Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বাড়ির কাজ দেখতে রংপুর যাচ্ছেন এরশাদ

বাড়ির কাজ দেখতে রংপুর যাচ্ছেন এরশাদ
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ
সেরাজুল ইসলাম সিরাজ
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

দীর্ঘ বিরতির পর শুক্রবার (২৮ জুন) রংপুরে যাচ্ছেন বিরোধী দলীয় নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তার এবারের সফরে থাকছে না কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি; বাড়ির নির্মাণ কাজ দেখাই অন্যতম উদ্দেশ্য বলে পার্টি সূত্র জানিয়েছে।

দুই রাত অবস্থান শেষে ৩০ জুন এরশাদের ঢাকায় ফেরার সূচিও প্রায় চূড়ান্ত। শারীরিক অসুস্থতার কারণে হেলিকপ্টারের যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। তবে সবটাই নির্ভর করছে স্বাস্থ্যগত অবস্থার ওপর। কোনো কারণে শরীর বেশি অসুস্থ হলে কর্মসূচি বাতিল হতে পারে।

এরশাদের ব্যক্তিগত স্টাফ জাহাঙ্গীর আলম বার্তা২৪.কমকে বলেন, স্যারের (এরশাদ) ২৮ তারিখে রংপুর যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে বিষয়টি এখনও পুরোপুরি চূড়ান্ত বলা যাচ্ছে না।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/24/1561385431067.jpg
রংপুর শহরে অবস্থিত এরশাদের ব্যক্তিগত আবাস ‘পল্লী নিবাস’ সংস্কার করে তিনতলা ভবন গড়া হচ্ছে। এতদিন বাউন্ডারির মধ্যে আলাদা আলাদা ভবন ছিলো। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ থাকতেন দ্বিতল ভবনে। আর পিএসসহ অন্যান্য স্টাফদের ছিলো একতলা ভবন। এখন সবগুলো ভেঙে তিনতলা কমপ্লেক্স করা হচ্ছে। দ্বিতীয় তলায় এরশাদ ও ছেলে এরিখের কক্ষ তৈরি করা হয়েছে। এবার গেলে সেখানেই থাকবেন তিনি।

ভবনটির দ্বিতীয় তলার কাজ শেষ, চলমান রয়েছে তৃতীয় তলার ফিনিশিংয়ের কাজ। এবারের সফরের মূল উদ্দেশ্য থাকছে সেই বাড়ির কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন।

সবশেষ এরশাদ রংপুর সফরে গিয়েছিলেন ৩ মার্চ। তখনও বাড়ির কাজ দেখতেই রংপুরে গিয়েছিলেন। সেবার উঠেছিলেন হোটেল গ্র্যান্ড প্যালেসে।

এর আগে নির্বাচনের আগে ১ নভেম্বর রংপুরে গেলে সর্বশেষ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। লম্বা কর্মসূচি থাকলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে শেষ পর্যন্ত কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করে ঢাকায় ফিরেছিলেন এরশাদ।

একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে আগে গত বছরের ২০ নভেম্বর ইমানুয়েল কনভেনশন সেন্টারে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সামনে সবশেষ আনুষ্ঠানিক বক্তব্য রাখেন এরশাদ। এরপর অসুস্থতার কারণে আর কোনো কর্মসূচিতে অংশ নেননি তিনি। ৬ ডিসেম্বর গাড়িতে করে অফিসের সামনে এলেও সেখানে বসে কথা বলেই চলে যান।

১০ ডিসেম্বর চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যান এরশাদ। ভোটের মাত্র ৩ দিন আগে ২৬ ডিসেম্বর দেশে ফিরলেও নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে যোগ দেননি। এমনকি নিজের ভোটও দিতে যেতে পারেননি সাবেক এই রাষ্ট্রপতি।

ভোটের পর শপথ নেন আলাদা সময়ে গিয়ে। সেদিনও স্পিকারের কক্ষে হাজির হয়েছিলেন হুইল চেয়ারে বসে। ২০ জানুয়ারি ফের সিঙ্গাপুরে যান চিকিৎসার জন্য। সেখান থেকে ফেরেন ৪ ফেব্রুয়ারি। তবে এখনও কোন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তাকে দেখা যায়নি। সংসদ অধিবেশনে মাত্র একদিনের জন্য হাজির হয়েছিলেন তাও হুইল চেয়ারে ভর করেই।

অনেক দিন ধরেই অনেটাই জনসম্মুক্ষে আসছেন না সাবেক এই রাষ্ট্রপতি। হাসপাতাল ও বাসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ তার দৈনন্দিন জীবন। কূটনৈতিকদের সম্মানে আয়োজিত ইফতারে যোগ দিয়েছিলেন কয়েক মিনিটের জন্য।

