সমন্বয়হীনতায় ঐক্যফ্রন্ট

শিহাবুল ইসলাম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট

  • Font increase
  • Font Decrease

সরকার বিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে সমন্বয়হীনতা দেখা দিয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এখন পর্যন্ত জোরালো কোন কর্মসূচি গ্রহণ করতে পারেনি ঐক্যফ্রন্ট। জোটের কার্যক্রম নিয়ে নেতাদের মধ্যেও রয়েছে ক্ষোভ। কিছুদিন ধরে জোটের শরিক দুটি দলের প্রধান নেতার ক্ষোভ প্রকাশ পাচ্ছে।

নির্বাচনের আগে ও পরে ঐক্যফ্রন্টের অনেক কর্মসূচি স্পষ্ট ছিল না দাবি করে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী জোটের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনকে চিঠিও দিয়েছিলেন। ওই চিঠিতে তিনি বলেছিলেন, ‘দেশে ধর্ষণ, হত্যা মহামারীর আকার ধারণ করেছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এসবের প্রতিবাদে তেমন কোন ভূমিকা রাখছে না।‘ জোট ছাড়ার ঘোষণাও দিয়েছিলেন কাদের সিদ্দিকী।

পরে গত ১০ জুন বিকেলে ঐক্যফ্রন্টের আরেক নেতা জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রবের উত্তরার বাসায় জোটের নেতারা বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে কাদের সিদ্দিকী জানিয়েছিলেন, ড. কামাল হোসেন সুস্থ হলে তাকে নিয়ে বৈঠকে বসে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানাবেন, এর আগ পর্যন্ত জোট ত্যাগ করা স্থগিত থাকবে।

সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, ঐক্যফ্রন্ট যে লক্ষ্য নিয়ে গঠন করা হয়েছিল তা পূরণ করতে পারেনি, ব্যর্থ হয়েছে। সেদিন বৈঠকে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না উপস্থিত ছিলেন না। বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তাও জানেন না তিনি।

গত ৩০ এপ্রিল বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি, নুসরাত হত্যা ও নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগ চত্বরে গণজমায়েত কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। পরে সেই কর্মসূচি পালন করা হয়নি। গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে বিএনপি, বামদলীয় জোট প্রতিবাদ জানালেও ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে কিছুই বলা হয়নি বা কোন কর্মসূচি নেওয়া হয়নি।

জোটে সমন্বয়হীনতার ব্যাপারে জানতে চাইলে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের শীর্ষ নেতা (ড. কামাল হোসেন) বিদেশ গেছেন চিকিৎসা নিতে, দুই-তিন দিনের মধ্যে তিনি দেশে আসবেন। তিনি আসলে সামনের সপ্তাহে আমরা সবাই বসব।

জোটের মধ্যে কোন সমস্যা হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘জোটের মধ্যে কোন প্রবলেম নাই। কিন্তু সমন্বয়টা হচ্ছে না। কারণ, বড় শরিক দল যারা তাদের মধ্যে সমস্যা দৃশ্যমান। আমাদের মধ্যেও কিছু সমস্যা আছে যা কাটিয়ে উঠতে পারি নাই। এর মধ্যে আবার দেশে অনেক ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। যদি দেরিও হয় তবুও আমরা দেখি কর্মসূচির বিষয়টি কী করা যায়।’

১০ জুনের বৈঠকে আ স ম রব জানিয়েছিলেন, জোটের পরিধি বাড়ানো হবে। পরে ঐক্যফ্রন্টের একজন নেতা বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, জোটের পরিধি বাড়াতে বাম দলগুলোকে জোটে নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। কেউ কেউ এসে ইতিবাচক সাড়াও দিয়েছে।

কিন্তু এ বিষয়ে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না কিছুই জানেন না। বার্তা২৪.কমকে তিনি বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্টে এখন কিছু হচ্ছে না। জোট বড় করার পরিকল্পনা আমাদের কোনদিন ছিল না। রব ভাই বলেছেন, কিভাবে বলেছেন সেটা আমি জানি না। আমি ওই বৈঠকে ছিলাম না। আমাদের জোট তো আছেই। আর কার সঙ্গে জোট করব আমরা? গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে ঐক্যফ্রন্টের কোন কর্মসূচি নেই। আমরা মানববন্ধন করেছি। বামদলের হরতাল সমর্থন করব। জেএসডি’র সঙ্গে কথা বলেছি, তারাও কর্মসূচি নিচ্ছে। বিএনপিও আলাদা কর্মসূচি দিচ্ছে।’

নির্বাচন ও সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো নিয়ে জোটের কোন কর্মসূচি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মাহমুদুর রহমান মান্না। বিভিন্ন সভায় দেওয়া বক্তব্যে তা প্রকাশও পেয়েছে।

ঐক্যফ্রন্টে সমন্বয়হীনতার বিষয়ে জানতে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীকে মোবাইল ফোনে বার বার কল দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন :