Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

সমন্বয়হীনতায় ঐক্যফ্রন্ট

সমন্বয়হীনতায় ঐক্যফ্রন্ট
জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট
শিহাবুল ইসলাম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

সরকার বিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে সমন্বয়হীনতা দেখা দিয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এখন পর্যন্ত জোরালো কোন কর্মসূচি গ্রহণ করতে পারেনি ঐক্যফ্রন্ট। জোটের কার্যক্রম নিয়ে নেতাদের মধ্যেও রয়েছে ক্ষোভ। কিছুদিন ধরে জোটের শরিক দুটি দলের প্রধান নেতার ক্ষোভ প্রকাশ পাচ্ছে।

নির্বাচনের আগে ও পরে ঐক্যফ্রন্টের অনেক কর্মসূচি স্পষ্ট ছিল না দাবি করে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী জোটের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনকে চিঠিও দিয়েছিলেন। ওই চিঠিতে তিনি বলেছিলেন, ‘দেশে ধর্ষণ, হত্যা মহামারীর আকার ধারণ করেছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এসবের প্রতিবাদে তেমন কোন ভূমিকা রাখছে না।‘ জোট ছাড়ার ঘোষণাও দিয়েছিলেন কাদের সিদ্দিকী।

পরে গত ১০ জুন বিকেলে ঐক্যফ্রন্টের আরেক নেতা জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রবের উত্তরার বাসায় জোটের নেতারা বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে কাদের সিদ্দিকী জানিয়েছিলেন, ড. কামাল হোসেন সুস্থ হলে তাকে নিয়ে বৈঠকে বসে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানাবেন, এর আগ পর্যন্ত জোট ত্যাগ করা স্থগিত থাকবে।

সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, ঐক্যফ্রন্ট যে লক্ষ্য নিয়ে গঠন করা হয়েছিল তা পূরণ করতে পারেনি, ব্যর্থ হয়েছে। সেদিন বৈঠকে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না উপস্থিত ছিলেন না। বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তাও জানেন না তিনি।

গত ৩০ এপ্রিল বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি, নুসরাত হত্যা ও নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগ চত্বরে গণজমায়েত কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। পরে সেই কর্মসূচি পালন করা হয়নি। গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে বিএনপি, বামদলীয় জোট প্রতিবাদ জানালেও ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে কিছুই বলা হয়নি বা কোন কর্মসূচি নেওয়া হয়নি।

জোটে সমন্বয়হীনতার ব্যাপারে জানতে চাইলে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের শীর্ষ নেতা (ড. কামাল হোসেন) বিদেশ গেছেন চিকিৎসা নিতে, দুই-তিন দিনের মধ্যে তিনি দেশে আসবেন। তিনি আসলে সামনের সপ্তাহে আমরা সবাই বসব।

জোটের মধ্যে কোন সমস্যা হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘জোটের মধ্যে কোন প্রবলেম নাই। কিন্তু সমন্বয়টা হচ্ছে না। কারণ, বড় শরিক দল যারা তাদের মধ্যে সমস্যা দৃশ্যমান। আমাদের মধ্যেও কিছু সমস্যা আছে যা কাটিয়ে উঠতে পারি নাই। এর মধ্যে আবার দেশে অনেক ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। যদি দেরিও হয় তবুও আমরা দেখি কর্মসূচির বিষয়টি কী করা যায়।’

১০ জুনের বৈঠকে আ স ম রব জানিয়েছিলেন, জোটের পরিধি বাড়ানো হবে। পরে ঐক্যফ্রন্টের একজন নেতা বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, জোটের পরিধি বাড়াতে বাম দলগুলোকে জোটে নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। কেউ কেউ এসে ইতিবাচক সাড়াও দিয়েছে।

কিন্তু এ বিষয়ে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না কিছুই জানেন না। বার্তা২৪.কমকে তিনি বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্টে এখন কিছু হচ্ছে না। জোট বড় করার পরিকল্পনা আমাদের কোনদিন ছিল না। রব ভাই বলেছেন, কিভাবে বলেছেন সেটা আমি জানি না। আমি ওই বৈঠকে ছিলাম না। আমাদের জোট তো আছেই। আর কার সঙ্গে জোট করব আমরা? গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে ঐক্যফ্রন্টের কোন কর্মসূচি নেই। আমরা মানববন্ধন করেছি। বামদলের হরতাল সমর্থন করব। জেএসডি’র সঙ্গে কথা বলেছি, তারাও কর্মসূচি নিচ্ছে। বিএনপিও আলাদা কর্মসূচি দিচ্ছে।’

নির্বাচন ও সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো নিয়ে জোটের কোন কর্মসূচি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মাহমুদুর রহমান মান্না। বিভিন্ন সভায় দেওয়া বক্তব্যে তা প্রকাশও পেয়েছে।

