Barta24

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

এরশাদের অবর্তমানে জাপার কী হবে, জানালেন জিএম কাদের

এরশাদের অবর্তমানে জাপার কী হবে, জানালেন জিএম কাদের
জাপার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের, ছবি: সংগৃহীত
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

‘বড় গাছের নিচে ছোট গাছ কত দিন বাঁচবে! হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের অবর্তমানে জাতীয় পার্টির (জাপা) ভবিষ্যৎ কী হবে? পার্টির পদোন্নতি নিয়েও অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন। আমি আগেই আপনাদের সেসব প্রশ্নের জবাব দিচ্ছি।’

দলটির বিগত দু'দিনের সাংগঠনিক সভায় এমন প্রশ্ন উঠেছে। এসব প্রশ্ন যাতে আর না করতে হয় সেজন্য এসব কথা বলেন জাপার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

বুধবার (২৬ জুন) মতিঝিল এজিবি কলোনি কমিউনিটি সেন্টারে জাপার সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সভার উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জিএম কাদের বলেন, আপনাদের প্রথম প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে- আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাইরে একমাত্র জাতীয় পার্টি স্বকীয় রাজনীতি করছে। অন্যদের তেমন অবস্থান নেই। এটা ঠিক যে, দেশে জোটের রাজনীতি চলছে। আমরাই কোনো সময়ে জোটের নেতৃত্ব দিতে পারব। আমাদের সামনে সেই সুদিন আসছে। জাতীয় পার্টিকে বাদ দিয়ে কেউ ক্ষমতায় যেতে পারবে না।

অনেকের মনেই প্রশ্ন আছে, এরশাদের অবর্তমানে পার্টির কী হবে। এরশাদ পরিণত বয়সে উপনীত হয়েছেন, বুধবার (২৬ জুন) সকালে হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল ইউনিটে ভর্তি হয়েছেন। খোদা না করুক, তার কিছু হয়ে গেলে কী হবে? আমি বলি এরশাদের নির্দেশিত পথে, নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে গণতান্ত্রিকভাবে জাতীয় পার্টি চলবে।

জাপা নেতা বলেন, আমি পারিবারিক পরিচয়ে দলের নেতৃত্ব দিতে চাই না। আপনারা না চাইলে আমি নেতৃত্ব দেব না। আমি চাই এই পার্টির মালিক হবেন আপনারা সকলে। আমি পার্টির সকল কার্যক্রমে আপনাদের সম্পৃক্ত করতে চাই। আমি ক্ষমতার লোভী নই, অর্থলোভী নই। দলকে কাউকে বিক্রি করতে দেওয়া যাবে না। কেউ করার চেষ্টা করলে প্রতিহত করা হবে।

japa

‘হ্যাঁ, এরশাদের অবর্তমানে কিছু সমস্যা হতে পারে। এখন তার নামে যা হচ্ছে, তখন সেটা হবে না, অর্জন করে নিতে হবে।’

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, পদোন্নতি নিয়ে প্রশ্নের বিষয়ে উত্তর হচ্ছে- কেন্দ্রীয় কমিটি ছাড়া কোথাও এটা হচ্ছে না। স্থানীয় পর্যায়ে সব জায়গায় কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতা নির্বাচিত হবেন। কেন্দ্রীয় কমিটি হচ্ছে পার্টির চেয়ারম্যানের টিম, তিনি যাকে ভালো মনে করবেন তাকে নেবেন। কাকে প্রেসিডিয়াম সদস্য করবেন, সেটা তার বিষয়। এভাবেই কাউন্সিলে তাকে ক্ষমতা দেওয়া হয়। যেমন প্রধানমন্ত্রী কাকে মন্ত্রিসভায় নেবেন, এটা তার বিষয়। কেউ বাদ গেলে তার জায়গায় কাকে নেবেন সেটাও তার বিষয়।

তিনি বলেন, বিগত নির্বাচনে পার্টির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন আছে। আমার মনে হয় নির্বাচনকালীন সময় যারা ছিলেন তাদের কাজ করার যথেষ্ট সুযোগ ছিল না পরিস্থিতির কারণে। মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছিল। কথা দিচ্ছি, ভবিষ্যতে এই সুযোগ থাকবে না। আমরা সবাইকে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাব। সামনে বিভিন্ন দল থেকে লোকজন আসবে, তাদের জায়গা দিতে হবে। তবে ত্যাগী নেতাদের অবমূল্যায়ন করা হবে না। আপনারা মতামত দিলে এক নেতার একপদ নীতি ফলো করতে পারি।

সভায় সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের জেলা, মহানগর, উপজেলা, শহর কমিটির নেতারা অংশ নেন। এর আগে ২৪ ও ২৫ জুন যথাক্রমে ঢাকা, ময়মনসিংহ, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের নেতারা মতামত দেন।

আপনার মতামত লিখুন :

শুরু হলো বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ

শুরু হলো বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ
বরিশালে বিএনপির সমাবেশে নেতাকর্মীরা, ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বরিশালে সমাবেশের মধ্য দিয়ে শুরু হলো দলটির বিভাগীয় কর্মসূচি।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে বরিশাল নগরীর কেন্দ্রীয় হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ মাঠে এ সমাবেশ শুরু হয়। তবে দুপুরের পর থেকেই বিভাগের বিভিন্ন স্থান থেকে নেতাকর্মীরা সমাবেশে আসতে শুরু করেন। একই সঙ্গে বিকেল সোয়া ৪টার দিকে স্থানীয় নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন।

শুরু হলো বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ

বরিশাল মহানগর বিএনপির সভাপতি মজিবুর রহমান সরোয়ারের সভাপতিত্বে সমাবেশে উপস্থিত আছেন- বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ সহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

জানা গেছে, প্রায় এক বছর তিন মাস পর এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এরপর আগামী ২০ জুলাই চট্টগ্রামে ও ২৫ জুলাই খুলনায় সমাবেশ করবে বিএনপি।

জাতীয় পার্টিতে দ্বন্দ্ব-বিভেদ নেই: জি এম কাদের

জাতীয় পার্টিতে দ্বন্দ্ব-বিভেদ নেই: জি এম কাদের
জাতীয় পার্টির সংবাদ সম্মেলন

 

‘মিডিয়াকর্মীরা যেকোন তথ্যের জন্য আমার সঙ্গে কিংবা আমার প্রেস শাখার সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। প্রকাশ উপযোগী কোন তথ্য আপনাদের কাছে কখনোই গোপন রাখা হবে না’, বলেছেন জাতীয় পার্টির নতুন চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে জাতীয় পার্টির বনানী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। এদিন জি এম কাদেরকে দলের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়।

জি এম কাদের বলেন, আমাদের এই বিপদের দিনে আপনারা আমাদের পাশে ছিলেন। বিপদে যে পাশে থাকে সেই তো প্রকৃত বন্ধু। তাই মিডিয়াকর্মীরা প্রমাণ করলেন, আপনারা আমাদের একান্ত আপন এবং প্রকৃত বন্ধু। আমাদের দুঃখে-সুখে সবসময় এভাবেই আমাদের পাশে থাকুন—আজ শোকাতুর হৃদয় নিয়ে আপনাদের কাছে এ আবেদন জানাতে চাই।

তিনি বলেন, ওনার (হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার পর রংপুরে তার দাফন পর্যন্ত আপনারা মিডিয়াকর্মীরা যে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন তা আমার কাছে বর্ণনাতীত। এর জন্য শুধু কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে খুব কম হয়ে যাবে। আমরা আপনাদের এই অবদানের কথা কোনদিন ভুলতে পারব না।

জি এম কাদের আরও বলেন, একটি বিষয় আমি আপনাদের সুস্পষ্টভাবে অবহিত করতে চাই, জাতীয় পার্টির মধ্যে কোনো ধরনের বিভেদ, দ্বন্দ্ব, মতানৈক্য নেই। আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি এবং থাকব। ওনার শোককে আমরা শক্তিতে রূপান্তরিত করে তার আদর্শ ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাব।

তিনি বলেন, এরশাদের দাফন করার ব্যাপারে ঢাকার বনানীস্থ সেনা কবরস্থান ও রংপুরে তার নিজ বাসভবন পল্লী নিবাসের প্রস্তাব ছিল। শেষ পর্যন্ত রংপুরবাসীর ভালোবাসার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা পারিবারিকভাবে রংপুরেই তাকে সমাহিত করেছি। সেখানে সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় এবং সামরিক মর্যাদায় তাকে দাফন করা হয়েছে। আমরা অচিরেই একটি স্মরণসভার আয়োজন করব।

জিএম কাদের বলেন, ওনার (এরশাদ) অসুস্থতা ও মৃত্যুর কারণে গত এক মাসে আমরা কোন সাংগঠনিক কাজে মন দিতে পারিনি। অচিরেই আমরা পার্টি থেকে সাংগঠনিক টিম গঠন করে প্রত্যেক বিভাগ ও জেলায় সংগঠনকে শক্তিশালী করার কাজ শুরু হবে।

জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ আমৃত্যু দলের চেয়ারম্যান ছিলেন। গত রোববার (১৪ জুলাই) ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মারা যান তিনি। এর আগে গত ৪ মে ছোট ভাই জি এম কাদেরকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলেন এরশাদ।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র