Barta24

বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

আ'লীগের অনুষ্ঠানে যুবলীগ-ছাত্রলীগ সংঘর্ষ, এসআইসহ আহত ১০

আ'লীগের অনুষ্ঠানে যুবলীগ-ছাত্রলীগ সংঘর্ষ, এসআইসহ আহত ১০
লক্ষ্মীপুরে যুবলীগ-ছাত্রলীগ সংঘর্ষ, ছবি: সংগৃহীত
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
লক্ষ্মীপুর


  • Font increase
  • Font Decrease

লক্ষ্মীপুরে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশের এক উপ-পরিদর্শকসহ (এসআই) ১০ নেতাকর্মী আহত হয়।

সোমবার (২৪ জুন) সকাল ১১টার দিকে সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে লাঠিচার্জ করে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।

এ ঘটনায় চন্দ্রগঞ্জ বাজার ও আশপাশ এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে ফের সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

আহতরা হলেন- চন্দ্রগঞ্জ থানার এসআই সোহেল মিয়া, যুবলীগ নেতা আব্দুর রাজ্জাক রিংকু, তাজু ভূঁইয়া, রোমেল, সৌরভ হোসেন, মো. পারভেজ, ছাত্রলীগ নেতা মামুন হোসেন ও মো. শাহাদাতসহ ১০জন। তারা স্থানীয় ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

আ'লীগের অনুষ্ঠানে যুবলীগ-ছাত্রলীগ সংঘর্ষ

প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্র জানা যায়, আওয়ামী লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকালে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ আয়োজিত র‌্যালি শেষে বাজারে আলোচনা সভা চলছিল। অনুষ্ঠানে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু ও সাধারণ সম্পাদক নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়নসহ দলের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে থানা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কাজী মামুনুর রশিদ বাবলুর নেতাকর্মীদের সঙ্গে ইউনিয়ন যুবলীগের নেতাকর্মীদের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে এসআই সোহেল মিয়াসহ উভয়পক্ষের ১০ নেতাকর্মী আহত হয়। এ সময় প্ল্যাস্টিকের চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করে নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের হাতাহাতি হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। এ ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ করেনি।

আপনার মতামত লিখুন :

এরশাদ শুধু ভাই না, আমার পিতা ও শিক্ষক ছিলেন

এরশাদ শুধু ভাই না, আমার পিতা ও শিক্ষক ছিলেন
গুলশান আজাদ মসজিদে প্রয়াত এরশাদের কুলখানি/ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ শুধু আমার বড় ভাই ছিলেন না। উনি আমার পিতা উনি আমার শিক্ষক ছিলেন। ওনার কোলে চড়ে সিনেমা দেখেছি, হাতে ধরে চামুচ দিয়ে খাওয়ায় এবং কিভাবে টাই বাঁধতে হয় শিখিয়ে দিয়েছেন।

বুধবার (১৭ জুলাই) বিকেলে গুলশান আজাদ মসজিদে প্রয়াত এরশাদের কুলখানিতে কাতর কণ্ঠে  তিনি এমন মন্তব্য করেন।

জিএম কাদের বলেন, আমি যখন রাজনীতিতে আসি তখন কিভাবে পরিবেশ ট্যাকেল দিতে হয়, সংকট মোকাবেলা করতে হয় শিখিয়েছেন। আমাদের মাথার উপর ছাতাটি সরে গেছে, বট গাছটি আর নেই। আপনারা ওনার জন্য দোয়া করবেন।

কাদের বলেন, আজকে খেলার যে অর্জন তার বীজবপন করেছেন উনি বিকেএসপি প্রতিষ্ঠা করে। আমি সরকারকে ধন্যবাদ জানাই ওনার বীজটাকে লালন করার জন্য। আওয়ামী লীগ গ্রামকে শহর করার কথা বলছে এর গোড়াপত্তন করেছেন এরশাদ উপজেলা প্রতিষ্ঠা করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/17/1563368275716.jpg