ঐক্যফ্রন্টে সমন্বয়হীনতার বিষয়ে জানতে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীকে মোবাইল ফোনে বার বার কল দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন :

ধর্ষণের উৎসব শুরু হয়েছে: মির্জা ফখরুল

ধর্ষণের উৎসব শুরু হয়েছে: মির্জা ফখরুল
বিভাগীয় সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, 'পত্রিকা খুললেই ধর্ষণ ছাড়া কোনো খবর নাই। ১০ বছর, ছয় বছর, পাঁচ বছর, ১০০ বছরের নারীকেও পর্যন্ত ধর্ষণ করা হচ্ছে। দেশে ধর্ষণের উৎসব শুরু হয়েছে।'

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে বরিশাল মহানগরের কেন্দ্রীয় হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ মাঠে এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশের অংশ হিসেবে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, 'প্রতিদিন শুধু হত্যা আর হত্যা। এমনকি আদালত পর্যন্ত বাদ যাচ্ছে না। সেটাও নিরাপদ জায়গা নয়। সেখানে গিয়ে বিচারকের সামনে হত্যা করা হচ্ছে। কোথায় যাবেন? কার কাছে যাবেন? সরকার খুব ঢোল বাজায়, নিজেরাই বাজাচ্ছে উন্নয়ন, উন্নয়ন, উন্নয়ন। এমন উন্নয়ন যে, দেশের মানুষ মারা যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। অথচ কৃষক তার ধানের মূল্য পায় না, সরকারি কর্মচারীদের বেতন ভাতা দিন দিন বাড়ানো হচ্ছে। সরকার তাদের ওপর ভর করে এ দেশের জনগণের বঞ্চিত করে দেশ শাসন করতে চায়।'

তিনি বলেন, 'সারা দেশে আওয়ামী লীগ সরকার গত এক যুগে যে ভয়াবহ তাণ্ডব সৃষ্টি করেছে, গণতন্ত্রকে যেভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে, মানুষের অধিকারগুলোকে যেভাবে কেড়ে নিয়েছে এবং মানুষের ওপর যে অত্যাচার-নির্যাতন করছে এটা নজিরবিহীন। সরকার বাংলাদেশে একটা নারকীয় অবস্থার তৈরি করে ফেলেছে।'

খালেদা জিয়ার কারাবাস সম্পর্কে বিএনপির মহাসচিব বলেন, 'একটি মিথ্যা মামলায় দেশনেত্রীকে কারাগারে রাখা হয়েছে। এই মামলায় অন্য সকল আসামির জামিন হয়েছে কিন্তু খালেদা জিয়ার জামিন দিচ্ছে না। কারণ সরকার বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণ করছে, তাই দেশনেত্রীর জামিন হচ্ছে না। আমাদের আইনজীবীরা সব দিক দিয়ে চেষ্টা করেছেন। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। দেশের মানুষ যদি তাদের অধিকার, স্বাধীনতা রক্ষা করতে চায়, তাহলে অবশ্যই সকলকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে।'

সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সাহেবের মৃত্যুতে আমরা শোক প্রকাশ করেছি। কিন্তু এটাতো সত্য যে, তার সরকারের আমলেই এ দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা হয়েছে। তার আমলে বহু মানুষ নিহত হয়েছেন, ছাত্রদের হত্যা করা হয়েছে। জনগণের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তাকে সরানো হয়েছে। আজকে আওয়ামী লীগ তাদের সঙ্গে জোট বেধে জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আজকে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়া হয়। আর যিনি গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করলেন, ৭১ সালে পাক সেনাদের হাতে বন্দী থাকলেন তাকে কারাগারের অন্ধকারের রাখা হচ্ছে।'

বরিশাল মহানগর বিএনপির সভাপতি মজিবুর রহমান সরোয়ারের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ সহ স্থানীয় কয়েক হাজার নেতাকর্মী।

সিঙ্গাপুর নেওয়া হলো রফিকুল ইসলাম মিয়াকে

সিঙ্গাপুর নেওয়া হলো রফিকুল ইসলাম মিয়াকে
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে সিঙ্গাপুর এয়ারওয়েজের একটি বিমানে তাকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত সহকারী মো. মোকছেদুর রহমান আবির।

তিনি জানিয়েছেন, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। এজন্য তাকে ইউনাইডেট হাসপাতাল থেকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়েছে। সেখানে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হসপিটালের নিউরো সার্জন অধ্যাপক অং হি কিটের অধীনে মেরুদণ্ডে অস্ত্রোপচার করা হবে।

রফিকুল ইসলাম মিয়ার সঙ্গে তার সহধর্মিণী প্রফেসর ড. শাহিদা রফিক ও দুই ছেলে মাশরুর রফিক মিয়া ও শাহপুর রফিক মিয়া রয়েছেন বলেও জানান তিনি।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র