট প্রস্তাবে তেমনটি দেখানো হয়েছে। রাজস্ব আয়কর থেকে ৩৫ শতাংশ, মূল্য সংযোজন কর থেকে ৩৭ শতাংশ ও আমদানি শুল্ক থেকে ২৭ দশমিক ২ শতাংশ আয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।

রাজস্ব আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যে পদ্ধতিতে আয়ের কথা বলা হয়েছে বর্তমান আয়কর বিভাগের অপর্যাপ্ত অবকাঠামো ও লোকবলের কারণে প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞরা। আয়কর ও ভ্যাট থেকে যে আয়ের আশা করা হচ্ছে, তার থেকে অনেক কম আয় হবে। এতে করে বাস্তবে যা ঘটতে পারে অতীত অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, আমদানি শুল্কের মাধ্যমে যতটা সম্ভব ঘাটতি পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ জন্য এসআরও জারি করে নতুন হার নির্ধারণ করা হয়। সে ক্ষেত্রে নিম্নবিত্ত ও উচ্চবিত্ত সমানভাবে করের বোঝা বহন করবে এটা কাম্য নয়।

১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা ঘাটতি মোকাবেলায় দেশি-বিদেশি ব্যাংক ঋণ, সাহায্য ও সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে পূরণ করা। এখনই ব্যাংকে তারল্য সংকটের খবর পাওয়া যাচ্ছে। নতুন করে সরকার ঋণ নিলে ব্যাংকিং খাত আরও জটিলতার মধ্যে পড়বে। বেসরকারি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সমস্যা হতে পারে বলে মনে করেন জিএম কাদের।

কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে বাধা হবে এ ধরণের পদক্ষেপ যে কোনো ভাবেই পরিহার করতে হবে। বিদেশি ঋণের সুদের হার বেশি, নানা রকম জটিল শর্ত থাকে সে কারণে বিদেশি ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সাবধানী হওয়ার দাবি জানান জিএম কাদের।'

জিএম কাদের বলেন, 'বাজেটে ভোজ্য তেল, চিনি, গুঁড়াদুধের ভ্যাট বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। আমরা দাম না বাড়ানোর প্রস্তাব করছি। একইভাবে মোবাইল আর বিলাসিতার বিষয় নয়। কৃষক, মজুর সবার হাতেই দেখা যায়। মোবাইলে কথা বলার ওপর আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহার করা বাঞ্ছনীয়।'

অর্থমন্ত্রী অসুস্থ থাকায় প্রধানমন্ত্রী নিজে বাজেট পাঠ করে তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব প্রমাণ দিয়েছেন। যুবকদের কর্মসংস্থান, কারিগরি প্রশিক্ষণকে গুরুত্ব দেওয়ায় সাধুবাদ জানাচ্ছি। অর্থনৈতিক অঞ্চলের বরাদ্দ ১’শ কোটি থেকে বাড়িয়ে হাজার কোটি টাকা করার প্রস্তাব করেন জিএম কাদের।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা, প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অধ্যাপক ইকবাল হোসেন রাজু প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন :

‘লবিং নয়, যোগ্যতা দিয়েই ছাত্রলীগের নেতা হতে হবে’

‘লবিং নয়, যোগ্যতা দিয়েই ছাত্রলীগের নেতা হতে হবে’
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

বাংলাদেশে অধিকার আদায়ের সব আন্দোলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) অবদান আছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল। শনিবার (২০ জুলাই) জবি ছাত্রলীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নেতৃত্বে যেই আসুক তাকে মেনে নিয়ে শেখ হাসিনার স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানাচ্ছি। যার ছাত্রত্ব আছে জবি ছাত্রলীগের নেতৃত্ব তাকেই দেওয়া হবে।

সম্মেলনের প্রধান বক্তা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেন, লবিং তদবির করে নেতা হওয়া যাবে না। ছাত্রলীগের নেতা হতে হলে যোগ্যতা দিয়েই নেতা হতে হবে।

সম্মেলনের উদ্বোধক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন বলেন, প্রার্থীদের সবাই পদ পাবে না। তাই পদ না পেয়ে হারিয়ে যাওয়া যাবে না। একজন ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এক হয়ে কাজ করতে হবে।

সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক আশরাফুল ইসলাম টিটনের সভাপত্বিতে ও যুগ্ম আহবায়ক জামাল উদ্দীনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নজিবুল্লাহ হীরু, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবু এবং ছাত্রলীগের সাবেক নেতৃবৃন্দ।

উল্লখ্য, সকালে সম্মেলন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের আসতে দেরি হওয়ায় সম্মেলন শুরু হয় বিকেল ৩টায়।

দেশে মেগা প্রকল্পের নামে মেগা লুট চলছে: ফখরুল

দেশে মেগা প্রকল্পের নামে মেগা লুট চলছে: ফখরুল
চট্টগ্রামে বিভাগীয় সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘সরকার উন্নয়নের নামে ঢোল পিটিয়ে মেগা প্রকল্পের নামে মেগা হরিলুট করছে। দেশের ব্যাংকগুলো রুগ্ন হয়ে গেছে। গোটা অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ঋণ নির্ভর হয়ে পড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশ গভীর অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে পড়বে।’

শনিবার (২০জুলাই) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নাসিম ভবনের সামনে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাজেট ঘোষণার পরই গ্যাস, জ্বালানিসহ প্রত্যেকটা জিনিসের দাম বাড়ানো হয়েছে। নিজেরা ঢোল বাজিয়ে দেশে উন্নয়নের লহরী ভরিয়ে দিয়েছে। দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের কথা বাদ দিয়ে তারা লুটপাটকারীদের সুবিধার্থে কালো টাকা সাদা করার ব্যবস্থা করে দিয়েছে।’

নির্বাচন কমিশনারের হজ প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, ‘সাংবিধানিক ব্যবস্থা এত লজ্জাজনক অবস্থায় গেছে, যেখানে নির্বাচন কমিশনার একটি দলের তত্ত্বাবধায়কের সদস্য হয়ে হজ করতে যাচ্ছেন। উপহার হিসেবে আপনাকে হজ করতে পাঠানো হলো। এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে পারে না।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, মামলায় ভারাক্রান্ত হয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা পালিয়ে গিয়ে রিকশা চালাচ্ছেন, হকারের কাজ করছেন। খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় কারাবন্দী করে রেখেছে। আইনজীবীদের শত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শেখ হাসিনার নির্দেশ ছাড়া তাঁর মুক্তি মিলছে না।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563634869186.gif

এর আগে বক্তব্যের শুরুতে ফখরুল দেশের বন্যর্তদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিএনপি নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান।

দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, ‘সরকারের একঘেয়েমির কারণে পৃথিবীর কেউ আমাদের দেখতে পারে না। অবিলেম্বে রোহিঙ্গাদের তাদের ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। নির্বাচিত সরকার এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।

চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আউয়াল মিন্টু, আবদুল্লাহ আল নোমান, সুকুমার রায়, গিয়াস উদ্দিন কাদের, বরকত উল্লাহ বুলু, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম, খন্দকার মোশারফ হোসেন, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সাবেক চিফ হুইপ জয়নাল আবেদীন ফারুক সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।

এদিকে বিভাগীয় সমাবেশ ঘিরে নেতাকর্মীদের মাঝে বিরাজ করে উৎসবের আমেজ। দলীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠানের অনুমতি থাকলেও নেতাকর্মীদের আগমনে সমাবেশ ছড়িয়ে পড়ে কাজীর দেউড়ি, লাভলেইন এলাকায়।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র