তিনি বলেন, একটি মানুষের অবদান অর্জন বুঝা যায় তার মৃত্যূর পর জানাজায় লোক সমাগম দেখে। ওনার চারটি জানাজা হয়েছে কোনটিতে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। একটির চেয়ে আরেকটি সমাগম বেশি হয়েছে। এতে বুঝা যায় ওনার নীতি কর্ম মানুষ গ্রহণ করেছিলেন।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জিএম কাদের বলেন, আমার ভাই যখন হাসপাতালে তখন প্রতি ঘণ্টায় খোঁজ খবর নিয়েছেন। সম্মিলিত সমারিক হাসপাতালের ডাক্তাররা রাতদিন কাবার করে কাজ করেছে। ওনারা নিজের বাবার মতো করে সেবা করেছেন।

কুলখানিতে অন্যদের মধ্যে অংশ নেন আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ, মোহাম্মদ. নাসিম, সালমান এফ রহমান, নুরে আলম সিদ্দিকী, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ এবং প্রয়াত এরশাদের দুই পুত্র এরিক এরশাদ, সা'দ এরশাদ।

জাতীয় পার্টির নেতাদের মধ্যে ছিলেন, ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, রুহুল আমিন হাওলাদার, মসিউর রহমান রাঙ্গা, কাজী ফিরোজ রশিদ, অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান, আবু হোসেন বাবলা প্রমুখ।

১/১১ -এর ষড়যন্ত্রকারীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি

১/১১ -এর ষড়যন্ত্রকারীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

২০০৭ সালে ১/১১ ঘটনার মাধ্যমে যারা দেশে সেনাসমর্থিত অগণতান্ত্রিক সরকার আনতে বাধ্য করেছিল, সেই ষড়যন্ত্রকারীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা।

দলটির সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারাবন্দী দিবস উপলক্ষে বুধবার (১৭ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে স্বপ্ন ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সিনিয়র কয়েকজন নেতা এ দাবি জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ’১/১১ -এর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে অন্যায়ভাবে তাকে জেলে পাঠানো হয়ে হয়েছিল। যারা এ ষড়যন্ত্রে জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় আনা উচিৎ।’

আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে দেশের বাইরে এখনো ষড়যন্ত্র হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, এসব ষড়যন্ত্র করে কোনো লাভ হবে না। দেশের মানুষ শেখ হাসিনার সরকারের সাথে আছে। দেশের মানুষের সমর্থন আছে বলেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে টানা তৃতীয়বারের মতো দেশ পরিচালনা করছে আওয়ামী লীগ।

২০০৭ সালে সালে মাইনাস টু নয়, মাইনাস ওয়ান ষড়যন্ত্র হয়েছিল দাবি করে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, কেবল শেখ হাসিনাকে দেশর জনগণ ও রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে দূরে রাখতে ৭১-এর শত্রু ও তাদের মিত্ররা এ ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করেছিল।

তিনি দাবি করেন, জনগণ উদগ্রীব ছিল বলে জনদাবির মুখে শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় তৎকালীন সেনা সর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার।

বিএনপি চেয়ারপাসন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে হানিফ বলেন, তিনি কেবল আইনি প্রক্রিয়া ও রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার সুবাদে মুক্তি পেতে পারেন। আন্দোলন করে লাভ হবে না।

সভায় সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, ২০০৭ ও ২০০৮ সালে সংস্কারের নামে অওয়ামী লীগের অনেক সিনিয়র নেতা সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে সহযোগিতা করে দলের সভাপতি শেখ হাসিনাকে নির্লজ্জভাবে সরাতে চেয়েছিল। শেখ হাসিনার মুক্তির জন্য দলের অনেক সিনিয়র আইনজীবীও কোনো প্রচেষ্টা চালাননি। সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ জুনিয়র বেশ কিছু আইনজীবী নিয়ে অইনি লড়াই চালিয়ে যান।

সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক বলেন, দেশের জনগণ চেয়েছিল বলেই ১/১১ -এর সেনাসমর্থিত সরকার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

স্বপ্ন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য দেন চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন রুহুল, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব শাবান মাহমুদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই সেনাসর্থিত তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করে। দীর্ঘ প্রায় ১১ মাস কারাভোগের পর ২০০৮ সালের ১১ জুন সংসদ ভবন চত্বরে স্থাপিত বিশেষ কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র