পার্টি সূত্র জানিয়েছে, আগের চেয়ে অনেকটা সুস্থ বোধ করছেন এরশাদ। অনেক শুকিয়ে গিয়েছিলেন, এখন তুলনামূলক উন্নতি হয়েছে। তবে নিজে নিজে হাঁটতে পারেন না। অন্যের সাহায্য নিয়ে অথবা হুইল চেয়ারে চলাফেরা করেন। রংপুর যাওয়ার আগে-পিছে একদিন সংসদে যোগ দিতে চান। আর খুব দ্রুতই চিকিৎসার জন্য ফের সিঙ্গাপুর যাওয়ার কথা রয়েছে এরশাদের।

আপনার মতামত লিখুন :

ধর্ষণের উৎসব শুরু হয়েছে: মির্জা ফখরুল

ধর্ষণের উৎসব শুরু হয়েছে: মির্জা ফখরুল
বিভাগীয় সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, 'পত্রিকা খুললেই ধর্ষণ ছাড়া কোনো খবর নাই। ১০ বছর, ছয় বছর, পাঁচ বছর, ১০০ বছরের নারীকেও পর্যন্ত ধর্ষণ করা হচ্ছে। দেশে ধর্ষণের উৎসব শুরু হয়েছে।'

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে বরিশাল মহানগরের কেন্দ্রীয় হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ মাঠে এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশের অংশ হিসেবে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, 'প্রতিদিন শুধু হত্যা আর হত্যা। এমনকি আদালত পর্যন্ত বাদ যাচ্ছে না। সেটাও নিরাপদ জায়গা নয়। সেখানে গিয়ে বিচারকের সামনে হত্যা করা হচ্ছে। কোথায় যাবেন? কার কাছে যাবেন? সরকার খুব ঢোল বাজায়, নিজেরাই বাজাচ্ছে উন্নয়ন, উন্নয়ন, উন্নয়ন। এমন উন্নয়ন যে, দেশের মানুষ মারা যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। অথচ কৃষক তার ধানের মূল্য পায় না, সরকারি কর্মচারীদের বেতন ভাতা দিন দিন বাড়ানো হচ্ছে। সরকার তাদের ওপর ভর করে এ দেশের জনগণের বঞ্চিত করে দেশ শাসন করতে চায়।'

তিনি বলেন, 'সারা দেশে আওয়ামী লীগ সরকার গত এক যুগে যে ভয়াবহ তাণ্ডব সৃষ্টি করেছে, গণতন্ত্রকে যেভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে, মানুষের অধিকারগুলোকে যেভাবে কেড়ে নিয়েছে এবং মানুষের ওপর যে অত্যাচার-নির্যাতন করছে এটা নজিরবিহীন। সরকার বাংলাদেশে একটা নারকীয় অবস্থার তৈরি করে ফেলেছে।'

খালেদা জিয়ার কারাবাস সম্পর্কে বিএনপির মহাসচিব বলেন, 'একটি মিথ্যা মামলায় দেশনেত্রীকে কারাগারে রাখা হয়েছে। এই মামলায় অন্য সকল আসামির জামিন হয়েছে কিন্তু খালেদা জিয়ার জামিন দিচ্ছে না। কারণ সরকার বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণ করছে, তাই দেশনেত্রীর জামিন হচ্ছে না। আমাদের আইনজীবীরা সব দিক দিয়ে চেষ্টা করেছেন। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। দেশের মানুষ যদি তাদের অধিকার, স্বাধীনতা রক্ষা করতে চায়, তাহলে অবশ্যই সকলকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে।'

সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সাহেবের মৃত্যুতে আমরা শোক প্রকাশ করেছি। কিন্তু এটাতো সত্য যে, তার সরকারের আমলেই এ দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা হয়েছে। তার আমলে বহু মানুষ নিহত হয়েছেন, ছাত্রদের হত্যা করা হয়েছে। জনগণের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তাকে সরানো হয়েছে। আজকে আওয়ামী লীগ তাদের সঙ্গে জোট বেধে জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আজকে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়া হয়। আর যিনি গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করলেন, ৭১ সালে পাক সেনাদের হাতে বন্দী থাকলেন তাকে কারাগারের অন্ধকারের রাখা হচ্ছে।'

বরিশাল মহানগর বিএনপির সভাপতি মজিবুর রহমান সরোয়ারের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ সহ স্থানীয় কয়েক হাজার নেতাকর্মী।

সিঙ্গাপুর নেওয়া হলো রফিকুল ইসলাম মিয়াকে

সিঙ্গাপুর নেওয়া হলো রফিকুল ইসলাম মিয়াকে
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে সিঙ্গাপুর এয়ারওয়েজের একটি বিমানে তাকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত সহকারী মো. মোকছেদুর রহমান আবির।

তিনি জানিয়েছেন, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। এজন্য তাকে ইউনাইডেট হাসপাতাল থেকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়েছে। সেখানে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হসপিটালের নিউরো সার্জন অধ্যাপক অং হি কিটের অধীনে মেরুদণ্ডে অস্ত্রোপচার করা হবে।

রফিকুল ইসলাম মিয়ার সঙ্গে তার সহধর্মিণী প্রফেসর ড. শাহিদা রফিক ও দুই ছেলে মাশরুর রফিক মিয়া ও শাহপুর রফিক মিয়া রয়েছেন বলেও জানান তিনি।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র